জলশক্তি মন্ত্রক

নদীর জলের গুণমান

প্রকাশিত: 25 MAR 2021 3:22PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লী, ২৫ মার্চ, ২০২১

        শহর এবং বিভিন্ন শিল্পসংস্থা থেকে অশোধিত নিকাশী জল নদীর মধ্যে মিশে যাওয়ার ফলে নদীর জল দূষিত হয়ে থাকে। এছাড়াও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন দূষিত পদার্থ, খোলা স্থানে শৌচকর্ম, ফেলে রাখা কঠিন বর্জ্য পদার্থের থেকেও নদীর জল দূষিত হয়।

        কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ রাজ্যগুলির দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সঙ্গে একযোগে নদীর জল দূষণের বিষয়টি নিয়ে নজরদারি চালায়। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে ৩২৩টি নদীতে ৩৫১টি দূষিত এলাকা রয়েছে। ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আর একটি প্রতিবেদন জানা গেছে শহরাঞ্চলে দৈনিক ৬১,৯৪৮০ লক্ষ নিকাশী জল বিভিন্ন নদীতে মিশে যায়। এর মধ্যে ২৩,২৭৭০ লক্ষ জল পরিশোধিত হয়।

          নদীর জলের নজরদারি বাড়াতে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ১৭ ধরণের শিল্পসংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে,  তারা তাদের শিল্পে যে জল ব্যবহার করে সেই জলকে পরিশোধিত করতে হবে। পর্ষদ ২৯৬৮টি শিল্পসংস্থাকে দূষণের জন্য চিহ্নিত করেছে। এদের মধ্যে ৬৫০টি সংস্থা বন্ধ হয়ে গেছে, বাকি সংস্থাগুলির মধ্যে ১২৮টি সংস্থা পর্ষদের পরামর্শ মানছেনা।

          ভূপৃষ্ঠের জল যেসব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে প্রবাহিত নদীতে দূষিত হয়, তার মধ্যে :

আসামের নদ-নদীগুলি হলঃ- ভারালু, বরশোলা, দীপারবিল, ডিগবয়, কমলপুর, পাঁচনাই, ব্রহ্মপুত্র, খারসন, পাগোলদিয়া, বরাক, বারইবেগা, বেকি, ভোগদই, বগিনারি, বড়বিল, বরদইবাম, দিলমুখ, বুড়িডিহিং, ধানসিরি, দিখৈ, ডিকরং, দিপলাই, দিসাং, গভরু, হলুদুংগা, জয়ভারালি, ঝান্জি, কালোং, কাপিলি, কিলিং, কোহরা, কুলসি, মালিনি, মোরাভারালি, পরশালী, পুথিমারি, রঙ্গ, সামাগুড়ি, সংকোষ, সিলসাকো, সরুশোলা, সোন, সোনাই, টেঙ্গাপুখুরি।  

          ত্রিপুরায় নদ-নদীগুলি হলঃ-  বুড়িগাঁও, গোমতি, হাওড়া, জুরি, খোয়াই, মনু

          পশ্চিমবঙ্গের নদ-নদীগুলি হলঃ-  বিদ্যাধরী, মহানন্দা, চুর্ণী, দ্বারকা, গঙ্গা, দামোদর, জলঙ্গী, কাঁসাই, মাথাভাঙা, বরাকর, দ্বারকেশ্বর, কালজানি, করোলা, ময়ুরাক্ষী, রূপনারায়ণ, শিলাবতী, তিস্তা। সারা দেশে মোট এরকম ৩৫১ নদীর বিভিন্ন অঞ্চলে জল দূষিত।

          কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের হিসেব অনুযায়ী আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে দুটি শিল্পসংস্থার কারণে জল দূষিত হচ্ছে। এর মধ্যে একটি সংস্থা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলেও অন্যটি না নেওয়ায় সেটিকে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এরকম ৪৮টি সংস্থার কারণে নদীর জল দূষিত হচ্ছিল। এরমধ্যে তিনটি সংস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি সংস্থাগুলির মধ্যে ৪১টি সংস্থা দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে কিন্তু ৪টি সংস্থা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে।  

          লোকসভায় আজ এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন জলশক্তি, সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শ্রী রতনলাল কাটারিয়া।

***

 

 

CG/CB/NS


(রিলিজ আইডি: 1707609) ভিজিটরের কাউন্টার : 848
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , Marathi