PIB Backgrounder
জল পরিচালনা ব্যবস্থায় গ্রামীণ ভারতে নতুন দিশা
“অংশগ্রহণমূলক জল বাজেটের মাধ্যমে সমাজকে শক্তিশালী করা”
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
27 MAY 2026 11:29AM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ২৭ মে, ২০২৬
গ্রামীণ ভারতে জল পরিচালনা ব্যবস্থার উন্নয়ন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জলের চাহিদা বৃদ্ধি, অসম বণ্টন এবং জলবায়ুগত অনিশ্চয়তা এই প্রয়োজন আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতি ফোঁটা জলের সঠিক ব্যবহার ভারতের জল নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুস্থায়ী ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। জল বাজেটের মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে জলের প্রাপ্যতা ও চাহিদার হিসাব করা সম্ভব হয়। এর ফলে কৃষিকাজ, গৃহস্থালি প্রয়োজন এবং পশুপালনের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
অটল ভূজল যোজনা, ন্যাশনাল ওয়াটার মিশন এবং রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন উদ্যোগ অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির কার্যকারিতা তুলে ধরেছে। স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ‘বরুণী’ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের মতো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করছে। সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ এবং নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে পরিকল্পনায় জল বাজেট অন্তর্ভুক্ত হলে সুস্থায়ী জল ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ভারতে জল সম্পদের বর্তমান পরিস্থিতি : চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও নীতিগত পদক্ষেপের সমন্বয়
জল পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং মানবকল্যাণের অন্যতম ভিত্তি। জল সম্পদের প্রাপ্যতা, বণ্টন এবং ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের “Reassessment of Water Availability in India using Space Inputs, 2019” সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে বছরে গড়ে প্রায় ৩,৮৮০ বিলিয়ন ঘনমিটার বৃষ্টিপাত হয়। বাষ্পীভবন এবং অন্যান্য স্বাভাবিক ক্ষয় বিবেচনায় নেওয়ার পর দেশে বছরে গড়ে প্রায় ১,৯৯৯.২০ বিলিয়ন ঘনমিটার জল পাওয়া যায়।
একটি দেশে বার্ষিক জল প্রাপ্যতা প্রধানত আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। মাথাপিছু জল প্রাপ্যতা জনসংখ্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ভারতে মাথাপিছু জল প্রাপ্যতা ক্রমাগত কমছে। এর ফলে, বর্তমান জল সম্পদের উপর চাপ বাড়ছে।
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭.৫% এবং মোট গবাদি পশুর প্রায় ১১.৬% ভারতে রয়েছে। এর ফলে জল সম্পদের উপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়। গ্রামীণ এলাকায় মোট জল ব্যবহারের প্রায় ৮০ থেকে ৯০% কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
সীমিত জল সম্পদের উপর বাড়তি চাপের ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কমছে, ঋতুভিত্তিক জল সংকট তৈরি হচ্ছে এবং জল বণ্টন নিয়ে বিরোধও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি সরবরাহভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে পরিকল্পিত ও চাহিদাভিত্তিক জল ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করছে। জল সংকট এবং অসম বণ্টনের সমস্যায় জল বাজেট সুস্থায়ী উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসাবে উঠে এসেছে।
প্রতিটি ফোঁটার হিসাব : জল বাজেট কি?
জল বাজেট নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় জলের প্রাপ্যতা ও চাহিদার সুসংগঠিত মূল্যায়ন। এই এলাকা গ্রাম, জলাধার অঞ্চল, ব্লক বা জেলা হতে পারে। মূল লক্ষ্য থাকে পুনর্নবীকরণযোগ্য জল সম্পদের সঙ্গে ব্যবহারযোগ্য জলের ভারসাম্য বজায় রাখা।
এই ব্যবস্থায় বৃষ্টিপাত, পৃষ্ঠজল প্রবাহ এবং ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণসহ সব ধরনের জল উৎসের হিসাব করা হয়। পাশাপাশি, বাষ্পীভবন, প্রবাহ এবং ভূগর্ভস্থ জলের বহির্গমনও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
জল বাজেট প্রাকৃতিক পরিবেশে জলের চলাচল এবং বণ্টন সম্পর্কেও ধারণা দেয়। পৃষ্ঠজল ও ভূগর্ভস্থ জলের সম্পর্ক, ঋতুভিত্তিক পরিবর্তন এবং কৃষি, নগরায়ণ ও শিল্প ব্যবহারের প্রভাবও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কৃষি ও পশুপালনের চাহিদার সঙ্গে জল ব্যবস্থার সমন্বয়
ন্যাশনাল কমিশন অন ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে সেচের জন্য জলের চাহিদা ৮০৭ বিলিয়ন ঘনমিটারে পৌঁছাতে পারে। এই অনুমান ভবিষ্যতে জল সম্পদের উপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জল বাজেট কৃষিক্ষেত্রে পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। স্থানীয় জল প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ফসল নির্বাচন, সেচের সময় নির্ধারণ এবং চাষের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। নাবার্ডের সহায়তায় পরিচালিত অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ দেখিয়েছে, জল পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফসল উৎপাদন বাড়ায় এবং ঝুঁকি কমায়।
২০১৯ সালের পশু গণনা অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫১.২ কোটি থেকে পশু সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫৩.৬ কোটিতে পৌঁছেছে। গরুর সংখ্যা প্রায় ১৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, পানীয় জল, পশুখাদ্য উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে জলের চাহিদাও বেড়েছে।
জাতীয় কর্মসূচি ও স্থানীয় উদ্যোগ
অটল ভূজল যোজনা
২০১৯ সালে শুরু হওয়া অটল ভূজল যোজনা গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিকেন্দ্রীকৃত জল পরিচালনা ব্যবস্থায় জল বাজেটকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে।
দেশের সাতটি ভূগর্ভস্থ জল সংকটপূর্ণ রাজ্যের ২২৯টি ব্লকে এই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ সালের মূল্যায়নে ২২৯টির মধ্যে ১৮০টি ব্লকে ভূগর্ভস্থ জলের স্তরে উন্নতি দেখা গেছে।
২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৮১ হাজার ৭০০টি জল সংরক্ষণ ও পুনর্ভরণ কাঠামো তৈরি বা পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে ৮ হাজার ২০৩টি জল বাজেট তৈরি হয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়াটার মিশন
ন্যাশনাল ওয়াটার মিশন সমন্বিত জল সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম ভিত্তি হিসাবে জল বাজেটকে গুরুত্ব দিয়েছে।
‘নারী শক্তি সে জল শক্তি’ উদ্যোগে স্বনির্ভর গোষ্ঠী, জল ব্যবহারকারী সংগঠন এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠনকে জল সংরক্ষণে যুক্ত করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলায় প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ৩০০টি নারী পরিচালিত গ্রাম জল ও স্যানিটেশন কমিটি কাজ করছে।
প্রযুক্তির সহায়তায় সহজ হচ্ছে জল বাজেট
‘বারুণী’ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ব্লক স্তরে সহজ এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে জল বাজেট তৈরির ব্যবস্থা করেছে।
বৃষ্টিপাত, জমির ব্যবহার, ফসলের ধরন, জনসংখ্যা এবং জল সম্পদ সম্পর্কিত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা কাজ করে। স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে জল উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির চিত্র তৈরি হয়।
এই ব্যবস্থার ফলে, স্থানীয় প্রশাসন বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী জল সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ এবং উন্নত সেচ পদ্ধতির পরিকল্পনা নিতে পারে।
জলযুক্ত শিবার অভিযান
মহারাষ্ট্র সরকারের ‘জলযুক্ত শিবার অভিযান’ ২০১৪ সালে শুরু হয়। গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী জল সংকটের সমাধান এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
ভূ-অবস্থানভিত্তিক তথ্য এবং মোবাইল প্রযুক্তির সাহায্যে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই উদ্যোগের ফলে, ১১ হাজারের বেশি গ্রামকে খরামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ জলের স্তর প্রায় ১.৫ থেকে ২ মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। কৃষি উৎপাদনও প্রায় ৩০ থেকে ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় উদ্যোগে জল নিরাপত্তা
জল একটি সীমিত সম্পদ। তাই সঠিক ব্যবস্থাপনা, দক্ষ ব্যবহার এবং শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
স্থানীয় জল প্রাপ্যতার সঙ্গে কৃষি ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং ‘বারুণী’-র মতো প্রযুক্তির ব্যবহার অংশগ্রহণমূলক জল পরিচালনা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
হিওয়ারে বাজার থেকে শুরু করে অটল ভূজল যোজনা ও ন্যাশনাল ওয়াটার মিশনের মতো বৃহৎ কর্মসূচি দেখিয়েছে, নীতি, প্রযুক্তি এবং সম্মিলিত উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে জল সংকটপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদী জল নিরাপত্তা, কৃষির স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সব স্তরে জল সংক্রান্ত বাজেটকে পরিকল্পনার অংশ করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র
NITI Aayog
Ministry of Jal Shakti
Ministry of Finance
United Nations
Click here to see pdf
*****
PS/Agt
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2265906)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 2