মৎস্য ও পশু পালন এবং দুগ্ধশিল্প মন্ত্রক
মহিলা কিষান দিবসে বারতির বিলে সুস্থায়ী মৎস্যচাষ ও ইকো-অ্যাকোয়া ট্যুরিজমের হাত ধরে মহিলাদের ক্ষমতায়নে আইসিএআর-সিআইএফআরআই-এর উদ্যোগ
প্রকাশিত:
15 OCT 2026 4:12PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
কৃষি, মৎস্যচাষ এবং জলাভূমিনির্ভর জীবিকায় গ্রামীণ মহিলাদের অমূল্য অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে, আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আজ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বারতির বিলে ব্যারাকপুরের আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইসিএআর-সিআইএফআরআই)-এর উদ্যোগে মহিলা কিষান দিবস পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে মহিলাদের ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা এবং নতুন জীবিকার সুযোগ সৃষ্টিতে সুস্থায়ী মৎস্যচাষ ও দায়িত্বশীল ইকো-অ্যাকোয়া ট্যুরিজম-এর সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয়ভাবে ‘বাংলার ডাল লেক’ নামে পরিচিত বারতির বিল একটি ঋতুভিত্তিক প্লাবনভূমির জলাভূমি, যা জলজ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। দেশীয় মাছ, শামুক, কাঁকড়া এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি, বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর এই জলাভূমি ঋতুভিত্তিক কৃষিকাজেও সহায়তা করে। এর সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র এবং জীবিকার সম্ভাবনা সুস্থায়ী মৎস্যচাষ, জলাভূমি সংরক্ষণ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক পর্যটনকে সমন্বিত করার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলকে সম্ভাবনাময় করে তুলেছে।
এই অনুষ্ঠানে ৩০ জন মহিলা কৃষক ও গ্রামীণ সম্পদ ব্যবহারকারী অংশগ্রহণ করেন। কৃষি, মৎস্যচাষ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে স্বীকৃতি জানানো হয়। রবি মরশুমে পেঁয়াজ চাষে মহিলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা বীজতলা পরিচালনা, আগাছা পরিষ্কার, ফসল সংগ্রহ, বাছাই এবং বিপণন-সংক্রান্ত কাজে অংশ নেন। এ ছাড়াও, পাট প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে- যেমন আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া, বাছাই ও শুকানোর কাজে- তাঁরা অবদান রাখেন। পাশাপাশি, জলাভূমিনির্ভর জীবিকা ও স্থানীয় বাণিজ্যেও তাঁরা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখযোগ্য অবদান থাকা সত্ত্বেও, সামাজিক বাধা ও নানা বিধিনিষেধের কারণে উদীয়মান জীবিকার সুযোগগুলিতে, বিশেষত ইকো-অ্যাকোয়া পর্যটনে, মহিলাদের অংশগ্রহণ প্রায়শই সীমিত থাকে। আলোচনায় তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং সম্প্রদায়স্তরে পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মহিলাদের আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ন্যাশনাল ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (এনএফডিবি) মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ড. বি. কে. বেহেরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মৎস্যচাষ, জলজ চাষ এবং জীবিকার উন্নয়নে গ্রামীণ মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। “মহিলাদের ক্ষমতায়ন মানে সমগ্র মানবজাতির ক্ষমতায়ন”- এই নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবারে পুষ্টিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ মানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্য মহিলাদের ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইসিএআর-সিআইএফআরআই-এর অধিকর্তা ড. প্রদীপ দে বারতির বিলকে মহিলাদের নেতৃত্বাধীন, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং পরিবেশগতভাবে সুস্থায়ী গ্রামীণ উন্নয়নের একটি আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি গ্রামীণ মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, জ্ঞানসম্পদ ও উদ্যোগপতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর জোর দেন। জীবিকার বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, পুষ্টিগত সুরক্ষা জোরদার এবং মহিলা ও গ্রামীণ যুবসমাজের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মূল্য সংযোজন এবং ইকো-অ্যাকোয়া পর্যটনের সমন্বয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। ড. দে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রথাগত পরিবেশগত জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলাভূমির বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের পাশাপাশি, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
আইসিএআর-সিআইএফআরআই-এর এফআরএআই বিভাগের প্রধান ড. এস. সামন্ত, ড. অপর্ণা রায় এবং প্রবীন বিজ্ঞানী ড. গুঞ্জন কর্ণাটক মহিলা কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁরা জীবিকা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে মহিলাদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেন এবং মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ ও জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রথাগত জ্ঞানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মহিলা কিষান সম্মান। কৃষি, মৎস্যচাষ এবং গ্রামীণ জীবিকার উন্নয়নে তাঁদের মূল্যবান অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুই মহিলা মৎস্যজীবী শ্রীমতী জয়ন্তী দত্ত ও শ্রীমতী দুলালী রায়কে সংবর্ধনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মৎস্যচাষনির্ভর জীবিকা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের মধ্যে সমন্বয়সাধনে মহিলাদের নেতৃত্বাধীন ও সম্প্রদায়ভিত্তিক উন্নয়নের একটি আদর্শ মডেল হিসেবে বারতির বিলের সম্ভাবনা অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
এই সংস্থা অবশ্যই অভ্যন্তরীণ জলপথকেন্দ্রিক মৎসচাষ বিষয়ক গবেষণা ও পরিচালন প্রক্রিয়া বিজ্ঞানসম্মতভাবে মৎসসম্পদ পরিচালনা, তার বাস্তুব্যবস্থা এবং জীবিকার সুযোগ নিরূপনে সহায়তা করে থাকে যাতে সুস্থায়ী ও স্থানীয় সম্প্রদায়-ভিত্তিক উদ্যোগ সুপরিকল্পিতভাবে গ্রহণ করা যায়।
এই উদযাপন বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ, উন্নত প্রযুক্তি অবলম্বন এবং জীবিকার বহুমুখী সুযোগের সমাহারে মহিলাদের ক্ষমতায়নে এই সংস্থা যে অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তারই প্রতিফলন। এই উদ্যোগ রাষ্ট্র সংঘের সুস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, বিশেষত এসডিজি ২ (ক্ষুধামুক্তি) এবং এসডিজি ৫ (লিঙ্গসমতা) অর্জনেও অবদান রাখে। পাশাপাশি, সুস্থায়ী জলাভূমি এবং বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষম গ্রামীণ সম্প্রদায় গড়ে তোলার লক্ষ্যকেও এগিয়ে নিয়ে যায়।


*****
SSS/RP/Kol/15.10.26…
(রিলিজ আইডি: 2323983)
ভিজিটরের কাউন্টার : 5