পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক
পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর আন্তঃমন্ত্রক ব্রিফিং
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
15 APR 2026 6:21PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে অবহিত রাখার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ভারত সরকার আজ ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে একটি ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস; বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ এবং বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকরা জ্বালানির প্রাপ্যতা, সামুদ্রিক কার্যক্রম, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে আপডেট প্রদান করেছেন। ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প (MSME) মন্ত্রকও এই ক্ষেত্রে তাদের সর্বশেষ তথ্য শেয়ার করেছে।
*এমএসএমই (MSME) ক্ষেত্র সংক্রান্ত আপডেট*
ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রক পশ্চিম এশিয়া সংকটের মোকাবিলায় তাদের প্রচেষ্টা এবং এই ক্ষেত্রের ধারাবাহিক স্থিতিস্থাপকতা ও প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরেছে।
* ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে 'উদ্যম' পোর্টালে ২০ লক্ষেরও বেশি নতুন এমএসএমই নিবন্ধিত হয়েছে, যার ফলে মোট নিবন্ধিত এন্টারপ্রাইজের সংখ্যা ৮ কোটি ছাড়িয়েছে। এটি দেশজুড়ে উদ্যোক্তাদের নিরবচ্ছিন্ন সক্রিয়তাকেই প্রতিফলিত করে।
* এমএসএমই ক্ষেত্রে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৩৬.৭ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা গত ত্রৈমাসিকের তুলনায় ২৩.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও এটি ঋণ প্রবাহের উন্নতির নির্দেশ দেয়।
* অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ক্ষুদ্র ও ছোট এন্টারপ্রাইজগুলোর জন্য জামানত-বিহীন (collateral-free) ঋণের সীমা ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
* ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ৯২,০০০ কোটি টাকার ৫.২৭ লক্ষেরও বেশি গ্যারান্টি অনুমোদিত হয়েছে।
* লিকুইডিটি বা নগদ প্রবাহের ক্ষেত্রে 'TReDS' প্ল্যাটফর্ম উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। ২০২২ সালে ইনভয়েস ডিসকাউন্টিং যেখানে ৪,৩০০ কোটি টাকা ছিল, তা বর্তমানে ৭ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
*জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানির প্রাপ্যতা*
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক বর্তমান জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির মধ্যেও পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলপিজি-র নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে গৃহীত ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে আপডেট প্রদান করেছে:
*জনসাধারণের জন্য পরামর্শ এবং সচেতনতা*
* নাগরিকদের পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি আতঙ্কিত হয়ে মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ সরকার এগুলোর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
* সঠিক তথ্যের জন্য কেবল সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করুন এবং গুজবে কান দেবেন না।
* নাগরিকদের পিএনজি (PNG) এবং ইলেকট্রিক বা ইন্ডাকশন কুকটপ-এর মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
*সরকারি প্রস্তুতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা*
* বর্তমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও সরকার গার্হস্থ্য এলপিজি, গার্হস্থ্য পিএনজি এবং সিএনজি (পরিবহন) ক্ষেত্রে ১০০% সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।
* বাণিজ্যিক এলপিজি-র ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির এফটিএল (FTL) সিলিন্ডারের সরবরাহ দ্বিগুণ করা হয়েছে।
* শোধনাগারের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং শহরাঞ্চলে এলপিজি বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন ও গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন করা হয়েছে।
* এলপিজি-র ওপর চাপ কমাতে কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানি সহজলভ্য করা হয়েছে।
*রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টা*
* অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন ১৯৫৫-এর অধীনে রাজ্য সরকারগুলো সরবরাহ তদারকি এবং মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
* ভারত সরকার নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠকের মাধ্যমে রাজ্যগুলোকে দৈনিক প্রেস ব্রিফিং এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছে।
* বর্তমানে অনেক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করছে।
*এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম*
* ১৪.০৪.২০২৬ তারিখে দেশজুড়ে ২১০০-এর বেশি তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং প্রায় ৪৫০টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
* গতকাল পর্যন্ত ২৩৭টি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপের ওপর জরিমানা করা হয়েছে এবং ৫৮টি ডিস্ট্রিবিউটরশিপ স্থগিত করা হয়েছে।
*এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি*
* এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো 'ড্রাই-আউট' রিপোর্ট করা হয়নি।
* অনলাইন এলপিজি বুকিং প্রায় ৯৮% বজায় রয়েছে।
* ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড (DAC) ভিত্তিক সরবরাহ প্রায় ৯৩% পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে যাতে জ্বালানি পাচার রোধ করা যায়।
* ১৪ মার্চ ২০২৬ থেকে মোট ১,৩৪,২২৬ মেট্রিক টন বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে ৮০০০ মেট্রিক টনের বেশি অটো এলপিজি অন্তর্ভুক্ত।
*প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পিএনজি উদ্যোগ*
* গার্হস্থ্য পিএনজি এবং সিএনজি-তে ১০০% সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে।
* সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের বরাদ্দ প্রায় ৯৫% পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ ৮০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
* হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোকে পিএনজি সংযোগে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
* সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক সিজিডি (CGD) অবকাঠামোর অনুমোদনের সময়সীমা কমিয়ে ৩ মাসের জন্য 'অ্যাক্সিলারেটেড অ্যাপ্রুভাল ফ্রেমওয়ার্ক' গ্রহণ করেছে।
* মার্চ ২০২৬ থেকে প্রায় ৪.৫ লক্ষ পিএনজি সংযোগে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং ৫ লক্ষ নতুন গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন।
* ৩৪,২০০-এর বেশি গ্রাহক তাদের এলপিজি সংযোগ সমর্পণ করে পিএনজি গ্রহণ করেছেন।
*অপরিশোধিত তেল এবং শোধনাগার কার্যক্রম*
* সমস্ত শোধনাগার উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা হয়েছে।
* অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য পেট্রোকেমিক্যাল ফিডস্টক সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি আন্তঃমন্ত্রক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (JWG) গঠন করা হয়েছে।
* ফার্মা ও রাসায়নিক ক্ষেত্রের কোম্পানিগুলোর জন্য এলপিজি পুল থেকে দৈনিক ১০০০ মেট্রিক টন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৯ এপ্রিল থেকে প্রায় ১৮০০ মেট্রিক টন প্রোপিলিন বিক্রি হয়েছে।
*খুচরা জ্বালানি প্রাপ্যতা এবং মূল্য ব্যবস্থা*
* রিটেইল আউটলেটগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
* গ্রাহকদের সুরক্ষায় ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলে লিটার প্রতি ১০ টাকা অন্তঃশুল্ক কমিয়েছে।
* ১১.০৪.২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ডিজেল ও এটিএফ-এর ওপর রপ্তানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
* রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর খুচরা দোকানে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনো বৃদ্ধি করা হয়নি।
*সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাহাজ চলাচল*
* অঞ্চলে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাবিক নিরাপদ আছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো ভারতীয় জাহাজের দুর্ঘটনার খবর নেই।
* শিপিং কন্ট্রোল রুম সক্রিয় হওয়ার পর থেকে ৬,৪৪৯টি কল এবং ১৩,৪৪৩টির বেশি যোগাযোগ পরিচালনা করেছে।
* এখন পর্যন্ত ২,৩৩৭ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ জন রয়েছেন।
*অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা*
* ভারত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
* প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি ফোন কল পেয়েছেন। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁরা হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
* বিদেশ মন্ত্রী ইজরায়েল ও অস্ট্রেলিয়ার বিদেশ মন্ত্রীদের সাথে কথা বলেছেন।
* আজ বিদেশ মন্ত্রী জাপান কর্তৃক আয়োজিত 'AZEC Plus' বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে তিনি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং শক্তি বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেন।
* ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৯,৮৪,০০০ যাত্রী ওই অঞ্চল থেকে ভারতে ফিরেছেন।
* সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে আজ প্রায় ১০০টি ফ্লাইট প্রত্যাশিত।
* তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এখন পর্যন্ত ২,৩২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে (যার মধ্যে ১০২৮ জন ছাত্র এবং ৬৫৭ জন মৎস্যজীবী) ইরান থেকে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মাধ্যমে ভারতে পাঠাতে সহায়তা করেছে।
* ইজরায়েল, ইরাক ও কুয়েত থেকে ভারতীয় নাগরিকদের যাতায়াত প্রতিবেশী দেশগুলোর মাধ্যমে সহজতর করা হচ্ছে।
*****
PS/Agt
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2252413)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 8