যোগাযোগওতথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রক
বিশ্ব ডাক দিবসে পশ্চিমবঙ্গ ডাক সার্কলের উদ্যোগে জাতীয় ডাক সপ্তাহ ২০২৬-এর সূচনা
দুর্গাপুজোর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ কভার প্রকাশ; স্কুলপড়ুয়াদের সৃজনশীলতা তুলে ধরল ‘Philately on the Runway’
৫টি N-Gen ডাকঘরের পরিষেবা শুরু; ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং, আধার পরিষেবা ও দ্রুত ডাক সরবরাহের পরিধি বাড়াচ্ছে ডাক সার্কল
প্রকাশিত:
09 OCT 2026 4:30PM by PIB Kolkata
কলকাতা, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে আজ কলকাতার টাউন হলে পশ্চিমবঙ্গ ডাক সার্কলের উদ্যোগে জাতীয় ডাক সপ্তাহ ২০২৬-এর সূচনা হয়। এবারের বিষয়বস্তু, “World Post Day: One Postal Network, Infinite Possibilities”। সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচিতে ডাক ব্যবস্থার সম্প্রসারিত ভূমিকা, প্রযুক্তির সংযুক্তিকরণ এবং জনমুখী পরিষেবা প্রদানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সার্কলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল শ্রী অশোক কুমার, দক্ষিণবঙ্গ অঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল শ্রী রিজু গঙ্গোপাধ্যায় এবং প্রয়াগ ফিলাটেলিক সোসাইটির প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “Durga Puja: Intangible Cultural Heritage” শীর্ষক বিশেষ কভার প্রকাশ। ‘Philately on the Runway’ শীর্ষক আন্তঃস্কুল ফিলাটেলি ফ্যাশন শো-তে ডাকটিকিট থেকে অনুপ্রাণিত পোশাকের নকশা তুলে ধরা হয়। UPU International Letter Writing Competition for Young People 2026-এ পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।
জাতীয় ডাক সপ্তাহে ডাক বিভাগের বিভিন্ন ডিভিশনে নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। প্রসঙ্গত, ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালনের পর ১২ অক্টোবর ‘Fun with Philately Day’, ১৩ অক্টোবর ‘Financial Inclusion and CCS Day’, ১৪ অক্টোবর ‘Mails and Parcels Day’ এবং ১৫ অক্টোবর ‘Technology and Innovation Day’ পালন করা হবে।
সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সার্কলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল শ্রী অশোক কুমার ডাক বিভাগের বিস্তৃত পরিষেবা নেটওয়ার্ক এবং জনপরিষেবা প্রদানে তাঁর পরিবর্তনশীল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। কোভিড-১৯ অতিমারীর সময় ডাক পরিষেবার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আধার নথিভুক্তিকরণ ও তথ্য সংশোধনের পরিষেবা সম্প্রসারণে সার্কলের ধারাবাহিক উদ্যোগের কথাও জানান।
ডাকঘরে আধুনিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সংযুক্ত করার বিষয়টিও শ্রী কুমার তুলে ধরেন। ডাকঘরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে NEFT, RTGS এবং অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। পোস্টাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের সুবিধার কথাও তিনি উল্লেখ করেন তাঁর বক্তব্যে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক বোনাস, কম প্রিমিয়াম, ঝঞ্ঝাটমুক্ত দাবি নিষ্পত্তি এবং পলিসি গ্রাহকদের আরও বেশি সুবিধা দেওয়ার উপযোগী বিমা পরিষেবা।
পশ্চিমবঙ্গ সার্কলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল জানান, ডাক বিভাগের অন্যতম বৃহত্তম ডাক নেটওয়ার্ক রয়েছে বিশ্বে। এই বিস্তৃত ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সার্কলে গড়ে প্রায় ২১,০০০ ডাক সেবক রয়েছেন। তাঁরা পরিষেবার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
প্রচলিত ডাক পরিষেবা থেকে বিপণন, লজিস্টিক্স বা সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সম্প্রসারিত পরিষেবার সম্পর্কিত ডাক বিভাগের অগ্রগতির কথাও তিনি তুলে ধরেন। সরবরাহ ব্যবস্থায় মধ্যস্থতাকারীর সংখ্যা কমিয়ে খরচ হ্রাস ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে যে সার্কল, সে কথা তিনি উল্লেখ করেন আজ।
পশ্চিমবঙ্গ ডাক সার্কলে পাঁচটি নেক্সট জেনারেশন (N-Gen) ডাকঘরের পরিষেবা শুরু হয়েছে। আধুনিক বিন্যাস ও ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই ডাকঘরগুলি বর্তমান সময়ের গ্রাহকদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, IIT খড়্গপুর এবং হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডাকঘর স্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের ডাক বিভাগের বিভিন্ন পরিষেবা সম্পর্কে পরিচিত করা হচ্ছে।
এই ডাকঘরগুলিতে আকর্ষণীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল ও অন্যান্য সৃজনশীল মাধ্যমের সাহায্যে অংশগ্রহণেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। Gen Z-র কাছে ডাকঘরগুলিকে আরও সহজলভ্য ও প্রাসঙ্গিক করে তোলার পাশাপাশি, ফিলাটেলি এবং চিঠি লেখার প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
কলকাতার কাঁকুড়গাছি ডাকঘরের আধুনিকীকরণের কথাও উল্লেখ করেন চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল। একই ধরনের আধুনিকীকরণের জন্য আরও চার থেকে পাঁচটি ডাকঘরকে চিহ্নিত করা হয়েছে, বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর ফলে, আধুনিক ডাক পরিষেবার পরিধি আরও বাড়বে।
তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্বেগ সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে ডাকটিকিটভিত্তিক কর্মসূচি ব্যবহারের কথা বললেন শ্রী অশোক কুমার আজ।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ই-KYC যাচাইয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে পশ্চিমবঙ্গ ডাক সার্কেল। এর ফলে, রাজ্যের ভোক্তাদের বাড়িতে সরাসরি আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পথ প্রশস্ত হল।
পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (WBSEDCL) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কৃষক ও জমির মালিকদের কাছে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে চিঠি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে সার্কল। সৌরশক্তি সংক্রান্ত উদ্যোগ ও তার সুযোগ-সুবিধা এবং উপলব্ধ ভর্তুকি প্রকল্প সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা এই চিঠিগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জনপরিষেবা প্রদানের মানোন্নয়নে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শ্রী অশোক কুমার তাঁর বক্তব্যে। কৃষকদের কাছে বীজ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেও কাজ করছে ডাক বিভাগ। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, দুর্গাপুজোর সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্য ইতিমধ্যেই বিদেশের বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। স্থানীয় পণ্য ও কারুশিল্পীদের জন্য আরও বিস্তৃত বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে ডাক নেটওয়ার্কের সম্ভাবনাও এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
দ্রুত ডাক সরবরাহ পরিষেবা সম্প্রসারণের পর পশ্চিমবঙ্গ সার্কলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,০০০টি নথি ‘Speed Post 24 Documents’ এবং ২৫০টি পার্সেল ‘Speed Post 24 Parcels’-এর আওতায় বুক করা হচ্ছে।
নিয়মিত শিবির এবং ডাকঘরের সমন্বিত পরিষেবার মাধ্যমে আধার নথিভুক্তিকরণ ও তথ্য সংশোধনের সুযোগ আরও বাড়ানো হচ্ছে। পরিষেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত অঞ্চল এবং স্কুলগুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় ডাক সপ্তাহ ২০২৬-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ডাক সার্কেল মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, বাণিজ্যের প্রসার এবং জরুরি জনপরিষেবা প্রদানে ডাক ব্যবস্থার ধারাবাহিক গুরুত্ব তুলে ধরতে চায়। ডাকঘরের আধুনিকীকরণ, অংশীদারিত্ব মজবুত করা এবং দেশের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ডাক বিভাগের ভূমিকা সম্প্রসারণের উদ্যোগও এই কর্মসূচিতে তুলে ধরা হচ্ছে।

******
SSS/S Saha/Kol/09.10.2026
(রিলিজ আইডি: 2321430)
ভিজিটরের কাউন্টার : 5