স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক

ক্যাবিনেট সচিব সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে কোভিড পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেছেন ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কোভিড পরিস্থিতি ‘যথেষ্ট উদ্বেগজনক’ মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব এবং ছত্তিশগড়ের পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে

Posted On: 02 APR 2021 10:22PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লী, ২ এপ্রিল, ২০২১

ক্যাবিনেট সচিব শ্রী রাজীব গৌবা আজ সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিব, পুলিশের মহানির্দেশক ও স্বাস্থ্য সচিবদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কোভিড-১৯এর সংক্রমণ এবং সংক্রমিতদের মৃত্যুর দৈনিক হার যথেষ্ট বেশি হচ্ছে। বৈঠকে নীতি আয়োগের স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, আইসিএমআর-এর মহানির্দেশক এবং এনসিডিসি-র নির্দেশক উপস্থিত ছিলেন।
পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে ক্যাবিনেট সচিব বলেছেন, মার্চ মাসে কোভিড সংক্রমণের বৃদ্ধির হার ৬.৮ শতাংশ। এর আগে ২০২০র জুন মাসে বৃদ্ধির হার ছিল সর্বাধিক- ৫.৫ শতাংশ। দেশে কোভিড সংক্রমিতদের দৈনিক মৃত্যুর হার ৫.৫ শতাংশ। ২০২০র সেপ্টেম্বরে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ৯৭ হাজার। বর্তমানে দৈনিক সংক্রমণ ৮১ হাজারে পৌঁছে গেছে।
বৈঠকে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তথ্য ও সম্প্রচার সচিব জানিয়েছেন যথাযথ কোভিড আচরণবিধি মেনে চললে এই সংক্রমণ থেকে জনসাধারণকে রক্ষা করা যাবে। নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) ডঃ ভি কে পাল রাজ্যগুলিকে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এবং জিন বিন্যাসের জন্য পরিযোজিত ভাইরাসের স্ট্রেনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেছেন যে ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দৈনিক সংক্রমণের হার বেশি সেখানে কন্টেনমেন্ট সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি করা হচ্ছেনা, তিনি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মুখ্যসচিব ও পুলিশের মহানির্দেশকদের অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা যেন এই সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৪ দিনে (৩১ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া হিসেবে) দেশে মোট কোভিড সংক্রমণের ৯০ শতাংশ এবং সংক্রমিতদের মৃত্যুর ৯০.৫ শতাংশ এই ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই ঘটেছে। সবথেকে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রে। এর আগে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা মেনে চলা হয়েছিল, যার ফলে সংক্রমিত চিকিৎসাধীন এবং মৃত্যুর হার কম হয়েছিল সেইসব ব্যবস্থাপনাকে দ্রুত কার্যকর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণীর শহরগুলি ও আধা-শহর আধা-গ্রাম এলাকায় কোভিড সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এইসব অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দুর্বল থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিস্তারিত পর্যালোচনার পর ক্যাবিনেট সচিব কোভিড সংক্রান্ত যথাযথ আচরণবিধি মেনে চলার জন্য এবং কন্টেনমেন্ট এলাকার সব নিয়ম পালন ও নজরদারি চালানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। রাজ্যগুলিকে যে বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে সেগুলি হল :
Ø নমুনা পরীক্ষা দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে যাতে সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ অথবা তার কমে পৌঁছায়
Ø নমুনা পরীক্ষার ৭০ শতাংশ আরটিপিসিআর-এর মাধ্যমে করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে
Ø পরীক্ষাগারগুলির সঙ্গে নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা এবং পরীক্ষার ফল জানার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় কমাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
Ø জনবহুল এলাকায় এবং যেসব অঞ্চলে প্রচুর সংক্রমণ হচ্ছে সেখানে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে শনাক্তকরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
Ø যাদের সংক্রমণের লক্ষণ দেখা গেছে অথচ র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে তাদের আরটিপিসিআর টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক
Ø যাঁরা কোভিডে সংক্রমিত হয়েছেন তাঁদের দ্রুত আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। যাঁরা বাড়িতে থাকবেন, প্রতিদিন তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে হবে। কোনোরকম জটিলতা দেখা দিলে সংক্রমিত ব্যক্তিকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে
Ø সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ২৫-৩০ জনকে শনাক্ত করতে হবে। এবং এঁদের ৭২ ঘন্টা আইসোলেশনে রেখে নমুনা পরীক্ষা করা হবে
Ø কন্টেনমেন্ট এলাকা এবং ক্ষুদ্র কন্টেনমেন্ট এলাকার মাধ্যমে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে হবে
সংক্রমিতদের মধ্যে যাঁরা মারা যাচ্ছেন তাঁদের বিষয়ে হাসপাতাল ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের জন্য রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার নিয়মাবলী যেখানে মানা হচ্ছে না এবং হাসপাতালে দেরিতে রোগী ভর্তির মতো সমস্যাগুলির সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংক্রমিতদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে জেলাস্তরে, ওয়ার্ড/ব্লক স্তরে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়াও ২৪ ঘন্টায় আপৎকালীন পরিচালন কেন্দ্র, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ দল এবং সংক্রমণ সংক্রান্ত তথ্যাদি রাজ্য/ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে পরস্পরের মধ্যে ভাগ করে নিতে হবে।
দৈনিক মৃত্যুর হার কমানোর জন্য রাজ্যগুলিকে সরকারি-বেসরকারী স্বাস্থ্য পরিষেবাকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সেগুলি হল :
Ø আইসোলেশন বেড, অক্সিজেন দেওয়ার বেড, ভেন্টিলেশন এবং আইসিইউ বেডের সংখ্যা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়াতে হবে
Ø প্রয়োজন অনুসারে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে
Ø অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে শক্তিশালী করতে হবে এবং অ্যাম্বুলেন্সকে খবর দেওয়ার পর যাতে সেই অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত সংক্রমিতের কাছে পৌঁছায় এবং সংক্রমিতদের নিয়ে যেতে আপত্তি না জানায় সেটি স্থানীয় প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে
Ø চুক্তি ভিত্তিক কর্মী যাতে প্রচুর সংখ্যায় থাকে এবং সব কর্মচারীদের যাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজে লাগানো যায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে
Ø নতুন দিল্লীর এইমস-এর কোর টিম অথবা রাজ্যের কোর টিমের সদস্যদের সঙ্গে আইসিইউ বেডে চিকিৎসারত ডাক্তারদের নিয়মিত টেলি কনসালটেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন দিল্লীর এইমস-এই টেলি কনসালটেশন মঙ্গল ও শুক্রবার সপ্তাহে ২ দিন হয়ে থাকে
Ø যথাযথ কোভিড আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টিকে নিশ্চিত করতে হবে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করতে হবে :
Ø পুলিশ আইন, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা আইন এবং অন্যান্য আইনী ব্যবস্থার মাধ্যমে যারা নিয়ম মানবেন না তাদের জরিমানা দিতে হবে
Ø যথাযথভাবে মাস্ক পরা এবং শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখা সংক্রান্ত প্রচার স্থানীয় আধিকারিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে প্রচার করতে হবে
Ø বাজার, মেলা, সামাজিক ও ধর্মীয় জমায়েতে বিশেষভাবে নজরদারি চালাতে হবে কারণ এইসব জায়গা থেকে সংক্রমণ দ্রুতহারে ছড়াচ্ছে
Ø যথাযথ কোভিড আচরণবিধি মেনে চলার সঙ্গে সঙ্গে টিকাকরণের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে এবং টিকাকরণের পরেও এগুলি মেনে চলতে হবে
Ø প্রচার মাধ্যম এবং বহুস্তরীয় মঞ্চের মাধ্যমে ‘দাওয়াই ভি, কড়াই ভি’ অর্থাৎ ওষুধেরও প্রয়োজন, কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলাও প্রয়োজন এই বার্তা প্রচার করতে হবে।
Ø অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গোষ্ঠীদের সর্বোচ্চ পরিমাণে টিকাকরণ নিশ্চিত করতে যেসব জেলায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করতে হবে :
Ø স্বাস্থ্যকর্মী, সামনের সারিতে থাকা করোনা যোদ্ধা এবং নির্দিষ্ট বয়সে যাদের টিকাকরণ করা হচ্ছে তারা সকলে যাতে সঠিক সময় টিকা নেন সেই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
Ø কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে টিকার ডোজের বিষয়ে সমন্বয় বজায় রেখে চলতে হবে। যেহেতু টিকার কোনো ঘাটতি নেই তাই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে টিকার চাহিদার বিষয়ে কেন্দ্রকে প্রতিনিয়ত জানাতে হবে
Ø প্রয়োজন অনুসারে প্রত্যেকটি কোল্ড চেন পয়েন্টের ব্যবহার সম্পর্কে দৈনিক পর্যালোচনা করতে হবে
ক্যাবিনেট সচিব মুখ্যসচিবদের অনুরোধ জানিয়েছেন রাজ্য প্রশাসনকে সক্রিয় করে কোভিডের এই সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। স্বাস্থ্য দপ্তর ছাড়াও অন্যান্য দপ্তরগুলির সক্রিয়তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কোভিড-১৯এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সব রকমের সহায়তার আশ্বাস কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।

CG/CB/NS…



(Release ID: 1709257) Visitor Counter : 10


Read this release in: English