PIB Headquarters
azadi ka amrit mahotsav

জিএসটি সংস্কার ২০২৫ : মণিপুরের অর্থনীতি সমস্ত ক্ষেত্রে লাভবান হবে

प्रविष्टि तिथि: 10 OCT 2025 10:38AM by PIB Agartala

আলোকপাতের মূল বিষয়: 
* পাঁচ শতাংশ জিএসটি মণিপুরের হস্তচালিত তাঁতের সাশ্রয় এবং বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে উপকৃত হবে ২.৫ লক্ষ তাঁতি কারুকাজে ব্যয় সস্তা হয়ে উঠায় ১.২ লক্ষ কারিগরের লাভ। মাত্র পাঁচ শতাংশ জিএসটি-র ফলে স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগের প্রসার আশা করা হচ্ছে।

* জিএসটি হ্রাসের ফলে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে ১.৫ লক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে এবং আয়ও বেড়েছে।  

* এক লক্ষেরও বেশি দুগ্ধ উৎপাদক থেকে শুরু করে ১০,০০০ কফি উৎপাদক জি এস টি হ্রাসের ফলে সবার ক্ষেত্রেই মুনাফা  বাড়ছে ও বাজারের প্রসার হচ্ছে।

ভূমিকা
নতুন জিএসটি সংস্কারের লক্ষ্য হল অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র মাঝারি ও সব ধরনের ব্যবসায়ী - সবার জন্য সহজে ব্যবসা করার পথ সুগম করা। মণিপুরের অর্থনীতি, ক্ষুদ্র শিল্প, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং কৃষি-ভিত্তিক জীবিকার মধ্যে নিহিত, জি এস টি হ্রাসের ফলে এই ক্ষেত্রগুলি  উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে শুরু করেছে।  উখরুল ও সেনাপতির পার্বত্য অঞ্চলে কফি চাষ থেকে শুরু করে চুড়াচাঁদপুর ও ইম্ফলে বাঁশের কারুশিল্প ও পাথর খোদাই, রাজ্যের বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক কার্যক্রম মূলত সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হয়। ইনপুট খরচ হ্রাস করে এবং চাহিদাকে উৎসাহিত করে, সংস্কারের লক্ষ্য হল মণিপুরের অনন্য পণ্যগুলিকে দেশীয় এবং বৈশ্বিক উভয় বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।
উপরন্তু, জি এস টি'র এই সংস্কারগুলি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে তারা ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী জীবিকা সংরক্ষণে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলিকে ক্ষমতায়িত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরাবিকা কফি
প্যাকেজযুক্ত কফির উপর জিএসটি ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা মণিপুরের কফি শিল্প জুড়ে যথেষ্ট স্বস্তি এনেছে। উখরুল, সেনাপতি এবং চান্দেলের মতো জেলাগুলি কফি চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, বিশেষ করে উচ্চমানের আরাবিকা জাতের জন্য। প্রায় দশ হাজার কৃষক কফি চাষের সঙ্গে যুক্ত।  এই ক্ষেত্রটি প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং এবং বিতরণ নেটওয়ার্কগুলিতে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি করে যা মূল্য শৃঙ্খলকে সমর্থন করে।

সংশোধিত হারগুলি ক্রেতা ও উৎপাদক উভয়ের জন্য ব্যয় হ্রাস করছে, সাশ্রয়ী মূল্যের উন্নতি হচ্ছে এবং চাহিদাকে উদ্দীপিত করছে। এটি মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি  দেশীয় ও রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।  উপরন্তু, সংস্কারগুলি জৈব এবং সুস্থায়ী কৃষি পদ্ধতি গ্রহণকেও উৎসাহিত করতে শুরু করেছে।

বাঁশ ও বেতের কারুশিল্প
মণিপুরের বাঁশ ও বেতের কারুশিল্প ঐতিহ্যগতভাবে চুড়াচাঁদপুর, উখরুল এবং তামেংলং-এর দক্ষ কারিগরদের দ্বারা তৈরি করা হয়। প্রায় ১.২ লক্ষ কারিগর নিয়ে এই ক্ষেত্রটি গ্রামীণ পরিবারগুলিকে সম্পূরক আয় প্রদান করে।

আসবাবপত্র, ঝুড়ি, মাদুর এবং অন্যান্য কাঠের কারুশিল্পের উপর জিএসটি বার শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে, তার ফলে সরাসরি পণ্যের দাম হ্রাস এবং শহর ও গ্রামীণ উভয় বাজারে চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে।  এই সংস্কারগুলি কারুশিল্প ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকেও শক্তিশালী করবে।

হস্তচালিত তাঁত বস্ত্র

ফনেক, ইন্নাফি এবং রানী'র মতো হস্তচালিত তাঁত বস্ত্রগুলি মূলত ইম্ফল, থৌবাল, বিষ্ণুপুর এবং সেনাপতি জুড়ে স্থানীয় মহিলা কারিগরদের দ্বারা তৈরি করা হয়।  এই শিল্পগুলি কেবল ঐতিহ্যবাহী বুনন অনুশীলন বজায় রাখার পাশাপাশি প্রায় ২.৫ লক্ষ তাঁতিদের স্থিতিশীল আয়ও প্রদান করে।

হস্তচালিত তাঁত বোনা কাপড়ের উপর জিএসটি বার শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করার ফলে কারিগরদের জন্য বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য সরাসরি সাশ্রয়যোগ্যতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে ।  এই সংস্কারগুলি মণিপুরের হস্তচালিত তাঁত পণ্যগুলির বিশ্বব্যাপী চাহিদা আরো বেশি করে বাড়িয়ে তুলবে এবং মণিপুরের ঐতিহ্যবাহী বয়ন কৌশল সংরক্ষণেও সহায়তা করবে।

পাথরের খোদাই এবং ভাস্কর্য
ইম্ফল, চুড়াচাঁদপুর এবং উখরুল - পাথর খোদাই এবং ভাস্কর্যের দক্ষতার জন্য  সর্বত্র খ্যাতি রয়েছে ।  প্রায় পঞ্চাশ হাজার কারিগর এই ঐতিহ্যবাহী কারুকাজের সঙ্গে যুক্ত।

সিরামিক টেবিলওয়্যারের উপর জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে যা কাঁচামাল এবং তৈয়ারি পণ্যগুলির ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস ইঙ্গিত করে। এই কর ছাড় মণিপুরের পাথরজাত পণ্যের সাশ্রয়যোগ্যতা এবং বিশ্বব্যাপী বাজারে প্রতিযোগিতার পথকে শুভম করে তুলেছে। এই সংস্কারগুলি ঐতিহ্যবাহী খোদাই কৌশলগুলির সংরক্ষণ ও প্রচারকে সমর্থন করে, যাতে রাজ্যের সমৃদ্ধ কারিগর ঐতিহ্যের বিকাশ অব্যাহত থাকে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার
ইম্ফল, সেনাপতি এবং চান্দেল জেলায় কেন্দ্রীভূত মণিপুরের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্প অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এস. এম. ই) এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এস. এইচ. জি) দ্বারা পরিচালিত হয়। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটগুলিতে প্রায় ১.৫ লক্ষ শ্রমিক নিযুক্ত রয়েছে, এই ক্ষেত্রে গ্রামীণ মহিলাদের উৎপাদন ও প্যাকেজিং উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা যায়।

আচার, বাঁশ কুরুল, গাঁজানো খাবার, সবজি প্রস্তুতকরণ ইত্যাদির মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারের উপর জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা উৎপাদক এবং ভোক্তা উভয়ের জন্য একটি বড় উৎসাহ। জিএসটির হার কম হবার ফলে পণ্যের মূল্যও স্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায়, সাশ্রয়যোগ্যতা এবং বাজারের প্রসার বৃদ্ধি করে।

দুগ্ধজাত পণ্য
ইম্ফল, থৌবল এবং বিষ্ণুপুর জেলায় দুগ্ধ উৎপাদন মূলত ক্ষুদ্র গ্রামীণ ও উপজাতি সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হয়, যেখানে এক লক্ষেরও বেশি দুগ্ধ চাষী এবং সমবায় সদস্য এই কাজে নিয়োজিত রয়েছে।  ঘি, মাখন, পনির এবং চিজের উপর জিএসটি হ্রাস শূন্য/৫ শতাংশ প্রয়োজনীয় দুগ্ধজাত পণ্যকে আরও সাশ্রয়ী করে গ্রাহকদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দিয়েছে।

সংশোধিত হারগুলি উৎপাদন খরচ হ্রাসের পথ সুগম করেছে। এটি কৃষক এবং সমবায়গুলির জন্য লাভের মার্জিনকে উন্নত করবে, দেশীয় এবং রপ্তানি বাজারে উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়িয়ে তোলার পথ প্রশস্ত করেছে।

উপসংহার
সংশোধিত জিএসটি হার ভারত জুড়ে অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপকে চিহ্নিত করে।  অত্যাবশ্যকীয় এবং মূল্য সংযোজন খাতের উপর করের বোঝা সহজ করার মাধ্যমে, এই পরিবর্তনগুলি উৎপাদন, সাশ্রয় এবং বাজারের প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়াতে প্রস্তুত। মণিপুরের মতো ছোট অথচ উচ্চ সম্ভাবনাময় রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিশেষভাবে অর্থপূর্ণ, যা স্থানীয় কৃষক, কারিগর এবং উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়িত করছে।

একসঙ্গে, এই সংস্কারগুলি একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করে, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দেশের অর্থনীতিতে আরও দৃঢ়ভাবে অবদান রাখতে সক্ষম করে।

Click here to see pdf  

*** 

PS/PKS/KMD


(रिलीज़ आईडी: 2177390) आगंतुक पटल : 20
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English