প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিচর্যা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
प्रविष्टि तिथि:
27 SEP 2019 4:05PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
নমস্কার!
মাননীয় সভাপতি,
জনকল্যাণের মধ্য দিয়েই বিশ্ব কল্যাণের সূচনা হয়। সেদিক থেকে স্বাস্থ্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাভাবিকভাবেই ভারতেও স্বাস্থ্যগত দিকটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।
আমরা গুরুত্বপূর্ণ চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কাজ করে চলেছি। প্রথম বিষয়টি হল প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য। আমরা যোগচর্চা, আয়ুর্বেদ ও দৈহিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা ১ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি রোগীকল্যাণ কেন্দ্র গড়ে তুলছি।
আমাদের এই উদ্যোগগুলি মধুমেহ, উচ্চ রক্তচাপ ও হতাশার মতো একাধিক জীবনশৈলীজনিত রোগের নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে।
ই-সিগারেটের প্রতি ক্রমবর্ধমান আসক্তি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ই-সিগারেট সেবনের জটিল বিপদ থেকে নবীন প্রজন্মকে বাঁচাতে ভারত ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
আমাদের পরিচ্ছন্ন ভারত অভিযান লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।
আমরা টিকাকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। নতুন নতুন টিকার প্রয়োগ বাড়ানো হচ্ছে, দূর ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতেও টিকাকরণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল সুলভে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। আমরা বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য বিমা কর্মসূচি আয়ুষ্মান ভারত রূপায়ণ করছি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ কোটি দরিদ্র মানুষকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কেবল গত বছরই ৪৫ লক্ষ মানুষ এই কর্মসূচির সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
আমরা ৫ হাজারেরও বেশি বিশেষ ওষুধের দোকান খুলেছি। এই দোকানগুলি থেকে সুলভ মূল্যে ৮০০-রও বেশি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে।
হৃদরোগের উপশমে প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জামের (হার্ট স্টেন্ট) দাম ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এমনকি, হাঁটু প্রতিস্থাপনের খরচও ৫০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
কিডনির সমস্যায় ভুক্তভোগী লক্ষ লক্ষ মানুষ ভারতে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল চিকিৎসা-শিক্ষা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে চাহিদা ও যোগানে সামঞ্জস্য বজায় রাখা। এই লক্ষ্যে আমরা একাধিক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছি। চিকিৎসা পরিকাঠামো ক্ষেত্রের সংস্কারে আমরা লক্ষ্যণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
চতুর্থ বিষয়টি হল মিশন মোড ভিত্তিতে কার্যসম্পাদন। যদি মা ও শিশু সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয় তাহলে এক স্বাস্থ্যকর সমাজ গঠনের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই লক্ষ্যে আমরা জাতীয় পুষ্টি অভিযান রূপায়ণ করছি।
সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে ভারতে আমরা মিশন মোড ভিত্তিতে ২০২৫-এর মধ্যে যক্ষ্মা রোগ চিরতরে দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। আমার বিশ্বাস আমরা এই লক্ষ্য পূরণে সমর্থ হব। বিশ্ব থেকে যক্ষ্মা দূরীকরণের লক্ষ্য স্থির হয়েছে ২০৩০। আমরা পাঁচ বছর আগেই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এগোচ্ছি।
বায়ুদূষণ থেকে যে সমস্ত অসুখ-বিসুখ ছড়ায় তা প্রতিরোধেও আমরা অভিযান গ্রহণ করেছি। এমনকি, পশু দেহ থেকে মানব দেহে সঞ্চারিত রোগগুলির প্রতিকারেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
ভদ্রমহোদয়গণ,
অসুখ-বিসুখ প্রতিকারের মধ্যেই স্বাস্থ্যের বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়। সুস্বাস্থ্য এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেখানে প্রত্যেক মানুষের অধিকার রয়েছে। প্রত্যেক মানুষের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের দায়িত্ব রয়েছে।
ভারতের প্রয়াসগুলি কেবল ভারতীয় ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নেই। আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে টেলি-মেডিসিন ব্যবস্থার মাধ্যমে সুলভে স্বাস্থ্য পরিচর্যা পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করেছি এবং ভারতের এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।
আমাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা উন্নয়নশীল সমস্ত দেশ গ্রহণ করতে পারে।
ভদ্রমহোদয়গণ,
আমি, আমার ভাষণ এই শব্দবন্ধগুলি দিয়ে শেষ করতে চাই। ‘সর্বে ভবন্তু সুখীনঃ, সর্বে সন্তু নিরাময়ঃ’ – এর অর্থ হল সকলের আনন্দ কামনা করি এবং সকলের রোগমুক্ত জীবন কামনা করি।
অসংখ্য ধন্যবাদ !
CG/BD/DM
(रिलीज़ आईडी: 1586432)
आगंतुक पटल : 163
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें:
English