স্বাস্থ্যওপরিবারকল্যাণমন্ত্রক

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি : প্রস্তুতি ও গৃহীত পদক্ষেপ

Posted On: 12 MAR 2020 8:07PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১২ মার্চ, ২০২০

 

 

নোভেল করোনা ভাইরাসজনিত অসুখ (কোভিড-১৯) এখন বিশ্বব্যাপী মহামারির রূপ ধারণ করেছে। বিশ্বের ১১৪টি দেশে ১ লক্ষ ১৮ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) গতকালই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে মহামারি আখ্যা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও দপ্তরগুলির পাশাপাশি, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতির উপর নিরন্তর নজর রাখছেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ৩০শে জানুয়ারি কোভিড-১৯ সংক্রমণকে জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আপৎকালীন পরিস্থিতি ঘোষণা করার আগেই ভারত গত ৮ই জানুয়ারি এই সংক্রমণ রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। রাজ্যগুলিকে গত ১৭ই জানুয়ারি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যাবতীয় সমস্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেদিন থেকেই দেশের প্রবেশ কেন্দ্রগুলিতে নজরদারিও শুরু হয়।

কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলায় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির পাশাপাশি একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত ১৭ই জানুয়ারি থেকে মুম্বাই, দিল্লি ও কলকাতা বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ গত ২১শে জানুয়ারি থেকে চেন্নাই, কোচিন, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ বিমানবন্দরেও শুরু হয়েছে। এছাড়াও, ৩০টি বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেশের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর ও ৬৫টি ছোট সমুদ্রবন্দরে আগত জাহাজগুলিতে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ চলছে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয় সহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের উদ্ধারকাজ গত পয়লা জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার ৯০০ জন ভারতীয় নাগরিক সহ অন্যান্য দেশের ৪৮ জন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এছাড়াও, ইতালি থেকে গতকাল যে ৮৩ জনকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তাঁদের মানেসর শিবিরে রাখা হয়েছে। যে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

দেশে কোভিড-১৯জনিত পরিস্থিতির ওপর নিরন্তর নজর রাখা এবং প্রতিকারমূলক প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, মন্ত্রীদের নিয়ে একটি উচ্চস্তরীয় গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই গোষ্ঠীর ৬টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রমপরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে গতকাল মন্ত্রীগোষ্ঠীর দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশে নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে একাধিক আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ক্যাবিনেট সচিবের নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের নিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশগুলির ওপর ভিত্তি করে মন্ত্রীগোষ্ঠী গত সন্ধ্যায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলি হ’ল :

·        কূটনৈতিক, সরকারি, রাষ্ট্রসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংগঠন, এমপ্লয়মেন্ট ও প্রোজেক্ট ভিসা বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত ভিসা আগামী ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ১৩ই মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে।

·        ওসিআই কার্ডধারীদের ভিসা ছাড়া সফরের সুবিধা আগামী ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১৩ই মার্চ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। অত্যন্ত জরুরি কারণে ভারত সফরের প্রয়োজন রয়েছে, এমন সমস্ত বিদেশি নাগরিকরা নিজের দেশের নিকটবর্তী ভারতীয় মিশনে যোগাযোগ করতে পারেন।

·        ওসিআই কার্ডধারী, যাঁরা ইতিমধ্যেই ভারতে রয়েছেন, তাঁরা যতদিন চাইবেন, এদেশে থাকতে পারবেন।  

·        ভারতীয় নাগরিক সহ দেশে আগত সমস্ত সফরকারী, যাঁরা ১৫ই ফেব্রুয়ারির পর চীন, ইতালি, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানী সফর করেছেন এবং ভারতে আসছেন, তাঁদের এদেশে প্রবেশের দিন থেকে ন্যূনতম ১৪ দিন সম্পূর্ণ পৃথকভাবে রাখা হবে। মন্ত্রীগোষ্ঠীর এই সিদ্ধান্ত ১৩ই মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে।

·        ভারতীয় নাগরিক সহ ভারতে আগত সফরকারীকে প্রয়োজন ব্যতীত সফর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদের আরও জানানো হচ্ছে, ভারতে আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সকলকে ন্যূনতম ১৪ দিন সম্পূর্ণ পৃথক রাখা হবে।

·        ভারতীয় নাগরিকদের অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিদেশ থেকে দেশে ফিরলে এদের সকলকে ন্যূনতম ১৪ দিন সম্পূর্ণ পৃথকভাবে রাখা হবে।

·        স্থল সীমান্ত দিয়ে আন্তর্জাতিক যানবাহনের চলাচল নির্দিষ্ট কিছু চেকপোস্টে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সেই সঙ্গে, চেক পোস্টগুলিতে যথোপযুক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। এই মর্মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পৃথকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

·        ইতালিতে পঠন-পাঠনরত ছাত্রছাত্রী ও যোগাযোগ রয়েছে এমন ক্ষেত্রে সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা তথা নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এদের মধ্যে যাঁদের নমুনায় করোনা ভাইরাসের প্রমাণ মিলবে না, তাঁদের ভারতে আসার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে, ভারতে এসে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ন্যূনতম ১৪ দিন সম্পূর্ণ পৃথক রাখা হবে।

·        ভারতে আগত সমস্ত ব্যক্তিকে প্রবেশ-স্থলে স্বাস্থ্য আধিকারিক বা অভিবাসন আধিকারিকের কাছে স্বঘোষিত ফর্ম পূরণ করে জমা করতে হবে। এমনকি, ঐ প্রবেশ-স্থলগুলিতে যে স্বাস্থ্য চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে, সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে।

 

 

এখনও পর্যন্ত দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ৭৩টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কেরলে যে ৩ জনের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল, তাঁরা সকলেই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন।

 

 

CG/BD/SB



(Release ID: 1606183) Visitor Counter : 191


Read this release in: English