প্রকাশিত:
02 NOV 2026 4:40PM by PIB Kolkata
২ নভেম্বর ২০২৬
পৃথিবীর অভ্যন্তরে সঞ্চিত বিপুল তাপ পরিচ্ছন্ন শক্তির এক শক্তিশালী উৎস, যা ভূ-তাপীয় শক্তি নামে পরিচিত। ভারতের সমৃদ্ধ ভূ-তাপীয় সম্পদের প্রেক্ষিতে, এই শক্তি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের এক অত্যন্ত সম্ভাবনাময় উৎস। ভূ-তাপীয় শক্তি সংক্রান্ত জাতীয় নীতি এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত হয়েছে। ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে ভারত যখন এগিয়ে চলেছে, তখন এই নীতি দেশের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে ভূ-তাপীয় শক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। লাদাখে প্রথম দুটি ভূ-তাপীয় কূপ চালু হওয়া এই যাত্রার সূচনা চিহ্নিত করেছে।
ভারতের প্রয়োজনে ভূ-তাপীয় শক্তির ব্যবহার
পৃথিবীর পৃষ্ঠের গভীরে, তার অভ্যন্তরের তীব্র তাপ থেকে উৎপন্ন হয় এক নিরবচ্ছিন্ন, স্বল্প-কার্বন শক্তির উৎস—ভূ-তাপীয় শক্তি। উপযুক্ত ভূতাত্ত্বিক ও টেকটোনিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অঞ্চলে এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় অথবা সরাসরি ব্যবহার করা যায়। সৌর ও বায়ুশক্তির বিপরীতে, ভূ-তাপীয় শক্তি এমন এক পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস, যা দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যায়। এই সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়ে, সরকার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভূ-তাপীয় শক্তি সংক্রান্ত জাতীয় নীতি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এই নীতিতে ভারতের ভূ-তাপীয় সম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিটি বাস্তবায়নের জন্য nodal ministry হিসেবে কাজ করছে নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক (MNRE)।
এই নীতিগত কাঠামোর ভিত্তিতে, এবছর জুলাই মাসে ভারত এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করে। ONGC Energy Centre লাদাখের পুগা উপত্যকায় দেশের প্রথম দুটি ভূ-তাপীয় কূপ চালু করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত পুগা উপত্যকা ভারতের অন্যতম সম্ভাবনাময় ভূ-তাপীয় অঞ্চল। উষ্ণ প্রস্রবণ এবং ভূগর্ভস্থ তাপের ভাণ্ডারের জন্য এই অঞ্চল পরিচিত। ১,০০০ মিটার গভীরতার দুটি কূপ ভূ-তাপীয় জলাধারের মূল্যায়নে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, এগুলি ভারতের প্রথম ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রদর্শনীমূলক ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎ প্রকল্পের পথ প্রশস্ত করছে, যা ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশের প্রবেশকে চিহ্নিত করবে।
ভারত যখন পরিচ্ছন্ন শক্তির রূপান্তরের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন ভূ-তাপীয় শক্তি বা দেশের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মিশ্রণকে বৈচিত্র্যময় করার জন্য এক নির্ভরযোগ্য ও দেশীয় উৎস হিসেবে সম্ভাবনা তৈরি করছে।
ভারত রিনিউয়েবল এনার্জি সামিট অ্যান্ড এক্সপো (Bharat RE) ২০২৬
‘Invest. Innovate. Inspire.’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২ থেকে ৫ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে Bharat Renewable Energy Summit & Expo (Bharat RE) ২০২৬। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ১৩০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণকারী, ৪০-এর বেশি মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দ একত্রিত হচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য—এই নয়টি দেশ ‘কান্ট্রি পার্টনার’ হিসেবে অংশগ্রহণ করছে। ভারতের ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং পরিচ্ছন্ন উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরছে।
সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে সৌর ও বায়ুশক্তি, গ্রীন হাইড্রোজেন, শক্তি সঞ্চয়, গ্রিড সংযুক্তিকরণ, দেশীয় উৎপাদন, ডিজিটালাইজেশন এবং শক্তিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ। পরিচ্ছন্ন শক্তিতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য এই সম্মেলন একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। এতে মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা, CEO-দের গোলটেবিল বৈঠক, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৪০০-রও বেশি প্রদর্শককে নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
এই সম্মেলনের পাশাপাশি, অনুষ্ঠিত হচ্ছে International Solar Alliance-এর নবম সম্মেলন এবং Green Hydrogen-এর চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যা পরিচ্ছন্ন শক্তিক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করছে।
ভূ-তাপীয় শক্তি সম্পর্কে ধারণা
ভূ-তাপীয় শক্তি একটি স্থিতিশীল, স্বল্প-কার্বনযুক্ত এবং আবহাওয়া-নিরপেক্ষ শক্তির উৎস। ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে এর বিপুল, এখনও অব্যবহৃত সম্পদভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভূ-তাপীয় শক্তির উৎপত্তি
পৃথিবীর অভ্যন্তর চারটি প্রধান স্তরে বিভক্ত: সর্ববহির্ভাগে কঠিন ভূত্বক, তার নিচে আধা-কঠিন ম্যান্টল এবং কেন্দ্রে একটি ঘন তরল বহিঃকেন্দ্র ও কঠিন অন্তঃকেন্দ্র। গভীরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপমাত্রা বাড়ে। ম্যান্টল ও কেন্দ্রের সীমানায় ম্যান্টলের তাপমাত্রা প্রায় ৩,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, অন্যদিকে কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো মৌলের তেজস্ক্রিয় ক্ষয় এবং পৃথিবীর সৃষ্টির সময় থেকে অবশিষ্ট তাপ—এই দুই উৎস থেকে অভ্যন্তরীণ তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপপ্রবণ ম্যান্টলে বৃহৎ স্রোতের সৃষ্টি করে। কেন্দ্রের সীমানা থেকে উত্তপ্ত পদার্থ উপরের দিকে উঠে অপেক্ষাকৃত শীতল ম্যান্টল ও ভূত্বকের দিকে অগ্রসর হয়। এই পদার্থে হাইড্রক্সাইডের আকারে আবদ্ধ জলও থাকে।
এই পরিচালন স্রোত ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং পর্বত গঠনের মতো সমস্ত টেকটোনিক ক্রিয়াকলাপের জন্ম দেয়। ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় অঞ্চলে ফল্ট ও ফাটলের মাধ্যমে উত্তপ্ত পদার্থ ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। এর ফলে, ভেদ্য শিলার মধ্যে আবদ্ধ গরম জল ও বাষ্পের জলাধার তৈরি হয়। পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে আহরিত এই তাপশক্তিই ভূ-তাপীয় শক্তি নামে পরিচিত।
ভূ-তাপীয় শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন
ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূপৃষ্ঠের নিচে আবদ্ধ গরম জল ও বাষ্পকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর প্রাকৃতিক তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা হয়। গভীর কূপের মাধ্যমে এই সম্পদকে ভূপৃষ্ঠে আনা হয়। এরপর বাষ্প একটি টারবাইন চালায়, যা একটি জেনারেটরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
এই প্রক্রিয়া প্রচলিত তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুরূপ। তবে, এখানে জ্বালানি পোড়ানোর পরিবর্তে ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক তাপ ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর ব্যবহৃত জলকে ঘনীভূত করে পুনরায় জলাধারে প্রবেশ করানো হয়। এর ফলে সম্পদের পুনঃপূরণে সহায়তা হয় এবং ধারাবাহিকভাবে শক্তি উৎপাদন সম্ভব হয়।
ভূ-তাপীয় শক্তি জেলা-ভিত্তিক তাপ সরবরাহ, কৃষি, জলজ চাষ এবং ভবনের তাপ নিয়ন্ত্রণ ও শীতলীকরণের মতো সরাসরি তাপ-প্রয়োগেও সহায়তা করে। এর ফলে, ভূ-তাপীয় তাপের দক্ষ ব্যবহার সম্ভব হয়।
পৃথিবীর অভ্যন্তর
কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে পৃথিবী চারটি পৃথক স্তরে গঠিত। অন্তঃকেন্দ্র হল, লোহা ও নিকেল দিয়ে তৈরি একটি কঠিন গোলক, যার প্রস্থ প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার। এর চারদিকে রয়েছে গলিত লোহা ও নিকেলের তরল স্তর, অর্থাৎ বহিঃকেন্দ্র, যার পুরুত্ব প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার।
মূলত উত্তপ্ত ও ঘন শিলা দিয়ে গঠিত ম্যান্টল প্রায় ২,৯০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এবং এটি পৃথিবীর বৃহত্তম স্তর। সবশেষে রয়েছে পাতলা, কঠিন বহিরাবরণ—ভূত্বক। সমুদ্রের নিচে এর পুরুত্ব প্রায় ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার এবং মহাদেশের নিচে প্রায় ২৪ থেকে ৫৬ কিলোমিটার।
ভারতের ভূ-তাপীয় সম্পদভাণ্ডার
ভারতের বৈচিত্র্যময় ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ভূ-তাপীয় শক্তির উন্নয়নে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। Geological Survey of India (GSI) ৩৮১টি উষ্ণ প্রস্রবণ চিহ্নিত করেছে এবং দেশজুড়ে ১০টি ভূ-তাপীয় প্রদেশ শনাক্ত করেছে। ভারতের তাত্ত্বিক ভূ-তাপীয় শক্তির সম্ভাবনা প্রায় ১০.৬ গিগাওয়াট। এর মধ্যে ৪২টি স্থানকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরাসরি তাপ ব্যবহারের জন্য সম্ভাবনাময় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
ভারতের ভূ-তাপীয় রিফট অববাহিকাগুলিতে অনুকূল ভূতাত্ত্বিক ও টেকটোনিক বৈশিষ্ট্যের কারণে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, ভূ-তাপীয় সম্পদ যেখানে রয়েছে, সেখানেই উপযুক্ত প্রকল্প গড়ে উঠতে পারে। Enhanced Geothermal Systems (EGS) এবং Advanced Geothermal Systems (AGS)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি অনুসন্ধানের সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে।
পরিত্যক্ত তেল ও গ্যাসের কূপের পুনর্ব্যবহার
পরিত্যক্ত তেল ও গ্যাসের কূপ থেকেও ভূ-তাপীয় শক্তি আহরণ করা সম্ভব। নিষ্ক্রিয় বা অনুৎপাদনশীল কূপগুলিকে প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে ভূ-তাপীয় উদ্যোগের জন্য পুনর্ব্যবহার করা যেতে পারে। এই পদ্ধতি তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের বিদ্যমান খনন-দক্ষতা, কূপ-সংক্রান্ত তথ্য এবং পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করে।
ভারতের ভূ-তাপীয় শক্তির সম্প্রসারণ
ভারত দ্রুতগতিতে সম্পদ মূল্যায়ন থেকে মাঠপর্যায়ের প্রদর্শনী প্রকল্পের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায় নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের ২০২৫ সালের জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে পাঁচটি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে। প্রকল্পগুলির আওতায় রয়েছে সম্পদ মূল্যায়ন, দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং মাঠপর্যায়ে প্রদর্শন।
এই প্রকল্পগুলি বিদ্যুৎ উৎপাদন, তাপ সরবরাহ এবং শীতলীকরণ-সংক্রান্ত প্রয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে সংগৃহীত হচ্ছে।
এ বছর ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলির বর্তমান অবস্থা
*আঙ্কলেশ্বর, গুজরাট*
অনুৎপাদনশীল তেল ও গ্যাসের কূপকে পুনর্বিন্যাস করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য একটি পাইলট প্রকল্প রয়েছে। এখানে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান এবং প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক ও উৎপাদন-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।
*গান্ধীনগর, গুজরাট*
সৌর ও ভূ-তাপীয় শক্তির সমন্বয়ে একটি প্রদর্শনী প্রকল্প রয়েছে। এখানে তিনটি ভূ-তাপীয় কূপ খনন করা হয়েছে, যেগুলি ৭০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ভূ-তাপীয় তরল উৎপন্ন করে। প্রকল্পে ৫০ থেকে ৯০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রদর্শিত হয়েছে।
*তাওয়াং, অরুণাচল প্রদেশ*
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান এবং ভূ-রাসায়নিক বিশ্লেষণের সাহায্যে ঐ অঞ্চলের ভূ-তাপীয় সম্পদ মূল্যায়নের জন্য পাঁচটি ভূ-তাপীয় স্থানে সমীক্ষা চলছে।
*হায়দরাবাদ, তেলেঙ্গানা*
এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য একটি ভূ-তাপীয় শীতলীকরণ ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। এর আওতায় মডেলিং ও কর্মক্ষমতা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
*অগভীর ভূ-তাপীয় শক্তি*
Borehole Heat Exchangers ব্যবহার করে তাপ সরবরাহ ও শীতলীকরণের জন্য অগভীর ভূ-তাপীয় ব্যবস্থার মূল্যায়নে একটি পাইলট সমীক্ষা বিশ্লেষণমূলক মডেল তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ভূ-তাপীয় সম্পদ, উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রাথমিক মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ভারতে ভূ-তাপীয় শক্তির ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করছে। যদিও এখনও বাণিজ্যিক মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়নি, তবু সম্প্রসারিত কূপক্ষেত্র, প্রদর্শনীমূলক কার্যক্রম এবং গবেষণা ও উন্নয়ন উদ্যোগ বৃহত্তর পরিসরে এই শক্তির ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোকে বলিয়ান করছে।
ভারতের ভূ-তাপীয় সম্ভাবনার উন্মোচন: নীতি ও অংশীদারিত্ব
ভূ-তাপীয় শক্তি বিশ্বজুড়ে একটি প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত পুনর্নবীকরণযোগ্য প্রযুক্তি। ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বব্যাপী এর স্থাপিত ক্ষমতা ১৫.৬৭ গিগাওয়াটে পৌঁছেছিল। ইন্দোনেশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, তুরস্ক এবং নিউজিল্যান্ড এই ক্ষেত্রে অগ্রণী। এই পাঁচটি দেশ সম্মিলিতভাবে বিশ্বব্যাপী ভূ-তাপীয় শক্তির প্রায় ৬৭ শতাংশ ক্ষমতার অধিকারী।
ভারত এখন ভূ-তাপীয় শক্তিকে সম্পদ মূল্যায়ন থেকে বাস্তব ক্ষেত্রে ব্যবহারের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। জাতীয় কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এই লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং এই ক্ষেত্রের জ্ঞান বিনিময়কে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ভূ-তাপীয় শক্তি সংক্রান্ত জাতীয় নীতি, ২০২৫
ভূ-তাপীয় শক্তি সংক্রান্ত জাতীয় নীতির লক্ষ্য, ভূ-তাপীয় শক্তিকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এই নীতি ভারতের ভূ-তাপীয় সম্পদের পরিকল্পিত অনুসন্ধান ও ব্যবহারে উৎসাহ দেয়।
নীতিতে গবেষণা, কূপ খনন, জলাধার ব্যবস্থাপনা এবং সরাসরি ব্যবহারের প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাপ সরবরাহ ও শীতলীকরণের জন্য Ground Source Heat Pumps (GSHPs)-এর ব্যবহারেও সহায়তা করা হয়েছে।
একটি সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে। এই নীতি পরিত্যক্ত তেল ও গ্যাসের কূপকে ভূ-তাপীয় ব্যবহারের জন্য পুনর্ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি, একটি জাতীয় ভূ-তাপীয় তথ্যভাণ্ডার, পাইলট প্রকল্প এবং উৎকর্ষ কেন্দ্র (Centres of Excellence) গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহায়তা করে।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন কর্মসূচি (RE-RTD)
MNRE গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের অংশীদারদের মাধ্যমে RE-RTD প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূ-তাপীয় শক্তিসহ পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির জন্য দেশীয় ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি তৈরি করা।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
ভারত একাধিক আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতায় এসে ভূ-তাপীয় শক্তি সংক্রান্ত উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও আইসল্যান্ডের সঙ্গে সহযোগিতার কাঠামোর আওতায় ভূ-তাপীয় শক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে, সৌদি আরবের সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্রে (MoU) ভূ-তাপীয় শক্তিকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার একটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগগুলি ভারতের ভূ-তাপীয় সম্পদকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারণযোগ্য সমাধানে রূপান্তরিত করার জন্য একটি সমন্বিত মঞ্চ তৈরি করছে।
ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা
ভারতের ভূ-তাপীয় শক্তির যাত্রা শক্তি-নিরাপত্তা ও সুস্থায়ী উন্নয়নে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। ভূ-তাপীয় শক্তি সংক্রান্ত জাতীয় নীতি বিজ্ঞপ্তি জারি করা থেকে শুরু করে লাদাখের পুগা উপত্যকায় দেশের প্রথম দুটি ভূ-তাপীয় কূপ চালু করা পর্যন্ত—ভারত পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের দিকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে।
তাত্ত্বিকভাবে দেশে প্রায় ১০,৬০০ মেগাওয়াট ভূ-তাপীয় শক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান পাইলট প্রকল্প এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে তাপ সরবরাহ, ভূ-পর্যটন ও কৃষি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্প্রসারিত করছে।
ফলে, ভূ-তাপীয় শক্তি ভারতের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ভাণ্ডারে একটি মূল্যবান সংযোজন হিসেবে উঠে আসছে। ২০৭০ সালের নেট জিরো লক্ষ্যের দিকে ভারত এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে ভূ-তাপীয় শক্তি দেশের শক্তি বা জ্বালানি রূপান্তর ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য, দেশীয় স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তথ্যবিবরণী:
Ministry of New and Renewable Energy
Administration of Union Territory of Ladakh
Ministry of Information and Broadcasting
Telangana Renewable Energy Development Corporation Ltd
International Renewable Energy Agency
U.S. Department of Energy
U.S. Energy Information Administration
Click to see pdf
*******
SSS/PK...