পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ন মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

আসামের গুয়াহাটিতে উত্তর-পূর্ব রাজ্যসমূহে কেন্দ্রীয় পরিকাঠামো প্রকল্পসমূহের পর্যালোচনা

प्रविष्टि तिथि: 20 JAN 2026 5:30PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬: পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয়ের  প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) শ্রী রাও ইন্দরজিত সিং আজ গুয়াহাটিতে উত্তর-পূর্ব রাজ্যসমূহে  কেন্দ্রীয় পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এই বৈঠকটি আসাম সরকারের রূপান্তর ও উন্নয়ন বিভাগের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আসাম সরকারের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ড. জে. বি. এক্কা এবং আসাম সরকারের রূপান্তর ও উন্নয়ন বিভাগের প্রবীণ সচিব শ্রী দিলীপ কুমার বোরাহ। বৈঠকে ১১টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় ও তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৮টি রাজ্য সরকারের ১০০-রও বেশি আধিকারিক ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

পর্যালোচনা বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে যে, পরিকাঠামো একটি উন্নত দেশের মেরুদণ্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর “বিকশিত ভারত @২০৪৭” রূপকল্পের একটি প্রধান স্তম্ভ। সমন্বিত, ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকাঠামোর উপর তার গুরুত্ব আরোপের নির্দেশনায় বিশ্বমানের ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যা উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা এবং জীবনযাত্রার স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি করবে। সংযোগ, লজিস্টিক দক্ষতা ও অপরিহার্য পরিষেবার প্রবেশাধিকার জোরদার করে অবকাঠামো সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে এবং প্রতিটি অঞ্চলের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করছে। এই ধারাবাহিক পরিকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি বিশ্ব-প্রতিযোগিতামূলক ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

স্বাগত বক্তব্যে এবং বৈঠকের এজেন্ডা উপস্থাপন করতে গিয়ে মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রী সুপ্রীত সিং গুলাটি জানান, বর্তমানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১১টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়/বিভাগের অধীনে মোট ২২১টি কেন্দ্রীয় পরিকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে,  যেগুলির মূল অনুমোদিত ব্যয় ২.৩৩ লক্ষ কোটি টাকা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. সৌরভ গর্গ পরিকাঠামো পর্যবেক্ষণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মন্ত্রকের ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড প্রজেক্ট মনিটরিং ডিভিশন (আইপিএল) এবং ‘পাইমানা’—প্রজেক্ট অ্যাসেসমেন্ট, ইনফ্রাস্ট্রাকচার মনিটরিং অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ফর নেশন-বিল্ডিং পোর্টাল-এর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন, যা ১৫০ কোটি টাকা ও তার বেশি ব্যয়ের কেন্দ্রীয় পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণে সহায়তা করছে। তিনি প্রকল্প পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মন্ত্রকের পরিচালিত সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন এবং রাজ্য সরকারগুলিকে পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে ১১টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা করা হয়। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১৭৭টি প্রকল্প, মোট ৩,৬৩৪ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত, পর্যালোচনা করা হয়। রেল মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে নয়টি চলমান প্রকল্প পর্যালোচনা করা হয়। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে  এই অঞ্চলে রেল সংযোগ প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করছে, যেখানে দুর্গম ভূপ্রকৃতি, বর্ষানির্ভর জলবায়ু, সীমিত কাজের সময়কাল, ভূমিধস ও দূরবর্তী অবস্থান বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করে। এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এন এফ রেলওয়ে কাজের গতি বাড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৩.০৯.২০২৫ তারিখে মিজোরামের ভৈরবী–সাইরাং নতুন রেললাইন উদ্বোধন এবং ১,০৭২  কিলোমিটার রেল লাইনের রুটে বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন করা। প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বেদখল জমি উদ্ধার, ভূমি অধিগ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা এবং বন ছাড়পত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়টি প্রকল্প পর্যালোচনা করা হয়। অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিমে পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (পিজি সিআইএল)-এর সি.এস.এস.টি এবং ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে ঠিকাদারের অভাব, স্থানীয় প্রতিবন্ধকতা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও বিতরণ সংক্রান্ত সমস্যাগুলি আলোচনায় উঠে আসে। উত্তর-পূর্ব বিদ্যুৎ কর্পোরেশন লিমিটেড (নিপকো)'এর টাটো-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (১৮৬ মেগাওয়াট)-এর ক্ষেত্রে ট্রান্সমিশন লাইন সম্পন্নকরণ এবং চলমান সড়ক উন্নয়ন কাজের কারণে সড়ক সংযোগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়।

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২১টি চলমান প্রকল্প পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, কোভিড-১৯ সময়কালে শুরু হওয়া কিছু প্রকল্পে কাজ ব্যাহত ও ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। নর্থ ইস্ট গ্যাস গ্রিড প্রকল্পের ক্ষেত্রে ৩৩ কিলোমিটার পাইপলাইনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ অনুমোদন ও প্রশাসনিক ছাড়পত্র মুলতুবি থাকার বিষয়টিও আলোচিত হয়। তাছাড়াও আসামের নুমালিগড়ে সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া বাঁশ ব্যবহার করে বিশ্বের প্রথম ২জি বায়ো-ইথানল প্ল্যান্ট—২জি ইথানল (বায়ো রিফাইনারি) প্রকল্পের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এই প্রকল্পটিকে জ্বালানি ক্ষেত্রে “আত্মনির্ভরতা” এবং  প্রধানমন্ত্রীর “অন্নদাতা থেকে ঊর্জাদাতা” রূপকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২,৫৩৪.২৬ কোটি টাকা ব্যয়ের তিনটি প্রকল্প পর্যালোচনা করা হয়। ইম্ফল বিমানবন্দর পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে মহাসড়ক বন্ধ থাকা ও বর্ষাকালের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়, অন্যদিকে “পাকিয়ং বিমানবন্দরে রানওয়ে প্রশস্তকরণ” প্রকল্পে ভূমির প্রাপ্যতা ও বিকল্প প্রবেশপথ নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় উঠে আসে। 

দূরসংযোগ বিভাগের অধীনে ২,২২৭.৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ের দুটি প্রকল্প পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় বলা হয়, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে অপটিক্যাল গ্রাউন্ড ওয়্যার (ওপিজি ডব্লিউ ) ইতিমধ্যেই ব্যান্ডউইথ সরবরাহে সহায়তা করছে, তবে টেলিকম পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ও শেষ-মাইল পর্যন্ত অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন অপরিহার্য।

উচ্চশিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২,৯১৫.৫২ কোটি টাকা ব্যয়ের সাতটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিভাগ জানায়, প্রতিটি রাজ্যে একটি করে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ( এন আই টি) স্থাপনের লক্ষ্য হল প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও উদ্ভাবনের জন্য আঞ্চলিক কেন্দ্র গড়ে তোলা।

এছাড়াও ক্রীড়া বিভাগ, কয়লা মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলিও পর্যালোচনা করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়/বিভাগ/বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলি প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারগুলির সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

পর্যালোচনা বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) শ্রী রাও ইন্দরজিত সিং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংযোগ জোরদার করা অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো প্রকল্পসমূহের সময়মতো সম্পন্নকরণের গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি সকল অংশীদারকে সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ও সমাধানমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সম্মিলিত ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রধানমন্ত্রীর সমৃদ্ধ, সংযুক্ত ও ক্ষমতায়িত উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে এবং এর মাধ্যমে “বিকশিত ভারত @২০৪৭” জাতীয় রূপকল্প বাস্তবায়নে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।

বৈঠকের শেষে কার্যকর সমন্বয়, ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ এবং সময়মতো সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব রাজ্যসমূহে পরিকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

*****

PS/PKS/KMD


(रिलीज़ आईडी: 2216674) आगंतुक पटल : 6
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English