PIB Backgrounder
শহরাঞ্চলের রূপান্তর: আরও পরিবেশবান্ধব ও সুস্থায়ী শহর নির্মাণ
প্রকাশিত:
02 OCT 2026 11:57AM by PIB Kolkata
০২ অক্টোবর, ২০২৬
একটি শহরের বিকাশ কেবল তার অট্টালিকা ও রাস্তায় সীমাবদ্ধ নয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার দক্ষতার ওপর-ও নির্ভর করে। স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় শহরগুলি বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি, ব্যবহৃত উপাদানের পুনর্ব্যবহার, ডিজিটাল মনিটরিং এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছে। বিভিন্ন শহরের উদ্ভাবনী পদক্ষেপ ভারতের নগর জীবনকে আরও সুস্থায়ী করে তুলছে।
গোয়া: বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন
গোয়ার সালিগাও উপত্যকায় অবস্থিত একসময়ের আবর্জনার ডিপোকে ১,১৩,০০০ বর্গমিটার জুড়ে একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র হিসাবে রূপান্তর করা হয়েছে। এটি দৈনিক ২৫০ মেট্রিক টন জৈব ও অজৈব বর্জ্য প্রক্রিয়া করে।
জৈব বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ:
জৈব বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যার অর্ধেক অংশ গোয়া বিদ্যুৎ বিভাগকে সরবরাহ করা হয়।
পুনর্ব্যবহার ও কম্পোস্ট:
অজৈব বর্জ্যের পুনর্ব্যবহারযোগ্য অংশ পৃথক করা হয় এবং অবশিষ্টাংশ সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হয়। উৎপাদিত দৈনিক ৭-৮ টন কম্পোস্ট স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলি বনায়নে ব্যবহার করে। বর্জ্য সংগ্রাহকরা এখন এখানকার প্রশিক্ষিত কর্মী হিসাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
গান্ধীনগরের জিরো-ওয়েস্ট অভিযাত্রা: জনগণের অংশগ্রহণ
গান্ধীনগর পুরসভা 'জিরো ওয়েস্ট উইক' আন্দোলনের অংশ হিসাবে এবছর ২ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে।
3 R (Reduce, Reuse, Recycle) নীতি: শহরজুড়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ৬০০-র বেশি নাগরিকের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং ৪,০০০-এর বেশি মানুষকে সামাজিক মাধ্যমে সচেতন করা হয়।
অন্যান্য উদ্যোগ: পুরনো পোশাক দিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারীরা পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ তৈরি করেন। 'স্বচ্ছতা সে শুরুওয়াত' কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয় এবং বিশেষ ভ্যানের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরনো পোশাক, প্লাস্টিক ও ই-বর্জ্য সংগ্রহ করে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাকিনাড়ার স্মার্ট পদক্ষেপ
আন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া শহর দৈনিক ১৪৪ টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির দক্ষ প্রয়োগ ঘটাচ্ছে। কাকিনাড়া পুরসভা ৫০টি ওয়ার্ডের ৩৮২টি এলাকায় ৯৭৩ জনের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করেছে।
ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ:
অনলাইন ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (OWMS), আরএফআইডি (RFID), জিপিএস এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মীদের উপস্থিতি ও বর্জ্য পরিবহন পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ:
প্রতিটি বাড়ির গেটে আরএফআইডি ট্যাগ স্ক্যান করে ১০০% বর্জ্য সংগ্রহ সুনিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৬০% বাসিন্দা উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ করছেন।
গাজিয়াবাদ: বর্জ্যকে কার্বন ক্রেডিটে রূপান্তর
উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ পুরসভা (GMC) রাষ্ট্রসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
কার্বন নির্গমন হ্রাস:
ঐতিহ্যবাহী স্ট্রিটলাইটের বদলে এলইডি (LED) লাইটের ব্যবহার এবং পচনশীল বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট তৈরির মাধ্যমে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সুযোগ:
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের পর গাজিয়াবাদ দেশের দ্বিতীয় পুরসভা হিসাবে বর্জ্যকে কার্বন ক্রেডিটে রূপান্তর করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আনুমানিক ২.৭ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পাবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে রাজস্ব উপার্জন করা সম্ভব হবে।
প্রতিটি সম্পদকে মূল্য দেওয়া
শহরাঞ্চলের এই রূপান্তর প্রযুক্তি এবং জনসংযোগের এক সুন্দর সমন্বয়। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভারতীয় শহরগুলি কেবল পরিচ্ছন্নই হচ্ছে না, বরং পরিবেশবান্ধব এবং সম্পদ-দক্ষ নগর ব্যবস্থা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে।
তথ্যবিবরণী:
Ministry of Housing and Urban Affairs
Click here for pdf file.
*******
SSS/PK/Kol/2.10.26..
(রিলিজ আইডি: 2318533)
ভিজিটরের কাউন্টার : 4