পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে মূল ক্ষেত্রসমূহের সাম্প্রতিকতম তথ্য

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 05 APR 2026 2:38PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ৫ এপ্রিল ২০২৬

 

পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, ভারত সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিশ্চিতকরণ এবং নির্বিঘ্ন কার্যক্রম বজায় রাখার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শক্তি সরবরাহ, সামুদ্রিক কার্যক্রম এবং এই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, তার একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:

 

শক্তি সরবরাহ এবং জ্বালানির সহজলভ্যতা

 

হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন স্থানের পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতি লক্ষ্য রেখে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক সারা দেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এবং এলপিজি-র সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রকের তথ্যমতে:

 

জনসাধারণের প্রতি পরামর্শ এবং নাগরিক সচেতনতা

 

 পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-র পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; এমতাবস্থায় নাগরিকদের প্রতি পরামর্শ হলো, তাঁরা যেন পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা করা এবং এলপিজি-র অপ্রয়োজনীয় বুকিং দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

 

 নাগরিকদের গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে এবং সঠিক তথ্যের জন্য কেবল সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 এলপিজি-র ক্ষেত্রে, নাগরিকদের এলপিজি সিলিন্ডার বুক করার জন্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের এবং একান্ত প্রয়োজন না হলে এলপিজি পরিবেশকদের কার্যালয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

 

 যেখানে সম্ভব, নাগরিকদের পিএনজি, ইন্ডাকশন এবং বৈদ্যুতিক কুকটপের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

 

 বর্তমান পরিস্থিতিতে, সকল নাগরিককে তাঁদের দৈনন্দিন ব্যবহারে শক্তি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা চালানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

 

সরকারি প্রস্তুতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পদক্ষেপসমূহ

 

 এই যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও, সরকার গার্হস্থ্য এলপিজি ও পিএনজি-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে; পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও উচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে।

 

 সরকার ইতিমধ্যেই সরবরাহ ও চাহিদা—উভয় ক্ষেত্রেই বেশ কিছু যৌক্তিকীকরণমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে; যার মধ্যে রয়েছে শোধনাগারের উৎপাদন বৃদ্ধি, শহরাঞ্চলে বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে তা ৪৫ দিন পর্যন্ত করা এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার প্রদান।

 

 এলপিজি -র চাহিদার ওপর চাপ কমাতে কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যে কয়লা বিতরণের লক্ষ্যে রাজ্যগুলোকে অধিক পরিমাণে কয়লা বরাদ্দ করার জন্য কয়লা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই ‘কোল ইন্ডিয়া’ এবং ‘সিঙ্গারেণি কোলিয়ারিজ’-কে নির্দেশ জারি করেছে।

 

 রাজ্যগুলোকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক—উভয় ধরনের গ্রাহকের জন্যই নতুন পিএনজি সংযোগ প্রদানের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

 সম্প্রতি, সচিব (পিএনজি মন্ত্রক) সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এবং প্রধান সচিবদের (খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ) সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপগুলি তুলে ধরেন। রাজ্যগুলিকে এলপিজি বিতরণে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে গার্হস্থ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনে, এবং একই সাথে মজুতদারি, অপব্যবহার এবং ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে এফটিএল এলপিজি সরবরাহ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে, রাজ্যগুলি স্পষ্ট করেছে যে এলপিজি সরবরাহে এমন কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি যা পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রভাবিত করছে এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। সচিব জানিয়েছেন যে রাজ্যগুলি ওএমসিগুলির সাথে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে ৫ কেজি এফটিএল এলপিজি সিলিন্ডারের লক্ষ্যভিত্তিক বিতরণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

 

রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাসমূহের সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টা

 

 ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন এবং ২০০০ সালের এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশের অধীনে, রাজ্য সরকারসমূহ যেকোনো মজুদদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রাখে। পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-সহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যসমূহের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহের সরকারকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হয়। ভারত সরকার একাধিক চিঠির মাধ্যমে এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

 

 সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সমস্ত মুখ্য সচিব এবং অতিরিক্ত মুখ্য সচিব/প্রধান সচিব/খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ সচিবদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে—

 

 রাজ্য ও জেলা পর্যায়ে দৈনিক সংবাদ সম্মেলনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং নিয়মিত জনসতর্কতা জারি করা।

 

 উৎসর্গীকৃত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বা হেল্পলাইন স্থাপন করা।

 

 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর সক্রিয়ভাবে নজরদারি করা এবং তা প্রতিহত করা।

 

 জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দৈনিক তদারকি অভিযান জোরদার করা এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলোর(ওএমসি’স) সঙ্গে সমন্বয় রেখে আকস্মিক তল্লাশি ও পরিদর্শন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা।

 

 নিজ নিজ রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহের জন্য বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের আদেশ জারি করা।

 

 রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহের অনুকূলে অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত ‘সুপিরিয়র কেরোসিন অয়েল’ (এসকেও)-এর বরাদ্দের আদেশ জারি করা।

 

 সিজিডি (শহুরে গ্যাস বিতরণ) ব্যবস্থার সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করা—যার অন্তর্ভুক্ত হলো আরওডব্লিউ/আরওইউ (পথের অধিকার/ব্যবহারের অধিকার) সংক্রান্ত অনুমতি এবং ২৪x৭ কাজের অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা।

 

 পিএনজি (পাইপবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস)-এর ব্যবহার এবং বিকল্প জ্বালানির প্রচলনকে উৎসাহিত করা।

 

 এমওপিএনজি (পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক)-এর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন নোডাল কর্মকর্তা মনোনীত করা।

 

 মজুতদারি ও কালোবাজারির ঘটনা রোধ করার উদ্দেশ্যে সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং জেলা পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেছে।

 

 ভারত সরকার গত ২৭.০৩.২০২৬ এবং ০২.০৪.২০২৬ তারিখের পত্রের মাধ্যমে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিবদের অনুরোধ জানিয়েছে যে—ভুল তথ্যের মোকাবিলা করতে এবং এলপিজি-র পর্যাপ্ত প্রাপ্তি ও সুষ্ঠু বন্টন সম্পর্কে নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে—তাঁরা যেন সক্রিয় ও নিয়মিত জনযোগাযোগ জোরদার করেন, উপযুক্ত ঊর্ধ্বতন স্তরে দৈনিক সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করেন এবং সামাজিক ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমের সাহায্যে যথাসময়ে সঠিক তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা করেন।

 

 বর্তমানে ২২টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা প্রদান করছে।

 

বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণমূলক কার্যক্রম

 

 এলপিজি-র মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত, রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলোর (পিএসইউ ওএমসি’স ) যৌথ দল ৫০,০০০-এরও বেশি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে।

 

 মজুতদারি বা কালোবাজারির যেকোনো অপ-তৎপরতা দমনের লক্ষ্যে আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো বিভিন্ন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপকে ১,৪০০-এরও বেশি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। এছাড়া, এখন পর্যন্ত ৩৬টি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

 

এলপিজি সরবরাহ

 

গার্হস্থ্য এলপিজি সরবরাহের অবস্থা:

 

 এলপিজি বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

 

 গতকাল শিল্পখাত-ভিত্তিক হিসেবে অনলাইনে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের হার বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

 

 বিতরণকারী পর্যায়ে সিলিন্ডার অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া বা অপব্যবহার রোধ করতে, 'ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড' (ডিএসি)-ভিত্তিক সরবরাহের হার ৫৩ শতাংশ (ফেব্রুয়ারি-২০২৬) থেকে বাড়িয়ে গতকাল ৯০ শতাংশ করা হয়েছে।

 

 গতকাল ৫১ লক্ষেরও বেশি গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে।

 

বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ ও বরাদ্দ ব্যবস্থা

 

 ভারত সরকার ০১.০৪.২০২৬ তারিখের একটি আদেশের মাধ্যমে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন শোধনকারী কোম্পানিগুলোকে(রিফাইনিং কম্পানিজ) অনুমতি প্রদান করেছে, যাতে তারা 'সেন্টার ফর হাই টেকনোলজি' (সিএইচটি)-এর দ্বারা নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ ও শোধনকারী উৎসের ভিত্তিতে—'ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ', 'খাদ্য ও গণবন্টন বিভাগ', 'রসায়ন ও পেট্রোকেমিক্যাল বিভাগ' ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর জন্য— সি-থ্রি ও সি-ফোর স্ট্রিমের একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম পরিমাণ সরবরাহ করতে পারে।

 

 ভারত সরকার মোট বাণিজ্যিক বরাদ্দের পরিমাণকে সংকট-পূর্ববর্তী স্তরের ৭০ শতাংশে (যার মধ্যে ১০ শতাংশ সংস্কার-ভিত্তিক বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত) সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 গতকাল, ৯০,০০০-এরও বেশি ৫ কেজি ওজনের এফটিএল সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।

 

 ২৩শে মার্চ ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত, প্রায় ৬.৬ লক্ষ ৫ কেজি ওজনের এফটিএল সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে।

 

 এই ৫ কেজি ওজনের এফটিএল সিলিন্ডারগুলো নিকটবর্তী এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর বা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে এবং যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে এগুলো কেনা সম্ভব। এর জন্য কোনো ঠিকানার প্রমাণপত্রের প্রয়োজন নেই।

 

 আইওসিএল, এইচপিসিএল এবং বিপিসিএল-এর নির্বাহী পরিচালকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি তিন-সদস্যের কমিটি—রাজ্য কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থাগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে—বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে থাকে।

 

 ১৪ই মার্চ ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত, মোট ৭৮,৮৩৩ মেট্রিক টন বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে।

 

প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ এবং PNG সম্প্রসারণ উদ্যোগ

 

 ডি- পিএনজি এবং সিএনজি-পরিবহন খাতে ১০০% গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

 

 বর্তমানে চালু ইউরিয়া কারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে, যা গত ৬ মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৭০-৭৫%। বিদ্যমান মজুত এবং নির্ধারিত এলএনজি কার্গো আগমনের বিষয়টি বিবেচনা করে, ০৬.০৪.২০২৬ তারিখ থেকে সার কারখানাগুলোর জন্য সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে পূর্ববর্তী ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৯০%-এ উন্নীত করা হবে। এছাড়া, ০৬.০৪.২০২৬ তারিখ থেকে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (সিজিডি) বা শহুরে গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহসহ অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের সরবরাহ আরও ১০% বৃদ্ধি করা হবে।

 

 ভারত সরকার সিজিডি (শহুরে গ্যাস বিতরণ) সংস্থাগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে যেন তারা তাদের আওতাধীন সমস্ত ভৌগোলিক এলাকায় রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং ক্যান্টিনের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএনজি সংযোগ প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়; এর উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্যিক এলপিজি-র সহজলভ্যতা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো নিরসন করা।

 

 আইজিএল, এমজিএল, গেইল গ্যাস এবং বিপিসিএল-এর মতো সিজিডি কোম্পানিগুলো আবাসিক ও বাণিজ্যিক পিএনজি সংযোগ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ ঘোষণা করেছে।

 

 ভারত সরকার বিভিন্ন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়গুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা সিজিডি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

 

 ভারত সরকার ১৮.০৩.২০২৬ তারিখের একটি চিঠির মাধ্যমে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অতিরিক্ত ১০% বাণিজ্যিক LPG বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে—তবে শর্ত হলো, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো যদি এলপিজি থেকে পিএনজি -তে দীর্ঘমেয়াদী রূপান্তরে সহায়তা করে। পিএনজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সংক্রান্ত সংস্কারমূলক পদক্ষেপের আওতায় বর্তমানে ১২টি রাজ্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ পাচ্ছে। এছাড়া, একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আবেদনও গৃহীত হয়েছে এবং বর্তমানে সেটি যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

 

 পিএনজিআরবি (পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক বোর্ড) ২৩.০৩.২০২৬ তারিখের একটি আদেশের মাধ্যমে সমস্ত সিজিডি সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা আবাসিক স্কুল ও কলেজ, ছাত্রাবাস (হোস্টেল), কমিউনিটি কিচেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোর রান্নাঘর ইত্যাদিতে পিএনজি সংযোগ প্রদানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়; যেখানেই পাইপলাইন পরিকাঠামো নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যমান রয়েছে, সেখানে ৫ দিনের মধ্যে এই সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

 

 সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয় ২৪.০৩.২০২৬ তারিখের একটি চিঠিতে জানিয়েছে যে, তারা ৩ মাসের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে “সিজিডি পরিকাঠামোর জন্য ত্বরান্বিত অনুমোদন কাঠামো (অ্যাক্সিলারেটেড অ্যাপ্রুভাল ফ্রেমওয়ার্ক) ও সংক্ষিপ্ত সময়সীমা” গ্রহণ করেছে; এই কাঠামোর আওতায় সিজিডি পরিকাঠামো সংক্রান্ত আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রক্রিয়াজাত করা হবে।

 

 ভারত সরকার ২৪.০৩.২০২৬ তারিখের একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের(এসেন্সিয়েল কমোডিটিস অ্যাক্ট) অধীনে “প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ (পাইপলাইন ও অন্যান্য স্থাপনা স্থাপন, নির্মাণ, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে) আদেশ, ২০২৬” জারি করেছে। এই আদেশের মাধ্যমে সারা দেশে পাইপলাইন স্থাপন ও সম্প্রসারণের জন্য একটি সুবিন্যস্ত ও সময়সীমা-বদ্ধ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে; এর ফলে অনুমোদন প্রাপ্তি ও জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিলম্বের সমস্যার সমাধান হবে এবং আবাসিক এলাকাগুলোসহ সর্বত্র প্রাকৃতিক গ্যাসের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। আশা করা হচ্ছে যে, এই পদক্ষেপ PNG নেটওয়ার্কের প্রবৃদ্ধি বাড়াবে, ‘লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি’ বা প্রান্তিক পর্যায়ের সংযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির(ক্লিনার ফ্যুয়েলস) দিকে রূপান্তর প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে—যার ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় হবে এবং ভারতের গ্যাস-ভিত্তিক অর্থনীতির অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক গত ২৭.০৩.২০২৬ তারিখের এক পত্রের মাধ্যমে একটি স্বল্পমেয়াদী নীতি সংশোধন জারি করেছে, যা ৩০.০৬.২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রতিরক্ষা খাতের আওতাধীন সকল আবাসিক এলাকা ও ইউনিট লাইনগুলোতে পিএনজি (পিএনজি) পরিকাঠামো স্থাপনের কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 পিএনজিআরবি (পিএনজি আরবি) কর্তৃক সিজিডি সংস্থাগুলোকে ডি-পিএনজি সংযোগ প্রদানের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পিএনজি সম্প্রসারণের গতিধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে 'ন্যাশনাল পিএনজি ড্রাইভ ২.০' (০১.০১.২০২৬ – ৩১.০৩.২০২৬)-এর মেয়াদ এখন ৩০.০৬.২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

 ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩.৬ লক্ষ পিএনজি সংযোগে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়েছে। তাছাড়া, নতুন সংযোগ গ্রহণের জন্য ৩.৯ লক্ষেরও অধিক গ্রাহক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

 

অপরিশোধিত তেলের অবস্থান ও শোধনাগার কার্যক্রম

 

 সকল শোধনাগারই পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এছাড়া, দেশে পেট্রোল ও ডিজেলেরও পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা হচ্ছে।

 

 অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে শোধনাগারগুলো থেকে এলপিজি-র অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

খুচরা জ্বালানির প্রাপ্যতা ও মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত পদক্ষেপসমূহ

 

 সারা দেশ জুড়ে সমস্ত খুচরা জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ফলে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে। এই পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে, ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক প্রতি লিটারে ১০ টাকা হ্রাস করার মাধ্যমে এই আর্থিক বোঝার একটি অংশ স্বয়ং বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 অধিকন্তু, অভ্যন্তরীণ বাজারে এই জ্বালানি পণ্যগুলোর পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে, ভারত সরকার ডিজেলের ওপর প্রতি লিটারে ২১.৫ টাকা এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল(এটিএফ)-এর ওপর প্রতি লিটারে ২৯.৫ টাকা হারে রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছে।

 

 পেট্রোল ও ডিজেলের নিয়মিত খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

সরকার পুনরায় পরামর্শ দিচ্ছে যে, কোনো ধরনের গুজবে কান দেবেন না। গুজব প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে, রাজ্য সরকারগুলোকেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রচার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

কেরোসিনের সহজলভ্যতা ও বিতরণ সংক্রান্ত পদক্ষেপসমূহ

 

 নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত হিসেবে, সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

 ভারত সরকার গত ২৯.০৩.২০২৬ তারিখের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, যেসব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সাধারণত পিডিএস-এর মাধ্যমে কেরোসিন(এসকেও) বিতরণ করা হয় না—সেসব স্থানেও কেবল রান্নাবান্না ও আলোকসজ্জার উদ্দেশ্যে পিডিএস -এর আওতাভুক্ত কেরোসিন বিতরণের ব্যবস্থা করেছে।

 

 প্রতিটি জেলায় সর্বাধিক দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থার (পিএসইউ ওএমসি’স ) সার্ভিস স্টেশনকে—বিশেষত যেগুলো 'কোম্পানি মালিকানাধীন ও কোম্পানি পরিচালিত' (সিওসিও)—৫,০০০ লিটার পর্যন্ত পিডিএস কেরোসিন মজুত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

 প্রতিটি জেলায় এই নির্দিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থার সার্ভিস স্টেশনগুলোকে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন কর্তৃক মনোনীত করা হবে।

 

 ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কেরোসিন বরাদ্দের আদেশ জারি করেছে। এছাড়া, হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখ জানিয়েছে যে, তাদের রাজ্যে বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কেরোসিনের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

 

সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ-পরিবহন কার্যক্রম

 

বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয় এই অঞ্চলে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে যে:

 

 বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রবাহ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জাহাজ চলাচল, বন্দরের কার্যক্রম এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।

 

 এই অঞ্চলে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাবিক নিরাপদে আছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী কোনো জাহাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 

 পশ্চিম পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে ভারতীয় পতাকাবাহী মোট ১৭টি জাহাজ অবস্থান করছে, যেগুলোতে ৪৬০ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন; 'ডিজি শিপিং' জাহাজ মালিক, RPSL সংস্থা এবং বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশনগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতিটি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

 

 'ডিজি শিপিং'-এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই সচল রয়েছে এবং চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ৫০৮৮টি ফোন কল ও ১০৫৪৭টি ইমেইল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করেছে; গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে ৭৩টি ফোন কল এবং ১২২টি ইমেইল প্রাপ্তির তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।

 

 'ডিজি শিপিং' এখন পর্যন্ত ১৪৭৯ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের (রিপ্যাট্রিয়েশন) ব্যবস্থা করেছে; এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও অন্যান্য স্থান থেকে ১৫৯ জন নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

 গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পুদুচেরির 'স্টেট মেরিটাইম বোর্ড'গুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সর্বত্র বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও কোনো ধরনের যানজট বা স্থবিরতার খবর পাওয়া যায়নি।

 

 নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং সামুদ্রিক কার্যক্রমের নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে মন্ত্রণালয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশনসমূহ এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের(স্টেকহোল্ডারস) সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ অব্যাহত রেখেছে।

 

এই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা

 

সমগ্র অঞ্চল জুড়ে, ভারতীয় মিশন ও কেন্দ্রসমূহ ভারতীয় সম্প্রদায়ের সাথে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে; পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের স্বার্থে সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ জারি করার কাজও অব্যাহত রেখেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী:

 

 ইরানে আটকা পড়া মোট ৩৪৫ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী গতকাল দেশে ফিরেছেন। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস দক্ষিণ ইরান থেকে আর্মেনিয়া পর্যন্ত তাঁদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেয়; সেখান থেকে তাঁরা বিমানে করে চেন্নাই পৌঁছান।

 

 বিদেশ মন্ত্রক উপসাগরীয় এবং পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে, যা বিভিন্ন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশনগুলোর সাথে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখছে।

 

 বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ও দপ্তরগুলো দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন পরিচালনা করছে, প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা নির্দেশিকা জারি করছে এবং স্থানীয় ভারতীয় কমিউনিটি সংগঠন, বিভিন্ন কোম্পানি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। প্রদত্ত সহায়তার মধ্যে রয়েছে ভিসা সংক্রান্ত সেবা, কনস্যুলার পরিষেবা, ট্রানজিট বা যাত্রাপথের সুবিধা এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা।

 

 ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করাও একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মিশনগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ভারতীয় স্কুলগুলো, শিক্ষা বোর্ড এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

 

 সমুদ্রে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজে কর্মরত ভারতীয় ক্রু বা কর্মীদের সাথে মিশনগুলো নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে; তাঁদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, পরিবারের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে এবং দেশে ফিরে আসার অনুরোধগুলোর ক্ষেত্রে সহায়তা করা হচ্ছে।

 

 বিমান চলাচল পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নত হচ্ছে; গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে ভারতে প্রায় ৭,০২,০০০ যাত্রী যাতায়াত করেছেন।

 

 সংযুক্ত আরব আমিরশাহী(ইউএই): সীমিত সংখ্যক অনির্ধারিত বা বিশেষ বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে; ভারতে আসার জন্য প্রায় ৯০টি বিমান চলাচল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 সৌদি আরব ও ওমান: এই দেশগুলোর একাধিক বিমানবন্দর থেকে ভারতে বিমান চলাচল করছে।

 

 কাতার: আকাশপথ আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে; আজ প্রায় ৮ থেকে ১০টি বিমান চলাচল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 কুয়েত ও বাহরাইন: আকাশপথ বন্ধ রয়েছে; তাই সৌদি আরবের দাম্মাম হয়ে ভারতে বিমান চলাচল করছে।

 

 ইরান: আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মাধ্যমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

 ইসরায়েল: মিশর ও জর্ডানের মাধ্যমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

 ইরাক: জর্ডান ও সৌদি আরবের মাধ্যমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

 ওমানের উপকূলের অদূরে একটি জাহাজে হামলার ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারানো এক ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

*****

PS/Agt


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2249354) ভিজিটরদের কাউন্টার : 8
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English