প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ছত্তিশগড়ের বস্তারের করণপুরে কোবরা অপারেশনস বেসে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করেছেন

প্রকাশিত: 08 NOV 2026 4:04PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ছত্তিশগড়ের বস্তারের করণপুরে অবস্থিত কোবরা অপারেশনস বেস পরিদর্শন করেন। বস্তার ও অবুঝমাঢ়ে মাওবাদী-বিরোধী অভিযানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং অভিযানের সূচনাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত এই ঘাঁটিতে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করেন। সারা দেশ ও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যখন তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে আলোর এই পবিত্র উৎসব পালন করছেন, তখন জওয়ানদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্গিল, হিমালয়ের লেপচা, উপকূলীয় স্যার ক্রিক এবং সমুদ্রের বুকে আইএনএস বিক্রান্তে বীর সৈনিকদের সঙ্গে কাটানো তাঁর দীপাবলি উদযাপনের স্মৃতিচারণ করেন। শ্রী মোদী বলেন, “সীমান্তে কিংবা দেশের ভেতরে - যারা দেশ রক্ষা করছেন, মা ভারতীর সেই বীর সন্তানরা—আপনারা সবাই আমার আপনজন, আপনারা সবাই আমার পরিবারেরই অংশ।”

 

প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের দীপাবলিকে অত্যন্ত বিশেষ বলে অভিহিত করেন। কারণ, মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে চলা লড়াইয়ে ভারত জয়ী হয়েছে, প্রতিটি জেলাকে মাওবাদী-মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং কোটি কোটি নাগরিককে ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্তি দেওয়া গেছে - এই সাফল্যের পর এটিই প্রথম দীপাবলি। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই অসাধারণ মাইলফলকটি উদযাপন করতে এবং ১৪০ কোটি নাগরিকের কৃতজ্ঞতা পৌঁছে দিতেই আজ তিনি বস্তারে এসেছেন। তিনি বলেন, “আজ আমি আপনাদের ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং সেবার মানসিকতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি।”

 

প্রাচীন সংস্কৃত প্রবচন ‘অভ্যন্তরং ভয়ং রক্ষ্যম্, অসারং বাহ্যতো ভয়ম্’-এর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বোঝান যে, যে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী, বাইরের শত্রুরা তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না; বরং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বল হলেই তারা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তিনি দেশের ভেতরে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকাকে সীমান্তের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার সমতুল্য বলে অভিহিত করেন। তিনি সিআরপিএফ, কোবরা, বিএসএফ, আইটিবিপি, এসএসবি, আইআরবি, রাজ্য পুলিশ বাহিনী, বস্তার ফাইটার্স কমান্ডো এবং নারী যোদ্ধাদের অসীম আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি, যারা দেশের সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন, সেই সব সৈনিকদেরও তিনি দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান। শ্রী মোদী বলেন, “আপনারা যে সেবা দিয়েছেন, তার জন্য এই দেশ আপনাদের কাছে ঋণী এবং কোটি কোটি দেশবাসী আপনাদের নিয়ে গর্বিত।” প্রধানমন্ত্রী সেই ভয়াবহ সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যখন বিহার, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিশগড়সহ প্রায় ২০টি রাজ্যের ২৩০টিরও বেশি জেলায় বামপন্থী চরমপন্থা জেঁকে বসেছিল। সেই সময়ে সেখানে ভয়ের কারণে সন্ধ্যার পর কারফিউ জারি থাকত, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হতো এবং প্রতি বছর প্রায় ২,০০০টি হামলার ঘটনা ঘটত। কেবল ছত্তিশগড়েই ১,০০০-এর বেশি নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন, অসংখ্য জওয়ান আইইডি বিস্ফোরণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়েছিলেন। ২০১০ সালে দান্তেওয়াড়ায় পৃথক হামলায় ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান ও ৪৪ জন নিরপরাধ সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর নিহত নকশালদের সংখ্যার চেয়ে শহিদ নিরাপত্তা কর্মীদের সংখ্যা বেশি ছিল, যা মাওবাদী নেতাদের আরও উৎসাহিত করেছিল।

 

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শত্রুদের প্রতি নিষ্ক্রিয় মনোভাব নিয়ে কোনো জাতিই উন্নতি করতে পারে না; বরং উচ্চ মনোবল নিয়ে কৌশলগতভাবে তাদের দমন করতে হবে। তিনি জানান, ২০১৪ সালের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির কয়েক দশকের পুরনো ধারাটি বদলে গেছে। এর ফলে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে - ৪৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় একজন সিআরপিএফ জওয়ানও প্রাণ হারাননি। শ্রী মোদী বলেন, “এটি দেশের সঠিক নীতি ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির জয়; এটি আপনাদের বীরত্ব, সাহস ও সংযমের জয়।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাফল্যের জন্য সঠিক উদ্দেশ্য এবং সঠিক নীতি - উভয়ই প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল (যার মধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনা হয়নি), যা নকশাল ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অর্থায়নের মূলে আঘাত হেনেছে এবং জাল মুদ্রার চক্রকে ধ্বংস করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “এটি কেবল তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডই ভেঙে দেয়নি, বরং তাদের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছে; যার ফলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়েছে এবং নকশালদের চলাচল ও নতুন সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।”

 

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, তাঁর সরকার নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয়, কোনো পরিবার যেন ধ্বংস না হয় এবং কোনো তরুণ যেন অস্ত্র তুলে না নেয় - এই একমাত্র লক্ষ্য নিয়ে তাঁর সরকার কোনো প্রচার বা আড়ম্বর ছাড়াই নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে মাওবাদী সন্ত্রাসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সংবেদনশীল নিরাপত্তা অভিযানের সঙ্গে জনসেবার মনোভাব যুক্ত হয়ে মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকরা সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় নাগরিকদেরও তিনি তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “সেবার মনোভাব নিয়ে আমরা নকশাল-প্রভাবিত এলাকার মানুষের জীবন বদলে দিয়েছি।”

 

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ‘দেশ প্রথম’ এই ভাবনা নিয়ে কাজ করলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, দেশ উন্নয়নের নতুন শিখরে পৌঁছায় এবং জাতীয় অগ্রগতিতে দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। তিনি জানান, গত ১২ বছরে দেশ দুটি বড় ক্ষেত্রে জয়লাভ করেছে। শ্রী মোদী বলেন, “গত ১২ বছরে দেশ কেবল নকশালবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধেই জয়ী হয়নি, বরং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধেও একটি বড় যুদ্ধে জয়লাভ করেছে।”

 

দীপাবলির ঠিক আগে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বহুল আলোচিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১২ বছরে ৫০ কোটি ভারতীয় চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

 

গত ১২ বছরে ভারতের কল্যাণমূলক পরিকাঠামোকে দীপাবলির ‘রঙ্গোলি’র সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেমন ছোট ছোট আলাদা রেখা মিলে একটি বিশাল ও সুন্দর চিত্র তৈরি করে, তেমনই জনধন ব্যাংকিং, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পাকা বাড়ি, জামানতবিহীন মুদ্রা ঋণ, পথ বিক্রেতাদের জন্য স্বনিধি সহায়তা, আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যসেবা, বিনামূল্যে মাসিক রেশন, শিশু শিক্ষা নীতি, স্বচ্ছ ভারত এবং ‘হর ঘর জল’ - এই সব উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে বিনামূল্যে ওষুধ, শিক্ষা ও খাদ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে। এর ফলে মানুষের মৌলিক দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে এবং যে পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম দারিদ্র্যের জালে আটকা পড়েছিল, তারা এখন একটি শক্তিশালী ভবিষ্যতের উত্তরাধিকারী হতে পারছে। শ্রী মোদী বলেন, “যেসব দরিদ্র পরিবারের সারা জীবন কেবল দুশ্চিন্তাতেই কেটে যেত, তারা এখন সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেয়েছে এবং তাদের মধ্যে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হয়েছে।” দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে এই জয় যে নকশালবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, একসময় নকশালবাদীরা স্কুল, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, পোলিও টিকাদান কর্মসূচি, মোবাইল টাওয়ার ও শিল্পকারখানা বন্ধ করে এবং রেললাইনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ নাগরিককে চরম বঞ্চনার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল। এর বিপরীতে, বামপন্থী চরমপন্থা প্রভাবিত এলাকাগুলোতে বিশেষ উন্নয়ন অভিযানের মাধ্যমে ১৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা, ৯ হাজার ৫০০টিরও বেশি মোবাইল টাওয়ার, প্রায় ১৭৫টি একলব্য বিদ্যালয়, ৫০টি আইটিআই, ৫০টি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র এবং হাজার হাজার ডাকঘর, ব্যাংক শাখা ও এটিএম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, আত্মসমর্পণকারী নকশালদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ‘পিএম জনমন’-এর আওতায় দুর্গম আদিবাসী গ্রামগুলোতে প্রথমবারের মতো জল, বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমরা যখন নকশালবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করি, ঠিক সেই সময়েই নকশাল-প্রভাবিত এলাকাগুলোর উন্নয়নের জন্য বিশেষ কর্মসূচিও গ্রহণ করি।”

 

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ অভিযান দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও গতিশীল করেছে। এটি নকশাল হিংস্রতার অবসান ঘটানোর পাশাপাশি ৫০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে। এই অঞ্চলের রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে তিনি বর্তমানে আয়োজিত ‘বস্তার অলিম্পিক’-এর কথা তুলে ধরেন। শ্রী মোদী বলেন, “আজ এই বস্তারেই ‘বস্তার অলিম্পিক’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে; এখানকার শিশুরা এখন বন্দুকের বদলে খেলাধুলায় নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছে।”

 

আজকের এই মাইলফলকগুলোকে যাত্রার সমাপ্তি নয়, বরং নতুন যাত্রার সূচনা হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের এই নতুন অগ্রযাত্রা স্বাধীনতা সংগ্রামী, সীমান্তরক্ষী এবং নকশালবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর শহীদদের বহু শতাব্দীর লালিত স্বপ্ন পূরণ করবে। তিনি সেই সব বীরদের - যারা ‘তেরা গৌরব অমর রহে মা, হম দিন চার রহেঁ না রহেঁ’ (হে মা, তোমার গৌরব অমর থাকুক, আমরা কদিন থাকি বা না থাকি) - এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এখন সময় এসেছে দেশের জন্য বাঁচার এবং দেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার।” কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল, প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণ এবং টিকাকরণের পরিধি সম্প্রসারণের মতো বড় প্রতিশ্রুতি পূরণে দেশের প্রমাণিত সাফল্যের কথা উল্লেখ করে, প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা বাহিনী ও নাগরিকদের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, ভারত একইভাবে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং একটি মাদক-মুক্ত, আত্মনির্ভর ও বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্য অর্জন করবে। তিনি সকলকে এই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “আপনাদের ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রম ‘বিকশিত ভারত’-এর বিশাল সৌধের এক শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠবে।” 

 

 

SC/SB/AS


(রিলিজ আইডি: 2334196) ভিজিটরের কাউন্টার : 8
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Gujarati , Tamil , Malayalam