সহযোগ মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

বর্ষশেষের খতিয়ান ২০২৫ – সমবায় মন্ত্রক: “সহযোগিতার মাধ্যমে সমৃদ্ধি”

प्रविष्टि तिथि: 06 JAN 2026 5:24PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬




প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর “সহযোগিতার মাধ্যমে সমৃদ্ধি” মন্ত্রের বাস্তবায়নে ২০২১ সালের ৬ জুলাই, পৃথক সমবায় মন্ত্রক তৈরি করা হয়। দেশের প্রথম সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ-র নেতৃত্বে এই মন্ত্রক বিগত চার বছরে ১১৪টি বড় ধরনের কর্মসূচি রূপায়িত করেছে।

ক) প্রাথমিক সমবায় সমিতিগুলিকে শক্তিশালী করা।

প্রাথমিক কৃষি ঋণদান সমিতিগুলিকে বহু উদ্দেশ্যসাধক করে তুলতে বেশ কিছু বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তিতে। এই বিষয়ে ২০২৩-এর ৫ জানুয়ারি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে নির্দেশিকা পাঠামো হয়। দুগ্ধ উৎপাদন, মৎস্য চাষ, গুদাম ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি ২৫টি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান এবং কর্মীদের আয় বৃদ্ধির এই কর্মসূচিতে ৩২টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সামিল হয়েছে।

প্রথমত, প্রাথমিক কৃষি ঋণদান সমিতিগুলিকে কম্পিউটার চালিত করা হচ্ছে। একাধিক পর্বে ৭৯,৬৩০টি সমিতিকে এর আওতায় আনা হয়েছে। বারাদ্দের মোট পরিমাণ ২,৯২৫.৩৯ কোটি টাকা। এবাবদ আর্থিক দায়ভার কেন্দ্রীয় সরকারের ১,৭৯৬.২৮ কোটি টাকা, রাজ্যগুলির ৮৭৭.১১ কোটি টাকা এবং নাবার্ডের ২৫২ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই নিজের প্রদেয় অংশের ১,০৬৭.৫০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। ৫৯,২৬১টি প্রাথমিক কৃষি ঋণদান সমিতি (পিএসিএস) সংশ্লিষ্ট সফটওয়ার ব্যবহার করছে।

প্রতিটি পঞ্চায়েত/গ্রামে বহু উদ্দেশ্যসাধক প্রাথমিক কৃষি ঋণদান সমিতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এই কর্মসূচি রূপায়ণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নাবার্ড, এনডিডিবি এবং এনএফডিবি। পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিও এই কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় গড়ে তোলা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম বিকেন্দ্রীকৃত শস্য মজুত ব্যবস্থাপনা। এর আওতায় ৩০.১২.২০২৫ পর্যন্ত ১১২টি প্রাথমিক কৃষি ঋণদান সমিতিতে শস্য মজুত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে – যেখানে সব মিলিয়ে ৬৮,৭০২ মেট্রিক টন শস্য মজুত রাখা সম্ভব। সমবায় ব্যবস্থাপনার অন্য স্তরগুলিতেও এই কর্মসূচিকে প্রসারিত করা হচ্ছে।

বৈদ্যুতিন পরিষেবা গ্রামীণ মানুষের কাছে আরও ভালো করে পৌঁছে দিতে প্রাথমিক কৃষি ঋণদান সমিতিগুলিকে সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ৫১,৮৩৬টি সমিতিতে এই ব্যবস্থা চালু হয়ে গেছে।

প্রাথমিক কৃষি ঋণদান সমিতিগুলির মাধ্যমে নতুন কৃষক উৎপাদক সংগঠন তৈরি করাতেও সরকার জোর দিচ্ছে। সমবায় মন্ত্রকের আওতায় এখনও পর্যনাত তৈরি হওয়া ১,৮৬৩টি কৃষক উৎপাদক সংগঠনের মধ্যে ১,১১৭টি তৈরি হয়েছে প্রাথমিক কৃষি ঋণদান সমিতির মাধ্যমে।

প্রাথমিক কৃষি ঋণদান সমিতিগুলিকে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটার করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও এইসব সমিতির মাধ্যমে জ্বালানীর খুচরো বিপণনেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

গ্রামীণ এলাকায় জেনেরিক ওষুধ জনপ্রিয় করে তুলতে প্রাথমিক কৃষি ঋণদান সমিতিগুলিকে জন ঔষধি কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তুলছে সরকার।

কৃষকদের কাছে সুলভে সার পৌঁছে দিতে এইসব সমিতিকে প্রধানমন্ত্রী কিষান সমৃদ্ধি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৩৮,১৯০টি সমিতি এই কাজ শুরু করে দিয়েছে।

গ্রামের মানুষের দরজায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দিতে ব্যাঙ্ক মিত্র সমবায় সমিতিগুলিতে মাইক্রো এটিএম সরবরাহ করা হচ্ছে।

সমবায় সমিতিগুলির সদস্যদের কাছে কিষান ক্রেডিট কার্ড পৌঁছে দেওয়ায় উদ্যোগী সরকার। নলবাহিত জল সরবরাহ, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসারের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো হচ্ছে সমবায় ব্যবস্থাপনাকে। মৎস্য চাষীদের উৎপাদক সংগঠনও গড়ে তুলছে সরকার।

খ) জাতীয় স্তরে কৃষিজ পণ্য রপ্তানি, নতুন বীজ উৎপাদন এবং জৈব চাষের প্রসারে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনটি সমবায় সমিতি গড়ে তোলা হয়েছে – যাদের কর্মপরিধি রাজ্যগুলিতে বিস্তৃত।

গ) আয়কর আইনের আওতায় সমবায় সমিতিগুলিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ১০ কোটি টাকা আয় পর্যন্ত এইসব সমিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সারচার্জ ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। ন্যূনতম পরিবর্ত করের হার এক্ষেত্রে ১৮.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। আয়কর আইনের আওতায় নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রেও সমবায় সমিতিগুলি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। উৎপাদক সমবায় সমিতিগুলির ক্ষেত্রে কর ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। টিডিএস এবং টিসিএস-এর ক্ষেত্রেও সমবায় সমিতিগুলির জন্য বিশেষ সুবিধাজনক সংস্থান রয়েছে।

ঘ) সেন্ট্রাল রেজিস্ট্রার অফ কো-অপারেটিভ সোসাইটিজ-এর দপ্তর কম্পিউটার চালিত করে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার প্রসারে উদ্যোগী সরকার। সমবায় প্রশাসনকে আরও দক্ষ করে তুলতে আইন পরিমার্জনেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

ঙ) সমবায়ের মাধ্যমে পরিচালিত চিনি কলগুলিকেও আয়কর আইনে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এইসব সমিতিকে ঋণদানের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইথানল উৎপাদনেও সমবায় সমিতিগুলিকে সামিল করা হচ্ছে।

চ) সমবায় ব্যাঙ্কগুলিকে আরও দক্ষ করে তোলায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শহরাঞ্চলের সমবায় ব্যাঙ্কগুলিকে আরও শাখা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিচালনা আরও দক্ষ করে তুলতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে নিযুক্ত হয়েছেন একজন নোডাল আধিকারিক। শহরাঞ্চলের সমবায় ব্যাঙ্কগুলির গৃহ ঋণ প্রদানের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে নিজেদের সম্পদের ১০ শতাংশ পর্যন্ত এবাবদ ঋণ দিতে পারতো এই ব্যাঙ্কগুলি। এখন তা ২৫ শতাংশ। শহরাঞ্চলের সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির ঋণদানের উর্ধ্বসীমাও ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। ২০২৫-এ ২৪ ফেব্রুয়ারি, জারি করা এক বিবৃতিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সমবায় ব্যাঙ্কগুলির অনুৎপাদক সম্পদগুলির যথাযথ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে।

ছ) জাতীয় সমবায় বিকাশ নিগমের কর্মপরিধি আরও বাড়িয়েছে সরকার। এবাবদ ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৮-২৯ সময়কালের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ওলা/উবেরের ধাঁচে সমবায় ট্যাক্সি অ্যাপ চালু করাতেও উদ্যোগী সরকার। জাতীয় সমবায় বিকাশ নিগম গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলার কেনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জ) একটি নতুন জাতীয় সমবায় নীতি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য জাতীয় স্তরে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ে তোলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই কমিটি ১৭টি বৈঠক করেছে।

ঝ) জাতীয় স্তরে নতুন সমবায় তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এখানে বিভিন্ন ধরনের ৮.৪ লক্ষ সমবায় সমিতির তথ্য সন্বিবিষ্ট।

ঞ) সমবায় সংক্রান্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রসারেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সমবায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগের পাশাপাশি এসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য জাতীয় স্তরে পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে সরকার। এর আওতায় ২০২৫-এর এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ২,৮৮৯টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কাজ সম্পন্ন।

ট) কৃষি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলির কম্পিউটারাইজেশনের পাশাপাশি দ্বিতীয় পর্যায়ে শ্বেত বিপ্লবের ক্ষেত্রেও সরকার বিশেষভাবে উদ্যোগী। বিভিন্ন খাদ্য শস্য উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রেও সমবায় সমিতিগুলিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।


SC/AC/SKD


(रिलीज़ आईडी: 2212035) आगंतुक पटल : 8
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: हिन्दी , English , Kannada