সড়কপরিবহণওমহাসড়কমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

বরাবাঁকি- বাহরাইচ মহাসড়ক হতে চলেছে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের এক প্রধান জীবনরেখা

প্রকাশিত: 11 APR 2026 12:24PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১১ এপ্রিল ২০২৬

 

ভারত ও নেপালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সক্রিয় স্থলভিত্তিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভারত হল নেপালের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার; নেপালের মোট বাণিজ্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি ভারতের সঙ্গে হয়ে থাকে, যা দুই দেশের মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতার বার্তা দেয়। 

 

জাতীয় মহাসড়ক-৯২৭-এর ৪-লেন বিশিষ্ট ও প্রবেশাধিকার-নিয়ন্ত্রিত 'বরাবাঁকি–বাহরাইচ' অংশের নির্মাণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন ভারত ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে চলেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'রুপাইডিহা স্থলবন্দর' এবং এর নিকটবর্তী 'নেপালগঞ্জ'-এর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে, এই প্রকল্পটি সীমান্ত-বাণিজ্যকে জোরদার করবে, আঞ্চলিক জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করবে এবং এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সীমান্ত পথের মধ্যে, 'রুপাইডিহা–নেপালগঞ্জ' পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র এই সীমান্ত পথটি দিয়েই ভারত থেকে নেপালে ভারতের সিংহভাগ পণ্য রফতানি করা হয়। নতুন NH-927 সড়কটি দ্রুততর ও অধিক নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করবে। তাই আগামী বছরগুলিতে এই পথে বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

দুই দেশের মধ্যে খাদ্য ও কৃষি বাণিজ্যে সহায়তা

 

ভারত ও নেপালের বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আদান-প্রদান। চাল, গম, শাকসবজি, দুগ্ধজাত পণ্য এবং পশুখাদ্য বহনকারী ট্রাকগুলো নিয়মিত ভারতীয় বাজার থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সুনিশ্চিত করে। আশা করা হচ্ছে, এই মহাসড়ক প্রকল্পটি পরিবহনের সময় প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনবে, যার ফলে বরাবাঁকি ও বাহরাইচের মধ্যে যাতায়াতের সময় প্রায় ১৫০ মিনিট থেকে কমে ৭৫ মিনিটে নেমে আসবে এবং যানবাহনের গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ৮০ কিলোমিটারে পৌঁছবে। যাতায়াতের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় শাকসবজি ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো পচনশীল সামগ্রী নষ্ট হওয়ার হার কমবে, যার ফলে সীমান্তের উভয় প্রান্তের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পূর্ব উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের নেপালের বৃহত্তর বাজারগুলিতে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে; এর ফলে তাঁদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ফসল তোলার পরবর্তী সময়ে ক্ষতি কমারও সম্ভাবনা তৈরি করবে।

 

অত্যাবশ্যক পণ্যের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ

 

কৃষিপণ্যের পাশাপাশি, এই করিডরটি ওষুধ এবং ভোগ্যপণ্যের মতো অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর পরিবহনেও সহায়তা করে। নেপালের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনের জন্য এই পণ্যগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; আর সুস্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন পথের কোনও বিকল্প নেই। সীমান্তে অতীতে সৃষ্ট বিভিন্ন বিঘ্ন বা অচলাবস্থা মসৃণ পরিবহন পরিকাঠামোর গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। সেই সময়ে বাণিজ্যের গতি মন্থর হয়ে পড়েছিল, তখন শাকসবজি, জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্যবাহী শত শত ট্রাক আটকে পড়েছিল – যার ফলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয় এবং ব্যবসায়ী ও উপভোক্তা— উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একটি আধুনিক ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার-বিশিষ্ট মহাসড়ক চালু হওয়ার ফলে, পণ্য পরিবহনে সৃষ্ট এ ধরনের বিলম্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে; এটি পণ্যের দ্রুততর চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় কমাতেও সহায়তা করবে।

 

লজিস্টিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি ত্বরান্বিতকরণ

 

উন্নত সড়ক নেটওয়ার্কটি রূপাইডিহায় লজিস্টিক বা পণ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পরিকাঠামোর উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এই এলাকায় ট্রাক চলাচলের দৈনিক হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা সীমান্ত-বাণিজ্যের সামগ্রিক আয়তন বা পরিধি বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দেয়। পণ্য পরিবহনের এই বর্ধিত প্রবাহ করিডরটির উভয় দিকেই গুদামজাতকরণ, পরিবহন সেবা এবং লজিস্টিক ব্যবসার প্রসারের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

 

সীমান্তবর্তী জনপদগুলির জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

 

বরাবাঁকি–বাহরাইচ মহাসড়কের প্রভাব সম্ভবত সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে বাহরাইচ জেলা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলির মতো সীমান্ত জেলাগুলিতে বসবাসরত মানুষের ওপর। রূপাইডিহার নিকটবর্তী শহরগুলির সীমান্ত বাজারগুলি মূলত সীমান্ত-পারের ক্রেতাদের ওপরই ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল; এমনকি কোনও কোনও স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে, তাদের মোট বিক্রয়ের সিংহভাগই নির্ভর করে নেপালী ক্রেতাদের ওপর।

 

মহাসড়ক সংযোগ ব্যবস্থার এই উন্নতির ফলে যে সব সুফল মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে:

 

 ব্যবসায়ীদের জন্য অধিকতর ব্যবসায়িক সুযোগ

 পরিবহন ও লজিস্টিক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

 হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ক্ষুদ্র খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রগুলির প্রসার

 স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং বাজার ব্যবস্থার অধিকতর সহজলভ্যতা

 

ট্রাক চালক, কৃষক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুতগতির সড়ক মানেই হলো অধিক উপার্জন, ব্যয় সংকোচন এবং আয়ের অধিকতর নির্ভরযোগ্য সুযোগ।

 

 

SC/MP/NS


(রিলিজ আইডি: 2251154) ভিজিটরের কাউন্টার : 9
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी