PIB Headquarters
azadi ka amrit mahotsav

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৃষিতে রূপান্তরের চালিকাশক্তি

প্রকাশিত: 14 FEB 2026 10:52AM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

 

মূল বিষয়সমূহ 

* ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশনের অধীনে ৭.৬৩ কোটি কৃষক পরিচয়পত্র তৈরি হয়েছে। ২৩.৫ কোটি ফসল প্লটের সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে বৃহৎ ডিজিটাল ভিত্তি গড়ে উঠেছে।

* ন্যাশনাল পেস্ট সার্ভেইলেন্স সিস্টেম ৬৬টি ফসল ও ৪৩২টির বেশি কীটপতঙ্গের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। ১০,০০০-এর বেশি সম্প্রসারণকর্মীকে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছে। ফলে, আগাম সতর্কতা নিশ্চিত হচ্ছে।

* ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিষান ই-মিত্র চ্যাটবট ৯৩ লক্ষের বেশি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। প্রতিদিন ৮,০০০-এর বেশি কৃষকের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে। পরিষেবাটি ১১টি আঞ্চলিক ভাষায় চালু।

* খরিফ ২০২৫ মরশুমে স্থানভিত্তিক বর্ষা আগমনের পূর্বাভাস দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু হয়। মোট ১৩টি রাজ্যের ৩.৮৮ কোটি কৃষকের কাছে এসএমএস পৌঁছয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে ৩১ থেকে ৫২ শতাংশ কৃষক বপন ও জমি প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত বদল করেছেন।

* ইয়েস-টেক, ক্রপিক এবং প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। ফলে, ফসল বিমা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়েছে।

* কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ভারত-ভিস্টার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বহু-ভাষিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরঞ্জাম। এগ্রিস্ট্যাক পোর্টাল ও ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের কৃষি প্যাকেজকে একত্রিত করবে।

ভূমিকা

ভারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের গ্লোবাল এআই ভাইব্র্যান্স টুল অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় ভারত তৃতীয় স্থানে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়কালে গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ জনবল, বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো বৃদ্ধির ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

কৃষিক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলেছে। উপগ্রহ চিত্র, সেন্সর, ড্রোন, আবহাওয়া কেন্দ্র এবং কৃষিযন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে। উৎপাদনশীলতা, স্থায়িত্ব ও ঝুঁকি মোকাবিলায় এর প্রভাব স্পষ্ট।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে যন্ত্র মানব-মস্তিষ্কের মতো বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত ও সমস্যার সমাধান করতে পারে। তথ্যভাণ্ডার, অ্যালগোরিদম এবং বৃহৎ ভাষা মডেল ব্যবহার করে এটি তথ্য বিশ্লেষণ করে, ধরন শনাক্ত করে এবং উত্তর প্রস্তুত করে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ে।

কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ

মাটির স্বাস্থ্য নির্ণয়

উপগ্রহ চিত্র ও ড্রোন পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করে পুষ্টির ঘাটতি চিহ্নিত করা হচ্ছে। পরীক্ষাগারের উপর নির্ভরতা কমছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

জলবায়ু-সচেতন ফসল পর্যবেক্ষণ

বর্ষা, তাপমাত্রা ও চরম আবহাওয়ার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে বপন, সেচ ও সার প্রয়োগ সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কীট ও রোগ আগাম শনাক্ত করা যাচ্ছে। ফলে, ক্ষতির আশঙ্কা কমছে।

যান্ত্রিকীকরণে দক্ষতা

ড্রোন ও সেন্সর তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাছা নিয়ন্ত্রণ, রোগ শনাক্তকরণ ও ফল সংগ্রহের কাজে নির্ভুলতা বাড়ছে। শ্রম নির্ভরতা কমছে।

ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি

ই-নাম, আগমার্কেট, কৃষি জনগণনা ও মাটির স্বাস্থ্য কার্ড কর্মসূচির তথ্য বিশ্লেষণ করে বাজার প্রবণতা জানা যাচ্ছে। ফলে বিক্রির সময় ও বাজার বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ হচ্ছে। বস্তুত, ১২টি রাজ্যে প্রায় ১৮ লক্ষ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন

২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই মিশনের মোট ব্যয় ২,৮১৭ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এ ক্ষেত্রে ৫৪.৯৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যাচাইকৃত কৃষক ও জমির তথ্যভাণ্ডারের উপর ভিত্তি করে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।

এগ্রিস্ট্যাক

মোট ১১ কোটি কৃষক পরিচয়পত্র তৈরির লক্ষ্যমাত্রা। ২৭ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৭.৬৩ কোটি পরিচয়পত্র তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ১.৯৩ কোটি মহিলা কৃষকের। ২০২৪-২৫- এর রবি মরশুমে ৪৯২ জেলায় ২৩.৫ কোটি প্লট সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষি ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম

স্যাটেলাইট, আবহাওয়া ও মাটির তথ্য একত্রিত করে ডিজিটাল ফসল মানচিত্র, উৎপাদন অনুমান ও খরা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা ও প্রযুক্তি

কৃষকরা খরিফ খাদ্যশস্যে ২ শতাংশ, রবি খাদ্যশস্যে ১.৫ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক ফসলে ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দেন। বাকি অংশ সরকার বহন করে।

২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত ৭৮.৫১ কোটি আবেদন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কৃষকরা ৩৫,৯১৯ কোটি টাকা প্রিমিয়াম দিয়েছেন। ১,৯০,৩৭৪ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে। ২৩ কোটির বেশি আবেদন উপকৃত হয়েছে।

ইয়েস-টেক প্রযুক্তিভিত্তিক ফলন নির্ধারণ করছে। ক্রপিক মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির ছবি আপলোড করা যায়। দ্রুত নিষ্পত্তি-ও সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি-প্রযুক্তি উদ্যোগ

রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার অধীনে ২০১৮-১৯ থেকে কৃষি-প্রযুক্তি উদ্যোগকে সহায়তা করা হচ্ছে। মোট ৬,০০০-এর বেশি উদ্যোগ প্রশিক্ষণ লাভ করতে পেরেছে। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত ২,২৮২টি উদ্যোগকে ১৮৬.৫৫ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ভারতে কৃষির ভবিষ্যৎ : কার্যকর এআই কাঠামো

২০২৫-এর ২২ অক্টোব ভারত সরকার “ফিউচার ফার্মিং ইন ইন্ডিয়া: এআই প্লেবুক ফর এগ্রিকালচার” প্রকাশ করে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সহযোগিতায়, ভারত সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টার দফতর, ইন্ডিয়া এআই (ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক) এবং বিসিজি এক্স-এর যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ও প্রসারযোগ্য প্রয়োগের জন্য নীতিনির্ভর রূপরেখা এতে তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্লেবুক পরীক্ষামূলক স্তরের প্রয়োগ থেকে বৃহৎ পর্যায়ে বাস্তবায়নের পথে সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে চায়। বিচ্ছিন্ন তথ্যব্যবস্থা, সীমিত ডিজিটাল পরিকাঠামো, ব্যয়ের বাধা এবং শেষপ্রান্তে পরিষেবা পৌঁছনোর সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার সমাধানে জোর দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত কৃষিকাজে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সহায়ক শক্তি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের উন্নতি সম্ভব।

প্রতিবেদনে কৃষিমূল্য শৃঙ্খলের বিভিন্ন ধাপে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ফসল পরিকল্পনা, দ্রুত মাটির স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ, কীটপতঙ্গের পূর্বাভাস ও নিয়ন্ত্রণ এবং স্মার্ট ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থা।

এই প্লেবুকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল ইমপ্যাক্ট এআই কাঠামো। সমগ্র ব্যবস্থায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ, অংশীজনদের ভূমিকা স্পষ্ট করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাধানের কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়তার লক্ষ্যে এই কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

এনেবল

এই স্তম্ভের লক্ষ্য কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। স্পষ্ট কৌশল নির্ধারণ, সহায়ক নীতি প্রণয়ন, তথ্য বিনিময়ের কাঠামো তৈরি এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ক্রিয়েট

এই স্তম্ভ কৃষিক্ষেত্রের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাধান উদ্ভাবন ও পরীক্ষার উপর জোর দেয়। স্টার্ট-আপ, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রয়োগ নকশা, যাচাই ও পরিমার্জনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

ডেলিভার

এই স্তম্ভের উদ্দেশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাধান কার্যকরভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সম্প্রসারণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, পরামর্শ পরিষেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত করা এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফলাফল উন্নত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার

ভারতের কৃষিক্ষেত্র তথ্যভিত্তিক রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে। ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন ও এগ্রিস্ট্যাক দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পরামর্শ, বর্ষা পূর্বাভাস, কীট নজরদারি ও বিমা নিষ্পত্তি কৃষকের ঝুঁকি কমাচ্ছে। উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, সম্পদ সাশ্রয় হচ্ছে।

প্রযুক্তি ব্যবহারে মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্য একটিই- কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তথ্যসূত্র

Lok Sabha

Rajya Sabha

Ministry of Agriculture & Farmers Welfare

Ministry of Finance

Ministry of Commerce and Industry

Ministry of Electronics and Information Technology

My Scheme

NITI Aayog

Office of Principal Scientific Advisor to GoI

PIB

English PDF

 

SSS/RS....


(রিলিজ আইডি: 2228303) ভিজিটরের কাউন্টার : 11
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Bengali-TR , Gujarati