মানবসম্পদবিকাশমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ত্রিপুরায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে গতি আনতে আইআইটি খড়গপুর ও ত্রিপুরা সরকারের মধ্যে অভিপ্রায়পত্র স্বাক্ষরিত হল

প্রকাশিত: 29 OCT 2026 1:57PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

 

উত্তর-পূর্ব ভারতে উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামো ও পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, আইআইটি খড়গপুর এবং ত্রিপুরা সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তর আজ একটি অভিপ্রায়পত্র (Letter of Intent বা LoI) স্বাক্ষর করেছে। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি সুসংহত কৌশলগত সহযোগিতা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী, ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী শ্রী কিশোর বর্মন, ত্রিপুরা সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সচিব শ্রী বিকাশ সিং এবং ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা অধিকর্তা শ্রী অনিমেষ দেববর্মা। এ ছাড়াও, ত্রিপুরা সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি আইআইটি খড়গপুরের ডিন, অধ্যাপক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই অভিপ্রায়পত্র স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরায় ভবিষ্যৎমুখী, উদ্ভাবননির্ভর এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় সক্ষম উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ যাত্রার সূচনা হল। এই উদ্যোগ উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য একটি মডেল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে।

এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হল, ত্রিপুরাকে শিক্ষাগত উৎকর্ষ, উন্নত গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং শিল্পক্ষেত্রের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষার একটি উদীয়মান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। আইআইটি খড়গপুরের বহুবিষয়ভিত্তিক শিক্ষাগত দক্ষতা, গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে যোগ্যতা এবং উদ্ভাবনী পরিবেশের সঙ্গে ত্রিপুরা সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো ও আঞ্চলিক উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সমন্বয় ঘটিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের জন্য একটি সুস্থায়ী ও সম্প্রসারণযোগ্য মডেল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সহযোগিতার অন্যতম প্রধান অঙ্গ হল ত্রিপুরায় *উন্নত শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র (Centre for Advanced Learning, Research and Innovation বা CALRI)* গড়ে তোলা। আইআইটি খড়গপুরের শিক্ষাগত দিকনির্দেশনা ও কারিগরি পরামর্শদানের সাহায্যে এই কেন্দ্রের উন্নয়ন করা হবে।

একটি বহুবিষয়ভিত্তিক মঞ্চ হিসেবে পরিকল্পিত CALRI-র লক্ষ্য হবে উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর শিক্ষার প্রসার, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবন, ইনকিউবেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের বিকাশে উৎসাহ জোগানো। এই প্রস্তাবিত কেন্দ্র যৌথ গবেষণা, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং উদ্যোগপতি তৈরির ক্ষেত্রেও সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ত্রিপুরার উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকারগুলিকে ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগগুলির ওপর।

প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে আইআইটি খড়গপুর ত্রিপুরা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিকে (TTU) সুসংগঠিত শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শদানের ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে। এর আওতায় থাকবে পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, গবেষণাগার ও উদ্ভাবন পরিকাঠামোর পরিকল্পনা, গুণমান নিশ্চিতকরণ, স্বীকৃতি অর্জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসন ও পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়ন।

এই সহযোগিতার আওতায় ত্রিপুরার সরকারি সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলির সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে। এর জন্য শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, বৃত্তিমূলক শিক্ষা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শংসাপত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং উদ্ভাবক সৃষ্টির বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য হল, স্নাতকদের স্বার্থে কর্মসংস্থানের  সুযোগ বৃদ্ধি, স্বনিযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উচ্চশিক্ষার সঙ্গে উদীয়মান অর্থনৈতিক সম্ভাবনার আরও নিবিড় সংযোগ স্থাপন।

বহুবিষয়ভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর শিক্ষা, অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষণ-পদ্ধতি, ডিজিটাল শিক্ষাসম্পদ এবং শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণের প্রক্রিয়ায় উদীয়মান প্রযুক্তির সংযুক্তির ওপর-ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই কৌশলগত সহযোগিতার আওতায় যৌথ গবেষণামূলক প্রকল্প, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও হস্তান্তর, উদ্ভাবনমূলক চ্যালেঞ্জ, পরামর্শদানের পরিষেবা, স্টার্টআপ ইনকিউবেশন এবং শিল্পক্ষেত্রের অর্থায়নে পরিচালিত উদ্যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।

আইআইটি খড়গপুরের সুপ্রতিষ্ঠিত গবেষণা ও উদ্ভাবনী পরিকাঠামোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প সংস্থা, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (MSME), স্টার্টআপ এবং সরকারি সংস্থাগুলির মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা ও পারস্পরিক সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগে ত্রিপুরার নিজস্ব আঞ্চলিক শক্তি ও সম্ভাবনাকেও কাজে লাগানো হবে। বাঁশ, প্রাকৃতিক রবার, চা, কৃষি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো ক্ষেত্রগুলিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চাহিদার উপযোগী গবেষণা, সুস্থায়ী প্রযুক্তি, উদ্যমের বিকাশ এবং উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী শ্রী কিশোর বর্মন বলেন, “আইআইটি খড়গপুরের সঙ্গে এই কৌশলগত সহযোগিতা ত্রিপুরায় উচ্চশিক্ষার গুণমান, প্রাসঙ্গিকতা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমাদের অগ্রাধিকার হল শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে উন্নততর যোগ্যতায় সমৃদ্ধ করা এবং শিক্ষা যাতে অর্থবহ কর্মসংস্থান, উদ্ভাবক তৈরি করতে পারে এবং একিসঙ্গে  সামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করা। আইআইটি খড়গপুরের শিক্ষাগত নেতৃত্ব, প্রযুক্তিগত পারদর্শিতা এবং গবেষণার পরিকাঠামো এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।”

এই উপলক্ষে আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বলেন, “উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ শুধু জ্ঞান আহরণের সুযোগ সম্প্রসারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মধ্যেও নিহিত, যেটি তরুণ মনকে উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে, বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জের সমাধান খুঁজতে সক্ষম করে তুলবে এবং সমাজের উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখতে সাহায্য করবে। ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে আমাদের এই সহযোগিতা প্রাতিষ্ঠানিক সীমানার বাইরে গিয়ে শিক্ষাগত উৎকর্ষ, অত্যাধুনিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সুফল পৌঁছে দেওয়ার প্রতি আইআইটি খড়গপুরের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।

“প্রস্তাবিত উন্নত শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র, প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শদান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর শিক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত দক্ষতা বিকাশ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা এমন একটি রূপান্তরমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি, যা জ্ঞানকে সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করবে। ত্রিপুরার মানবসম্পদে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং রাজ্যটির নিজস্ব আঞ্চলিক শক্তিও উল্লেখযোগ্য। উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তর অঞ্চলের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে, এমন একটি সুস্থায়ী উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবনের মডেল গড়ে তুলতে আমরা একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি। একই সঙ্গে, এই উদ্যোগ বিকশিত ভারত গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্যে অর্থবহ অবদান রাখবে।”

এই যৌথ পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগে রূপ দিতে দুই প্রতিষ্ঠান মনোনীত নোডাল আধিকারিকদের সহায়তায় একটি *যৌথ পরিচালন সমিতি (Joint Steering Committee)* গঠনের পরিকল্পনা করেছে। এই সমিতি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর অগ্রগতির পর্যালোচনার কাজ সমন্বয় করবে।

এ ছাড়া, প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা, পরিকাঠামোগত অগ্রাধিকার, শিক্ষাক্রম, গবেষণা উদ্যোগ, বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায় এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফল নির্ধারণের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (Detailed Project Report বা DPR) প্রস্তুত করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করা হবে। এর পর অর্থায়নের প্রস্তাব তৈরি, বাস্তবায়নের কাঠামো নির্ধারণ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দক্ষতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শদানের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রযোজ্য নির্দেশিকা ও অনুমোদন সাপেক্ষে, কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও সংস্থাগুলির বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সম্ভাব্য অর্থায়নের সুযোগ খতিয়ে দেখা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রক, উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক (DoNER), উত্তর-পূর্বাঞ্চল পরিষদ, অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ANRF), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর (DST), বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) এবং অন্যান্য উপযুক্ত কর্মসূচি।

এই অংশীদারিত্ব শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে একটি জাতীয় স্তরের শিক্ষাগত ও প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইআইটি খড়গপুরের ক্রমবর্ধমান ভূমিকারই প্রতিফলন।

 

*******

SSS/PK/Kol/29.10.26...


(রিলিজ আইডি: 2330039) ভিজিটরের কাউন্টার : 14
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English