প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে মুম্বাইয়ে বহুবিধ উন্নয়ন উদ্যোগের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রকাশিত:
12 SEP 2019 9:29PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
মুম্বাইবাসীদের নমস্কার।
গণপতি বাপ্পা মোরেয়া।
গণপতি বাপ্পা মোরেয়া।
এখানে আসার আগে আমার পারলে’তে লোকমান্য সেবাসঙ্ঘে গণপতি বাপ্পার দর্শনলাভের সৌভাগ্য হয়েছে। এ বছর লোকমান্য সেবাসঙ্ঘের গণেশ উৎসবের শতাব্দীবর্ষ। লোকমান্য তিলক সমাজকে শক্তিশালী করার জন্য যে ঐতিহ্যের বিস্তার ঘটিয়েছিলেন, আজ তার প্রতিধ্বনি দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে শোনা যায়।
আমাদের নতুন রাজ্যপাল শ্রী কোশিয়ারীও এখানে এসেছেন। অনেকেই হয়তো জানেন যে, তিনি উত্তরাখন্ডের যশস্বী মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। আর তারচেয়েও বড় কথা, যা উল্লেখ করতে আজ আমার গর্ব হয় যে, আমি যখন ভারতীয় জনতা পার্টির সংগঠনের কাজ করতাম, যখন উত্তরাখন্ডের দায়িত্বে ছিলাম, তখন তাঁর পরামর্শ মেনে কাজ করতাম।
বন্ধুগণ, মুম্বাই এবং মহারাষ্ট্রের জনগণের সরল জীবনযাপন ও ভালোবাসা আমাকে সর্বদাই অবিভূত করে দেয়। নির্বাচনী প্রচারের সময় মহারাষ্ট্রের অনেক শহরে ঘুরেছি, আপনাদের সঙ্গে কথা বলেছি। মুম্বাইয়ে রাতে যে সভাটি হয়েছিল, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা হয়েছে। এই ভালোবাসা ও আশীর্বাদের জন্য আমি আপনাদের কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ।
রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলার মাঝে আজও আপনারা এত বিপুল সংখ্যায় এখানে এসেছেন, এই সভার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছেন, এটি আপনাদের মনোভাবের পরিচয় আর আপনাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্খার সংকেতও বটে।
বন্ধুগণ, আমি যখন রাশিয়ায় ছিলাম, তখনও মুম্বাই সম্পর্কে খবর পাচ্ছিলাম। গতকাল সকালেই সেখান থেকে ফিরে আমি বেঙ্গালুরু গিয়েছিলাম। সেখানে সারারাত ইসরো’র বৈজ্ঞানিক বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়েছি। তাঁরা যে সাহস ও দৃঢ়সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেখে আমি অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হয়েছি। কোনও লক্ষ্যসাধনের জন্য কিভাবে দিনরাত এক করে তাঁরা কাজ করেন, প্রতিকূল ও কঠিন পরিস্থিতিতেও সমস্যার মোকাবিলা করেন আর তন্ময়তার সঙ্গে কিভাবে নিজেদের লক্ষ্যসাধনের পথে এগিয়ে যাওয়া যায়, তা আমরা ইসরো’র বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিবিদদের কাছে শিখতে পারবো।
ভাই ও বোনেরা, আমাদের শাস্ত্রগুলি একপ্রকার জ্ঞানের ভাণ্ডার। ভর্তৃহরি বলেছিলেন –
প্রারভ্যতে ন খলু বিঘ্নভইয়েন নীচৈঃ,
প্রারভ্য বিঘ্নবিহিতা বিরমন্তি মধ্যাঃ।
বৈঘ্নৈঃ পুনঃ পুনরপি প্রতিহন্যমানাঃ,
প্রারভ্য চ উত্তমজনাঃ ন পরিত্যজন্তি।।
অর্থাৎ, যে কোনও লক্ষ্যপ্রাপ্তির জন্য তিন ধরনের প্রচেষ্টাকারী থাকেন। এদের মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যক্তিরা বিপত্তির ভয়ে কোনও কাজ শুরুই করতে পারেন না; মধ্যস্তরের ব্যক্তিরা কেউ কেউ কাজ শুরু করে দেন, কিন্তু প্রথম বিপত্তির মুখোমুখি হতেই থেমে যান, আবার কেউ কেউ পালিয়ে যান। কিন্তু উচ্চস্তরের প্রচেষ্টাকারীরা লাগাতার বিপত্তি সত্ত্বেও, বড় বড় সমস্যা থাকা সত্ত্বেও নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যান এবং লক্ষ্যপ্রাপ্তির পরই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
বন্ধুগণ, ইসরো’র বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিবিদরা, এই তৃতীয় প্রবৃত্তির মানুষ। যতক্ষণ লক্ষ্যে না পৌঁছতে পারেন, তাঁরা থামেন না, ক্লান্ত হন না, শান্তিতে দু’দন্ড বসেন না। আজ আমরা ‘মিশন চন্দ্রযান’ – এর ক্ষেত্রে যেন বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছি, তা দেখে ইসরো’র বৈজ্ঞানিকরা দমে যাবেন না, তাঁরা যতক্ষণ লক্ষ্যসাধন না করতে পারেন, ততক্ষণ নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। চাঁদের মাটিতে ভারতের পা রাখার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবেই।
বন্ধুগণ, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, চন্দ্রযানকে বহন করে নিয়ে গেছে যে অরবিটার সেটি কিন্তু সুষ্ঠুভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে চাঁদকে ক্রমাগত প্রদক্ষিণ করে নিজের কাজ করে যাচ্ছে। এটি একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। আমি মুম্বাইবাসীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনার কথা অনেক শুনেছি, দেখেছি, অনুভব করেছি। আজ ইসরো’র কর্মীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনাকে দেখে ও অনুভব করে আপনাদেরকে তাঁদের কথা বলার ইচ্ছে হ’ল।
ভাই ও বোনেরা, নিজেদের সংকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা, গণেশ উৎসবের উদ্দীপনা এবং এই আবহে আজ মহারাষ্ট্রে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন হচ্ছে।
মুম্বাই থেকে আমি ঔরঙ্গাবাদ যাব। সেখানেও অনেকগুলি প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। আমি বিশেষ করে মুম্বাই এবং শহরতলি এলাকায় বসবাসকারীদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আজ এখানে ২০ হাজার কোটি টাকারও অধিক অর্থ বিনিয়োগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ শুরু হ’ল। নতুন মেট্রো লাইন, মেট্রো ভবন, মেট্রো স্টেশনে নানা পরিষেবার বিস্তার, বান্দ্রা-কুর্লা কমপ্লেক্সকে ইস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত করার প্রকল্প; এই সবকটি প্রকল্পই মুম্বাইয়ের পরিকাঠামোকে নতুন মাত্রা দেবে, পাশাপাশি, এখানকার মানুষের জীবনযাপনের মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
বান্দ্রা – কুর্লাকে এক্সপ্রেস হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত করা প্রকল্পটি তো বিভিন্ন পেশার লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বস্তির কারণ হবে। বিকেসি নানা বাণিজ্যিক তৎপরতার বড় কেন্দ্র। এখন সেখানে যাতায়াত আরও সহজ হবে, সময়ের সাশ্রয় হবে। এখন তো ‘কয়েক মিনিটে মুম্বাই’! এই সমস্ত প্রকল্পের জন্য আপনাদের সবাইকে, সমস্ত মুম্বাইবাসীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
বন্ধুগণ, মুম্বাই হ’ল সেই মহানগরী, যার গতি দেশকেও গতিবান করে। এখানকার পরিশ্রমী মানুষ, এখানকার বিভিন্ন পেশার মানুষ, মা, বোন, যুবক-যুবতীরা এই শহরকে ভালোবাসেন। গর্ব করে বলেন, ‘মী মুম্বাইকর’! বিগত পাঁচ বছরে ‘আমচী মুম্বাই’ বা আমাদের মুম্বাইয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আমরা ঐকান্তিকভাবে কাজ করেছি। এখানকার ফড়নবিশ সরকারও মুম্বাই তথা মহারাষ্ট্রের উন্নয়নকল্পে একেকটি প্রকল্পের জন্য কতটা পরিশ্রম করেছেন, তা আমি খুব ভালোভাবেই জানি। এই সকল প্রচেষ্টার মিলিত ফলস্বরূপ আজ মুম্বাইয়ের জীবনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। আর আমি এর মধ্যে সবচাইতে ইতিবাচক বলে মনে করি, বর্তমানের পাশাপাশি, ভবিষ্যতের প্রয়োজন, আগামী দশকগুলির প্রয়োজনের কথা হিসাব করে এখন থেকেই কাজ করা হচ্ছে।
ভাই ও বোনেরা, আজ যখন দেশ ৫ লক্ষ কোটি ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে, তখন আমাদের শহরগুলিকেও একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। যাতায়াত ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উৎপাদনশীলতা, সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন কিংবা নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সমস্ত ধরনের উন্নত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এই ভাবনা নিয়েই আমাদের সরকার আগামী পাঁচ বছরে আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণে ১০০ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করবে। এর দ্বারা মুম্বাই সহ মহারাষ্ট্রের সমস্ত শহর লাভবান হবে।
বন্ধুগণ, সারা দেশের সমস্ত শহরে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে, পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা একটি সংহত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চলেছি। সড়কপথ, রেলপথ, মেট্রোরেলের মতো প্রতিটি যোগাযোগ মাধ্যমকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। আজ এখানে মুম্বাই মেট্রো পলিটন এলাকায় উন্নততর গণ-যানবাহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি ‘ভিশন ডক্যুমেন্ট’ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আসা-যাওয়ার ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যম, যেমন – মুম্বাই লোকাল, বাস পরিচালন ব্যবস্থা কিংবা মেট্রো রয়েছে। কিভাবে এগুলির সঠিক ব্যবহার হবে, তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, এতে মুম্বাই মেট্রোর মাস্টার প্ল্যান রচিত হয়েছে।
ভাই ও বোনেরা, বিগত পাঁচ বছর ধরে আমি মুম্বাই মেট্রো সম্প্রসারণের সঙ্গে নিরন্তর যুক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছি। প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগে এখানে মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ করা হয়েছে। এখন মুম্বাইয়ে মাত্র ১১ কিলোমিটার মেট্রো নেটওয়ার্ক রয়েছে। কিন্তু ২০২০, ২০২৩, ২০২৪ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৩২৫ কিলোমিটারেরও অধিক হয়ে যাবে। আজ মুম্বাইয়ে যত মানুষ রোজ লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করেন, তখন সমপরিমাণ মানুষ মেট্রোতেও যাতায়াত করতে পারবেন। লোকাল ট্রেনকে আধুনিক করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে মেট্রোর সম্প্রসারণের এই মিলিত উদ্যোগ মুম্বাইয়ের বর্তমান প্রয়োজনগুলি পুরো করার পাশাপাশি আগামী বছরগুলির জন্যও প্রস্তুত করবে।
বন্ধুগণ, আমরা শুধুই মেট্রো লাইনই পাতছি না, এই লাইনে যে মেট্রো ছুটবে, তার কোচগুলিও ভারতেই নির্মিত হবে। কিছুক্ষণ আগেই আমি এই নির্মীয়মান কোচ দেখে এসেছি। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র মাধ্যমে নির্মীয়মান এই আধুনিক মেট্রো কোচগুলি মুম্বাই মেট্রোকে সুরক্ষিত ও সুবিধাজনক করে তোলার পাশাপাশি, যাত্রীদের অনেক বেশি সাশ্রয়ও হবে।
ভাই ও বোনেরা, পরিকাঠামোর সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক গভীর, ‘ইজ অফ লিভিং’ এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে ততটাই প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ মানে ততটাই কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ গড়ে তোলা। আমি যদি শুধু মুম্বাইয়ে শুরু হওয়া মেট্রোরেলের কাজের কথা বলি, এখানে ১০ হাজার ইঞ্জিনিয়ার এবং চল্লিশ হাজার দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
ভাই ও বোনেরা, গ্রামে গ্রামে – শহরে শহরে যে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে, তা স্থানীয় স্তরে যেভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসার সুযোগ গড়ে তোলে, তা নিয়ে মানুষ তেমন কোনও আলোচনা করেন না। সম্ভবত, এর একটি কারণ হ’ল – আজ যে গতি এবং মাত্রায় কাজ হচ্ছে, তা আগে কখনই হয়নি। সেজন্য এ বিষয়ে মানুষের তেমনভাবে না ভাবাটাই অত্যন্ত স্বাভাবিক। এখন যখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, এই বিষয় নিয়ে আলোচনাও শুরু হবে। ভাবুন, আগে কি কেউ ভাবতে পারতেন, বছরের পর বছর থেমে থাকা নবী-মুম্বাই বিমানবন্দরের কাজ, মুম্বাই ট্রান্স হার্বার লিঙ্কের কাজ, মুম্বাই – আমেদাবাদ বুলেট ট্রেনের কাজ এত ব্যাপক রূপে শুরু হবে? এত দ্রুৎগতিতে এগিয়ে যাবে? এই সমস্ত প্রকল্প মুম্বাই এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জনগণকে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ করে দিয়েছে।
ভাই ও বোনেরা, আমি যখন গতি ও মাত্রার কথা বলি, তখন আমার কাছে এত উদাহরণ থাকে যে, গুণতে গুণতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। আজ এখানে যে মেট্রোর বড় প্রকল্প চালু হ’ল আমি আপনাদের সামনে এর উদাহরণ তুলে ধরতে চাই।
বন্ধুগণ, আমাদের দেশে ৩০ – ৩৫ বছর আগে প্রথম মেট্রো চালু হয়েছে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত সামান্য কয়েকটি শহরেই মেট্রো চালু হতে পেরেছে। আজ দেশের ২৭টি শহরে মেট্রো হয় চালু হয়েছে কিংবা অদূর ভবিষ্যতেই চালু হতে চলেছে। আজ সারা দেশে ৬৭৫ কিলোমিটার লাইন অপারেশনাল রয়েছে। এর মধ্যে ৪০০ কিলোমিটারে মেট্রো পরিশেবা বিগত পাঁচ বছরে চালু হয়েছে। ভাবুন! অর্ধেকেরও বেশি মেট্রো লাইন বিগত পাঁচ বছরে যুক্ত হয়েছে। আর এখন সারা দেশে আরও ৮৫০ কিলোমিটারেরও বেশি মেট্রো লাইনের কাজ চলছে।
ভাই ও বোনেরা, বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার নতুন মেট্রো লাইনের প্রস্তাব মঞ্জুর করা হয়েছে। এই সময়কালের মধ্যে মুম্বাই, পুণে ও নাগপুরে মেট্রোর কাজ শুরু করার উদ্যোগের জন্য আমি ফড়নবিশজীর প্রশংসা করবো। তাঁরই অনুপ্রেরণায় এই প্রকল্পগুলির কাজ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
ভাই ও বোনেরা, দেশকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। আজ দেশে একটি সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। টুকরো – টুকরো করে নয়, ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ – এর দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। ‘এক দেশ, এক পাওয়ারগ্রিড’ থেকে শুরু করে ‘এক দেশ, এক মোবিলিটি কার্ড’, ‘এক দেশ, এক কর ব্যবস্থা’, ‘এক দেশ, এক অপ্টিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক’ পর্যন্ত আমাদের সরকার আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ করেছে।
ভাই ও বোনেরা, আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, আমাদের সন্তানরা যাতে সেসব সমস্যার সম্মুখীন না হয় – তা দেখা আমাদের কর্তব্য। আমরা যেন উত্তরাধিকার সূত্রে তাদেরকে সমস্যার পাহাড় দিয়ে না যাই। প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হলে দেশের উন্নতি হয়। আমাদের বর্তমানে অতীতের স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি, ভবিষ্যতের প্রস্তুতির জন্য উৎসর্গীকৃত হতে হবে। দেশ যদি আজ থেকেই ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেয়, তবেই আপনাদের সন্তানরা সুখী জীবনযাপন করতে পারবে।
আপনাদের আশীর্বাদে নতুন সরকার গঠনের পর আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা ভারতবাসীর ভবিষ্যতে শক্তিশালী করবে, নিরাপদ করবে।
বন্ধুগণ, দেশের জনগণ সংখ্যাধিক্যের ভোটে আমাদের যেভাবে পুনর্নিবাচিত করেছে, তাঁদের ইচ্ছাশক্তিকে সম্মান জানিয়ে সঠিক লক্ষ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সরকারের ১০০ দিনে এমন সব কাজ হয়েছে, যা অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক। জনজীবন মিশনের সূত্রপাত থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেক কৃষককে কিষাণ সম্মান নিধির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত, আমাদের মুসলিম বোন ও মেয়েদের তিন তালাকের সঙ্কট থেকে মুক্তি দেওয়ার আইন পাশ, শিশু সুরক্ষা আইন, এমন প্রত্যেক ক্ষেত্রে অনেক দ্রুত কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলি আর এই কাজগুলির মাঝে আপনাদের উন্নত পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি, আমি আরেকটি সঙ্কল্প গ্রহণ করেছি। এই সংকল্প হ’ল – অধিকাংশ মানুষকে তাঁদের নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা। এক ভারতীয় – এক সংকল্প। লোকমান্য তিলকজী বলেছিলেন, ‘স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার’। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে, আমাদের জন্য নতুন মন্ত্র হ’ল ‘সুরাজ্য আমাদের দেশবাসীর কর্তব্য’। এক ভারতীয় – এক সংকল্পের পাশাপাশি, আমি আপনাদের অনুরোধ করবো – আপানারা অবশ্যই সংকল্পবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন, আর যে সংকল্প নেবেন, দেশহিতের কথা মাথায় রেখে নেবেন, আর সেই সংকল্প বাস্তবায়নের আগে কখনও সেই বিষয় থেকে পিছু হটবেন না। আপনারা মুম্বাইয়ের কল্যাণে, মহারাষ্ট্রের কল্যাণে যে সংকল্প নিতে চান, সেটাই নিতে পারেন।
এমনই আরেকটি পরামর্শ আমি আপনাদের এখনই দিতে পারি। আপনারা কি তা মানবেন? আওয়াজে তেমন জোর নেই। মানবেন! ঠিক মানবেন? পালন করবেন? একা পালন করলে চলবে না, মিলিতভাবে পালন করবেন?
বন্ধুগণ, গণপতি বাপ্পার বিসর্জনের সময় অনেক প্লাস্টিক এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ আমাদের সমুদ্রে চলে যায়। এবার আমাদের চেষ্টা করতে হবে, যাতে জল দূষণ বৃদ্ধি পায় – এমন কোনও কিছু জলে ফেলবো না। শুধু তাই নয়, বিসর্জনের পর আমরা মিলিতভাবে নিজেদের মতো করে সমুদ্রতট থেকে শুরু করে নদীতীর এবং সমস্ত জলের স্রোতকে প্লাস্টিকমুক্ত করার কাছে ঝাঁপিয়ে পড়বো। আপনারা কি এটা করবেন? পেছনে যাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁদের আওয়াজ শুনতে পারছি না, করবেন? ঠিক করবেন? আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আপনাদের এই উৎসাহ গোটা দেশকে প্লাস্টিক মুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে।
আরেকবার আপনাদের সবাইকে সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা। উৎসবের সময় যাবতীয় ব্যস্ততার মাঝে আপনারা এখানে এসেছেন, সেজন্য আমি হৃদয় থেকে আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাই।
জয় মুম্বাই, জয় মহারাষ্ট্র।
ভারতমাতার জয়।
ভারতমাতার জয়।
ভারতমাতার জয়।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
CG/SB/SB
(রিলিজ আইডি: 1584932)
ভিজিটরের কাউন্টার : 146