মানবসম্পদবিকাশমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

আইআইটি খড়গপুরের উদ্যোগে ভারতে প্রথম ডেডিকেটেড ফিজিক্যাল এআই স্কুল প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে

প্রকাশিত: 26 OCT 2026 5:04PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

 

ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরবর্তী দিশা নির্ধারণের লক্ষ্যে এক অগ্রণী উদ্যোগ হিসেবে, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি খড়গপুর (আইআইটি খড়গপুর)-এর বিশিষ্ট প্রাক্তনী ও সমাজসেবী শ্রী বিনোদ গুপ্ত এবং আইআইটিকেজিপি ফাউন্ডেশন ইউএসএ-র মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক সমঝোতাপত্রে (MoU) স্বাক্ষরিত হল আজ। এই মৌ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বেঞ্জামিন গুপ্ত স্কুল অফ ফিজিক্যাল এআই প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ফিজিক্যাল এআই-কে কেন্দ্র করে ভারতের প্রথম স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিকল্পিত এই উদ্যোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের সূচনা করবে। এতদিন যেখানে মূলত তথ্য, অ্যালগরিদম এবং ডিজিটাল প্রয়োগের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চর্চা কেন্দ্রীভূত ছিল, সেখানে এই উদ্যোগ এমন এআই-এর বিকাশে গুরুত্ব দেবে, যা বাস্তব জগৎকে বুঝতে, তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে, পূর্বাভাস দিতে এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতেও সক্ষম হবে।

এই স্কুলের লক্ষ্য হবে আইআইটি খড়গপুরকে বিশ্বব্যাপী উদীয়মান এমন এক প্রযুক্তিগত ধারার অগ্রভাগে প্রতিষ্ঠিত করা, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পদার্থবিদ্যা, প্রকৌশল, জৈবিক ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রভিত্তিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের মৌলিক নীতির সঙ্গে গভীরভাবে সমন্বিত।

মোঅঁ ৩৫ কোটি টাকার এই উদ্যোগে শ্রী বিনোদ গুপ্তের পরিবার ১২.৫ কোটি টাকা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তনী ১০ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ আইআইটি খড়গপুর প্রদান করবে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগ এবং তার সঙ্গে যুক্ত আন্তঃবিভাগীয় শিক্ষামূলক ও গবেষণামূলক কাজের জন্য বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

শ্রী গুপ্তের প্রয়াত পুত্র বেঞ্জামিন গুপ্তের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই স্কুলের নামকরণ করা হবে। এর মাধ্যমে এক গভীর ব্যক্তিগত স্মৃতিকে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখার লক্ষ্যে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া হবে।

প্রচলিত এআই ভাষা, দৃশ্য চিহ্নিতকরণ এবং তথ্যনির্ভর পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বর্তমানে। তবে, পরবর্তী যুগান্তকারী অগ্রগতির ক্ষেত্র হল এমন বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবস্থার বিকাশ, যেটি বাস্তব জগতে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে সক্ষম। বাস্তব জগতে পদার্থবিদ্যার নিয়ম, অনিশ্চয়তা, পদার্থের আচরণ, জৈবিক ব্যবস্থার জটিলতা, সুরক্ষা এবং প্রকৌশলগত সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করা যায় না। মৌলিক ভৌত নীতি, কার্যপ্রণালীর উপলব্ধি, বাস্তব জগতের সংবেদন-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বুদ্ধিদীপ্ত নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সমন্বিত করে এই ব্যবধান দূর করাই ফিজিক্যাল এআই-এর লক্ষ্য।
পদার্থবিদ্যার নীতিনির্ভর মেশিন লার্নিং, বৈজ্ঞানিক এআই, ডিজিটাল টুইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, উন্নত সংবেদনসম্পন্ন প্রযুক্তি, কম্পিউটেশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এআই-সহায়তায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমন্বয়ে এক স্বতন্ত্র পদ্ধতি গ্রহণ করে আইআইটি খড়গপুর এই প্রযুক্তিগত ধারার বিকাশে নেতৃত্ব দিতে চায়। এই স্কুলে উন্নত উৎপাদন, শক্তি ব্যবস্থা, জলবায়ু ও পরিবেশ প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বুদ্ধি-আশ্রয়ী পরিকাঠামো এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রয়োজনে প্রকৌশল ব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রে আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা ও তার বাস্তব প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই স্কুলের মূল দর্শন হবে, এআই কেবল তথ্য থেকে শিখবে না; বাস্তব জগতের নিয়ামক প্রাকৃতিক নিয়ম থেকেও শিখবে, সেই নিয়মগুলিকে মান্য করবে এবং বুদ্ধিদীপ্তভাবে তার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করবে।
প্রকৌশল, মৌলিক বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিদ্যা, গণনা প্রযুক্তি এবং উদীয়মান প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইআইটি খড়গপুরের বিস্তৃত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এই স্কুল নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, এআই গবেষক, শিল্পক্ষেত্রের পেশাদার এবং চিকিৎসকদের একত্রিত করবে। এর লক্ষ্য হবে নির্ভরযোগ্য, ব্যাখ্যাযোগ্য এবং বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য সমাধান উদ্ভাবন। পাশাপাশি, নিরাপদ, বিশ্বাসযোগ্য ও দায়িত্বশীল এআই-এর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে- বিশেষত, এমন ধরণের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য এবং ভৌত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য, দৃঢ়তা ও জবাবদিহি অত্যন্ত জরুরি।

বেঞ্জামিন গুপ্ত স্কুল অফ ফিজিক্যাল এআই-এর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হবে এআই-সমন্বিত প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের উপযোগী করে উন্নত শিক্ষা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির নতুন পদ্ধতি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ।

প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত অনুমোদন সাপেক্ষে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এই স্কুলের শিক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড পদ্ধতিতে মাস্টার্স প্রোগ্রাম, এক্সিকিউটিভ এডুকেশন, পেশাগত শংসাপত্র প্রদান এবং বিশেষায়িত আন্তঃবিভাগীয় শিক্ষার মডিউল। এই কর্মসূচিগুলি পড়ুয়া, গবেষক, কর্মরত পেশাদার, শিল্পক্ষেত্রের প্রযুক্তিবিদ এবং প্রকৌশল, ভৌত বিজ্ঞান, জীবনবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যার স্নাতকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হবে। প্রচলিত ডিগ্রি শিক্ষার পাশাপাশি, এই স্কুলকে আধুনিক প্রজন্মের প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও চিকিৎসা পেশাদারদের জন্য একটি বিশেষ দক্ষতা-বিকাশ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এখানে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনকারী ও প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের বিষয়ের মৌলিক জ্ঞানের সঙ্গে সমসাময়িক এআই-সংক্রান্ত দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারবেন।
এই শিক্ষাব্যবস্থার মূল দর্শন, ভবিষ্যতের একজন প্রকৌশলী কেবল প্রকৌশলগত সমস্যা সমাধানের জন্য এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন না;  সেই সমস্যা নির্ধারণ ও সমাধানের জন্য কিভাবে পদার্থবিদ্যার নিয়ম, পদার্থের বৈশিষ্ট্য, ব্যবস্থার গতিবিদ্যা এবং গণনাভিত্তিক বুদ্ধিমত্তাকে একত্রিত করা যায়, তা-ও বুঝতে চেষ্টা করবে। একইভাবে, ভবিষ্যতের চিকিৎসা পেশাদারদের ক্লিনিক্যাল ও জৈবিক জ্ঞানের সঙ্গে এআই-সহায়তায় রোগ নির্ণয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। 

স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, এমন অ্যালগরিদমের ফলাফলের ওপর যাচাই না করে নির্ভর করার পরিবর্তে এই সমন্বিত উপলব্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নমনীয় হাইব্রিড পদ্ধতিতে শিক্ষা, আন্তঃবিভাগীয় প্রকল্প, শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সমস্যা সমাধান, পরীক্ষাগারে কাজের অভিজ্ঞতা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রভিত্তিক এআই-এর প্রয়োগের মাধ্যমে এই স্কুল এমন এক নতুন প্রজন্মের পেশাদার গড়ে তুলতে চায়, যাঁরা বৈজ্ঞানিক উপলব্ধি, প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাস এবং বাস্তব জগতের প্রতি জবাবদিহির সঙ্গে এআই-এর বিকাশ ও প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন।

এহেন পদ্ধতি দ্রুত সম্প্রসারিত এআই-সংক্রান্ত সক্ষমতা এবং সেগুলিকে নির্ভরযোগ্য ভৌত প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ক্ষেত্রভিত্তিক জ্ঞানের মধ্যে বিদ্যমান দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফিজিক্যাল এআই-কেন্দ্রিক ভারতের প্রথম স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য শ্রী বিনোদ গুপ্ত ও তাঁর পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতিকে বদলে দিয়েছে। এর পরবর্তী বড় অগ্রগতি হবে, বাস্তব জগৎকে বোঝা, তার প্রকৌশলগত বিকাশ ঘটানো এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা। বেঞ্জামিন গুপ্ত স্কুল অফ ফিজিক্যাল এআই-এর মাধ্যমে আইআইটি খড়গপুর ভারতে এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এআই-কে কেবল একটি ‘ব্ল্যাক বক্স’ সমাধান হিসেবে বিবেচনা করার গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়া। একজন প্রকৌশলীকে অনোধাবন করতে হবে যে,  একটি বুদ্ধিদীপ্ত যন্ত্রের পেছনে পদার্থবিদ্যার ভূমিকা; একজন বিজ্ঞানীকে এআই-এর পূর্বাভাসের সঙ্গে মৌলিক বৈজ্ঞানিক নীতির যোগসূত্র স্থাপন করতে হবে; এবং একজন চিকিৎসা পেশাদারকে অ্যালগরিদমের বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে জৈবিক ও ক্লিনিক্যাল উপলব্ধির সমন্বয় ঘটাতে হবে। ভবিষ্যৎ কেবল তাঁদের নয়, যাঁরা এআই ব্যবহার করতে পারেন; বরং তাঁদের, যাঁরা গভীর ক্ষেত্রভিত্তিক জ্ঞানের সঙ্গে এআই-কে সমন্বিত করে নির্ভরযোগ্য, ব্যাখ্যাযোগ্য ও কার্যকর প্রযুক্তি তৈরি করতে পারেন।”

বেঞ্জামিন গুপ্ত স্কুল অফ ফিজিক্যাল এআই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পক্ষেত্র, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান, গবেষণাগার, স্টার্টআপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। মৌলিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, উন্নত শিক্ষা, গবেষণালব্ধ জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ, প্রযুক্তির বিকাশ এবং পেশাগত দক্ষতার পুনর্বিকাশকে সমন্বিত করে এই স্কুলের লক্ষ্য, দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত, নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় সক্ষম এআই-চালিত ভৌত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করা।
********


SSS/RP/Kol/26.10.26….


(রিলিজ আইডি: 2328635) ভিজিটরের কাউন্টার : 4
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English