খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রক

ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়া ২০২৩: রন্ধনশৈলী, সংস্কৃতি ও বাণিজ্য

"ভারতের খাদ্য বৈচিত্র্য বিশ্বের প্রতিটি বিনিয়োগকারীর জন্য একটি লভ্যাংশ" -প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

Posted On: 06 NOV 2023 2:41PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ০৬ নভেম্বর ২০২৩।। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ৩ নভেম্বর নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানে ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত  মেগা ফুড ইভেন্ট 'ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়া ২০২৩'-এর দ্বিতীয় সংস্করণের উদ্বোধন করেন।এই আয়োজনটি খাদ্য উৎপাদনে ভারতের বিশ্ব নেতৃত্ব প্রদর্শনের একটি মঞ্চ হিসাবে এবং একই সঙ্গে২০২৩ সালকে আন্তর্জাতিক মিলট বর্ষ হিসাবে উদযাপনের জন্য করা হয়েছে। খাদ্য পণ্যের উৎপাদন ও ভোক্তা উভয় দিক দিয়েই নেতৃত্বদানকারী এক দেশ ভারত। বিশ্বের কাছে ভারত তার ক্ষমতা প্রদর্শনে ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়া-২০২৩ অর্থাৎ  বিশ্ব খাদ্য ভারত-২০২৩-এ পেশ করা  প্রস্তাবকে কাজে লাগাতে পারে। গত ৩ নভেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর,  পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই তিন দিনের আয়োজনে,  ভারতীয় খাবারের সমৃদ্ধশালী বৈচিত্র্যের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য খাদ্য উৎপাদনকারী, পুষ্টিকর শিল্প, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য কোম্পানি, বিখ্যাত শেফ এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্য রসিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীখাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের বৃদ্ধি এবং কীভাবে এটি একটি সূর্যোদয়ের মত উল্লেখযোগ্য খাত হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে তাও তুলে ধরেন। গত নয় বছরেভারত ৫০ হাজার কোটির বেশি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ অর্জন করেছে, যা মূলত শিল্প ও কৃষক-সমর্থক নীতির প্রতি সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির সাফল্য।উল্লেখ করার মতো বিষয় যে, ভারতের কৃষি রফতানির মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবারের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ১৩% থেকে ২৩% পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে|যা প্রক্রিয়াজাত খাবারের রফতানিতে এক উল্লেখযোগ্য ১৫০% সামগ্রিক বৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্ব খাদ্য ইন্ডিয়ার উদ্বোধনী অধিবেশন চলাকালীনদেখা গেছে যে, ভারত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুধ, মশলা এবং ডাল উৎপাদনকারী দেশ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্র গত দুই বছরে ৭.২৬%-এর একটি শক্তিশালী সম্প্রসারণ প্রদর্শন করেছে। একইভাবে উল্লেখযোগ্য হল প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রফতানির রূপান্তর, যা এখন কৃষি রফতানির ২৫.৬৩%, যা ২০১৩-১৪ সালে রেকর্ড করা ১৩.৭% থেকে একটি উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন। অধিকন্তু, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রের মোট মূল্য সংযোজন ২০১৪-১৫ সালে যেখানে ছিল স্বাভাবিক₹ ১.৩৪  লক্ষ কোটি টাকা, তা ২০২১-২২ সালে এসে ₹২.০৮ লক্ষ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

বগত নয় বছরেসরকারের নিরলস আর্থিক সহায়তায় ১.২৫ লক্ষেরও বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে মূলধন প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প এবং উদ্যোগের মাধ্যমে ৫৬,০০০টিরও বেশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ উদ্যোগকে শক্তিশালী করা সম্ভব হয়েছে| সরকারি প্রকল্প এবং উদ্যোগগুলিকে প্রচুর সুবিধা প্রদান করা হয়েছে| প্রায় ৩২ লক্ষ কৃষককে সহায়তা করা হয়েছে এবং প্রায় ৯.৭৫ লক্ষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেছে। প্রধানমন্ত্রীভারতের কৃষি-রফতানি নীতির ঐতিহাসিক প্রবর্তনের উপরও জোর দেন।    দেশব্যাপী একটি বিস্তৃত লজিস্টিক এবং পরিকাঠামো নেটওয়ার্কের উন্নয়ন, ১০০ টিরও বেশি জেলা-স্তরের হাব প্রতিষ্ঠার জন্য জেলাগুলিকে বিশ্ব বাজারের সাথে নির্বিঘ্নে সংযুক্ত করতে, মেগা ফুড পার্কের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যেখানে মাত্র ২ টিমেগাফুড পার্ক ছিল, তা  থেকে বেড়ে এখন ২০ টির বেশি করা হয়েছে| যা ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতার চমকপ্রদ উত্থান,যা গত ৯ বছরে এক আকর্ষণীয় ১৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে১২ লক্ষ মেট্রিক টন থেকে ২০০ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

আয়োজনের একটি মূল দৃষ্টিভঙ্গী হল প্রাচীন ভারতীয় খাদ্য সামগ্রী এবং অনুশীলনগুলির পুনরুজ্জীবন এবং প্রচার, যা অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর এবং স্বাস্থ্য-সচেতন পণ্য সরবরাহ করে। এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সামগ্রীগুলি উৎপাদন, ব্যবহার এবং রফতানির সম্ভাবনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট মূল্য রাখে। ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ভারত সরকার এই ভারতীয় খাবার এবং খাদ্য অনুশীলনের প্রচার, রফতানি এবং পুনরুজ্জীবিত করার একটি সুবর্ণ সুযোগ প্রদান করছে। 

শ্রীঅন্ন: ভারতের সুপারফুড!

বাজরা, যা শ্রীঅন্ন নামেও পরিচিত, বহু শতাব্দী ধরে ভারতীয় খাদ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি সুপার ফুড বা বিশেষ পুষ্টিকরখাদ্য।এই অসাধারণ সুপারফুডগুলি শুধুমাত্র গ্লুটেন-মুক্ত হওয়ার স্বাতন্ত্র্যই বহন করে না, বরং গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণে ভরপুর। তারা বিভিন্ন পরিবেশগত অবস্থার সঙ্গে তাদের অভিযোজনযোগ্যতা এবং তাদের পরিবেশ-বান্ধব প্রকৃতির জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। বাজরা, তাদের বিভিন্ন রূপে, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার, পুষ্টি উন্নত করার, এবং আমরা যে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হয়েছি তার মধ্যে স্থায়িত্বে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি বহন করে৷ ভারতের মিলেটস উদ্যোগ এই উল্লেখযোগ্য খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ভুমিকা নিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী একটি জনপ্রিয় এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যের বিকল্প হল এই মিলেটস ।

এই খাঁটি এবং পুষ্টিকর ভারতীয় সুপারফুড হিসাবে গ্রহণ করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ চিহ্নিত করে। ২০২৩ সালকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিলেটেসের আন্তর্জাতিক বছর (শ্রীঅন্ন) হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়া ২০২৩ বাজরার বহুমুখিতা প্রদর্শনের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে, যেখানে এই শস্যগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে বিভিন্ন রন্ধনশৈলী, স্ন্যাকস এবং মিষ্টান্ন সহ বিস্তৃত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বাজরা-ভিত্তিক খাদ্য সামগ্রীর একটি অনুকরণীয় প্রদর্শন করেছে  আয়ুষমন্ত্রক। আয়ুশমন্ত্রক দ্বারা আয়োজিত এই ধরনের প্রদর্শনী খাদ্য শৃঙ্খলকে চিহ্নিত করে৷ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ন্যাচারোপ্যাথির ডাঃ রুতিকা রাগিলাড্ডু, হালিম নাচোস এবং রাগি পপসের মতো সুস্বাদু খাবার উপস্থাপনাকারী,  এমন  খাদ্য প্রস্তুত করেছেন, যা ভিটামিন-ই, লেসিথিন,  মেথিওনিন, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে  সমৃদ্ধ যা আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবদান রাখে। হিন্দুস্তান লেভেল ইউনাইটেডও বিভিন্ন ধরনের শ্রীঅন্ন সমন্বিত একটি ব্যাপক 'মিলেট ইন্ডিয়া প্ল্যাটার' উপস্থাপনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জোয়ার চাট, মিলেট থালিপিঠ, মিলেট মেথি থেপলা এবং মিলেট বেনারসিপানের মতো সুস্বাদু খাবার, যা এই শস্যের বৈচিত্র্যময় রন্ধনসম্পর্কিত সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।

এই বাজরা ভিত্তিক খাদ্যবস্তুউৎপাদন এবং প্রচার আমাদের  উৎসগুলিতে একটি উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবর্তনের সূচনা করে। ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়া-২০২৩ বাজরা-ভিত্তিক খাবারের লোভনীয় প্রদর্শনের সঙ্গে, আধুনিক রন্ধনসম্পদে এই প্রাচীন শস্যের অসাধারণ এক অভিযাত্রার উদাহরণ বহন করছে। আমরা এই পুষ্টিকর এবং পরিবেশ-বান্ধব খাদ্য ভাণ্ডারের স্বাদ যখন গ্রহণ করি, তখন আমরা বৃহত্তর স্বার্থে মঙ্গল, স্থায়িত্ব এবং ভারত যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এক রন্ধনশৈলীর দেশ, বিশ্বব্যাপী  সেই এক ঐতিহ্যের জন্য সমীহ আদায় করে নিয়েছে। সেই দিকেই যাত্রাপথ সূচিত করছে ভারত । 

ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়াতে স্বাস্থ্যের স্বাদ পাওয়া যায়

ভারত সমৃদ্ধ খাদ্য সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ ভাবে গর্ব করে, যেখানে খাওয়ার কাজ হল একটি সামগ্রিক অভিজ্ঞতা যা শারীরিক এবং মানসিক উভয়  স্বাস্থ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে।সচেতন খাদ্যতালিকাগত পছন্দ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পশ্চিমী দেশগুলোর খাবারের আইটেমগুলির দিকে লোকেদের আকর্ষণ করার প্রবণতা রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়ার আয়োজন ঐতিহ্যগত, খাঁটি এবং স্বাস্থ্যকর ভারতীয় খাবারের একটি বৈচিত্র্যময় বিন্যাস উপস্থাপন করে এবং এই ধারণাটি ছড়িয়ে দিতে চায় যা সারা বিশ্বে খাদ্য পছন্দের উপর বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। কেউ স্বাস্থ্যের সাথে আপস না করে খাঁটি এবং ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খাবারের সাথে সংযোজন করতে পারেন অনায়াসেই।

SKC/TD



(Release ID: 1975211) Visitor Counter : 66


Read this release in: English