পোস্ট করার দিনক্ষণ:
11 APR 2026 7:59PM by PIB Agartala
নতুন দিল্লি, ১১ এপ্রিল ২০২৬
“জাতীয় নিরাপত্তা—যা ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে ভারতের অগ্রযাত্রার এক অপরিহার্য স্তম্ভ—তা প্রত্যেক নাগরিকের সম্মিলিত কর্তব্য; এটি কেবল প্রতিরক্ষা বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়,” ১১ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে উত্তর প্রদেশের লখনউতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যদিও সৈনিকরাই আমাদের প্রতিরক্ষার প্রথম সারিতে থাকেন, তবুও জনগণের ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং সচেতনতার মাধ্যমেই জাতীয় নিরাপত্তার শক্তি সমানভাবে নির্ধারিত হয়।
পরিবর্তনশীল চ্যালেঞ্জ এবং বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মুখে কোনো ব্যক্তিরই নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগ নেই—এই বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাঁরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং গভীর অঙ্গীকারবোধ নিয়ে কাজ করেন। “জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নাগরিকদের অবশ্যই আইন মেনে চলা, ভুল তথ্য বা অপপ্রচার প্রত্যাখ্যান করা এবং ব্যক্তিগত লাভের ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থকে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অর্থবহ অবদান রাখতে হবে। একটি জাতি হিসেবে, আমরা বর্তমানে বিভিন্ন বৈরী শক্তির দ্বারা পরিবেষ্টিত।তাদের প্রতিহত করতে আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার সুনিশ্চিত করা আমাদের জন্য অপরিহার্য,” তিনি যোগ করেন।
বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে ‘তথ্য’-কে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করে শ্রী রাজনাথ সিং বলেন, ভুল তথ্য এবং গুজব সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ক্ষমতা রাখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক ও দায়িত্বশীল তথ্য যাতে জনগণের কাছে পৌঁছায়—তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “সংবাদমাধ্যম কেবল সংবাদ প্রচারের একটি মাধ্যম নয়; এটি এমন একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান যা জনমত গঠন করে। সংবাদমাধ্যমকে অবশ্যই এই সত্যটি অনুধাবন করতে হবে যে, যদি সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেবল চাঞ্চল্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। জাতিগঠনের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে সংবাদমাধ্যমের ওপর এই দায়িত্ব বর্তায় যে, তারা যেসব বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে সেগুলি যেন জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে এবং অহেতুক ভয় বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে,” তিনি আরও বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো বিষয়েই বিন্দুমাত্র আপস করে না—এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন যে, ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’-এর রূপকল্পের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলোকেও সমান অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভরতা’ অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে, যাতে প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলো সম্পূর্ণভাবে ভারতের কারখানাগুলিতে নির্মিত অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দ্বারাই সুসজ্জিত হতে পারে। সরকারের চলমান আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের প্রচেষ্টার সাফল্য তুলে ধরে শ্রী রাজনাথ সিং বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৫১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা রপ্তানি সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে—যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ৬২.৬৬ শতাংশের এক বিস্ময়কর বৃদ্ধি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে ৫০,০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই প্রচেষ্টাগুলি একটি ‘আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী ভারত’ গড়ে তোলার ভিত্তি স্থাপন করছে। আমরা যে গতিতে এগিয়ে চলেছি, তা বজায় থাকলে ভারত শীঘ্রই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলির সারিতে নিজের স্থান করে নেবে।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার বিষয়টি কেবল ভৌত পরিকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এমন একটি সমাজ বিনির্মাণেরও নামান্তর, যা পারস্পরিক দায়িত্ববোধের মূলে প্রোথিত হবে; যে সমাজে কেউ-ই পিছিয়ে পড়বে না। তিনি এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন যে, জাতীয় পর্যায়ে সেই দলগত কাজের গুণাবলিকে অনুকরণ করা প্রয়োজন, যা আমাদের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ‘ইউনিট সংহতি’র মাধ্যমে প্রদর্শন করে থাকেন। তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে দেশের অগ্রযাত্রাকে অবশ্যই এই চেতনাই পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে, শ্রী রাজনাথ সিং যুদ্ধবীরদের সংবর্ধনা জানান। সংবর্ধিতদের মধ্যে ছিলেন বীরত্ব পুরস্কারপ্রাপ্ত সুবেদার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) যোগেন্দ্র সিং যাদব; সুবেদার ও অনারারি ক্যাপ্টেন করম সিং, কোম্পানি কোয়ার্টারমাস্টার হাবিলদার আব্দুল হামিদ, সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অরুণ ক্ষেত্রপাল, ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা, ক্যাপ্টেন মনোজ কুমার পান্ডে এবং ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ উসমানের বৈধ উত্তরাধিকারীগণ এবং শহীদ বীরদের 'বীর নারী' বা বিধবা স্ত্রীরা। দেশের সেবায় তাঁদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
রক্ষামন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে শহিদ মেজর সোমনাথ শর্মা, নায়েক যদুনাথ সিং, কোম্পানি কোয়ার্টারমাস্টার হাবিলদার আব্দুল হামিদ, ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা এবং ক্যাপ্টেন মনোজ কুমার পান্ডের মতো বীরযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, তাঁদের বীরত্বের কাহিনিগুলো মানুষকে - বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে - অবিরাম অনুপ্রাণিত করে চলেছে। এই কাহিনিগুলো তাঁদের মধ্যে সাহস, দেশপ্রেম, কর্তব্যপরায়ণতা এবং আত্মত্যাগের চেতনা জাগিয়ে তোলে। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন যে, বীরত্ব পুরস্কারপ্রাপ্তদের জীবনগাথা তরুণদের জীবনপথ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক পথপ্রদর্শক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
শ্রী রাজনাথ সিং এই বীর সৈনিকদের পরিবারবর্গকে শক্তির এক 'অদৃশ্য স্তম্ভ' হিসেবে বর্ণনা করেন; তাঁর মতে, মাতৃভূমির সেবায় নিয়োজিত সৈনিকদের মনোবল অটুট রাখতে এই পরিবারগুলোই মূল ভূমিকা পালন করে। তিনি 'ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা' এবং 'সৈনিকদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার' বিষয়ে সরকারের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দেশবাসীকে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই পরিবারগুলোর অমূল্য অবদানকে যথাযথ সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “যখনই আমি শহীদ বীরদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলি, আমি তাঁদের শোক ও বেদনা অনুভব করতে পারি; কিন্তু তাঁদের অন্তরের গভীরে লুকিয়ে থাকে এক গভীর গর্ববোধ—যা কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এমন অটল মানসিক দৃঢ়তা এমন এক সংস্কৃতি থেকে উৎসারিত, যেখানে আত্মত্যাগকেই সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে গণ্য করা হয়।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী যোগী আদিত্যনাথ, উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ব্রজেশ পাঠক এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল অফিসার কম্যান্ডিং-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিন্দ্য সেনগুপ্ত প্রমুখ।
*****
PS/Agt