বস্ত্রমন্ত্রক
জুট ক্রপ ইনফরমেশন সিস্টেম (জেসিআইএস) এর রূপান্তরকারী রূপায়ণে জাতীয় পাট পর্ষদের ভূমিকা
প্রকাশিত:
11 MAY 2026 1:48PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ১১ মে , ২০২৬
ভারতের পাট ক্ষেত্রের বিবর্তন প্রবেশ করেছে এক মোড় ঘোরানো নতুন পর্যায়ে জুট ক্রপ ইনফরমেশন সিস্টেম (জেসিআইএস)- এর রূপায়ণের সঙ্গে সঙ্গে। এটি একটি প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোগ, যা ফসলের নজরদারির জন্য উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য, আবহাওয়ার বিশ্লেষণ এবং ক্ষেত্রীয় স্তরের তথ্যকে একটি মাত্র কাঠামোয় সমাহত করেছে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে আছে ন্যাশনাল জুট বোর্ড (এনজেবি), যার প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব এবং ক্ষেত্রীয় স্তরে কার্য সম্পাদন, গোটা ব্যবস্থাকে ধারণার স্তর থেকে প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
এনজেবি ২০২৩ থেকে জুট ক্রপ ইনফরমেশন সিস্টেম প্রকল্প রূপায়ণ করে আসছে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (আইএসআরও) এবং জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার সহযোগিতায়। পাট চাষের ওপর নজরদারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে দূরসংবেদী এবং ক্ষেত্রীয় তথ্য। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুটি প্রধান উপকরণ তৈরি করা হয়েছে। একটি হল ভুবন জাম্প (বিএইচইউভিএএন জেইউএমপি), নজরদারির জন্য ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপ এবং অন্যটি পিএটিএসএএন (প্রসপেক্টিভ অ্যাসেসমেন্ট অফ জুট ইউজিং মোবাইল অ্যাপ – বেসড ফিল্ড অবজারভেশনস), একটি ওয়েব ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম যা নজরদারি এবং বিশ্লেষণ করে প্রায় তাৎক্ষণিক। যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা হয়।
জেসিআইএস আসার আগে পাট চাষ সংক্রান্ত পরিমণ্ডলে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ছিল। যা পরিকল্পনা এবং উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে বাধাস্বরূপ। কতটা জায়গায় চাষ হচ্ছে এবং ফসলের পরিমাণ নিয়ে হিসেব মূলত নির্ভর করত বিচ্ছিন্ন তথ্য এবং বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষার ওপর ফলে তাতে নির্ভরযোগ্যতা কম হওয়ার পাশাপাশি বিলম্ব হত। হাতে হাতে ক্ষেত্রীয় তথ্য সংগ্রহ করা হত সীমিত সাধারণীকরণ এবং জিও রেফারেন্সিং-এর অনুপস্থিতিতে। উপগ্রহ, আবহাওয়া এবং ক্ষেত্রীয় স্তরে তথ্য পাওয়ার সুযোগ ছিল সুদূর পরাহত। ফলে তথ্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল না। এছাড়া বন্যা, খরা, পোকামাকড় অথবা তাপমাত্রার হেরফেরে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা চিহ্নিত করা তাৎক্ষণিক কোনও ব্যবস্থার অভাবে বিলম্বে মোকাবিলা করার জন্য ফসলের ক্ষতি হত বিপুল। আরও বিস্তারিতভাবে দেখলে উচ্চ সম্ভাবনাময় এলাকাগুলি চিহ্নিত করা সম্ভব হত না, ফলে সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং বিধি প্রণয়নে বাধা আসত।
এই পরিপ্রেক্ষিতে জেসিআইএস প্রায় আমূল পরিবর্তন ঘটাল, আরও বেশি সুবিন্যস্ত এবং প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে ফসলের ওপর নজরদারি পর্যন্ত। বহু সূত্র তথ্য ব্যবস্থা হিসেবে এটির মধ্যে আছে উপগ্রহ ভিত্তিক ম্যাপিং, আবহাওয়া বিশ্লেষক, আবাদিসূচক, ঐতিহাসিক তথ্য এবং মোবাইল ভিত্তিক ক্ষেত্রীয় তথ্য - এই সবকটি আছে একটি প্ল্যাটফর্মে। এই ব্যবস্থায় চাষের এলাকা এবং উৎপাদনের পূর্বাভাস দেওয়া যায় প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে। লাগাতার ফসলের অবস্থার ওপর নজর রাখায় সাহায্য করে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিবেদন পাঠানোর পাশাপাশি সময়ে সময়ে সতর্কতা প্রেরণ করে। এর ফলে পূর্বাভাসের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সার্বিক নজরদারি চালানোর ক্ষমতা দুটিই উন্নত হয়েছে।
জিসিআইএস-কে কার্যকর করার পিছনে ন্যাশনাল জুট বোর্ডের ভূমিকা মুখ্য। আই-কেয়ার ফিল্ড নেটওয়ার্ক এবং রূপায়ণকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এনজেবি ভুবন জাম্প (বিএইচইউভিএএন জেইউএমপি) মোবাইল ব্যবহার করে জিও- ট্যাগড ক্ষেত্রীয় তথ্য বহুল পরিমাণে সংগ্রহ করার সুবিধা দেয়। এই প্রয়াসের মাত্রা এবং নির্ভরযোগ্যতা ভূমি স্তরে স্বীকৃত ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করেছে। এনজেবি ক্রপ কাটিং এক্সপেরিমেন্টস (সিসিই)পরিচালনাকেও সাহায্য করেছে একটি জিওস্পেসিয়াল স্মার্ট – স্যাম্পলিং কাঠামো ব্যবহার করে। এরমধ্যে আছে উপগ্রহ থেকে পাওয়া শস্য মানচিত্র, পরিসংখ্যানগত শক্তিশালী স্যাম্পলিং কৌশল। এই ব্যবস্থা সঠিক ভাবে ফসলের আগাম অনুমান করার প্রক্রিয়ায় উন্নতি হয়েছে এবং প্রোডাকশন মডেলিং জোরদার হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে জেসিআইএস-এর দেওয়া তথ্য পরিকল্পনা এবং নজরদারি প্রক্রিয়া সংহত করা হয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য এবং জিওরেফারেন্সড তথ্য পাওয়ায় রাজ্য এবং জাতীয় পূর্বাভাসের মধ্যে সংগতি রাখা এবং আরও নিঁখুতভাবে পদক্ষেপ করা সম্ভব হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উপগ্রহের মাধ্যমে আগাম সমীক্ষায় প্রধান পাট উৎপাদনকারী রাজ্যগুলি পাটচাষের একটি সুসংহত ছবি পাওয়া গেছে। যা থেকে বোঝা যায় পদ্ধতিগত উন্নতি হয়েছে।
এই ব্যবস্থায় ঝুঁকির পরিমাণ বোঝার বিষয়টিও শক্তিশালী হয়েছে। উপগ্রহের পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষেত্রীয় স্তরে প্রকৃত অবস্থা বিচার করে একটি কোয়ান্টিটেটিভ ফ্লাড ইমপ্যাক্ট মডেলে প্রভাবিত এলাকায় ফসল এবং গুণমানের ক্ষতির পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি সমান্তরাল ওয়েদার অ্যানালিটিক্সের ব্যবহারে আগাম সতর্ক ব্যবস্থাকে সাহায্য করছে। কি পরিমাণ বৃষ্টি হবে, শুখা মরশুম এবং তাপমাত্রার হেরফেরের বিষয়ে সতর্কতা পাওয়া যাওয়ায় জেলাস্তরে পরিকল্পনা করা এবং তার মোকাবিলা করার সুবিধা হবে।
সবমিলিয়ে একটিমাত্র অ্যানালিটিক্যাল ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে একাধিক তথ্য সূত্রকে এনে আরও বেশি সুসংহত শস্য নজরদারি ব্যবস্থা সম্ভব করেছে জিসিআইএস। বিভিন্ন স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুণমানের উন্নতি হয়েছে। এছাড়াও ফিড ব্যাক এবং সক্ষমতা বর্ধনের মাধ্যমে নিরন্তর ছাঁকনি ব্যবহারের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে।
SC/AP /SG
(রিলিজ আইডি: 2259868)
ভিজিটরের কাউন্টার : 11