মৎস্য ও পশু পালন এবং দুগ্ধশিল্প মন্ত্রক

লকডাউনের আওতার বাইরে এসে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে মাছ চাষ

প্রকাশিত: 02 MAY 2020 6:15PM by PIB Kolkata

কোলকাতা, ২ মে, ২০২০

 

 

মৎস্য চাষ কে কেন্দ্র লকডাউনের আওতা থেকে ছাড় দেওয়ায় রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিন অথবা পূর্ব থেকে পশ্চিম সব মৎস্যজীবী বেজায় খুশি। শুধু রাজ্যের কথাই বা বলি কেন এই সিদ্ধান্তে গোটা দেশের মৎস্য শিল্পের সাথে যুক্ত মানুষের মনে খুশির হাওয়া।কেন্দ্র গত ১১ এপ্রিল মৎস্য চাষ, বিক্রি এবং বাজারজাত করণের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

 

      উল্লেখ করা যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে মৎস্য চাষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খাদ্যের যোগান বৃদ্ধি করা, কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা, পুষ্টিকর খাদ্যের গুণগত মান উন্নত করা, রাজস্বআয় বৃদ্ধি করা অর্থাৎ মৎস্য চাষের বহুমুখী সুফল রয়েছে। রাজ্যে যে সমস্ত মাছ চাষ হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, বাগদা চিংড়ি, গলদা চিংড়ি, ভেটকি, পাবদা ইত্যাদি।

 

      লকডাউনের থেকে ছাড় পাওয়ার পর রাজ্যের প্রায় সব জেলায় মৎস্য দপ্তর দৈনন্দিন কাজ শুরু করে দিয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ ব্লকের কেউতানে রয়েছে জেলার একমাত্র মৎস্য চাষ কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে উৎপাদিত ডিম পোনার গুণগত মান খুব ভালো জাতের হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও প্রচুর। শুধুমাত্র জেলার মধ্যে নয় পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও মাছ চাষিরা ডিম পোনা কিনে নিয়ে যান। এমনকি নেপালেও এই ডিম পোনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ওই হ্যাচারিজের আধিকারিকরা জানিয়েছেন লকডাউন থেকে রেয়াৎ পাওয়ার পর ডিম পোনা বিক্রি করে তাদের ঘরে টাকা পয়সাও আসতে শুরু করেছে। মজার বিষয় হল এই ডিম পোনা ওজনে বিক্রি হয়না, বিক্রি হয় বাটি মেপে। মাছের প্রকৃতির উপর নিরভর করে ১০০ সি সির এক বাটি পোনার দাম পড়ে ৭১০ টাকা থেকে ৮১০ টাকা। বাটিতে এক লাখের মত পোনা থাকে। এপ্রিল মাসে ডিম পোনা বিক্রি করে এখন পর্যন্ত হ্যাচারিটি ৯o হাজার টাকার মত আয় করেছে। ডিম পোনা থেকে চারা পোনা হয়ে আমাদের টেবিলে আর কিছু দিনের মধ্যেই চলে আসবে বড় মাছ। পশ্চিমবঙ্গ সুসংহত অঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মৎস্য বিভাগের জুনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার জানিয়েছেন তাদের মূল লক্ষ্য হল লকডাউনের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তার কিছুটা অন্তত পূরন করা।

 

      হুগলী জেলাতেও হ্যাচারি গুলিতে উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে। ৯ টি হ্যাচারির মধ্যে ৬টি তে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে বাকি গুলিতেও কয়েকদিনের মধ্যে শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে মাছ চাষের সাথে যুক্ত সমবায় গুলি। যদিও অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য সখের মাছ উৎপাদন করলে লাভ বেশি হয় কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্প চাষের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন উৎপাদকরা। সমবায় গুলির একাধিক কর্মচারী জানিয়েছেন এই সঙ্কটকালে সরকারের তরফ থেকে প্রযুক্তিগত সাহাজ্য মেলায় তাদের অনেক উপকার হচ্ছে। তাদের আশা লকডাউনের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে সেটার কিছুটা হলেও তারা সামলে নিতে পারবে।

 

      মৎস্যজীবীরা মাছ ধরে কেউ সরাসরি বাজারে বিক্রি করছেন আবার কেউ ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এই সাংঘাতিক পরিস্থিতেও মানবিকতার চরম নিদর্শন রাখছেন এই সমস্ত মৎস্যজীবীরা। পুকুরের মাছ নিয়ে বিনামূল্যে পৌঁছে দিয়ে আসছেন সেই সমস্ত মানুষ গুলোর পাতে যাদের কাছে দুবেলার অন্ন সংস্থান করা এক বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

      রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও মৎস্য চাষ শুরুর খবর পাওয়া গেছে।

 

 

 

CG/SDG


(রিলিজ আইডি: 1620867) ভিজিটরের কাউন্টার : 115
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English