প্রকাশিত:
05 NOV 2026 5:58PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ৫ নভেম্বর ২০২৬
করদাতাদের পাশাপাশি, কর সংক্রান্ত পেশাদারদের মধ্যে ক্ষুদ্র করদাতাদের বিদেশে থাকা সম্পদ প্রকাশ প্রকল্প, ২০২৬-এর বিধান, যোগ্যতার মাপকাঠি এবং অপ্রকাশিত বিদেশি সম্পদ ও আয় স্বেচ্ছায় প্রকাশের পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে আয়কর দফতর আজ কলকাতায় একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে।
এই কর্মসূচিতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কর পরামর্শদাতা, আইনজীবী এবং করদাতারা অংশ নেন। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক এবং নিয়ম মেনে চলার শর্তাবলী নিয়ে তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিতে একটি মতবিনিময় পর্বেরও আয়োজন করা হয়।
অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কলকাতার আয়কর বিভাগের প্রধান মুখ্য কমিশনার-২ শ্রী অলোক সিং ব্যাখ্যা করে বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য করদাতারা নির্দিষ্ট কিছু অপ্রকাশিত বিদেশি সম্পদ ও বিদেশি আয় স্বেচ্ছায় প্রকাশের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও স্পষ্ট করেন এভাবে, যে, বর্তমানে যাঁরা অনাবাসী, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে তাঁরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। এর মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাঁরা অপ্রকাশিত আয় অর্জন বা বিদেশি সম্পদ অধিগ্রহণের সংশ্লিষ্ট বছরে ভারতের বাসিন্দা ছিলেন।
শ্রী সিং জানান, বিদেশি সম্পদ ও আয় প্রকাশ না করলে জরিমানা-সহ অন্যান্য গুরুতর আইনি পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। ক্ষুদ্র করদাতাদের স্বেচ্ছায় নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করা এবং নির্ধারিত কর বা ফি প্রদানের শর্তে তথ্য প্রকাশের সুযোগ দিতেই এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচারমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ফলে তথ্য প্রকাশের সংখ্যা বাড়ছে বলেও তিনি জানান। করদাতা ও কর সংক্রান্ত পেশাদারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানান শ্রী সিং।
প্রকল্পের প্রধান বিধান
ক্ষুদ্র করদাতাদের বিদেশে থাকা সম্পদ প্রকাশ প্রকল্প, ২০২৬, বলা যায় এককালীন স্বেচ্ছায় তথ্য প্রকাশের সুযোগ। Finance Act, 2026-এর Chapter IV-এর ১৩০ থেকে ১৪৪ নম্বর ধারার অন্তর্গত এই প্রকল্প কার্যকর করা হয়েছে। এবছর ১৬ আগস্ট থেকে এই প্রকল্পটি কার্যকর হয়েছে। এবছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষণাপত্র জমা দেওয়া যাবে। সম্পূর্ণ ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হবে।
এই প্রকল্পে দু’ধরনের তথ্য প্রকাশের সুযোগ রয়েছে:
১. আগে করের আওতায় আনা হয়নি এমন অপ্রকাশিত বিদেশি সম্পদ বা বিদেশি আয়: অপ্রকাশিত বিদেশি সম্পদ ও বিদেশি আয়ের মোট মূল্য ১ কোটি টাকার বেশি হওয়া চলবে না। ঘোষিত সম্পদ বা আয়ের মূল্যের ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এর সঙ্গে প্রদেয় করের সমপরিমাণ অতিরিক্ত অর্থও জমা দিতে হবে।
২. আগে করের আওতায় আনা হয়েছে অথবা অনাবাসী থাকার সময়ে অধিগ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট আয়কর রিটার্নের নির্দিষ্ট তফসিলে প্রকাশ করা হয়নি এমন বিদেশি সম্পদ: এই ধরনের সম্পদের মোট মূল্য ৫ কোটি টাকার বেশি হওয়া চলবে না। এর জন্য এককালীন ১ লক্ষ টাকা ফি দিতে হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় সম্পদের মূল্য নির্ধারণের তারিখ এবছরের ৩১ মার্চ। নির্ধারিত মূল্যায়ন বিধি অনুসারে সম্পদের ন্যায্য বাজারমূল্য নির্ধারণ করতে হবে। যোগ্য ঘোষণাকারীদের মধ্যে ভারতের বাসিন্দাদের পাশাপাশি, নির্দিষ্ট আবাসিক শর্ত পূরণকারী কিছু অনাবাসী এবং ভারতের বাসিন্দা হলেও সাধারণত অনাবাসী হিসেবে বিবেচিত (RNOR) ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
প্রয়োজনীয় সহায়ক নথি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রতিবেদন-সহ বৈদ্যুতিন মাধ্যমে Form 1-এ ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। যাচাইয়ের পর আয়কর কর্তৃপক্ষ Form 2-এ আদেশ জারি করে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ জানাবে। সাধারণত, ওই আদেশ পাওয়ার মাসের শেষ দিন থেকে দু’মাসের মধ্যে অর্থ জমা দিতে হবে। বিলম্ব হলে প্রতি মাস বা মাসের অংশবিশেষের জন্য ১ শতাংশ সরল সুদ-সহ আরও সর্বোচ্চ দু’মাস সময় দেওয়া হবে। অর্থ জমার বিষয়টি বৈদ্যুতিন মাধ্যমে Form 3-এ জানাতে হবে। এরপর কর্তৃপক্ষ Form 4-এ নিশ্চিতকরণপত্র জারি করবে।
বৈধ ঘোষণাপত্র জমা দেওয়া এবং নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পর, প্রকল্পের শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে, ঘোষিত আয় বা সম্পদের ক্ষেত্রে Black Money Act (কালো টাকা), 2015-এর আওতায় অতিরিক্ত কর বা জরিমানা এবং ফৌজদারি মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে। তবে, Prevention of Money-laundering Act, 2002-এর অন্তর্গত অপরাধলব্ধ অর্থ থেকে উদ্ভূত সম্পদ বা আয় এই প্রকল্পের আওতায় পড়বে না। একইভাবে, Black Money Act, 2015-এর অধীনে যেসব ক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলিও এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত নয়।
করদাতা ও কর সংক্রান্ত পেশাদারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতে নিয়ম মেনে চলার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।


****
SSS/S Saha/Kol/05.11.2026