প্রকাশিত:
03 NOV 2026 3:08PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত, কলকাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর ৪০.৫২৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করেছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়কালে পণ্য পরিবহনের এই পরিমাণ ছিল ৩৮.৫৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অর্থাৎ সামগ্রিক বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৫.১০ শতাংশে।
কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরের চেয়ারম্যান শ্রী রথেন্দ্র রমণ জানিয়েছেন যে, বন্দরের উভয় ডক সিস্টেমেরই এই বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স ২৯.৭৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করেছে, আগের বছরে এর পরিমাণ ছিল ২৮.৫৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অর্থাৎ এবছরের বৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় ৫.২৮ শতাংশ। অন্যদিকে, কলকাতা ডক সিস্টেম ১০.৭৭৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করেছে। আগের বছরে যার পরিমাণ ছিল ১০.৩০৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অর্থাৎ এবছরের বৃদ্ধির হার ৪.৫৮ শতাংশ।
কন্টেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রেও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বন্দরটি ৫,৮৭,৩৯৯ টিইইউ কন্টেইনার পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ৫,৪৩,৯৮২ টিইইউ-এর তুলনায় ৭.৯৮ শতাংশ বেশি।
এর মধ্যে কলকাতা ডক সিস্টেম বা কেডিএস ৪,৫৪,৩১০ টিইইউ কন্টেইনার পরিবহন করেছে অর্থাৎ বৃদ্ধির হার ৭.৫১%। অন্যদিকে, হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স ১,৩৩,০৮৯ টিইইউ কন্টেইনার পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি ৯.৬৪ শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের অক্টোবরে কেডিএস কন্টেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে ১৫.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধির চমকপ্রদ সাফল্য গড়েছে। এই সময়ে তারা ৬৪,২২৪ টিইইউ কন্টেইনার পরিচালনা করেছে, যা ২০২৫ সালের অক্টোবরে ছিল ৫৫,৪৪৯ টিইইউ।
বন্দরের চেয়ারম্যান শ্রী রমণ জানান, ডকে জাহাজ পরিচালনার জন্য বেসরকারি বার্থ অপারেটর এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ—উভয় তরফই অতিরিক্ত ক্রেনকে যুক্ত করেছে। এছাড়া, ডায়মন্ড হারবারে কন্টেইনার ওঠানামার জন্য ভাসমান ক্রেন ব্যবহারের ফলে আরও বেশি পণ্য আনা সম্ভব হয়েছে। আগে জাহাজের যেখানে অনেকটা অব্যবহৃত থাকত এখন তার পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে।
এই প্রথম হলদিয়া বন্দরে কুইক লাইম বা পোড়াচুন পরিবহন হয়েছে।
১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দিব্বা থেকে এমভি এশিয়ান অনার জাহাজে ৮,১৩৩ টন কুইক লাইম ও হাইড্রেটেড লাইম বস্তাবন্দি হয়ে বন্দরে পৌঁছায়।
ইস্পাত শিল্পের জন্য কুইক লাইম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইস্পাত পরিষ্কার করতে, ভেজাল বা অপদ্রব্য দূর করতে এবং স্ল্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই নতুন পণ্যটি বন্দর কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি শিল্পপণ্য আকৃষ্ট করতে এবং পূর্ব ভারতের শিল্পকারখানাগুলোকে সহায়তা করতে সাহায্য করবে।
শ্রী রমণ আরও জানান, বন্দরের উন্নতমানের কাজকর্ম, উন্নত পরিকাঠামো এবং গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদান এই সাফল্য এনে দিয়েছে। আগামী বছরগুলিতে আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
MKH/AB /SG