পরিবেশওঅরণ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

আরব সাগরের গভীর জলে নতুন প্রজাতির ইলেকট্রিক রে মাছের সন্ধান পেল জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানীরা

প্রকাশিত: 27 OCT 2026 1:02PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

 

ভারতীয় প্রাণী সর্বেক্ষণ অর্থাৎ জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানীরা উত্তর ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরে, গভীর জলে নতুন প্রজাতির ইলেক্ট্রিক রে মাছের সন্ধান পেয়েছেন। নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম Tetronarce ramanamurthyi sp. nov.

এই আবিষ্কারের ফলে উত্তর ভারত মহাসাগরে প্রথমবারের মতো Tetronarce বর্গের মাছের উপস্থিতি নিশ্চিত হল। এর মাধ্যমে ভারতের গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এল। এই অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের বড় অংশ এখনও অনাবিষ্কৃত।

পৃথিবী বিজ্ঞান মন্ত্রকের ‘ডিপ ওশান মিশন’-এর আওতায় এই গবেষণা চালানো হয়েছে। ভারতীয় জলসীমায় গভীর সমুদ্রের তরুণাস্থিবিশিষ্ট মাছের শ্রেণীবিন্যাস, বিস্তার, জীববিদ্যা ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে গবেষণা এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক শ্রেণীবিন্যাস বিষয়ক সাময়িক পত্রিকা Zootaxa-তে প্রকাশিত হয়েছে।

ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে পাওয়া নটি নমুনার ভিত্তিতে নতুন প্রজাতিটির পরিচয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সাধারণ নাম ‘আরবিয়ান ব্ল্যাক ইলেকট্রিক রে’। কয়েকটি বিশেষ শারীরিক ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে এই প্রজাতিকে অন্যদের থেকে আলাদা করা হয়েছে।

নতুন প্রজাতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য

- শারীরিক গঠন : মাছটির পিঠের রং গাঢ় নীলচে-কালো থেকে গাঢ় বাদামি। চোখের পিছনে অবস্থিত শ্বাসছিদ্রের চারপাশে প্যাপিলা নেই। এর দেহের চাকতির মতো অংশটি দৈর্ঘ্যের তুলনায় বেশি চওড়া। এন্ডোলিম্ফ্যাটিক ছিদ্র তুলনামূলক বড় এবং ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক অঙ্গ-এর বৈশিষ্ট্য।
- মেরুদণ্ডের একক হাড়ের সংখ্যা : মাছটির মোট মেরুদণ্ডের একক হাড়ের সংখ্যা ৯৯। এর মধ্যে ৩০টি মনোস্পন্ডিলাস এবং ৬৯টি ডিপ্লোস্পন্ডিলাস সেন্ট্রা রয়েছে।
- জিনগত পার্থক্য: মাইটোকন্ড্রিয়াল COI ও ND2 জিনের DNA বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয়েছে, Tetronarce ramanamurthyi একটি স্বতন্ত্র বিবর্তনীয় বংশধারা। COI জিনের বিশ্লেষণে T. tokionis-এর সঙ্গে জিনগত পার্থক্য ২.২ শতাংশ এবং T. nobiliana-এর সঙ্গে ৬.৭% পাওয়া গিয়েছে।

চেন্নাই-এর জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মেরিন বায়োলজি রিজিওনাল সেন্টারের বিজ্ঞানী ড. কে. কে. বিনীশ এবং জুনিয়র রিসার্চ ফেলো শ্রী অনিল কাশীনাথ এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির মস ল্যান্ডিং মেরিন ল্যাবরেটরিজের প্যাসিফিক শার্ক রিসার্চ সেন্টারের ড. ডেভিড এ. এবার্টও এই গবেষণায় সহযোগিতা করেন।

পৃথিবী বিজ্ঞান মন্ত্রকের ডিপ ওশান মিশনের মিশন অধিকর্তা ড. এম. ভি. রমনা মূর্তির সম্মানে নতুন প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে Tetronarce ramanamurthyi। সামুদ্রিক বিজ্ঞান, সমুদ্র প্রকৌশল এবং সামুদ্রিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই নামকরণ করা হয়েছে।

গবেষক দলের মতে, গভীর সমুদ্রের সামুদ্রিক পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করা অত্যন্ত কঠিন। প্রচলিত পদ্ধতিতে শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের সঙ্গে আধুনিক আণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার করলে অজানা সামুদ্রিক প্রাণীর সন্ধান পাওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির বিবর্তনীয় সম্পর্ক বোঝা যায় এবং সমুদ্র সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যও সংগ্রহ করা যায়।

ডিপ ওশান মিশনের আওতায় গভীর সমুদ্রে আরও অনুসন্ধান চালানো হলে নতুন আর-ও প্রজাতির সন্ধান মিলতে পারে। এর ফলে, উত্তর ভারত মহাসাগরের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জ্ঞান আরও বিস্তৃতি পাবে।

 

SSS/AS/Kol/27.10.2026....


(রিলিজ আইডি: 2328915) ভিজিটরের কাউন্টার : 10
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English