প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

রাজ্য হিসেবে সিকিমের আত্মপ্রকাশের ৫০তম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে গ্যাংটকে আয়োজিত সমারোহের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

প্রকাশিত: 28 APR 2026 1:51PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

 

ভারত মাতার জয়।

ভারত মাতার জয়।

ভারত মাতার জয়।

সিকিমের রাজ্যপাল শ্রী ওম মাথুর জি, সকলের প্রিয় উদ্যমী যুবক এবং আমার বন্ধু শ্রী প্রেম সিং তামাং জি, সংসদে আমার সহকর্মী শ্রী দোরজি শেরিং লেপচা জি, ডঃ ইন্দ্র হং সুব্বা জি, শ্রী দিল্লি রাম থাপা জি এবং আমার প্রিয় সিকিমের ভাই ও বোনেরা।

সিকিমের প্রতিটি মানুষকে রাজ্যের এই সুবর্ণ জয়ন্তীতে অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। নমস্কার, সকলে ভালো থাকুন!

খাম-রি-মো! আপনারা সবাই কেমন আছেন?

বন্ধুরা,

গতকাল বিকেলে আমি গ্যাংটকে পৌঁছেছি, এবং এখানে আসার আগে আমি বাংলার নির্বাচনের প্রচারে ব্যস্ত ছিলাম। এখানে পৌঁছানো মাত্রই এক নতুন অনুভূতি, এক নতুন আনন্দ, চারদিকে উৎসবের আমেজ - আমার মন আনন্দে ভরে গেল। রাতের বৃষ্টি, তারপর ঠাণ্ডা সকাল, আর এই ঝলমলে রোদ—সিকিমের রঙ সত্যিই অনন্য।

বন্ধুরা,

প্রাচ্যের স্বর্গ, অর্কিডের উদ্যান এই সিকিম। তার অতুলনীয় সৌন্দর্য, শান্তি, আধ্যাত্মিক আনন্দ—এই অভিজ্ঞতা লাভ করা ভাগ্যের ব্যাপার। আজ আমিও এখানকার অর্কিড দেখতে গিয়েছিলাম। আমার জন্য নির্ধারিত সময় নির্দিষ্ট ছিল, সেখানে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়েছি। আর আমি সারাদেশের পর্যটকদের, প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের বলছি, যদি তারা সিকিমের অর্কিড না দেখে থাকেন, তবে তারা কিছুই দেখেননি। আমি নিশ্চিত যে এবার সিকিমের পর্যটকের সংখ্যা আগের সমস্ত পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে যাবে। অর্কিডের মধ্যে আমি প্রকৃতির রঙ, তার আনন্দ দেখেছি, আমার মন এখনও তাতেই ডুবে আছে।

বন্ধুরা,

আজ আমরা সিকিমের পথ চলার ৫০ বছর উদযাপনের সুযোগ পেয়েছি। স্বর্গীয় পরিবেশে এই ঐতিহাসিক আয়োজন অবশ্যই একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আজ এই পালজোর স্টেডিয়াম সেই চমৎকার আবেশে পরিপূর্ণ। এখানে পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা, সিকিমের মানুষের উৎসাহ, সামনে পাহাড় ও আকাশের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য—মনে হচ্ছে যেন প্রকৃতি আর সংস্কৃতি একসঙ্গে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এই স্মৃতিগুলো আমার হৃদয়ে চিরকাল থেকে যাবে। আর আমি সব কোরিওগ্রাফারকে, যারা গান গেয়েছেন তাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই। আর আজকের এই অনুষ্ঠানটি, আমি চাই যে টিভি, মিডিয়া, দূরদর্শন যেন সারা দেশকে বারবার দেখায়। যখন দেশে রাজনৈতিক স্বার্থে ভাষাগত বিভাজন, প্রাদেশিকতা, বৈষম্যের চেষ্টা করা হয়, তখন আজ সিকিম ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর স্বপ্ন দেখিয়েছে। এই ছোট্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা চোখের সামনে সমগ্র ভারতকে তুলে ধরেছে। আর এখনও, তাঁরা যে বসার ব্যবস্থা করেছেন, আমি উপর থেকে দেখতে পাচ্ছি, এটা যেন সমগ্র ভারত, এবং মানুষ নিজ নিজ রাজ্যের পোশাকে বসে আছেন। গুজরাটের মানুষ গুজরাটি পোশাকে বসে আছেন। সত্যিই আপনারা মন জয় করেছেন। মোদীর মন নয়, আজ আপনারা সমগ্র ভারতের মন জয় করেছেন। এটাই ভারতের প্রতি ভক্তি, এটাই দেশপ্রেম। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এভাবেই দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগ্রত হয়। আপনাদের সকলকে অনেক অনেক অভিনন্দন।

বন্ধুরা,

এই সিকিম সফর আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দদায়ক, কারণ গতবার খারাপ আবহাওয়ার কারণে আমি এখানে পৌঁছাতে পারিনি। বাগডোগরা থেকে অনলাইনে আপনাদের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়েছিল। এখানে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে না পারার সেই আফসোসটা আমার মনে রয়ে গিয়েছিল। আর যখনই প্রেম সিং জি আমার সঙ্গে দেখা করতেন, আমার চোখ নিচু হয়ে যেত যে আপনারা এত পরিশ্রম করলেন, আমি আসতে পারলাম না। আর তাই আমি অপেক্ষা করছিলাম, সেই অপেক্ষা আজ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ণ হলো।

বন্ধুরা,

সিকিমের মানুষের সঙ্গে দেখা হলে আমি সবসময় এক অন্যরকম শান্তি পাই। আপনাদের নম্রতা, আপনাদের সরলতা, আপনাদের মুখের হাসি অসাধারণ। এখানে আসার আগেও আমি সিকিমের অনেক প্রতিভাবান মানুষের সঙ্গে দেখা করেছি। সিকিমের বুদ্ধিজীবী, পদ্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত, শিল্পী এবং ফুটবলার—আমি তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছি।

বন্ধুরা,

গতকাল সন্ধ্যার রোড শো-টা আমি ভুলিনি, আর হয়তো কোনোদিন ভুলবও না। হাতে আমাদের প্রিয় ত্রিবর্ণ পতাকা। ‘ভারত মাতা কি জয়’-এর অবিরাম ধ্বনি এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর ঘোষণায় পুরো পরিবেশটা ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর ছবিতে ভরে গিয়েছিল। গাঞ্জু লামা গেট থেকে লোক ভবন পর্যন্ত, যেভাবে আমার সিকিমের ভাই-বোনেরা তাঁদের ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন, যেভাবে সকলের তাঁদের নিজস্ব পোশাক, নিজস্ব সঙ্গীত, নিজস্ব ঐতিহ্য নিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন—পুরো পরিবেশটা একটা বিশাল উৎসবে পরিণত হয়েছিল। এই দৃশ্যটা ছিল যেন প্রকৃতির কোলে নানা রঙের প্রস্ফুটন। আমার মা ও বোনেরা, সন্তান ও বয়োজ্যেষ্ঠরাও আশীর্বাদ জানাতে এসেছিলেন। আর পুরো পথ জুড়ে আমি যে সেরা জিনিসটি দেখেছি, তা হলো সিকিমের রাস্তার পরিচ্ছন্নতা। আপনাদের সবাইকে স্যালুট। কোথাও কোনো ময়লা নেই, বাতাসে পরিচ্ছন্নতা, রাস্তায় পরিচ্ছন্নতা। আপনারা সিকিমের মানুষ প্রকৃতির প্রকৃত রক্ষক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। আমি দেশবাসীকে আবারও বলছি, সিকিমে আসুন। আপনারা সিকিমকে কত পরিষ্কার, কত সুন্দরভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন!

ভাই ও বোনেরা,

গতকালকের রোড শো এবং আজকের এই অনুষ্ঠানের জন্য আমি আপনাদের এবং সকল শিল্পীদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই। ৫০ বছরের যাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ উদযাপনে আমি সিকিমের মানুষজনকে এবং সকল দেশবাসীকে অনেক অভিনন্দন জানাই। আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, আপনাদের ভালোবাসা, স্নেহ, আশীর্বাদের এই ঋণ শোধ করতে আমি কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখব না।

বন্ধুরা,

সিকিমের যাত্রা মানবিক মূল্যবোধের এক যাত্রা। তা উন্নয়ন ও ঐতিহ্যকে একসঙ্গে বহন করার এক যাত্রা। সিকিমের প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বিগত ৫০ বছরে যাঁরা সিকিমকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, এই পর্যন্ত এনেছেন, আমি আজ তাঁদের আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই, তাঁদের সম্মান জানাই। সেই সময়ে যাঁদের যা করার ছিল, তাঁরা যা করেছেন, সিকিমকে তা উপহার দিয়েছেন। এখন সেই দায়িত্ব আমাদের উপর, আমাদেরই উপর। আমার বন্ধু প্রেম সিং জির নেতৃত্বে সিকিম সরকার সিকিমের ঐতিহ্য রক্ষা এবং উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য সততার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। আমাদের কাছে সিকিম, উত্তর-পূর্ব, শুধু দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশই নয়, এটি ভারতের ‘অষ্ট লক্ষ্মী’। উত্তর-পূর্ব হলো ভারতের ‘অষ্ট লক্ষ্মী’। তাই আমরা ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিতে কাজ করছি এবং উত্তর-পূর্বের জন্য ‘অ্যাক্ট ফাস্ট’-এর সংকল্পও গ্রহণ করেছি। আর তাই, ‘পূর্বে পদক্ষেপ নিন’, ‘দ্রুত পদক্ষেপ নিন’। আজ এখানে হাজার হাজার কোটি টাকার ৩০টিরও বেশি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক, বিদ্যুৎ, পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ সব ধরনের প্রকল্প রয়েছে। ২০২৩ সালের পর উত্তর সিকিমের এলাকাগুলোতে যেসব প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল, সেগুলির দিকেও দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। যেখানেই সংযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানেই তা পুনরায় শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এসবের জন্য আমি সিকিমের সকল মানুষকে অনেক অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুরা,

আমাদের সিকিমের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর পর্যটন অর্থনীতি। সিকিমের আয়তন দেশের মোট আয়তনের এক শতাংশেরও কম, কিন্তু দেশের উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের ২৫ শতাংশই এই রাজ্যে। এখানে প্রায় ৫০০ প্রজাতির পাখি, প্রায় ৭০০ প্রজাতির প্রজাপতি, সুন্দর বনভূমি, কাঞ্চনজঙ্গার চমৎকার আকর্ষণ, এত কিছু রয়েছে। তাই সবাই বারবার সিকিমে আসতে চান।

বন্ধুরা,

সিকিমের বহু মানুষের আয় পর্যটনের সঙ্গে জড়িত। আর পর্যটন তখনই বিকশিত হয় যখন সেই রাজ্যের পরিকাঠামো ভালো থাকে। সেই কারণেই আমরা সিকিমের সংযোগ এবং পরিকাঠামোর উপর সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এখানে শত শত কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে রাস্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এমন আধুনিক পরিকাঠামো, যা আগে কল্পনাও করা যেত না, আজ তা বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। বাগডোগরা থেকে গ্যাংটক পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, সেভোক-রংপো রেললাইন—এই প্রকল্পগুলো সিকিমকে সমগ্র দেশের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যম হয়ে উঠছে। এখানে নতুন জাতীয় মহাসড়কও নির্মিত হচ্ছে। গ্যাংটকের মতো শহরে ভবিষ্যতের জন্য রিং রোডের মতো প্রকল্প প্রয়োজন। এই দিকেও কাজ এগিয়ে চলেছে।

ভাই ও বোনেরা,

বিজেপি সরকার আজ যে কাজ করছে, তা আগেও করা যেত, কিন্তু পূর্বতন কংগ্রেস সরকার সবসময় সিকিমের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিয়েছে। সেভোক-রংপো রেললাইনের উদাহরণই নেওয়া যাক। এই প্রকল্পটি ২০০৮-২০০৯ সালে অনুমোদিত হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি, এটি কাগজে-কলমেই আটকে ছিল। প্রকল্পটি ফাইলেই পড়ে ছিল। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর উন্নয়ন আবার গতি পেয়েছে। এই প্রথম সিকিমে রেল পৌঁছাতে চলেছে।

বন্ধুরা,

পর্যটনকে উৎসাহিত করতে আমাদের নতুন ধারণারও প্রয়োজন। আজ আমরা এই ভাবনা নিয়েই কাজ করছি। ভালেডুঙ্গা, ইয়েন-ইয়েং এবং পেলিং-এ রোপওয়ে নির্মাণ এর একটি উদাহরণ। ভালেডুঙ্গায় একটি স্কাইওয়াকও নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এখন সিংশোর ব্রিজের ওপর একটি গ্লাস ডেক স্কাইওয়াক তৈরির প্রস্তুতি চলছে। নাথুলা এবং নামলির মতো জায়গায় সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নত করার জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

বন্ধুরা,

আমাদের সরকারের এই প্রচেষ্টার ফলে আপনাদের জীবন আরও সহজ হবে, সিকিমে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে এবং আপনাদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। আর আমি সারা দেশের পর্যটকদের সবসময় অনুরোধ করি: আপনারা যখন ভ্রমণ করবেন, তা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের জন্যই হোক বা পরিবেশ পর্যটনের জন্যই হোক, যেখানেই যান না কেন, আপনাদের ভ্রমণ বাজেটের ৫ শতাংশ স্থানীয় পণ্য কেনার জন্য রাখা উচিত। স্থানীয় পণ্য প্রসারের পথ এইভাবেই শুরু হয়। আপনারা যেখানেই যান, স্থানীয় খাবার খান, স্থানীয় জিনিসপত্র কিনুন, সেগুলিকে স্মারক হিসেবে নিয়ে যান। যাতে এখানকার মানুষ, পাহাড়ে দূরে বসবাসকারী ছোট ছোট গোষ্ঠী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে এমন চমৎকার জিনিস তৈরি করা বোনেরা—সবাই উপকৃত হতে পারেন। এর ফলে এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

বন্ধুরা,

সিকিমে ইকো-ওয়েলনেস পর্যটনেরও প্রভূত সুযোগ রয়েছে, আমরা এরও প্রসার ঘটাচ্ছি। পর্যটন থেকে স্থানীয় মানুষ যাতে অনেকটাই আয় করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ১,০০০ হোমস্টে-ও তৈরি করা হচ্ছে। অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের জন্যও পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বন্ধুরা,

ক্রীড়াক্ষেত্রটিতেও সিকিমের জন্য সম্ভাবনার আরেকটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এখানকার যুবক-যুবতীরা বড় মঞ্চে তাদের সামর্থ্য ও প্রতিভার প্রমাণ রেখেছেন। ফুটবল, বক্সিং, তিরন্দাজিতে এখানকার খেলোয়াড়েরা সিকিম এবং দেশকে গৌরবান্বিত করেছেন। 

বন্ধুরা,

এই প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের আমরা ‘খেলো ইন্ডিয়া’ এবং ‘ফিট ইন্ডিয়া’-র মতো কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এখানকার রাজ্য ক্রীড়া অ্যাকাডেমিও পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। সিকিম প্রিমিয়ার লিগের মতো ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে আরও বেশি খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পান এবং তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো হয়। 

বন্ধুরা,

জসলাল প্রধান জি-র নামে একটি অত্যাধুনিক বক্সিং একাডেমির প্রস্তাবও রয়েছে। সমন্বিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক গ্রামের মতো প্রকল্পগুলোও এগিয়ে চলেছে। এটি সিকিমের যুবক-যুবতীদের আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা দেবে এবং তারা তাদের ক্রীড়া প্রতিভাকে আরও উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবে।

বন্ধুরা,

আজ যে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, তার মধ্যে স্বাস্থ্যখাত সম্পর্কিত অনেক বড় কর্মসূচি রয়েছে। একটা সময় ছিল যখন কংগ্রেস সরকার সিকিম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছিল। এখানকার স্বাস্থ্য পরিষেবা খুবই সীমিত ছিল। এই কারণে পর্যটকরাও এখানে আসতে দ্বিধা করতেন। কিন্তু আজ সেই সমস্যার অবসান ঘটছে। আজ সিকিমে প্রায় ২০০টি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির চালু রয়েছে। বর্তমানে এখানে ৪টি জেলা হাসপাতাল, একটি টারশিয়ারি কেয়ার হাসপাতাল, ওয়েলনেস সেন্টার রয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখানকার আয়ুষ পরিষেবার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন। ড্রেজং নামগিয়াল সোয়া রিগপা হাসপাতালের উদ্বোধনের পর সিকিমের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।

ভাই ও বোনেরা,

স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর পাশাপাশি মানুষ যেন সুলভ চিকিৎসাও পান, আমাদের সরকার সে ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগে আমরা গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য আয়ুষ্মান কার্ড দিয়েছিলাম। এখন ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী সমস্ত প্রবীনদেরও এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি জন ঔষধি কেন্দ্রগুলিতে খুব সুলভ মূল্যে ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে। এইসব প্রচেষ্টার ফলে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য আপনাদের খরচও কমছে।

বন্ধুরা,

আজ অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সম্পদ সম্পর্কে বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আজ বিশ্ব পরিবেশবান্ধব জীবনধারা নিয়ে কথা বলছে। আজ বিশ্বের মনোযোগ পরিবেশবান্ধব শক্তির দিকে। আজ জৈব খাদ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমি আনন্দিত যে আমাদের উত্তর-পূর্ব এবং সিকিম এই ভবিষ্যৎমুখী অগ্রগতির বড় কেন্দ্র। সিকিম পুরো দেশকে দিকনির্দেশ করছে। সিকিম প্রশাসন ১০ বছর আগেই, ২০১৬ সালে, পুরো রাজ্যকে জৈব রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করেছিল। আমাদের দেমাজং এখন শুধু চাল উৎপাদনের জন্যই পরিচিত নয়, এর পরিচয় এখন জৈব চালের জন্য হয়ে উঠেছে। বড় এলাচ, আদা, হলুদ, অ্যাভোকাডো, কিউই—এরকম আরও অনেক পণ্য দেশের এবং বিশ্বের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। সিকিমে শত শত প্রজাতির ঔষধি গাছও পাওয়া যায়। এগুলোও স্থানীয় মানুষের আয় বাড়ানোর একটি মাধ্যম হয়ে উঠছে।

বন্ধুরা,

সিকিমের জৈব ও প্রাকৃতিক চাষের মডেল পুরো দেশের কাছে অনুপ্রেরণা। সিকিমের জীবনধারা, সিকিমের সংকল্প, আজ এগুলি জাতির দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হয়ে উঠেছে। এখানে প্রাকৃতিক চাষকে উৎসাহিত করার জন্য জৈব প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রও চালু করা হয়েছে। এটি কৃষকদের সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

বন্ধুরা,

সিকিমের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এখানকার স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং এই নারীরাও একটি খুব বড় ভূমিকা পালন করেন। এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির পণ্য বড় বাজারে পৌঁছেছে এবং এতে ডিজিটাল ইন্ডিয়া একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। “স্বয়ম সিকিম”-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি আজ এই নারীদের ক্ষমতায়ন করছে।

বন্ধুরা,

পরিবেশবান্ধব শক্তির ক্ষেত্রে সিকিমের সামনে ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এখানকার পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি আমাদের সিকিমের এই সম্ভাবনাকে আরও কাজে লাগাতে হবে। আমি জানি, পরিবেশ রক্ষা করা সিকিমের মানুষের স্বভাব। যখন দেশ ‘এক পেড় মা কে নাম’ উদ্যোগ শুরু করেছিল, তখন সিকিমের মানুষ কর্তব্যবোধ থেকে তা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী “মেরো রুখ মেরো সন্ততি” উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছেন। এর আওতায়, প্রতিটি শিশুর জন্মের সময় ১০৮টি গাছ লাগানো হয়। আমার মনে হয়, এই উদ্যোগটি সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি অনুপ্রেরণা। পরিবেশ সম্পর্কিত আমাদের প্রচেষ্টাগুলোকে আরও বেশি নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এটি আমাদের ঐতিহ্য, যা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে হবে।

বন্ধুরা,

সিকিমকে আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত ভারতের স্বপ্নকে গতি দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে এই রাজ্যের। এজন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের সিকিমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। এই সংকল্প নিয়ে, এই উপলক্ষে আমি আবারও আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। আমি আপনাদের সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। আর আজ, এই যাত্রার ৫০ বছর পর, এখন আমাদের দুটি মাইলফলক স্পর্শ করতে হবে। সিকিমের যাত্রা যখন ১০০ বছরে পৌঁছাবে তখন আমরা কী করব? সিকিমের যাত্রা যখন ৭৫ বছরে পৌঁছাবে, তখন আমরা কী করব? আর যখন দেশের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে, ২০৪৭ সাল নাগাদ উন্নত ভারতের স্বপ্ন পূরণ, তার জন্য আমাদের আজ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে। এই বার্তা দিয়ে আমি আবারও আপনাদের সকলের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অনেক ধন্যবাদ। আমার সঙ্গে বলুন-

ভারত মাতার জয়। ভারত মাতার জয়। ভারত মাতার জয়।

বন্দে মাতরম। বন্দে মাতরম। বন্দে মাতরম।

বন্দে মাতরম।  বন্দে মাতরম।  বন্দে মাতরম। 

বন্দে মাতরম।  বন্দে মাতরম।  বন্দে মাতরম। 

বন্দে মাতরম।

 


SC/AC/SKD


(রিলিজ আইডি: 2256321) ভিজিটরের কাউন্টার : 6
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Manipuri , Gujarati