ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

নতুন প্রজন্মের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সদ্ব্যবহার করে রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত ত্রিপুরা: আউটরিচ কর্মসূচিতে বললেন শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 04 NOV 2026 4:49PM by PIB Agartala

আগরতলা: ৪ নভেম্বর, ২০২৬: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যে রাজ্য-স্তরের আউটরিচ প্রোগ্রাম আজ আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে অনুষ্ঠিত হয়। ভারত সরকারের বাণিজ্য বিভাগ, কলকাতাস্হিত আঞ্চলিক ডিজিএফটি অফিসের উদ্যোগে ও ত্রিপুরা সরকারের শিল্প বাণিজ্য দপ্তরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় 'মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি'র সদ্ব্যবহার' শীর্ষক রাজ্যস্তরের সচেতনতা ও প্রচার কর্মসূচী। এর লক্ষ্য হলো ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির নেটওয়ার্কের অধীনে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের সুযোগ উন্মোচন করে ও স্থানীয় ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি উদ্যোগগুলির (এম.এস.এম.ই) রপ্তানি প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের ক্ষমতায়ন করা। 

এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারত সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রী সি. ভনলালরামসাঙ্গা।তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সদ্ব্যবহার করে রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত ত্রিপুরা। আন্তর্জাতিক সীমান্তের সাথে কৌশলগত নৈকট্য এবং একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা (এম.এস.এম.ই) ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ত্রিপুরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রপ্তানিমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি শীর্ষস্থানীয় রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ভারত সরকারের নতুন প্রজন্মের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোর সুবিধা সর্বোচ্চ পরিমাণে অর্জনের জন্য ত্রিপুরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তিনি আরো বলেন, ভারতের আধুনিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধাগুলোকে তৃণমূল স্তরের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই রাজ্যে রাজ্যে এ ধরনের আউটরিচ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হচ্ছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে মেঘালয়ের পর ত্রিপুরায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হলো। 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সীমান্তবর্তী ত্রিপুরার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে স্থানীয় পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যটির একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদক, কারিগর এবং কৃষকরা তাদের পণ্যের আরও বেশি মূল্য পেতে পারেন। ত্রিপুরায় প্রায় ৩.৭ লক্ষ এম.এস.এম.ই'র একটি শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। রাজ্যের প্রায় ৪৩ লক্ষ জনসংখ্যার বিপরীতে এই উচ্চ উদ্যোক্তা ঘনত্ব উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। তাছাড়া, বিগত অর্থবছরে ত্রিপুরা প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে একটি শক্তিশালী বৈদেশিক বাণিজ্যের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করবে।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য শিল্প মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রী ভনলালরামসাঙ্গা আরো বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের 'ব্যবসা করার সুবিধা' (ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস) কাঠামোর আওতায় বাণিজ্যিক নিয়মকানুনগুলোকে সহজ করার মাধ্যমে সরকার একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে চলেছে। বাণিজ্য প্রক্রিয়াগুলোর ব্যাপক ডিজিটাইজেশন এবং বিশেষ রপ্তানি প্রচার মিশন চালুর উদ্দেশ্য হলো এম.এস.এম.ই এবং স্থানীয় কৃষকদের আরও শক্তিশালী করা।

তিনি বলেন এ ধরনের আউটরিচ কর্মসূচির মূল ভিত্তি হলো জেলাভিত্তিক পণ্যগুলোর ব্যাপক ম্যাপিং। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি জেলার উচ্চ-কার্যক্ষমতা সম্পন্ন রপ্তানি যোগ্য সামগ্রীগুলিকে চিহ্নিত করা এবং এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে রপ্তানির উদ্যোগকে উৎসাহিত এবং আরো উন্মুক্ত করা। 

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপুরার রপ্তানি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, রাজ্যের মানুষের আয় বৃদ্ধি করা এবং বিশ্বমানের গ্রাহকদের কাছে উন্নত মানের পণ্য পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমেই ত্রিপুরার বাণিজ্যিক যাত্রায় একটি নতুন ও সমৃদ্ধ অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

ত্রিপুরা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব শ্রী কিরণ গিত্তে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সদ্ব্যবহারের ত্রিপুরায় এম.এস.এম.ই'কে পরিকাঠামোগত সহায়তা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপগুলির রূপরেখা তুলে ধরেন। এই কর্মসূচিতে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের দ্বারা কারিগরি অধিবেশনেরও আয়োজন করা হয়।

*****

PS/PKS/KMD


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2332568) ভিজিটরদের কাউন্টার : 8
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English