মন্ত্রিসভারঅর্থনৈতিকবিষয়সংক্রান্তকমিটি

জাতীয় কারিগরি বস্ত্র মিশন চালু করার প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ের অনুমোদন

Posted On: 26 FEB 2020 6:15PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লী, ২৬  ফেব্রুয়ারি, ২০২০

 

 

          প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে ১ হাজার ৪৮০কোটি টাকা খরচে জাতীয় কারিগরি বস্ত্র মিশন চালু করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই মিশন চালুর উদ্দেশ্য হল, কারিগরি বস্ত্র ক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্বের অগ্রণী দেশে পরিণত করা। উল্লেখ করা যেতে পারে জাতীয় কারিগরি বস্ত্র মিশন ২০২০-২১ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত চার বছর ধরে রূপায়ণ করা হবে।

    কারিগরি বস্ত্র ক্ষেত্র সামগ্রিক বস্ত্র ক্ষেত্রের এমন একটি আধুনিক ও উন্নত রূপ যার ব্যবহার কৃষি ক্ষেত্র, সড়ক, রেল লাইন, খেলাধুলায় ব্যবহৃত পোশাক ও স্বাস্হ্য ক্ষেত্র সহ বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, অগ্নি-নির্বাপনের উপযোগী জ্যাকেট, উচ্চ পার্বত্য এলাকায় জওয়ানদের বস্ত্রে, একমকি মহাকাশ ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।

    এই মিশনের চারটি ক্ষেত্র রয়েছে। এগুলি হল,

গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নয়ন- এই খাতে ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে। উদ্দেশ্য হল, কার্বন ফাইবার, অ্যারামিড ফাইবার, নাইলন ফাইবারের মতো বিভিন্ন ধরণের আসাধারণ প্রযুক্তিগত পণ্যের ক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণা পরিচালনা। জিও টেক্সটাইল, অ্যাগ্রো টেক্সটাইল, মেডিক্যাল টেক্সটাইল, মোবাইল টেক্সটাইল এবং স্পোর্টস টেক্সটাইলের মতো ক্ষেত্রে প্রয়োগভিত্তিক গবেষণা তথা পরিবেশ বান্ধব কারিগরি বস্ত্র প্রযুক্তির বিকাশ।

 

প্রসার ও বিপণন- ভারতীয় কারিগরি বস্ত্র ক্ষেত্রে বাজারের পরিমাণ আনুমানিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্ব কারিগরি বস্ত্র বাজারের পরিমাণ ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রায় ৬ শতাংশ। ভারতে কারিগরি বস্ত্রের বাজার অংশীদারিত্ব ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে থাকে। উন্নত দেশগুলিতে এ ধরণের বস্ত্রের বাজার অংশীদারিত্ব ৩০ থেকে ৭০ শাতাংশ। এই মিশনে দেশীয় বাজারে অংশিদারিত্বের পরিমাণ বার্ষিক ১৫-২০ শতাংশ হারে বাড়িয়ে ২০২৪ সাল নাগাদ ৪০-৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের পাশাপাশি একাধিক বাজারের উপযোগি ব্যবস্হা গ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারিগরি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা পূরণ করার প্রস্তাব রয়েছে।

 

রপ্তানীর প্রসার ঘটানো-

জাতীয় কারিগরি বস্ত্র মিশনের আওতায় বর্তমানে বার্ষিক কারিগরি বস্ত্রের রপ্তানীর পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০২১-২২ সাল নাগাদ ২০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ বার্ষিক রপ্তনির পরিমাণ ১০ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে। কারিগরি বস্ত্রের রপ্তনী বাড়াতে উপযুক্ত সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য একটি রপ্তানী প্রসার পর্ষদ গঠন করা হবে।

 

শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন

প্রযুক্তিগত দিক থেকে চ্যালেঞ্জপূর্ণ এবং দ্রুত বিকাশশীল কারিগরি বস্ত্র ক্ষেত্রের চাহিদা মেটাতে দেশে উপযুক্ত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত সংখ্যায় মানব সম্পদ যথেষ্ট নয়। তাই এই মিশনে উচ্চ ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি শিক্ষা স্তরে প্রযুক্তিগত শিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও মিশনের আওতায় পর্যাপ্ত সংখ্যায় উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন মানব সম্পদ গড়ে তুলতে দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে আধুনিক কারিগরি বস্ত্র উৎপাদন ক্ষেত্রগুলিতে দক্ষ মানব সম্পদের চাহিদা মোটানো যায়।

    মিশনের আওতায় স্নাতক স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শিক্ষার পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্ভাবনমূলক মানসিকতার প্রসারে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও, উদ্ভাবন ও ইনক্যুবেশন সেন্টার গড়ে তোলার পাশাপাশি স্টার্ট-আপ ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। গবেষণালব্ধ জ্ঞান সরকারের অধীনে থাকবে, যাতে প্রয়োজন ভিত্তিতে লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগানো যায় এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

    এই মিশনে বিশেষ করে অ্যাগ্রো টেক্সটাইল, জিও টেস্কটাইল এবং মেডিক্যাল টেস্কটাইল ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব কারিগরি বস্ত্র উৎপাদনের জন্য গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বস্ত্র মন্ত্রকে কারিগরি বস্ত্র উৎপাদন সংক্রান্ত একজন বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে একটি মিশন ডাইরেক্টোরেট চালু করা হবে। তবে, এই ডাইরেক্টোরেটে কোনো স্হায়ী নিয়োগ বা স্হায়ী ভবন থাকবেনা। চার বছর পর জাতীয় কারিগরি বস্ত্র মিশন সমাপ্ত হবে

 

 

CG/CB/NS



(Release ID: 1604453) Visitor Counter : 208


Read this release in: English