প্রতিরক্ষামন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য 'শ্রেয়স' উন্মোচন করল জিআরএসই; ৫ মাসেরও কম সময়ে এটি তাদের তৃতীয় এনজিওপিভি (NGOPV) লঞ্চ

প্রকাশিত: 10 OCT 2026 2:37PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অন্তর্গত একটি নবরত্ন ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং, গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE), আজ ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নির্মিত চারটি নেক্সট জেনারেশন অফশোর পেট্রোল ভেসেল (NGOPV)-এর মধ্যে তৃতীয় জাহাজ 'শ্রেয়স' (Shreyas)-এর লঞ্চ করেছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর ভাইস চিফ, ভাইস অ্যাডমিরাল শ্রী অজয় কোছর (PVSM, AVSM, NM)। তাঁর সহধর্মিণী শ্রীমতী রেইম্যান কোছর প্রথা মেনে জাহাজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জিআরএসই এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রী কোছর বলেন, “এই কৃতিত্ব কেবল জিআরএসই-র দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম এবং প্রচেষ্টারই স্পষ্ট প্রতিফলন নয়, বরং এটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান গতি, পরিধি এবং শক্তিরও প্রমাণ। এই ধরনের অগ্রগতি বিশেষভাবে উৎসাহব্যঞ্জক, কারণ সমুদ্রে দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি এবং সক্ষম প্ল্যাটফর্মের একটি বৃহত্তর নৌবহরের প্রয়োজনীয়তা এর আগে কখনোই এতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।”
গুরুত্ব তুলে ধরে ভাইস অ্যাডমিরাল আরও যোগ করেন, “ভারতের মতো একটি সামুদ্রিক দেশের জন্য, যার বিশাল উপকূলরেখা, একটি বৃহৎ এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (অনন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল) এবং সমুদ্রের ওপর নির্ভরশীল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ রয়েছে, সেখানে আমাদের অঞ্চলে একটি নির্ভরযোগ্য ও স্থায়ী সামুদ্রিক উপস্থিতি বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।”
এই এনজিওপিভি (NGOPV) জাহাজগুলি আগে নির্মিত অফশোর পেট্রোল ভেসেলগুলির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় এবং বেশি সক্ষম; যা উন্নত সহনশীলতা, মারণক্ষমতা এবং বহুমুখী কার্যকারিতা প্রদান করে। প্রায় ১১৩ মিটার দীর্ঘ এবং ১৪.৬ মিটার চওড়া এই জাহাজগুলির ডিসপ্লেসমেন্ট ক্ষমতা ৩,০০০ টন। এগুলি সর্বোচ্চ ২৩ নট গতিবেগ তুলতে পারবে এবং ১৪ নট ক্রুজিং গতিতে ৮,৫০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত পথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
বিস্তৃত পরিসরে সামুদ্রিক অভিযানের জন্য ডিজাইন করা এই এনজিওপিভিগুলি উপকূলীয় ও অফশোর সম্পদের সুরক্ষা, মেরিটাইম ইন্টারডিকশন (সামুদ্রিক বাধা সৃষ্টি), নজরদারি, ভিবিএসএস (ভিজিট, বোর্ড, সার্চ অ্যান্ড সিজার), মাইন ওয়ারফেয়ার এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। এছাড়া হাসপাতাল, কমিন্ট (COMINT - কমিউনিকেশনস ইন্টেলিজেন্স) ও নৌবহর রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সহায়তার পাশাপাশি, এই যুদ্ধজাহাজগুলিকে দেশের বাইরের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, জলদস্যুতা বিরোধী অভিযান, অনুপ্রবেশ রোধ, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (HADR) এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের কাজেও মোতায়েন করা হবে।
জিআরএসই (GRSE)-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, কমোডোর শ্রী পি আর হরি, আইএন (অবসরপ্রাপ্ত) গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেন, “ভারতীয় নৌবাহিনীতে বর্তমানে কর্মরত অফশোর পেট্রোল ভেসেলগুলির তুলনায় আমাদের নেক্সট জেনারেশন অফশোর পেট্রোল ভেসেল প্রকল্পের এই জাহাজগুলি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, সহনশীলতা কিংবা ডিসপ্লেসমেন্ট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই অক্ষরে অক্ষরে এবং ভাবার্থেও একদম নতুন প্রজন্মের। এমনকি এগুলির সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্রের কার্যকারিতাও অনেক বেশি শক্তিশালী।”

গত ১১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে এই সিরিজের দ্বিতীয় জাহাজ ‘শ্রুতি’ (Shruti) জলে ভাসানোর পর দুই মাসেরও কম ব্যবধানে এই নতুন জাহাজটি জলে ভাসানো হল। এর আগে ২০ মে, ২০২৬ তারিখে প্রথম এনজিওপিভি (NGOPV) ‘সংঘমিত্রা’ (Sanghmitra) জলে ভাসানো হয়। এই নিয়ে পাঁচ মাসেরও কম ব্যবধানে তিনটি জাহাজ লঞ্চ করা হল, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর ১১টি জাহাজের এনজিওপিভি কর্মসূচির অংশ হিসেবে জিআরএসই-র মাধ্যমে চারটি উন্নত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের এই মর্যাদাপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের ধারাবাহিক গতি ও সাফল্যকে প্রতিফলিত করে।

 

*********
SSS/RP/Kol/10.10.26....


(রিলিজ আইডি: 2321743) ভিজিটরের কাউন্টার : 12
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English