স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
অমিত শাহ নতুন দিল্লিতে মাদক পাচার রোধ সংক্রান্ত বিমসটেকের দু’দিনের সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন
প্রকাশিত:
13 FEB 2020 9:50PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ নতুন দিল্লিতে মাদক চোরাচালান রোধ সংক্রান্ত বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকনমিক কো-অপারেশন (বিমস্টেক)-এর দু’দিনের সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের আয়োজন করার জন্য নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-কে অভিনন্দন জানান তিনি। স্বাগত জানান বাংলাদেশ, ভুটান, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডের মতো বিভিন্ন সদস্য দেন এবং রাজ্য সরকারগুলির প্রতিনিধিদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এদিন এনসিবি-র একটি ম্যানুয়ালও প্রকাশ করেন।
শ্রী শাহ তাঁর ভাষণে বলেন, অবৈধ মাদকের ব্যবসা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা যাতে প্রতিটি দেশই আক্রান্ত, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর সন্নিহিত দেশগুলি। সেজন্য সব দেশকে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে তথ্য ও নীতি আদানপ্রদানের মাধ্যমে এই সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক মাদক সমস্যার নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবনার কথা তুলে ধরেন। স্মরণ করিয়ে দেন ২০১৮-র কাঠমান্ডু বিমস্টেক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী চলতি সম্মেলনের ঘোষণা করে সদস্য দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে শ্রী শাহ বলেন, বিশ্বে এমন কোন দেশ নেই যারা সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং অবৈধ মাদক চোরাচালানের সমস্যার পীড়িত নয়। তিনি বিশ্বাস ও আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সম্মেলন নতুন রাস্তা খুলে দেবে এবং এই অঞ্চলে মাদক চোরাচালান রোধে নতুন সমাধানের সন্ধান দেবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর মাদকমুক্ত ভারতের স্বপ্ন রূপায়ণ করতে ভারত সরকার একটি রণকৌশল তৈরি করেছে যাতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা যায় এবং একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজানো যায় এই মাদক চোরাচালান বন্ধ করার উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, ভারত কখনই তার দেশের মাটিতে এই ধরনের ব্যবসা করতে দেবে না।
ভারত সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রী শাহ বলেন, ভারত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরও জানান, বঙ্গোপসাগর সন্নিহিত দেশগুলি ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ এবং ‘পূর্বে কাজ করো’ নীতির কেন্দ্রবিন্দু এবং এই বৃহত্তম দেশ হিসেবে ভারত মাদক চোরাচালান এবং সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে দায়িত্ব এড়াতে পারে না।
মাদক চোরাচালানের গুরুত্বের বিষয়ে শ্রী শাহ রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশ্ব মাদক প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন এবং বলেন, ১৫-৬৪ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যার ৫ শতাংশের বেশি মাদকাসক্ত। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত ১০ বছরে মাদকাসক্তির হার ৩০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি মাদকাসক্তিকে মানবতার পক্ষে এক অভিশাপ বলে উল্লেখ করে জানান, এটি শুধুমাত্র ঐ নির্দিষ্ট মাদকাসক্তকেই মেরে ফেলে না, তাঁর পরিবার তথা সমাজকেও ধ্বংস করে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ বাড়তে থাকে। শ্রী শাহ বলেন, প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের মাদক কেনাবেচা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এই সমস্যার মোকাবিলায় সব দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বাতাবরণ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন কারণ, এই আন্তর্জাতিক সমস্যা কোন একটি দেশের পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিমস্টেক অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি বিশেষ করে, বেআইনি মাদকে ব্যবসা, আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে ভুক্তভোগী। সেজন্য, এই মঞ্চ থেকে সমন্বিত রণকৌশল তৈরি করতে হবে যাতে এই সমস্যাকে নির্মূল করা যায়। শ্রী শাহ বলেন, ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সফলভাবে ২০১৯-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ মেট্রিক টন বেআইনি হেরোইন বাজেয়াপ্ত করেছে। ২০১৮-য় এই পরিমাণ ছিল ১.২ মেট্রিক টন। তিনি এও বলেন যে মণিপুর ও মিজোরামের মায়ানমার সীমান্ত এবং অন্য উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিতে সব সময়ই মাদক চোরাচালানের আশঙ্কা থেকেই যায়। এটি প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।
মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে ভারত সরকার কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানাতে গিয়ে শ্রী শাহ বলেন, নজরদারি বাড়াতে একটি যৌথ সমন্বয়কারী কমিটি গড়া হয়েছে। মন্ত্রক একটি ই-পোর্টালের সূচনা করেছে যেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করতে পারে এনফোর্সমেন্ট সংস্থাগুলি। গত পাঁচ বছরে প্রায় ২ লক্ষ নারকোটিক্স মামলা ভারতে রুজু হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে ২ লক্ষ ৩১ হাজার চোরাচালানকারী যার মধ্যে ১,৫০০-রও বেশি বিদেশি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, এনসিবি-র আধিকারিকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়া হবে ভোপালে। এই আন্তর্জাতিক সমস্যার মোকাবিলায় ভারত এ পর্যন্ত ২৬টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, ১৫টি সমঝোতাপত্র এবং দুটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অন্যান্য দেশের সঙ্গে।
ভাষণ শেষে শ্রী শাহ বিমস্টেকের সদস্য দেশগুলিকে একযোগে সমন্বয় রেখে অবৈধ মাদক চোরাচালান সমস্যা এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার ডাক দেন। এর জন্য এমন পরিকাঠামো গড়তে বলেন যাতে তথ্য আদানপ্রদান করা যায়, ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় এবং সমন্বয় রেখে দ্রুত দোষীদের শাস্তি দেওয়া যায়। তিনি এও বলেন, বিজ্ঞান গবেষকদের ওষুধ প্রস্তুত ক্ষেত্রকে মাদক-রহিত কৌশল তৈরি করার জন্য উপযুক্ত নিয়ে ভাবতে হবে এবং তার জন্য গবেষণা ক্ষেত্রে আরও লগ্নি করা প্রয়োজন।
SSS/AP/DM
(রিলিজ আইডি: 1603153)
ভিজিটরের কাউন্টার : 205