প্রকাশিত:
03 NOV 2026 2:57PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ৩ নভেম্বর ২০২৬
কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীনস্থ জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানীরা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার- আইইউসিএন-এর রেড লিস্ট অফ ইকো সিস্টেমসের অধীনে পরিচালিত প্রথম বিশ্বব্যাপী প্রবাল প্রাচীর বাস্তুতন্ত্র মূল্যায়ণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন যৌথভাবে প্রস্তুত করেছেন।
আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক গুরুতর চিত্র সামনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে সমুদ্রের উষ্ণায়ন এবং সামুদ্রিক তাপ বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী প্রবাল প্রাচীর ইউনিটগুলির ৯৬ শতাংশই (মোট প্রাচীর এলাকার ৯৯.৮ শতাংশ) বিলুপ্তির সম্মুখীন হতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মূল্যায়ণে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং চাগোস দ্বীপপুঞ্জ জুড়ে প্রায় ৮,২৮২.৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ১৩টি প্রবাল প্রাচীর বাস্তু অঞ্চল রয়েছে। এটি বিশ্বের মোট প্রবাল প্রাচীরের প্রায় ৪ শতাংশ।
গত ৫০ বছরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাল প্রাচীরগুলির মধ্যে ৭টি ঝুঁকিপূর্ণ, ৪টি বিপন্ন এবং ২টি অতি বিপন্ন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এবার এই ১৩টি বাস্তু অঞ্চলকেই অতি বিপন্ন শ্রেণীতে রাখা হয়েছে।
|
ভারতীয় বাস্তু অঞ্চল
|
ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে পাওয়া ঝুঁকি
|
সার্বিক সম্ভাব্য ঝুঁকি
|
|
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
|
ঝুঁকিপূর্ণ
|
অতি বিপন্ন
|
|
লাক্ষাদ্বীপ
|
ঝুঁকিপূর্ণ
|
অতি বিপন্ন
|
|
ভারতের দক্ষিণ উপকূল (মান্নার উপসাগর ও পক প্রণালী)
|
বিপন্ন
|
অতি বিপন্ন
|
|
ভারতের পশ্চিম উপকূল (কচ্ছ উপসাগর)
|
ঝুঁকিপূর্ণ
|
অতি বিপন্ন
|
জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার গবেষক ডঃ সি রঘুনাথন, ডঃ তমাল মণ্ডল, ডঃ জে এস যোগেশ কুমার এবং ডঃ চন্দ্রন রেথিনারাজ দশকের পর দশক ধরে জীব বৈচিত্র্য সংক্রান্ত গবেষণা, তৃণমূল স্তরের সমীক্ষা, প্রবাল প্রাচীরের মানচিত্র তৈরি, প্রবালের শ্রেণীবিন্যাস এবং সামুদ্রিক প্রজাতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
মূল্যায়ণে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলির বিশ্লেষণেও ভারতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলজুড়ে তালিকাভুক্ত মোট ৩৫০টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ১৬২টি কেন্দ্র (৪৬.৩%) ভারতীয় বাস্তু অঞ্চলগুলি থেকে এসেছে।
এই মূল্যায়ণে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ এবং জলবায়ুজনিত কারণে প্রবাল বিবর্ণতাকে প্রবাল প্রাচীরের অস্তিত্বের ক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া উপকূলের উন্নয়ন, ড্রেজিং, পলি পড়া, স্থলভাগের দূষণ, সামুদ্রিক আবর্জনা, অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং গুরুত্বপূর্ণ শিকারী ও তৃণভোজী মাছের প্রজাতির বিলুপ্তি - প্রবালের অস্তিত্বের পক্ষে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জলের গুণগত মান উন্নয়ন, উপকূল অঞ্চলের বিভাজন, প্রবাল প্রাচীর পুনরুদ্ধার এক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে প্রবাল প্রাচীরের টিকে থাকা নির্ভর করছে গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের ওপর।
MH/SD/NS