প্রকাশিত:
24 OCT 2026 6:56PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অন্তর্গত স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই), আগরতলায় ত্রিপুরা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (টিএফটিআই) গড়ে তোলার কাজে ব্রতী হল। এই কর্মকান্ডের সাহায্যে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং দৃশ্য-শ্রাব্য মাধ্যমে পেশাদার শিক্ষার প্রসারে ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এসআরএফটিআই। এই সহযোগিতার লক্ষ্য হল, শিক্ষার মানোন্নয়ন, ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা সুদৃঢ় করা। টিএফটিআই-এর প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এসআরএফটিআই তার শিক্ষাগত ও কারিগরি দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) প্রস্তুত করবে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর, ২০২৬) টিএফটিআই-এর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব ড. কে. কে. নিরালা, ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের সচিব শ্রী কিরণ গিত্তে এবং এসআরএফটিআই-এর উপাচার্য শ্রী সন্তোষ আজমেরা। বৈঠকে টিএফটিআই-এর অন্যান্য আধিকারিক এবং এসআরএফটিআই-এর শিক্ষক-শিক্ষিকারাও উপস্থিত ছিলেন।
চলচ্চিত্র ও মিডিয়া শিক্ষায় উদ্ভাবনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে ড. নিরালা বলেন, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং ও কমিকস (এভিজিসি) প্রভৃতি ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সুযোগের প্রেক্ষিতে নতুন চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। তিনি আর-ও বলেন, প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রণীত ও পরিমার্জিত পাঠ্যক্রমের পুনরাবৃত্তি না করে টিএফটিআই-এর উচিত চলচ্চিত্র ও মিডিয়া শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুসন্ধান করা।
শ্রী গিত্তে জানান, ত্রিপুরা সরকার রাজ্যের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা করতে এবং বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান সুযোগগুলির সদ্ব্যবহারের জন্য তাঁদের সক্ষম করে তুলতে চায়। তিনি সর্বজনীন আবেদনসম্পন্ন স্থানীয় কাহিনিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তাঁর বক্তব্যে। এর ফলে, ত্রিপুরার তরুণ প্রতিভারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে।
শ্রী আজমেরা এই সহযোগিতার প্রতি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বমানের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পেরে এসআরএফটিআই আনন্দিত। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিক্ষায় এসআরএফটিআই-এর শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা এবং কারিগরি দক্ষতা টিএফটিআই-এর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে টিএফটিআই-তে চলচ্চিত্র ও ভিডিও সম্পাদনা এবং স্ক্রিন অ্যাক্টিং বিষয়ে এক বছরের দুটি স্নাতকোত্তর সার্টিফিকেট পাঠ্যক্রম চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশেষায়িত স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও পরিচালনা করেছে, যার আওতায় চারটি ব্যাচ সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করেছে। এই কর্মসূচিগুলি আগ্রহী পেশাদারদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল শিল্পের সৃজনশীল ও কারিগরি দিকগুলির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
এই বৈঠক ত্রিপুরা সরকার ও এসআরএফটিআই-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল পেশাদার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিক্ষার একটি সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন, স্থানীয় সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আগ্রহী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মিডিয়া পেশাদারদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণ করা।

*****************
SSS/PK/Kol/24.10.26...