প্রকাশিত:
03 DEC 2025 5:55PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
কলকাতা মেট্রো প্রকল্প ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করে। সেই সময় থেকে অনুমোদিত মেট্রোর বিবরণ নিচে দেওয়া হল:
সময়কাল অনুমোদিত মেট্রোর দৈর্ঘ্য
১৯৭২ থেকে ২০১৪ (৪২ বছর) -২৮ কিমি
২০১৪ থেকে ২০২৫ (১১ বছর) -৪৫ কিমি
বর্তমানে কলকাতা ও সংলগ্ন চারটি মেট্রো করিডরের কাজ চলছে। মোট দৈর্ঘ্য ৫২ কিমি। রাজ্য সরকারের জমি অধিগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক বস্তু সরানোর জন্য এর মধ্যে ২০ কিমি'র কাজ স্থগিত রয়েছে। এই তথ্য আজ লোকসভায় সাংসদ শ্রী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে রেল, তথ্য ও সম্প্রচার, এবং বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন।
শ্রী বৈষ্ণব আরও জানিয়েছেন-
জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড (১৪ কিমি) করিডর:
জোকা থেকে মাজেরহাট (৭.৭৪ কিমি) অংশ ইতিমধ্যেই অনুমোদিত এবং কার্যকর হয়েছে।
মাজেরহাট থেকে এসপ্ল্যানেড (৬.২৬ কিমি) অংশের কাজ শুরু হলেও তার অগ্রগতি নিম্নলিখিত সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত:
সমস্যা ও কারণ
১. খিদিরপুর মেট্রো স্টেশন- এখানে রাজ্য সরকারের (কলকাতা সশস্ত্র পুলিশ) স্থায়ী ৮৩৭ বর্গমিটার এবং অস্থায়ী ১,৭০২ বর্গমিটার জমির প্রয়োজন। জমি বরাদ্দের প্রস্তাব ২৪ আগস্ট ২০২০ তারিখে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পাঁচ বছরে অনেকগুলি বৈঠকের পর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাজ্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে।
২. ড. বি.সি. রায় মার্কেট- এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন নির্মাণের জন্য সামরিক জমির থেকে ৫২৮-টি অবৈধ দোকান অস্থায়ীভাবে সরাতে হবে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্য সরকারের কাছে এর জন্য নো-অবজেকশন সার্টিফিকেটের আবেদন করা হয়েছিল। রেল ইতিমধ্যেই বিকল্প দোকানের ব্যবস্থা করেছে। রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে সরাসরি দোকান স্থানান্তরের সহায়তার জন্য। নিয়মিতভাবে রাজ্যের পৌর দপ্তরে'র সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এই সমস্যার জন্য কাজ প্রায় ৩.৫ বছর ধরে স্থগিত রয়েছে।
নিউ গড়িয়া থেকে দমদম বিমানবন্দর (৩২ কিমি) করিডর:
নিউ গড়িয়া থেকে বেলাঘাটা পর্যন্ত ৯.৮ কিমি অংশ অনুমোদিত এবং কার্যকর হয়েছে।
বেলেঘাটা থেকে দমদম বিমানবন্দর পর্যন্ত ২২.২ কিমি অংশে কাজের অগ্রগতি নিম্নলিখিত সমস্যার কারণে ব্যাহত:
সমস্যা
১. চিংড়িহাটা মোর (বেলেঘাটা-গৌরকিশোর ঘোষ স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশ) - এখানে ভায়াডাক্ট অংশ নির্মাণের জন্য রাস্তাটিতে তিন রাত ৮ ঘণ্টা করে যান চলাচল অন্য রাস্তা দিয়ে করাতে হবে। এই প্রস্তাব ডিসেম্বর ২০২৪ সালে রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ অনুযায়ী বিকল্প রাস্তাটি ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে, প্রায় ১০ মাস পরেও নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট পাওয়া যায়নি।
নোয়াপাড়া – বারাসাত (১৮ কিমি) করিডর:
নোয়াপাড়া থেকে জয় হিন্দ বিমানবন্দর পর্যন্ত ৬.৭৭ কিমি অংশ অনুমোদিত, এবং জয় হিন্দ থেকে মাইকেল নগর পর্যন্ত কাজ চলছে।
তবে, নিউ ব্যারাকপুর থেকে বারাসাত পর্যন্ত ৭.৫ কিমি অংশ জমি অধিগ্রহণ ও ঘন বসতি থাকার কারণে আটকে রয়েছে।
সমস্যা
১. নিউ ব্যারাকপুর থেকে বারাসাত- এখানে প্রায় ২৩,০০০ বর্গমিটার জমি ও ১,২৭৭-টি বসতি এবং ৭৬৪-টি দোকান সরানোর প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্য সরকার এখনও এটি সমাধান করতে পারেনি।
বরানগর - ব্যারাকপুর - দক্ষিণেশ্বর (১৪.৫ কিমি) করিডর:
বরানগর থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত ২ কিমি অংশ অনুমোদন করা হয়েছে।
বরানগর থেকে ব্যারাকপুর ১২.৫ কিমি অংশ বরাদ্দ হলেও, প্রয়োজনীয় সামগ্রী না সরানোর কারণে কাজ স্থগিত রয়েছে।
সমস্যা
১. বরানগর থেকে ব্যারাকপুর- ২০১১ সালে মেট্রো রেল, আরভিএনএল এবং কলকাতা পুরসভার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে পুরনো পাইপলাইন পরিবর্তন করে নতুন ৬৪ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন বসাতে হবে। ওই পাইপলাইন ২০১২ সালে সরানো হলেও, এখনো রাজ্য সরকারের নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, শ্যাওরাফুলি ইতিমধ্যেই হাওড়ার সঙ্গে রেলের মাধ্যমে সংযুক্ত। হাওড়া-ব্যান্ডেল মূল পথে শ্যাওরাফুলি একটি বর্তমান স্টেশন। তারকেশ্বর- বিষ্ণুপুর নতুন ৮৩ কিমির লাইন প্রকল্প হুগলি জেলার গোঘাট- কামারপুকুর অংশে আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের কারণে আটকে রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ৯০০ মিটার অংশে কাজ বন্ধ।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ বাজেট ও রেল প্রকল্পগুলি
গত কয়েক বছরে রাজ্যে পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়ছে। সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে যে প্রকল্প রাজ্যের মধ্যে পরে সেগুলোর বরাদ্দ অর্থ নিচে দেওয়া হল:
সময়কাল বার্ষিক বরাদ্দ
২০০৯–২০১৪ ₹ ৪,৩৮০ কোটি
২০২৫–২০২৬ ₹ ১৩,৯৫৫ কোটি (প্রায় তিন গুণের বেশি)
একইভাবে, ১ এপ্রিল ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যে ৪,৪০২ কিমি দীর্ঘ ৪২-টি প্রকল্প (১২টি নতুন লাইন, চারটি গেজ পরিবর্তন ও ২৬-টি ডাবলিং) অনুমোদিত হয়ছে। মোট খরচ ₹ ৬৭,৯৯১ কোটি। তার মধ্যে ১,৭০২ কিমি লাইন ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ₹ ২৩,৪১০ কোটি ব্যয় হয়েছে।
নিচে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া কিছু প্রকল্পের তালিকা দেওয়া হলো:
ক্রমিক প্রকল্প খরচ (কোটি টাকায়)
১ রামপুরহাট-মন্দারহিল নতুন লাইন ও রামপুরহাট–মুরারই ৩য় লাইন (১৫৯ কিমি) ১,৫০০
২ আজিমগঞ্জ-মুর্শিদাবাদ নতুন লাইন (৭ কিমি) ১৬৪
৩ বর্ধমান-কাটওয়া গেজ বদল (৫২ কিমি) ৬৯৬
৪ আহমেদপুর-কাটওয়া গেজ বদল (৫২ কিমি) ৪৪০
৫ পাঁচকুড়া-খড়গপুর ডাবলিং (৪৫ কিমি) ৪০৮
৬ লালগোলা-জিয়াগঞ্জ ডাবলিং (২৩ কিমি) ১২৪
৭ কৃষ্ণনগর-বেথুয়াদহরি ডাবলিং (২৮ কিমি) ১৫২
৮ নবদ্বীপ ধাম-পাটুলি ডাবলিং (২২ কিমি) ১৭০
৯ বেথুয়াদহরি-পলাশি ডাবলিং (২৩ কিমি) ১৩২
১০ অম্বিকাকালনা-নবদ্বীপ ধাম ডাবলিং (২৩ কিমি) ১৪৫
১১ নলহাটি- সাগরদিঘি ডাবলিং (২৬ কিমি) ১৯৩
১২ তমলুক জংশন-বাসুলিয়া সুতাহাটা ডাবলিং (২৪ কিমি) ২৪৫
১৩ পলাশি- জিয়াগঞ্জ ডাবলিং (৫৪ কিমি) ২৩৪
১৪ আজিমগঞ্জ- মনিহাট ডাবলিং (২১ কিমি) ১৫০
১৫ নিউ কুচবিহার-গুমনিহাট ডাবলিং (২৯ কিমি) ৩৩০
১৬ নিউ কুচবিহার-সামুকতলা রোড ডাবলিং (২৯ কিমি) ৪৪৫
১৭ সাঁইথিয়া-তারাপিঠ তৃতীয় লাইন (২২ কিমি) ১৮৬
১৮ অ্যামবারি ফলকাটা-নিউ ময়নাগুড়ি ডাবলিং (৩৭ কিমি) ৮৪৩
১৯ ব্যান্ডেল-বইঞ্চি ৩য় লাইন (৩১ কিমি) ৫৪৬
২০ বইঞ্চি-শক্তিগড় তৃতীয়য় লাইন (২৬ কিমি) ৪২৪
২১ বাজার শৌ- আজিমগঞ্জ জংশন ডাবলিং (৪২ কিমি) ৩৪৩
২২ সাগরদিঘি-মালদা টাউন ডাবলিং (২৫ কিমি) ২৪৮
২৩ খড়গপুর-নারায়ণগড় ৩য় লাইন (২৪ কিমি) ২৭০
২৪ মনিগ্রাম-নিমতিতা ডাবলিং (২৪ কিমি) ৭১৩
২৫ পুরুলিয়া-কোটশিলা ডাবলিং (৩৬ কিমি) ৩৯৩
শ্রী বৈষ্ণব আরও জানান, গত তিন অর্থবছর (২০২২-২৩, ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫) এবং চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ এ রাজ্যে নতুন ১০-টি নতুন লাইন এবং ডাবলিং এর জন্য মোট ৯৭-টি সমীক্ষা অনুমোদিত হয়েছে। এর মোট দৈর্ঘ্য ৪,০০৪ কিমি। তবে, রাজ্যে গুরুত্বপূর্ন পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন জমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে স্থগিত রয়েছে।
দেশপ্রাণ-নন্দিগ্রাম (১৮.৫ কিমি) লাইন ২০০৯-১০ সালে অনুমোদন পায়, খরচ ছিল ₹১২১.৪৪ কোটি। প্রকল্পটি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। এপ্রিল ২০২৩ এ কাজ পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে, ৫.০ কিমি অংশের জন্য জমি অধিগ্রহণের সমীক্ষা এখনও সম্পন্ন হয়নি। কারণ গোঘাট-কামারপুকুর অংশে আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা রয়েছে। ২০১৬ থেকে কাজ বন্ধ। দেশপ্রাণ স্টেশন জংশন হওয়ায় এই জমি অধিগ্রহণ ছাড়া প্রকল্প শুরু করা সম্ভব নয়।
যেকোনো রেল প্রকল্প অনুমোদন নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর নির্ভরশীল-
* প্রস্তাবিত রুটের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যাত্রীচাহিদা এবং আর্থিক সামর্থ্য
* প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদান করা প্রথম ও শেষ মাইল সংযোগ
* অনুপস্থিত সংযোগ পূরণ এবং অতিরিক্ত রুট প্রদান
* যানজটপূর্ণ অথবা সম্পৃক্ত লাইনগুলির সম্প্রসারণ
* রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও গণপ্রতিনিধিদের দাবি
* রেলের নিজস্ব কার্যকরী প্রয়োজন
* সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনা
* সামগ্রিক তহবিলের প্রাপ্যতা
রেল প্রকল্প সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে:
* রাজ্য সরকারের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ
* বন বিভাগের ছাড়পত্র
* প্রতিবন্ধক সামগ্রী সরানো
* বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের আইনগত ছাড়পত্র
* প্রকল্প এলাকার ভূতাত্ত্বিক ও ভূপ্রকৃতিগত পরিস্থিতি
* প্রকল্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
* নির্দিষ্ট প্রকল্প এলাকায় বছরে কার্যকরীভাবে কাজ করা সম্ভব এমন মাসের সংখ্যা
***
SSS/RS/3.12.25.....