PIB Headquarters
ভারতের পারমাণবিক যাত্রায় নতুন অধ্যায়
প্রকাশিত:
07 APR 2026 5:53PM by PIB Kolkata
৭ এপ্রিল, ২০২৬
ভূমিকা
ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এবছর ৬ এপ্রিল তামিলনাড়ুর কালপাক্কামে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ৫০০ মেগাওয়াট বৈদ্যুতিক (MWe) ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) সফলভাবে প্রথম 'ক্রিটিক্যালিটি'বা নির্ণায়ক পর্যায় অর্জন করেছে। ভারতীয় নাভিকীয় বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (BHAVINI) দ্বারা নির্মিত এই চুল্লিটি ভারতকে ডঃ হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার ত্রি-স্তরের পারমাণবিক কর্মসূচির দ্বিতীয় স্তরে পৌঁছে দিয়েছে। রাশিয়ার পর ভারতই বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসাবে বাণিজ্যিকভাবে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর পরিচালনা করতে চলেছে। এটি ২০৭০ সালের মধ্যে ভারতের 'নেট জিরো' লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
ভারতের ত্রি-স্তরীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত রূপরেখা
ভারতের সীমিত ইউরেনিয়াম কিন্তু বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডারকে কাজে লাগাতে এই কর্মসূচিটি ডিজাইন করা হয়েছে:
* প্রথম স্তর: প্রেসারাইজড হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর (PHWR): প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এর ব্যবহৃত জ্বালানি থেকে পরবর্তী স্তরের জন্য প্লুটোনিয়াম পাওয়া যায়।
* দ্বিতীয় স্তর: ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (FBR): প্রথম স্তরের প্লুটোনিয়াম এখানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই চুল্লিগুলি যা জ্বালানি ব্যবহার করে তার চেয়ে বেশি উৎপাদন করে। কালপাক্কামের PFBR এই স্তরেরই অংশ।
* তৃতীয় স্তর: থোরিয়াম-ভিত্তিক রিঅ্যাক্টর: ভারতের বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডার ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
পিএফবিআর (PFBR): একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চ (IGCAR) দ্বারা আবিষ্কৃত এই প্রযুক্তিটি কয়েক দশকের গবেষণার ফসল।
* জ্বালানি ও নকশা: এটি ইউরেনিয়াম-প্লুটোনিয়াম মিক্সড অক্সাইড (MOX) জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করে।
* উৎপাদন ক্ষমতা: রিঅ্যাক্টরের মূল অংশের চারপাশের ইউরেনিয়াম-২৩৮ আবরণ থেকে নতুন জ্বালানি (প্লুটোনিয়াম-২৩৯) উৎপন্ন হয়।
* তৃতীয় স্তরের সেতুবন্ধন: এটি ভবিষ্যতে থোরিয়াম-২৩২-কে ইউরেনিয়াম-২৩৩-এ রূপান্তরিত করার মাধ্যমে তৃতীয় স্তরের পথ প্রশস্ত করবে।
ভারতে পারমাণবিক বিদ্যুতের বর্তমান চিত্র
বর্তমানে ভারতের পারমাণবিক শক্তি একটি পরিপূরক উৎস থেকে মূল উৎসে পরিণত হচ্ছে:
* স্থাপিত ক্ষমতা: বর্তমানে ভারতের পারমাণবিক ক্ষমতা ৮.৭৮ গিগাওয়াট (GW)।
* অবদান: ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৩.১% আসে পারমাণবিক উৎস থেকে।
* সম্প্রসারণ পরিকল্পনা: ২০৩১-৩২ সালের মধ্যে এই ক্ষমতা ২২.৩৮ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
* আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: ১৮টি দেশের সাথে ভারত অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য
২০২৫-২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষিত 'নিউক্লিয়ার এনার্জি মিশন'-র অধীনে ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
* আর্থিক প্রতিশ্রুতি: ক্ষুদ্র মডিউলার রিঅ্যাক্টর (SMR) উন্নয়নে ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
* BARC-র উদ্যোগ: ভাবা পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র BSMR-200 এবং SMR-55 এর মতো পরবর্তী প্রজন্মের নকশা তৈরি করছে।
* শান্তি (SHANTI) আইন, ২০২৫: ভারতের পারমাণবিক আইনি কাঠামোকে আধুনিকীকরণ করতে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
উপসংহার
কালপাক্কামের এই সাফল্য ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতার প্রমাণ। সীমিত ইউরেনিয়াম থেকে থোরিয়াম চালিত ভবিষ্যতের দিকে ভারতের যাত্রা এখন বাস্তবায়নের পথে। এই অর্জন ভারতকে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
****
SSS/PK
(রিলিজ আইডি: 2249982)
ভিজিটরের কাউন্টার : 21