পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধজনিত সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠক

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 25 MAR 2026 4:52PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ২৫ মার্চ ২০২৬

 

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রক, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস, বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ এবং বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা ‘ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টার’-এ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। এই সাংবাদিক বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ, এই অঞ্চলে সামুদ্রিক ক্রিয়াকলাপ এবং ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট এই ক্ষেত্রগুলিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন কার্যকলাপ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, সরকারি আধিকারিকর তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।


অপরিশোধিত তেল ও শোধনাগারসমূহ

 পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত নিয়ে সকল শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখা হয়েছে এবং পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা হচ্ছে।

 অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে শোধনাগারগুলি থেকে এলপিজি-র অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রসমূহ

 দেশজুড়ে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলি স্বাভাবিকভাবেই চালিত হচ্ছে।

 গুজবের কারণে কোনও কোনও কোনো এলাকায় আতঙ্কিত হয়ে ক্রয়ের খবর পাওয়া গেছে; এর ফলে খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রগুলিতে বিক্রির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তবে, সমস্ত পেট্রোল পাম্পেই পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

 সরকার জনসাধারণের কাছে কোনওরকম গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস

 অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস বন্টন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে; এর আওতায় গার্হস্থ্য পিএনজি এবং সিএনজি-চালিত পরিবহন ক্ষেত্রে ১০০% সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্রিডের সাথে সংযুক্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সরবরাহের পরিমাণ তাদের গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০% বজায় রাখা হচ্ছে।

 সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছে, তারা যেন রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং ক্যান্টিনের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে পিএনজি সংযোগ প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়।

 IGL, MGL, GAIL Gas এবং BPCL-এর মতো সিজিডি কোম্পানিগুলি গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক পিএনজি সংযোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ছাড় দিচ্ছে।

 ভারত সরকার বিভিন্ন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকগুলিকে সিজিডি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে।

 ভারত সরকার ১৮.০৩.২০২৬ তারিখের একটি চিঠির মাধ্যমে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে অতিরিক্ত ১০% বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে, যা এলপিজি থেকে পিএনজি-তে রূপান্তর প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত।

 কয়েকটি রাজ্য সরকার 'রাইট অফ ইউজার' বা ব্যবহারের অধিকার (RoU) এবং 'রাইট অফ ওয়ে' বা চলাচলের অধিকারের (RoW) অনুমতি দ্রুত প্রদানের লক্ষ্যে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি তারা কাজের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং RoU/RoW সংক্রান্ত মাশুল বা চার্জ যুক্তিসঙ্গত করার উদ্যোগও নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দিল্লির ডিডিএ রাস্তা মেরামতের খরচ মকুব করেছে এবং নতুন পিএনজি পাইপলাইন স্থাপনের কাজ ২৪ ঘণ্টা (24x7) চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

 পেট্রোলিয়াম এবং বিস্ফোরক সুরক্ষা সংস্থা (PESO) তাদের অধীনস্থ কার্যালয়গুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন সিজিডি সংক্রান্ত আবেদনগুলি প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করে।

 পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক বোর্ড (PNGRB) ২৩.০৩.২০২৬ তারিখের এক আদেশনামার মাধ্যমে সিজিডি সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন আবাসিক স্কুল, কলেজ, ছাত্রাবাস, কমিউনিটি কিচেন এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির হেঁশেলে পিএনজি সংযোগ প্রদানে অগ্রাধিকার দেয় এবং যেখানে সম্ভব, সেখানে পাঁচ দিনের মধ্যে এই সংযোগ যেন নিশ্চিত করে।

 গতকাল সিজিডি সংস্থাগুলি ১১০টি ভৌগোলিক এলাকায় মোট ৯,০৪৬টি পিএনজি সংযোগের কথা জানিয়েছে।

এলপিজি

 বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এলপিজি সরবরাহ এখনও বিঘ্নিত হচ্ছে।

 এলপিজি পরিবেশক কেন্দ্রগুলিতে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

 গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

 সরকার ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের জন্য বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ আংশিকভাবে (২০%) পুনর্বহাল করেছে। তাছাড়া, ভারত সরকার ১৮.০৩.২০২৬ তারিখের একটি চিঠির মাধ্যমে পিএনজি সম্প্রসারণ সংক্রান্ত সংস্কারমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে শর্তসাপেক্ষে অতিরিক্ত ১০% বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে।

 ভারত সরকার ২১.০৩.২০২৬ তারিখের একটি চিঠির মাধ্যমে রাজ্যগুলির জন্য বাণিজ্যিক এলপিজি-র আরও ২০% অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন করেছে; এর ফলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ বেড়ে ৫০%-এ দাঁড়াবে। এই অতিরিক্ত ২০% বরাদ্দ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেস্তোরাঁ, ধাবা, হোটেল, শিল্প-কারখানার ক্যান্টিন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ/ডেয়ারি শিল্প, রাজ্য সরকার বা স্থানীয় সংস্থা পরিচালিত ভর্তুকিযুক্ত ক্যান্টিন/খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্র, কমিউনিটি কিচেন এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজি ওজনের 'FTL' (Free Trade LPG) সিলিন্ডার প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রদান করা হবে।

 ২৬টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অ-গার্হস্থ্য এলপিজি বরাদ্দের নির্দেশ জারি করেছে; অন্যদিকে, অবশিষ্ট এলাকাগুলিতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি এলপিজি সরবরাহ করছে। ১৪ মার্চ, ২০২৬ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২২,২৬৮ মেট্রিক টন বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ করা হয়েছে।

কেরোসিন

 নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত হিসেবে, সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ৪৮,০০০ কিলোলিটার কেরোসিনের অতিরিক্ত বরাদ্দ মঞ্জুর করা হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে জেলা-স্তরের বিতরণ কেন্দ্রগুলি চিহ্নিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 ১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কেরোসিন বরাদ্দের আদেশ জারি করেছে; অন্যদিকে হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখ জানিয়েছে যে, তাদের কোনো অতিরিক্ত কেরোসিনের প্রয়োজন নেই। ১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখনও বরাদ্দের আদেশ জারি করেনি।

রাজ্য সরকার / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহের ভূমিকা

 অত্যাবশ্যক পণ্য আইন, ১৯৫৫ এবং এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ২০০০-এর অধীনে, রাজ্য সরকারগুলির মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে।

 ভারত সরকার ১৩.০৩.২০২৬ এবং ১৮.০৩.২০২৬ তারিখে এক চিঠির মাধ্যমে সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নিম্নোক্ত অনুরোধ জানিয়েছে:

Ø মজুতদারি, কালোবাজারি এবং গার্হস্থ্য এলপিজি-র অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা।

Ø সংশ্লিষ্ট আইনি বিধানের অধীনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Ø বাণিজ্যিক এলপিজি-র জন্য উপযুক্ত বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

Ø আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত ক্রয় রোধ করতে এবং যথাযথ ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে জনসচেতনতামূলক নির্দেশিকা জারি করা।

 জেলা সমাহর্তা এবং খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ দপ্তরের আধিকারিকগণ প্রতিদিন নিয়মিতভাবে অভিযান চালাচ্ছেন।


 অধিকাংশ রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই কন্ট্রোল রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু এবং জেলা পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করেছে; অবশিষ্ট অঞ্চলগুলিকে যত দ্রুত সম্ভব এই ব্যবস্থাগুলি কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

 সঠিক তথ্য প্রচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে প্রতিদিন সাংবাদিক বৈঠক করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী অভিযান

 এলপিজি-র মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিযান চালানো হচ্ছে। গতকাল উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গনা এবং ছত্তিশগড় সহ বিভিন্ন রাজ্যে ২,৭০০টিরও বেশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং প্রায় ২,০০০টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

 রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো সারা দেশে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র এবং এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপগুলোতে ১,৭০০-রও বেশি আচমকা পরিদর্শন চালিয়েছে।

 এখন পর্যন্ত ৬৫০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং ১৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপ

 হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্রগুলির পাশাপাশি গার্হস্থ্য এলপিজি ও পিএনজি সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে।

 গৃহীত পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে: শোধনাগারে উৎপাদন বৃদ্ধি; বুকিংয়ের মধ্যবর্তী সময়সীমা শহরাঞ্চলে ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন পর্যন্ত বহাল রাখা; এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক বরাদ্দের সুনিশ্চিতকরণ।

 এলপিজি-র ওপর চাহিদার চাপ কমাতে কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

 কয়লা মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ‘কোল ইন্ডিয়া’ এবং ‘সিঙ্গারেণি কোলিয়ারিজ’-কে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে তারা ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে রাজ্যগুলিকে অধিক পরিমাণে কয়লা বরাদ্দ করে।

 গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য নতুন পিএনজি সংযোগ প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার জন্য রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


জনসাধারণের প্রতি নির্দেশিকা

 সরকার পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-র পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; এই অবস্থায় নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত ক্রয় করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 নাগরিকদের কেবল সরকারি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করতে এবং কোনও ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 এলপিজি-র ক্ষেত্রে, বুকিংয়ের জন্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের এবং এলপিজি পরিবেশকদের কার্যালয়ে সশরীরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য নাগরিকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

 নাগরিকদের পিএনজি এবং বৈদ্যুতিক বা ইন্ডাকশন কুকটপের মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

 সকল নাগরিককে তাদের দৈনন্দিন ব্যবহারে শক্তি সাশ্রয় করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নৌ-পরিবহন কার্যক্রম

পারস্য উপসাগরে বর্তমান সামুদ্রিক পরিস্থিতি এবং ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রক জানিয়েছে যে:

 বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাবিক নিরাপদ রয়েছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী কোনও জাহাজকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 পশ্চিম পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৫৪০ জন ভারতীয় নাবিকসহ ২০টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং জাহাজ মালিক, আরপিএসএল সংস্থা এবং ভারতীয় মিশনগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

 ডিজি শিপিং-এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি ২৪ ঘণ্টাই (24×7) চালু রয়েছে। চালু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি নাবিক, তাদের পরিবারবর্গ এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রের যুক্ত সংশ্লিষ্টদের পরিজনদের কাছ থেকে মোট ৪,১০৮টি ফোন কল পেয়েছে এবং ৭,৯০৯টি ইমেলের জবাব দিয়েছে; এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই ১৮৭টি কল এবং ৪৬২টি ইমেল রয়েছে।

 ডিজি শিপিং এখনও পর্যন্ত বিমানবন্দর এবং ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে ৬৩৫ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করেছে, এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ জন নাবিক দেশে ফিরেছেন।

এই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা

 প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি ফোন কল পেয়েছেন; এই কথোপকথনকালে উভয় নেতা পশ্চিম এশিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত উত্তেজনা প্রশমন এবং দ্রুত শান্তি ফেরানোর পক্ষে।

 প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং সকলের জন্য সহজগম্য রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই প্রণালীর অসামান্য গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে বর্তমান প্রচেষ্টার বিষয়ে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার ব্যাপারে উভয় নেতাই সম্মত হন।

 প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছ থেকেও একটি ফোন কল পেয়েছেন; এই আলোচনায় উভয় নেতা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বাধাসমূহ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করেন।

 বিশ্ব বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সমুদ্রপথগুলিকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার গুরুত্বের কথা উভয় নেতাই পুনরায় উল্লেখ করেন এবং ভারত-শ্রীলঙ্কা জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।

 ‘প্রতিবেশীই সর্বাগ্রে’ (Neighbourhood First) নীতি এবং ‘মহাসাগর’ (MAHASAGAR) ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে ভারত তার অঙ্গীকার ফের ব্যক্ত করে।

 ভারতের বিদেশমন্ত্রী ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি ইরান যে সহায়তা প্রদান করেছে, তার জন্য বিদেশমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 বিদেশ মন্ত্রক উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে; এক্ষেত্রে ভারতীয়দের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সার্বিক কল্যাণই মন্ত্রকের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 সামগ্রিক বিমান চলাচল পরিস্থিতির ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে এবং ওই অঞ্চল থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত বিমান চলাচল করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত, ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ৪,২৬,০০০ জন যাত্রী ভারতে ফিরে এসেছেন। এই সময়ের মধ্যে, ভারতীয় ও বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর নির্ধারিত (scheduled) এবং অনির্ধারিত (non-scheduled) ফ্লাইট মিলিয়ে মোট ২,১৪৯টি বিমান এই অঞ্চল থেকে চলাচল করেছে।


 সৌদি আরব এবং ওমান থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

 কাতারের আকাশপথ আংশিকভাবে উন্মুক্ত থাকায়, আজ কাতার এয়ারওয়েজ ভারতের উদ্দেশ্যে প্রায় ৯টি অনির্ধারিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 কুয়েত এবং বাহরাইনের আকাশপথ এখনও বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরব থেকে জজিরা এয়ারওয়েজ (Jazeera Airways) এবং গালফ এয়ারের (Gulf Air) মতো বিমান সংস্থাগুলি বিশেষ অনির্ধারিত ফ্লাইট চালাচ্ছে, যা ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফেরার পথ সুগম করছে।

 ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের হয়ে ভারতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে; আমাদের দূতাবাসের সহায়তায় এখন পর্যন্ত ৭১৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩২৬ জন সাধারণ নাগরিকসহ মোট ১,০৪৩ জন ভারতীয় নাগরিক ইরান ত্যাগ করেছেন।

 ইজরায়েলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের জর্ডন হয়ে ভারতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

 কুয়েত, বাহরাইন এবং ইরাকে আরোপিত বিধিনিষেধের প্রেক্ষিতে, ভারতীয় নাগরিকদের সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট বা যাতায়াতের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

 মন্ত্রক ভারতীয় নাগরিকদের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রদান করছে।

 ওমান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলি নিখোঁজ বা মৃত ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

*****

PS/Ag


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2245520) ভিজিটরদের কাউন্টার : 3
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English