রেল মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভারতীয় রেল পরিকাঠামো ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 13 MAR 2026 4:06PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ১৩ মার্চ, ২০২৬

 


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ১৪ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সফর করবেন। সফরকালে তিনি রাজ্যে রেলের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এরফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের মানোন্নয়ন হবে। রেলমন্ত্রক আধুনিক রেল পরিকাঠামো গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে যাত্রীদের উন্নত পরিষেবা প্রদানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।


প্রধানমন্ত্রী সফরকালে পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার টার্মিনাল (দিল্লি) এক্সপ্রেস ট্রেনটির যাত্রার সূচনা করা হবে। এরফলে জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরিখে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া পুরুলিয়া জেলার মানুষ নতুন একটি ট্রেন পেতে চলেছেন এরফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রী সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের উপকার হবে।


পশ্চিমবঙ্গে অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় কামাখ্যাগুড়ি, তমলুক, হলদিয়া, বরাভূম, আনারা এবং সিউরি স্টেশনকে নবরূপে সজ্জিত করা হয়েছে। এই স্টেশনগুলিতে উন্নত প্রতীক্ষালয়, আলোকসজ্জা সহ নতুন নতুন পরিষেবা যুক্ত করা হয়েছে। এরফলে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পাবে।

রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলিতে অতিরিক্ত লাইন বসানো হয়েছে। বেলদা ও দাঁতনের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় লাইন বসানো হয়েছে। আগামীকাল এই লাইনটিও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে। এই ব্যস্ত অংশে তৃতীয় লাইন যুক্ত হলে লাইনের ট্রেন চালানোর ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে আরও বেশী ট্রেন চলাচল করবে। এছাড়া যানজট কমবে। ট্রেন নির্ধারিত সময়ে চলবে।

আগামীকাল কলাইকুন্ডা এবং কানিমোহুলির মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্লক সিগন্যালিং সিস্টেমটিও চালু করা হবে। স্বয়ংক্রিয় ব্লক সিগন্যালিং রেল লাইনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যাল ব্লকে বিভক্ত করে ট্রেনগুলিকে স্বল্প বিরতিতে নিরাপদে চলাচল করতে সহায়তা করবে। এর ফলে একই লাইনে আরও বেশি সংখ্যক ট্রেন চলাচল করবে। পশ্চিমবঙ্গে ২০১৪ সাল থেকে সংস্কারমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলির ফলে রাজ্যে ১৪০০ কিলোমিটার অতিরিক্ত রেলপথ বসানো হয়েছে। ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকীকরণের কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে।

ট্রেনের পরিচালনগত মানোন্নয়নের জন্য ২০১৪ সালের পর থেকে ৫০০টি রেল ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছে। এরফলে বহু জায়গায় লেবেল ক্রশিং তুলে দেওয়া হয়েছে। ১০৫টি রুটে কবজ অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশান সিস্টেম কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়াও ১,০৪১ কিলোমিটার পথে এই ব্যবস্থাপনা বসানোর কাজ চলছে।

পশ্চিমবঙ্গে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় ১০১টি স্টেশনের মানোন্নয়ন করা হচ্ছে। এরজন্য ব্যয় হবে ৩,৬০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই ৯টি স্টেশনের কাজ শেষ হয়েছে। রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নে যথেষ্ট বিনিয়োগ করা হচ্ছে। রাজ্যে ৯৩,০০০ কোটি টাকা বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হচ্ছে। রেল বাজেটেও পশ্চিমবঙ্গের জন্য অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সময়কালে পশ্চিমবঙ্গে রেল বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ৪৩৮০ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪,২০৫ কোটি টাকা।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সঙ্গে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে সিগনাল ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটানো হচ্ছে। এর সুফল রাজ্যের রেল যাত্রীদের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল যাত্রীরাও পাচ্ছেন।

এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে ভারতীয় রেল বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় ঐক্য শক্তিশালী করছে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি এবং দক্ষভাবে ট্রেন চালানোর ওপর ভারতীয় রেল সর্বদাই গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

*****

PS/Agt

 

(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2240444) ভিজিটরদের কাউন্টার : 4
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English