কর্মী, জন অভিযোগ ও পেনশন মন্ত্রণালয়"
azadi ka amrit mahotsav

৯ অক্টোবর ২০২৬ গুয়াহাটিতে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের রূপান্তর বিষয়ক দ্বিতীয় আঞ্চলিক কর্মশালার আয়োজন করবে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশন

আটটি রাজ্যের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মশালাটির উদ্বোধন করবেন আসামের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 03 OCT 2026 3:48PM by PIB Agartala

নতুন দিল্লি, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬: 'সাধনা শৃঙ্খলা ২০২৬'-এর দ্বিতীয় আঞ্চলিক কর্মশালাটি আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ আসামের গুয়াহাটিতে আয়োজিত হবে৷ কর্মশালাটির উদ্বোধন করবেন আসামের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এখানে আসাম সহ উত্তর পূর্বের আটটি রাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন৷

জাতীয় অগ্রগতির লক্ষ্যে অভিযোজনমূলক উন্নয়ন ও মানবিক দক্ষতা জোরদারকরণ বিষয়ক ‘সাধনা শৃঙ্খলা’ (সিরিজ) ২০২৬ হলো সারা দেশব্যাপী আয়োজিত চারটি আঞ্চলিক কর্মশালার একটি ধারাবাহিক আয়োজন। ‘সিভিল সার্ভিসেস ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’-এর জাতীয় কর্মসূচির আওতায় সিভিল সার্ভিস প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ বা সক্ষমতা-নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশন’ (সিবিসি) এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় ২৯-৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী কর্মশালার পর, এই সিরিজের দ্বিতীয় কর্মশালাটি ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আসামের গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আটটি রাজ্যের সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা একত্রিত হবেন।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ-উপযোগী, সাড়া প্রদানকারী এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক সিভিল সার্ভিসের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গত এক বছরে কমিশন ব্যাপক পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে৷ এর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক টাস্ক ফোর্সের বৈঠক, ২ থেকে ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত আয়োজিত ‘সাধনা সপ্তাহ’ এবং মে ২০২৬-এ সক্ষমতা-নির্মাণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় বিভাগীয় সম্মেলন।

এই পরামর্শমূলক আলোচনাগুলোতে একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেবল বিচ্ছিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থা থেকে কৌশলগত ও দক্ষতা-ভিত্তিক সক্ষমতা-নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথে দিকনির্দেশনা দেবে। এই অগ্রযাত্রাকে ভিত্তি করে, ‘সাধনা শৃঙ্খলা’ (সিরিজ) প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ক জাতীয় আলোচনাকে তৃণমূল বা আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্য ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোকে স্থানীয় প্রেক্ষাপটে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং সেগুলোকে কার্যকর অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আঞ্চলিক কর্মশালাগুলোর মাধ্যমে কমিশন রাজ্য সরকার, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অংশীজনের সাথে কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের রূপান্তরের জন্য এমন একটি সামগ্রিক কাঠামো তৈরি করা, যা সারা দেশের বিচিত্র প্রয়োজন ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই আলোচনাগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক শাসন ও নেতৃত্ব জোরদার করা, পরিচালনগত কার্যকারিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, অনুষদ ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর একটি মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে সক্ষম করে তোলা, যাতে তারা মূলত ‘সরবরাহ-চালিত’ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে সরে এসে ‘চাহিদা-ভিত্তিক’ এবং ভূমিকা ও দক্ষতা-নির্ভর সক্ষমতা-নির্মাণ কার্যক্রমের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এই কাঠামোটি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, অগ্রাধিকার এবং প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। কর্মশালাগুলোর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের অগ্রাধিকারসমূহ চিহ্নিত করতে পারবে এবং এই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য কার্যকর কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) তৈরি করতে সক্ষম হবে।

এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন ‘ইউনিফাইড নিউ-এজ ন্যাশনাল ট্রেনিং ইনিশিয়েটিভ’ (উন্নতি) পোর্টালকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে, যা ‘সাধনা সপ্তাহ ২০২৬’-এর সময় চালু করা হয়েছিল। একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ৭০০-এরও বেশি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে, ‘উন্নতি’ সক্ষমতা বৃদ্ধির চাহিদা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সরবরাহের মধ্যকার ব্যবধান দূর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্ল্যান’ বা সক্ষমতা বৃদ্ধি পরিকল্পনার (সিবিপি) আওতায় উদ্ভূত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাড়া প্রদানে সক্ষম করে তোলার মাধ্যমে, এই প্ল্যাটফর্মটি প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্পদ ভাগাভাগি এবং তথ্য-ভিত্তিক ধারাবাহিক উন্নয়নকে সহায়তা করবে।

'সাধনা শৃঙ্খলা ২০২৬'-এর দ্বিতীয় আঞ্চলিক কর্মশালাটি ৯ অক্টোবর ২০২৬ আসামের গুয়াহাটিতে আয়োজিত হবে, যার উদ্বোধন করবেন আসামের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

এই কর্মশালায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্য তথা আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম এবং ত্রিপুরা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একত্রিত হবেন। এছাড়াও সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও অনুষদ সদস্য, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, শিল্প-খাতের অংশীদার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবেন।

অংশগ্রহণকারী রাজ্য ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ চিহ্নিত করার একটি মঞ্চ হিসেবে এই কর্মশালাটি কাজ করবে। প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোকে রাজ্য-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে৷ এর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন, অনুষদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটালভাবে ক্ষমতায়িত ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলার পদক্ষেপসমূহ।

চারটি আঞ্চলিক কর্মশালার মধ্যে দ্বিতীয়টি হিসেবে, গুয়াহাটির এই আলোচনা সভাটি বিজয়ওয়াড়ায় শুরু হওয়া সহযোগিতামূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই আলোচনা থেকে প্রাপ্ত অন্তর্দৃষ্টি ও সুপারিশগুলো 'প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রূপান্তর কাঠামো' -এর চূড়ান্তকরণে সহায়তা করবে, যাতে তা বিভিন্ন রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপট ও চাহিদাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে।

'সাধনা শৃঙ্খলা' (সিরিজ)-এর মাধ্যমে 'ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশন' (সক্ষমতা বৃদ্ধি কমিশন) প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন একটি পারস্পরিক সংযুক্ত, গতিশীল ও সাড়া-প্রদানকারী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা সিভিল সার্ভেন্টদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা দিয়ে সজ্জিত করতে সক্ষম হবে। এর লক্ষ্য হলো নাগরিকদের জন্য উন্নত ফলাফল নিশ্চিত করা, যা 'ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর সিভিল সার্ভিসেস ক্যাপাসিটি বিল্ডিং' এবং 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর ভিশন বা লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

*****

PS/DM/KMD


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2319023) ভিজিটরদের কাউন্টার : 16
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English