প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষে ভারত ও মালয়েশিয়ার যৌথ বিবৃতি
প্রকাশিত:
08 FEB 2026 11:00AM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মহামান্য দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে, ভারত প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী মহামান্য শ্রী নরেন্দ্র মোদী ৭ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মালয়েশিয়া সফর করেন। এই সফরটি দুই দেশের মধ্যে সভ্যতাগত সংযোগের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা গভীর বন্ধুত্ব এবং দীর্ঘস্থায়ী জনগণের মধ্যেকার সম্পর্ককে প্রতিফলিত করেছে। এটি ভারত-মালয়েশিয়া ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত ও প্রসারিত করার জন্য দুই নেতার যৌথ অঙ্গীকারকে পুনঃনিশ্চিত করেছে।
১৯৫৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে মালয়েশিয়া ও ভারত পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে, যা আগস্ট ২০২৪ সালে একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বে (সিএসপি) উন্নীত হয়।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে পুত্রজায়ার পেরদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুই নেতা আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন এবং সিএসপি-কে পুনঃনিশ্চিত করেন।উভয় প্রধানমন্ত্রী এক উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন, যেখানে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, যুব বিনিময় এবং জনগণের মধ্যেকার যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী মোদীর সম্মানে একটি আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজেরও আয়োজন করেন। তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।
দুই নেতা পুনঃনিশ্চিত করেন যে, দুই দেশের মধ্যেকার গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সহস্রাব্দ প্রাচীন যোগাযোগ, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মালয়েশিয়ায় একটি প্রাণবন্ত ভারতীয় সম্প্রদায়ের উপস্থিতি এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অনন্য, শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তি তৈরি করেছে এবং এর বহুমুখী চরিত্রকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।
রাজনৈতিক সহযোগিতা
দুই নেতা একমত হন যে, উচ্চ-পর্যায়ের সফরসহ নিয়মিত সংলাপ ও আদান-প্রদান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমন্বয়কে শক্তিশালী করেছে। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়ে সম্পৃক্ততা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনঃনিশ্চিত করেন। এই প্রেক্ষাপটে, পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের আলোচনা (এফওসি) এবং যৌথ কমিশন বৈঠক (জেসিএম) মালয়েশিয়া-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে চলেছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁদের অভিন্ন অঙ্গীকার দ্বারা পরিচালিত হয়ে, দুই নেতা সংসদীয় সহযোগিতা ও আদান-প্রদান বৃদ্ধির জন্য উৎসাহিত করেন এবং উল্লেখ করেন যে এই ধরনের সম্পৃক্ততা প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগকে শক্তিশালী করেছে ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে গভীর করেছে। তাঁরা ২০২৩ সালের ১৩-১৬ জানুয়ারি ভারতে অনুষ্ঠিত ২৮তম কমনওয়েলথ স্পিকার ও প্রিসাইডিং অফিসার্স সম্মেলনে (সিএসপিওসি) মালয়েশিয়ার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার তান শ্রী দাতো ডঃ জোহরি আবদুল-এর সাম্প্রতিক সফর, পাশাপাশি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আসিয়ান আন্তঃসংসদীয় পরিষদের (এআইপিএ) ৪৬তম সাধারণ অধিবেশনে ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের মালয়েশিয়া সফর এবং ২০২৫ সালের ৩১ মে থেকে ০৩ জুন পর্যন্ত সর্বদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের মালয়েশিয়া সফর নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা
ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে সাধুবাদ জানায়। উভয় নেতা জোর দিয়ে বলেন যে এই অংশীদারিত্ব পারস্পরিক মূল্য এবং কৌশলগত সমন্বয়ের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ভারসাম্যপূর্ণ সহযোগিতার চেতনায়, উভয় নেতা বাণিজ্য সহজীকরণ বাড়াতে এবং সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং শিল্প সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত সম্ভাবনা অন্বেষণ করতে সম্মত হন।
নেতৃবৃন্দ মালয়েশিয়া-ভারত ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি (এমআইসিইসিএ) এবং আসিয়ান-ভারত পণ্য বাণিজ্য চুক্তির (এআইটিআইজিএ)গুরুত্বের ওপর জোর দেন। উভয় নেতা এআইটিআইজিএ-কে পারস্পরিকভাবে লাভজনক, বাণিজ্য সহায়ক এবং বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য অনুশীলনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক করার জন্য এর চলমান পর্যালোচনাকে স্বাগত জানান। উভয় নেতা অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার সম্ভাবনার জন্য এমআইসিইসিএ-রও প্রশংসা করেন এবং এর সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করেন।
দুই প্রধানমন্ত্রী ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং পরিকাঠামো, নবায়নযোগ্য শক্তিসহ জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন, সেমিকন্ডাক্টর, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল অর্থনীতি, ফিনটেক, স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আতিথেয়তা, সবুজ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উচ্চ-মূল্যের খাতসহ অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলিতে বৃহত্তর সহযোগিতা ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতকে একটি প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ভারতীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিকে স্বাগত জানান, যা মালয়েশিয়ায় উচ্চ-দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রেখেছে।
দুই প্রধানমন্ত্রী ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কুয়ালালামপুরে ভারত-মালয়েশিয়া সিইও ফোরামের দশম (১০ম) বৈঠক আয়োজনকে স্বাগত জানান। নেতৃবৃন্দ সিইও ফোরামের ফলাফল নথিটিও লক্ষ্য করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে ফোরামটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাকে পরিপূরক করতে থাকবে।
উভয় প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার প্রচারে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং ব্যাংক নেগারা মালয়েশিয়ার মধ্যে চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং উভয় পক্ষের শিল্পগুলোকে স্থানীয় মুদ্রায়, অর্থাৎ ভারতীয় রুপি এবং মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতে বাণিজ্যের চালান ও নিষ্পত্তিকে আরও সহজতর করতে উৎসাহিত করেন।
নেতৃবৃন্দ স্বীকার করেন যে সংযোগ উন্নত অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি মূল নির্ধারক এবং সহায়ক। এই প্রসঙ্গে, তাঁরা দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিমান ও সামুদ্রিক সংযোগের প্রশংসা করেন এবং এটিকে আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হন।
খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষি-পণ্য সহযোগিতা
উভয় নেতা প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি, বিশেষ করে প্রধান খাদ্যপণ্যের বাণিজ্যে সহযোগিতা গভীর করতে সম্মত হন।তাঁরা তাঁদের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টির চাহিদা সুরক্ষার জন্য স্থিতিশীল, স্থিতিস্থাপক এবং টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। নেতারা কৃষি উৎপাদন ও বাণিজ্যে সম্ভাব্য ব্যাঘাত অনুমান এবং তা প্রশমিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত সংলাপ, তথ্য বিনিময় এবং সহযোগিতামূলক পদক্ষেপকে উৎসাহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম টেকসই পাম তেলের একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।এই প্রসঙ্গে, উভয় নেতা পাম চাষে গভীরতর সহযোগিতাকে উৎসাহিত করেন। এছাড়াও, উভয় পক্ষ পাম তেলের ভ্যালু চেইন উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়ে সম্মত হয়, যার মধ্যে ডাউনস্ট্রিম এবং উচ্চ মূল্য সংযোজিত পাম-ভিত্তিক পণ্য অন্তর্ভুক্ত। উভয় পক্ষ বাজার প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলির সময়োপযোগী সমাধানের জন্য একটি কাঠামোগত অংশগ্রহণেও সম্মত হয়।
ডিজিটাল এবং আর্থিক সহযোগিতা
উভয় নেতা মালয়েশিয়া-ভারত ডিজিটাল কাউন্সিল (এমআইডিসি)-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে স্বাগত জানান এবং ডিজিটাল সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং ফিনটেক, ই-গভর্নেন্স, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) এবং উদীয়মান প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতামূলক প্রকল্প অন্বেষণের জন্য এটিকে একটি মূল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেন। উভয় নেতা জোর দিয়ে বলেন যে এমআইডিসি দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল সম্পর্ক জোরদার করতে এবং উভয় দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের এজেন্ডাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করবে।
উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক আর্থিক লেনদেন সংযোগ স্থাপনের জন্য এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (এনআইপিএল) এবং পে-নেট মালয়েশিয়ার মধ্যে সহযোগিতাকে স্বাগত জানান। তাঁরা উল্লেখ করেন যে এই সমন্বয় ব্যবসার সহজীকরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে এবং পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ছোট ব্যবসার জন্য নির্বিঘ্ন, স্বল্প খরচের রেমিটেন্স ও পেমেন্ট সমাধান প্রদান করবে, যার ফলে মালয়েশিয়া ও ভারতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক এবং জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে।
শক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর সহযোগিতা
শক্তি উৎপাদন ক্ষেত্রে, উভয় নেতা ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সবুজ হাইড্রোজেন ক্ষেত্রে পেট্রোনাস ও জেন্টারির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। এই প্রসঙ্গে, উভয় নেতা বৃহৎ পরিসরের সৌর শক্তি উদ্যোগে আরও সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনার ওপর জোর দেন, যেখানে পরিচ্ছন্ন শক্তি সমাধানকে এগিয়ে নিতে এবং পারস্পরিক নেট-জিরো লক্ষ্য অর্জনে মালয়েশিয়ার দক্ষতাকে কাজে লাগানো হবে। মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক সৌর জোট (আইএসএ) প্রতিষ্ঠায় ভারতের উদ্যোগের প্রশংসা করে।
নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং এই খাতে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় জোরদার করার পারস্পরিক সুবিধার ওপর জোর দেন। তাঁরা একটি স্থিতিস্থাপক ও প্রতিযোগিতামূলক বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার জন্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কর্মীবাহিনী উন্নয়ন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতার উপর মনোযোগ দিয়ে সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা গভীর করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।উভয় প্রধানমন্ত্রী চলমান সহযোগিতা উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন, যার মধ্যে আইআইটি-মাদ্রাজ গ্লোবাল এবং মালয়েশিয়ার অ্যাডভান্সড সেমিকন্ডাক্টর একাডেমির মধ্যে এবং ইন্ডিয়ান ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসোসিয়েশন (আইইএসএ) ও মালয়েশিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এমএসআইএ) মধ্যে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
উভয় নেতা মালয়েশিয়া ও ভারতের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন, যা নিয়মিত আদান-প্রদান, সফর, স্টাফ আলোচনা, মহড়া, প্রশিক্ষণ কোর্স এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। তাঁরা মালয়েশিয়া-ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিটি (মিডকম) এবং এর উপকমিটিগুলোর সফল ফলাফলের প্রশংসা করেন, যার মধ্যে একটি কৌশলগত বিষয়াবলী ওয়ার্কিং গ্রুপ (এসএডব্লিউজি) এবং সু-৩০ ফোরাম প্রতিষ্ঠার কার্যপরিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উভয় নেতা আসিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক প্লাস (এডিএমএম-প্লাস) কাঠামোতে ভারতের অবিচল অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন এবং ২০২৪-২০২৭ মেয়াদের জন্য সন্ত্রাসবাদ দমন ওয়ার্কিং গ্রুপের সহ-সভাপতিত্বকে স্বাগত জানান।উভয় নেতা ভারত ও মালয়েশিয়ার সহ-সভাপতিত্বে এবং ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় আয়োজিতব্য সন্ত্রাসবাদ দমন বিশেষজ্ঞ ওয়ার্কিং গ্রুপের টেবিল-টপ অনুশীলনে (ইডব্লিউজি সিটি টিটিএক্স) অংশগ্রহণের জন্য সকল এডিএমএম-প্লাস সদস্যকে আমন্ত্রণ জানান।
উভয় নেতা অ্যারো ইন্ডিয়া ২০২৫ এবং লাংকাউই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও মহাকাশ প্রদর্শনী (লিমা ২০২৫) সহ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীগুলোতে তাঁদের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদল এবং সংস্থাগুলোর নিয়মিত অংশগ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।উভয় নেতা ভারতের রাজস্থানে ০৫-১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান সেনাবাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত ভারত-মালয়েশিয়া যৌথ সামরিক মহড়া 'হারিমাউ শক্তি'-এর পঞ্চম সংস্করণ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীগণ নিয়মিত শুভেচ্ছা সফর এবং অপারেশনাল মোতায়েনসহ ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে, তাঁরা অক্টোবর ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার কেমামানে আইএনএস সহ্যাদ্রির সফর এবং জুলাই ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং-এ হাইড্রোগ্রাফিক জাহাজ আইএনএস সন্ধ্যায়েকের সফরের প্রশংসা করেন। উভয় নেতা দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত নৌবাহিনীর পারস্পরিক যোগাযোগকেও স্বাগত জানান, যার মধ্যে 'সমুদ্র লক্ষ্মণ', মিলান এবং আসিয়ান-ভারত সামুদ্রিক মহড়া (এআইএমই)-এর মতো দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক নৌ মহড়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উভয় নেতা মালয়েশিয়া সরকার এবং ভারত প্রজাতন্ত্রের সরকারের মধ্যে উদ্বোধনী মালয়েশিয়া-ভারত নিরাপত্তা সংলাপের অধীনে সহযোগিতা স্থাপনেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনার একটি প্ল্যাটফর্ম।
দুই প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের সব রূপ ও প্রকাশের, যার মধ্যে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদও অন্তর্ভুক্ত, দ্ব্যর্থহীনভাবে এবং তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁরা সন্ত্রাসবাদের প্রতি শূন্য সহনশীলতা এবং একটি ব্যাপক ও টেকসই পদ্ধতিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। তাঁরা মৌলবাদ ও সহিংস চরমপন্থা মোকাবিলা; সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ; তথ্য ও জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া, সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী উদ্দেশ্যে নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিরোধ করতে সম্মত হন। সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠিত অপরাধের মধ্যে সংযোগ স্বীকার করে, দুই নেতা তথ্য এবং সর্বোত্তম অনুশীলন ভাগ করে নেওয়াসহ আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে সম্মত হন। দুই নেতা রাষ্ট্রসংঘ এবং এফএটিএফ-সহ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন
উভয় নেতা একে অপরের দেশে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং মালয়েশিয়া টেকনিক্যাল কো-অপারেশন প্রোগ্রাম (এমটিসিপি) ও ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন প্রোগ্রাম (আইটিইসি)-এর অধীনে চলমান কর্মসূচিগুলোর কথা উল্লেখ করেন। তাঁরা উভয় পক্ষকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য উৎসাহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীদের ‘স্টাডি ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির অধীনে ভারতের দেওয়া সুযোগগুলো গ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
উভয় দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে (টিভিইটি) সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বও নেতারা তুলে ধরেন। তাঁরা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ জোরদার করতে, কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়াতে এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করার জন্য যৌথ উদ্যোগ, জ্ঞান বিনিময় এবং বিনিময় কর্মসূচিকে উৎসাহিত করেন।
সংস্কৃতি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক
জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে দুই প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক ও পেশাজীবীদের চলাচলকে আরও সহজ করার বিষয়ে সম্মত হন।
উভয় নেতা পর্যটনকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার একটি মূল স্তম্ভ এবং মালয়েশিয়া ও ভারতের মধ্যে জনগণের মধ্যে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে পুনঃনিশ্চিত করেন। এই প্রসঙ্গে, ভারত ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ অভিযানকে স্বাগত জানায়, অন্যদিকে মালয়েশিয়া ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’ পর্যটন অভিযানের প্রশংসা করে। উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটনের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। উভয় নেতা পর্যটন সহযোগিতা আরও গভীর করতে এবং দুই দেশের মধ্যে দর্শনার্থীদের দ্বিমুখী প্রবাহ বাড়ানোর জন্য তাঁদের অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জনগণের মধ্যে প্রাণবন্ত সম্পর্কের কথা স্বীকার করে, নেতারা চলমান ভিসা উদারীকরণকে স্বাগত জানান, যা পর্যটকদের আগমন এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকে উৎসাহিত করেছে।
উভয় নেতা পারস্পরিক আস্থা, পারস্পরিক সুবিধা এবং জয়-জয় সহযোগিতার চেতনায় মালয়েশিয়া ও ভারতের মধ্যে বিমান সংযোগ জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। যাত্রীদের চাহিদার ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং পর্যটন, বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে বিনিময়ের জন্য উন্নত সংযোগের গুরুত্ব স্বীকার করে, উভয় সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়।
এই প্রেক্ষাপটে, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বিদ্যমান বিমান চলাচল অধিকার আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। ভারতীয় পক্ষ এই অনুরোধটি নোট করে।
দুই নেতা কুয়ালালামপুরের মর্যাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটি মালায়া (ইউএম)-তে থিরুভল্লুভার চেয়ার অফ ইন্ডিয়ান স্টাডিজের কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ইউনিভার্সিটি মালায়াতে থিরুভল্লুভার সেন্টার প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার মালয়েশিয়ার নাগরিকদের জন্য থিরুভল্লুভার বৃত্তির ঘোষণার কথা স্বাগত জানান।
স্বাস্থ্যপরিষেবা সহযোগিতা
উভয় নেতা স্বাস্থ্যপরিষেবা এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের বিষয়টি পুনঃনিশ্চিত করেছেন। উভয় নেতা এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা চাহিদা পূরণের জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক উদ্যোগগুলো অন্বেষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মালয়েশিয়া ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (আইটিইসি) কর্মসূচির অধীনে ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় চিকিৎসাবিদ্যা (টিআইএম) বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্বাচিত হাসপাতালগুলিতে টিআইএম পরিষেবা পুনরায় চালু করতে সহায়তা করবে, যা একটি সমন্বিত এবং সামগ্রিক চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পরিপূরক হবে।
উভয় নেতা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যপরিষেবা ও ওষুধের ক্ষেত্রে চলমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং ওষুধ নিয়ন্ত্রণ, ফার্মাকোপিয়ার স্বীকৃতি এবং নার্সিং পরিষেবার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনাকে স্বাগত জানান।
উভয় নেতা অক্টোবর ২০২৫ সালে ভারতের সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন হোমিওপ্যাথি (সিসিআরএইচ) এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ সাইবারজায়া (ইউওসি)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়াকে স্বাগত জানান, যা হোমিওপ্যাথিতে গবেষণা সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং একাডেমিক বিনিময়কে উৎসাহিত করবে।
টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতা
উভয় নেতা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাঁদের অভিন্ন অঙ্গীকারের ওপর জোর দেন এবং ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে মালয়েশিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। উভয় নেতা গবেষণা ও উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও ভারতসহ বিশ্বের বড় বিড়াল প্রজাতির প্রাণী রক্ষা ও সংরক্ষণে তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের প্রতি উভয় দেশের ঝুঁকির কথা স্বীকার করে নেতৃবৃন্দ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কৌশলে কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং যৌথ মহড়া পরিচালনা। উভয় দেশের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর অধীনে এই প্রচেষ্টাগুলো চালানো হবে।উভয় নেতা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রচারে কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিডিআরআই) সহ প্রাসঙ্গিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোর গুরুত্ব স্বীকার করেন।
আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা
উভয় নেতা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।তাঁরা সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
মালয়েশিয়া ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বকে স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে ভারত ব্রিকস অংশীদার দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার ভূমিকাকে সমর্থন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ব্রিকসের সদস্য হওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করেছে। উভয় নেতা এই সহযোগিতাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিনিধিত্বমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দিকে একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি দেন। উভয় নেতা এই মতও পোষণ করেন যে, এই ধরনের সম্পৃক্ততা অর্থনীতিগুলোকে ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক শাসন এবং টেকসই উন্নয়নে গঠনমূলকভাবে অবদান রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে।
উভয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রসংঘসহ বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা জোরদার করতে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারকে সমর্থন করতে সম্মত হন। তাঁরা সমসাময়িক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটিয়ে বহুপাক্ষিকতাকে শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন, যাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক করা যায়। বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থনের দৃঢ় চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়ে দুই নেতা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদে প্রার্থিতার জন্য পারস্পরিক সমর্থন নিয়ে আলোচনা করেন। ভারত একটি সংস্কারকৃত রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য মালয়েশিয়ার সমর্থনের গভীর প্রশংসা করে।
উভয় নেতা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক; মালয়েশিয়ায় ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বীমাকৃত ব্যক্তি হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কার্যক্রম প্রচারে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক; এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল সহ-প্রযোজনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় স্বাগত জানান। নেতারা সেমিকন্ডাক্টর; স্বাস্থ্যসেবা; জাতীয় নিরাপত্তা; এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে মালয়েশিয়া ও ভারতের মধ্যে নোট বিনিময়েরও সাক্ষী ছিলেন। এছাড়াও, নেতারা রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক(মউ) নবায়ন এবং আন্তর্জাতিক বিগ ক্যাটস অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ) সম্পর্কিত কাঠামো চুক্তিতে মালয়েশিয়ার অনুসমর্থন সংক্রান্ত পত্র বিনিময়ের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
উভয় নেতা আন্তর্জাতিক আইনের নীতির ভিত্তিতে নৌচলাচল ও আকাশসীমা ব্যবহারের স্বাধীনতা এবং অবাধ বৈধ বাণিজ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যা বিশেষত ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সম্পর্কিত রাষ্ট্রসংঘ কনভেনশনে(ইউএনসিএলওএস) প্রতিফলিত হয়েছে। দুই নেতা ১৯৮২ সালের ইউএনসিএলওএস সহ আন্তর্জাতিক আইনের সর্বজনস্বীকৃত নীতি অনুসারে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আসিয়ান ঐক্য এবং আসিয়ানের কেন্দ্রীয়তার প্রতি ভারতের পূর্ণ ও ধারাবাহিক সমর্থনকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০২৫ সালে আসিয়ানের সফল সভাপতিত্বের জন্য মালয়েশিয়ার প্রশংসা করেন এবং আসিয়ান-ভারত ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে যৌথভাবে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁদের সমর্থনের জন্য মালয়েশিয়া ও অন্যান্য আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান।
উভয় নেতা একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, নিয়ম-ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষই ‘এই অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য ইন্দো-প্যাসিফিক সম্পর্কিত আসিয়ান দৃষ্টিভঙ্গির (এওআইপি) উপর সহযোগিতার বিষয়ে আসিয়ান-ভারত যৌথ বিবৃতি’ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা জোরদার করার বিষয়টিকে স্বাগত জানায়। এর মধ্যে এওআইপি এবং ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর উদ্যোগের(আইপিওআই)মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতা এবং এওআইপি-এর সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সফরকালে তাঁকে এবং তাঁর প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মালয়েশিয়ার জনগণকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদী অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান।
SC/SB/AS
(রিলিজ আইডি: 2225156)
ভিজিটরের কাউন্টার : 4