পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলন

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 06 APR 2026 6:03PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি: ৬ এপ্রিল ২০২৬

 

পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ, বিদেশ মন্ত্রকের পাশাপাশি উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রকের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকরা ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে বিবৃতি দেন। এই ধরনের সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে।

 

উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গণবন্টনের মাধ্যমে সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত ধান ও গম মজুত রয়েছে। সঙ্কটাপন্ন গোষ্ঠীর হাতে খাদ্যশস্য তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে খাদ্য সুরক্ষা আইন কাজ করে চলেছে। সরকার খাদ্যশস্যের দামের দিকে নজর রাখছে এবং প্রয়োজনমতো দেশের খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় প্রকল্পের আওতায় ধান ও গম ছাড়া হচ্ছে। প্রয়োজনমতো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এফসিআই-এর হাতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। রবি মরশুম ২০২৬-২৭-এ ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে গম কেনার কাজ শুরু হয়েছে। ক্রয় ব্যবস্থাপনা যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করে সেজন্য প্যাকেজিং-এর সরঞ্জামের সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সার ও পেট্রোকেমিক্যাল দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে। দেশে ভোজ্যতেলের মজুত পর্যাপ্ত। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে আমদানির কাজও চলছে। দেশে সর্ষে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। চিনির মজুতও পর্যাপ্ত। ২০২৫-২৬-এ চিনি উৎপাদন নির্ধারিত মাত্রাতেই থাকবে বলে অনুমান। ১৫.৮০ এলএমটি চিনি রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৩.৭৩ এলএমটি চিনি ইতিমধ্যেই রপ্তানি করা হয়েছে। এই চিনি যাচ্ছে প্রধানত শ্রীলঙ্কা, পশ্চিম এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকায়। চিনির খুচরো দামও স্থিতিশীল। উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর ৪০টি খাদ্যপণ্যের দামের ওপর দৈনিক ভিত্তিতে লক্ষ্য রাখছে। এ বছর ডালের উৎপাদন আগের বছরের থেকে ৯ লক্ষ এলএমটি বেশি হবে বলে অনুমান। সরকারের হাতে ২৮ এলএমটি ডাল মজুত রয়েছে। দেশে ডালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে ২০২৬-২৭-এ সংশ্লিষ্ট আমদানি নীতি অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। আলু, টোম্যাটো এবং পেঁয়াজের যোগানও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট। এ বছর ৫৮৩ এলএমটি আলু, ২২৭ এলএমটি টোম্যাটো এবং ২৭৩ এলএমটি পেঁয়াজ উৎপন্ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে এবং প্রাদেশিক স্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা হচ্ছে। মজুতদারি এবং কালোবাজারি রুখতে ১৯৫৫-র নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আইন অনুযায়ী কাজ হবে। জাতীয় স্তরের উপভোক্তাদের জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বরও আছে। নম্বরটি হল 1915। ১৭টি ভাষায় এই হেল্পলাইন কাজ করে। হোয়াটসঅ্যাপ এবং INGRAM পোর্টালের মাধ্যমেও এই হেল্পলাইন ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, পেট্রোপণ্য এবং এলপিজি-র সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। আতঙ্কিত হয়ে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি না কেনার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। ভুয়ো খবরে কান না দিয়ে তথ্যের জন্য সরকারি সূত্রের ওপরই নির্ভর করা উচিত বলে সরকার জানিয়েছে। বিকল্প জ্বালানি অর্থাৎ, পিএনজি কিংবা বিদ্যুৎচালিত রান্নার সরঞ্জাম ব্যবহার করতে বলছে সরকার। এলপিজি-র চাহিদার ওপর চাপ কমাতে কেরোসিন এবং কয়লা সরবরাহ করছে সরকার। পিএনজি সংযোগ আরও বাড়ানোর জন্য রাজ্যগুলিকে বলা হয়েছে। এলপিজি-র কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে তল্লাশি অভিযান চলছে। ১ লক্ষেরও বেশি জায়গায় তল্লাশিতে ৫২ হাজারেরও বেশি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দায়ের হয়েছে ৮৫০টিরও বেশি এফআইআর। ২২০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এলপিজি সরবরাহ কিছুটা প্রভাবিত হলেও ডিস্ট্রিবিউটারদের ভাণ্ডার ফুরিয়েছে এমন কোনো খবর নেই। অনলাইনে এলপিজি বুকিং আরও বেড়ে ৯৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২৩ মার্চ, ২০২৬-এর পর থেকে ৬.৭৫ লক্ষ ৫ কেজির ফ্রি-ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে এই ছোট সিলিন্ডার বিক্রির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি ৫৫০টি শিবির খুলেছে। এইসব শিবির থেকে ৬,৭০০-রও বেশি ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। আরও জানানো হয়েছে, ১৪ মার্চ ২০২৬-এর পর থেকে ৭৯,৯০৯ এমটি বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে। ইউরিয়া কারখানাগুলিতে গ্যাসের সরবরাহ ৭০-৭৫ শতাংশে রয়েছে। আজ থেকে এই সরবরাহ আরও বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হবে। পাশাপাশি, শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রের অন্যান্য পরিসরগুলিতে গ্যাস সরবরাহ আজ থেকে আরও ১০ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৬-এর মার্চ থেকে ৩.৬৭ লক্ষ পিএনজি সংযোগে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এই সংযোগের জন্য নতুন আবেদনের সংখ্যা ৪ লক্ষ। ডিজেল ও পেট্রোলের খুচরো বিপণন কেন্দ্রগুলি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে আরও ৪৮ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন।

 

পারস্য উপসাগর এলাকায় থাকা ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। জানানো হয়েছে, গত দু’দিনে ভারতের পতাকা লাগানো এলপিজি বোঝাই দুটি জাহাজ গ্রিন সানভি এবং গ্রিন আশা হরমুজ প্রণালী পেরিয়েছে। প্রথমটিতে রয়েছে ৪৬,৬৫০ এমটি এলপিজি। নাবিক রয়েছেন ২৫ জন। দ্বিতীয় জাহাজটিতে রয়েছে ১৫,৪০৫ এমটি এলপিজি। এই জাহাজটিতে ২৬ জন নাবিক রয়েছেন। জাহাজ চলাচল মন্ত্রক গত ২৪ ঘন্টায় ১২০ জন ভারতীয় নাবিককে সংঘাতদীর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

 

পশ্চিম এশিয়ায় থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার। সেখানকার ভারতীয় দূতাবাসগুলি এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে চলেছে। বিদেশ মন্ত্রী কথা বলেছেন কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রী টেলিফোনে তাঁকে ঐ অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন। তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস এখনও পর্যন্ত ১,৭৭৭ ভারতীয় নাগরিককে ইরান থেকে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানে চলে যাওয়ায় সহায়তা প্রদান করেছে। সহায়তা প্রদান করা হয়েছে একজন বাংলাদেশি ও একজন শ্রীলঙ্কার নাগরিককেও। খোলা রয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের বিশেষ কন্ট্রোল রুম। পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় দূতাবাসগুলি ২৪ ঘন্টার হেল্পলাইন খুলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ৭ লক্ষ ৩০ হাজার যাত্রী পশ্চিম এশিয়া থেকে ভারতে এসেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব এবং ওমান থেকে ভারতে বিমান চলাচল করছে। কাতার থেকে আজ ৮- ১০টি বিমান ভারতে আসার কথা। কুয়েত এবং বাহরিনের আকাশসীমা বন্ধ। ঐ দেশগুলি থেকে সৌদি আরব হয়ে ভারতে আসার পথ খোলা রয়েছে। ইজরায়েল থেকে মিশর ও জর্ডন এবং ইরাক থেকে জর্ডন ও সৌদি আরব হয়ে ভারতে ফেরা যেতে পারে।

*****

PS/Agt


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2249687) ভিজিটরদের কাউন্টার : 3
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English