PIB Headquarters
GLP-1 ওষুধ: এর ব্যবহার, ঝুঁকি এবং নিয়ন্ত্রণ
প্রকাশিত:
01 APR 2026 10:48AM by PIB Kolkata
০১ এপ্রিল, ২০২৬
ভূমিকা
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যা তখন ঘটে যখন অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে না, অথবা যখন শরীর তার উৎপাদিত ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না, যার ফলে, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। চিকিৎসা না করা হলে এটি অন্ধত্ব, কিডনি বিকল হওয়া, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অঙ্গহানির মতো জটিলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন হলো অগ্ন্যাশয় দ্বারা উৎপাদিত হরমোন যা রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিন খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে এবং কোষকে গ্লুকোজ শোষণে সক্ষম করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। অন্যদিকে, গ্লুকাগন শর্করার মাত্রা খুব কমে গেলে তা বাড়িয়ে দেয়। এই দুটি হরমোন মিলে রক্তে শর্করাকে একটি সুস্থ সীমার মধ্যে রাখে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের কোষগুলি ইনসুলিন প্রতিরোধী (Resistant) হয়ে ওঠে অথবা অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে না। এই দ্বৈত সমস্যা সমাধানের জন্যই GLP-1 ওষুধগুলো ডিজাইন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস এবং খাদ্যে অতিরিক্ত শর্করা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। যাদের বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ২৫ কেজি/মি²-এর বেশি, তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষ করে পেটের চর্বি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের বা ইনসুলিন প্রতিরোধক প্রধান কারণ।
ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা থেকে মুক্তি
ডায়াবেটিস দুই ধরণের হয়। টাইপ-১ ডায়াবেটিসে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, তাই রোগীদের জীবনভর ইনসুলিন নিতে হয়। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে শরীর ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধযোগ্য। এটি দূরে রাখতে যা করা উচিত:
* সুস্থ শরীরের ওজন বজায় রাখা।
* প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম করা।
* স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বি (Saturated fats) এড়িয়ে চলা।
* তামাক বা ধূমপান না করা।
স্থূলতা (Obesity) একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। স্থূলতা প্রতিরোধে চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার কমিয়ে ফলমূল, শাকসবজি এবং বাদাম জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া উচিত।
GLP-1 ওষুধ কি?
GLP-1 ওষুধ (Glucagon-like peptide-1 receptor agonists) টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা উভয়ের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায় এবং অতিরিক্ত গ্লুকাগন দমন করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ওষুধগুলি ক্ষুধার অনুভূতি কমায় এবং পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যার ফলে, ওজন হ্রাস পায়।
সম্প্রতি ভারতের বাজারে GLP-1 ওষুধের বিভিন্ন রূপ আনা হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়েলনেস ক্লিনিকে এর অননুমোদিত সহজলভ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোলার (DCGI) এর অপব্যবহার এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোধে নজরদারি জোরদার করেছে।
GLP-1 ওষুধ কিভাবে কাজ করে?
খাবার খাওয়ার পর আমাদের পরিপাকতন্ত্র শর্করা তৈরি করে যা রক্তে মিশে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় GLP-1 হরমোন সক্রিয় হয়, যা অগ্ন্যাশয়কে ইনসুলিন ছাড়তে সংকেত দেয়। এই হরমোন যকৃতকে (Liver) রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ছাড়তেও বাধা দেয়।
GLP-1 অ্যাগোনিস্ট ওষুধগুলি এই প্রাকৃতিক হরমোনের অনুকরণ করে কাজ করে। এটি মানুষকে দীর্ঘক্ষণ তৃপ্ত বা পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়, যা ক্ষুধা কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
বাজারে উপলব্ধ কিছু GLP-1 ওষুধ:
* সেমাগ্লুটাইড ইনজেকশন (Semaglutide injection)
* সেমাগ্লুটাইড ট্যাবলেট (Semaglutide tablets)
* লিরাগ্লুটাইড (Liraglutide)
* তিরজেপাটাইড (Tirzepatide)
* ডুলাগ্লুটাইড (Dulaglutide)
অধিকাংশ ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে নিতে হয়, তবে, কিছু ট্যাবলেট আকারেও পাওয়া যায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকি
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ গ্রহণ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এর সাধারণ এবং গুরুতর উভয় ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে:
* সাধারণ: বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, ডায়রিয়া।
* গুরুতর: প্যানক্রিয়াটাইটিস (অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ), কিডনি ইনজুরি, এমনকি থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি।
নিয়ন্ত্রণ ও কড়াকড়ি
ভারতে এই ওষুধটি শুধুমাত্র এন্ডোক্রিনোলজিস্ট বা হরমোন বিশেষজ্ঞ, ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং কার্ডিওলজিস্ট বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরাই প্রেসক্রাইব করতে পারেন। অননুমোদিত বিক্রি বন্ধ করতে সরকার নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে:
* ২০২৬-এর ১০ মার্চ তারিখে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বন্ধে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
* সারা দেশে ৪৯টি প্রতিষ্ঠানে (অনলাইন ফার্মেসি, পাইকারি বিক্রেতা এবং ওয়েট লস ক্লিনিক) তল্লাশি চালানো হয়েছে।
* নিয়ম ভঙ্গকারী ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল এবং আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
GLP-1 ওষুধ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হলেও এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। প্যানক্রিয়াটাইটিস বা কিডনির ক্ষতির মতো গুরুতর জটিলতা এড়াতে এই ওষুধটি শুধুমাত্র নিবন্ধিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই নেওয়া উচিত। রোগীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা কেবল বৈধ এবং নিয়ন্ত্রিত মাধ্যম থেকে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী এই ওষুধ সংগ্রহ করেন।
তথ্যসূত্র
Click here to see pdf
****
SSS/PK/6.3.26
(রিলিজ আইডি: 2247582)
ভিজিটরের কাউন্টার : 8