রেলমন্ত্রক

কলকাতা মেট্রোর ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের প্রথম পর্যায়ের সূচনা করলেন রেলমন্ত্রী

Posted On: 15 FEB 2020 2:06PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

 

 

রেলমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল আজ কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে কলকাতা মেট্রোর ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরে মেট্রো পরিষেবার যাত্রা সূচনা করেন। এই উপলক্ষে তিনি একাধিক রেল প্রকল্পও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। অনুষ্ঠানে শ্রী গোয়েল বলেন, হাওড়া ময়দান পর্যন্ত সমগ্র ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরের কাজ ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস নাগদ শেষ হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শহরবাসীরা পরিবহণ মাধ্যম হিসাবে মেট্রো পরিষেবাকে প্রাধান্য দেবেন। বর্তমানে কলকাতার মেট্রো পরিষেবা উত্তর-দক্ষিণ করিডরে চালু রয়েছে। এই পরিষেবা নোয়াপাড়া থেকে কবি সুভাষ স্টেশন অবধি পাওয়া যায়। ২৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পরিষেবার সূচনা হয় ৩৬ বছর আগে ১৯৮৪ সালে।

শ্রী গোয়েল হাওড়া ও মালদা ডিভিশনের কাটোয়া-আজিমগঞ্জ এবং মণিগ্রাম-নলহাটি শাখা বৈদ্যুতিকীকরণের পর তা জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। ১৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শাখায় বৈদ্যুতিকীকরণের কাজে প্রায় ২১৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই শাখায় বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় ট্রেন পরিষেবা আরও সুগম হবে। একইভাবে, জ্বালানি হিসাবে ডিজেলের ব্যবহার কমবে। পূর্ব রেলের ৮৩ শতাংশ রুটেই বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়ে শ্রী গোয়েল আশা প্রকাশ করেন, বাকি অংশে বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ ২০২১ সাল নাগাদ শেষ হবে।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী পরিকল্পনাগুলির কথা বিবেচনায় রেখে এবং ভারতীয় রেল ব্যবস্থাকে পরিবেশ-বান্ধব পরিবহণ মাধ্যম হিসাবে গড়ে তুলতে পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে শ্রী গোয়েল হাওড়া স্টেশনের ছাদে গড়ে ওঠা ৩ মেগাওয়াট সৌরশক্তি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইউনিট জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। এই ইউনিট থেকে আগামী ২৫ বছর ইউনিট প্রতি ৩ টাকা ৬২ পয়সা দরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এমনকি, এই ইউনিট থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের ফলে আগামী ২৫ বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

 

 

এছাড়াও, শ্রী গোয়েল হাওড়া, মালদা, শিয়ালদহ ডিভিশনে ৪১.১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডবল বা তৃতীয় লাইন জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। এই কাজে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা। মন্ত্রী অনুষ্ঠান-স্থল থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে ১৩০৬৪ নম্বর বালুরঘাট-হাওড়া এক্সপ্রেসের যাত্রা সূচনা করেন। বর্তমানে এই ট্রেনটির পরিষেবা দ্বিসাপ্তাহিক থেকে বাড়িয়ে সপ্তাহে পাঁচ দিন করা হয়েছে। পরিষেবা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কলকাতার সঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মানুষের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৬.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়ে হাওড়ার সঙ্গে পূর্বপাড়ে সল্টলেকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে। প্রকল্পটি রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড। সুদীর্ঘ এই ১৬.৫ কিলোমিটার রেল পরিষেবার ১০.৮ কিলোমিটার অংশ ভূ-গর্ভস্থ এবং অবশিষ্ট ৫.৭৫ কিলোমিটার অংশ ভূ-পৃষ্ঠে। এটি ভারতের প্রথম মেট্রো পরিষেবা, যেখানে হুগলি নদীর নীচ দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। আজ এই করিডরের ৫.৩ কিলোমিটার অংশে ট্রেন পরিষেবার সূচনা হ’ল। সংক্ষিপ্ত এই যাত্রাপথে ৬টি স্টেশন রয়েছে। সমগ্র প্রকল্প রূপায়ণে খরচ ধরা ৮ হাজার ৫৭৪ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দের পরিমাণ ২ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা।

 

 

SSS/BD/SB



(Release ID: 1603295) Visitor Counter : 70


Read this release in: English