পোস্ট করার দিনক্ষণ:
17 SEP 2026 12:08PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Semicon 1.0-এর সফল বাস্তবায়নের পর এ বছর ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ১,২৭,৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দে Semicon 2.0 অনুমোদন করেছে। প্রথম পর্যায়ে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ব্যবস্থার ভিত তৈরি হয়েছিল। Semicon 2.0-তে ছয়টি কৌশলগত স্তম্ভের মাধ্যমে পরবর্তী পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে গবেষণা ও উন্নয়ন, চিপ ডিজাইন, যন্ত্র ও উপকরণ, আরও সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব স্থাপন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং ATMP/OSAT ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করা। এর মাধ্যমে ভারত একটি নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর কেন্দ্র হিসাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করবে এবং বিকশিত ভারত-এর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রেক্ষাপট
আধুনিক প্রযুক্তির মূল ভিত্তি সেমিকন্ডাক্টর। অর্থনৈতিক শক্তির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, টেলিযোগাযোগ, বৈদ্যুতিক যান, প্রতিরক্ষা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থায় সেমিকন্ডাক্টর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। Internet of Things (IoT), 5G/6G, ডেটা সেন্টার এবং স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের মতো প্রযুক্তির প্রসারের ফলে, চিপের চাহিদাও বাড়ছে। সেমিকন্ডাক্টরের সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আগামী দিনে উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং দেশের প্রযুক্তিগত শক্তিকে আরও বেশি প্রভাবিত করবে।
আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের দ্রুত সম্প্রসারণেও এর গুরুত্ব স্পষ্ট। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের বার্ষিক যৌগিক বৃদ্ধির হার (CAGR) ছিল ৬.৫ শতাংশ। আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে এই বাজার ৮.৫ শতাংশ হারে বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তবে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমস্যা আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর মূল্যশৃঙ্খলের পারস্পরিক নির্ভরতার দুর্বল দিকগুলি সামনে এনেছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও সরবরাহের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে। তাই বড় অর্থনীতির দেশগুলি নিজেদের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
ভারতেও সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে এই চাহিদা ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে এবং ২০৩৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারত প্রায় ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সেমিকন্ডাক্টর পণ্য আমদানি করেছে। এই সময়ে আমদানির বার্ষিক যৌগিক বৃদ্ধির হার ছিল ২৩ শতাংশ। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বার্ষিক আমদানির পরিমাণ ২৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। তাই একটি পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন দেশের জরুরি অগ্রাধিকার। আত্মনির্ভরতা, নিরাপত্তা, দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে ভারত সরকার এই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে।
SEMICON 2026 : ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ
আধুনিক বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি সেমিকন্ডাক্টর। তাই প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার জন্য শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এই কৌশলগত গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে নীতি সহায়তা, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে ভারত সরকার।
এই উদ্যোগের অংশ হিসাবে “Silicon to Systems: Building the Ecosystem” মূল ভাবনায় SEMICON India 2026-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। এবছর ১৭ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির যশোভূমিতে এই উদ্বোধন হয়। ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা SEMICON 2026-এ আন্তর্জাতিক শিল্প সংস্থার শীর্ষকর্তা, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাক্ষেত্রের প্রতিনিধি এবং স্টার্ট-আপগুলি অংশ নিচ্ছে। ভারতের সেমিকন্ডাক্টর সংক্রান্ত লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়া এবং পুরো মূল্যশৃঙ্খল জুড়ে এই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।
সেমিকন্ডাক্টর কি?
সেমিকন্ডাক্টর এমন একটি উপাদান, যার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তামার মতো পরিবাহী পদার্থ সহজেই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয়। অন্যদিকে, নিরোধক পদার্থ বিদ্যুৎ প্রবাহে প্রবল বাধা দেয়। সেমিকন্ডাক্টর উপাদানকে এমনভাবে তৈরি করা যায়, যাতে তা বৈদ্যুতিক সংকেত পরিবর্তন, বাড়ানো, শনাক্ত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ট্রানজিস্টর হল অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি ইলেকট্রনিক সুইচ। আধুনিক ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটে একটি ছোট চিপের মধ্যে লক্ষ লক্ষ বা কোটি কোটি ট্রানজিস্টর ও অন্যান্য উপাদান থাকে। এগুলির সমন্বিত কাজের মাধ্যমে কম্পিউটিং, যোগাযোগ, সংকেত শনাক্তকরণ, মেমরি এবং বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়।
আধুনিক অধিকাংশ বৈদ্যুতিন যন্ত্রই সেমিকন্ডাক্টরের উপর নির্ভরশীল। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, গাড়ি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপগ্রহ এবং ডেটা সেন্টারে সেমিকন্ডাক্টর-ভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। সহজভাবে বললে, সেমিকন্ডাক্টর হল আধুনিক বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
সিলিকন থেকে সেমিকন্ডাক্টর চিপ
সিলিকন হল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর উপাদান। বালিতে প্রচুর পরিমাণে থাকা সিলিকা থেকে সিলিকন পাওয়া যায়। চিপ তৈরির কাজ শুরু হয় অত্যন্ত বিশুদ্ধ সিলিকন দিয়ে। এটিকে নলাকার ইনগটে পরিণত করা হয়। পরে এই ইনগট পাতলা ওয়েফারে কাটা হয় এবং পালিশ করা হয়। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্রে এই ওয়েফারের উপর শতাধিক নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া চালানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডিপোজিশন, ফটোলিথোগ্রাফি, এচিং এবং আয়ন ইমপ্লান্টেশন।
এই প্রক্রিয়াগুলির মাধ্যমে কোটি কোটি ট্রানজিস্টর ও অন্যান্য উপাদান তৈরির জন্য জটিল কাঠামো তৈরি হয়। ফটোলিথোগ্রাফির সময় আলো ব্যবহার করে ওয়েফারের উপর নির্দিষ্ট নকশা তৈরি করা হয়। এই নকশার মাধ্যমেই পরে ট্রানজিস্টর, আন্তঃসংযোগ এবং চিপের অন্যান্য অংশ তৈরি হয়। ট্রানজিস্টর হল চিপের অত্যন্ত ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক সুইচ। এগুলি বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। জটিল ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরির জন্য একই প্রক্রিয়া একাধিক স্তরে বারবার করা হয়।
এরপর তৈরি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইসগুলি Assembly, Testing, Marking and Packaging (ATMP) অথবা Outsourced Semiconductor Assembly and Test (OSAT) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। প্যাকেজিং চিপকে সুরক্ষিত রাখে এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন উপাদানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ করে দেয়। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, তৈরি ডিভাইসগুলি নির্ধারিত কার্যক্ষমতা ও গুণমানের মানযোগ্যতা পূরণ করছে।
সেমিকন্ডাক্টর নোড সম্পর্কে ধারণা
সেমিকন্ডাক্টর নোড একটি নির্দিষ্ট প্রজন্মের উৎপাদন প্রযুক্তিকে চিহ্নিত করে।
আগে ৯০ nm, ৪৫ nm এবং ২৮ nm-এর মতো নোডের নাম নির্দিষ্ট ভৌত মাপকে নির্দিষ্ট করতো। বর্তমানে নোডের নাম মূলত উৎপাদন প্রযুক্তির একটি নির্দিষ্ট প্রজন্মকে বোঝানোর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছোট নোডে বেশি সংখ্যক ট্রানজিস্টর বসানো, ভাল কার্যক্ষমতা বা কম শক্তি খরচ সম্ভব হতে পারে। তবে, ফলাফল সার্কিটের নকশা, উপকরণ, প্যাকেজিং এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রের উপরও নির্ভর করে।
উন্নত নোডগুলি বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ, এগুলি উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং এবং অত্যাধুনিক প্রসেসর তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে, পুরানো বা পরিণত নোডগুলিও গাড়ি, শিল্পক্ষেত্রের বৈদ্যুতিন, টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং বহু ভোগ্যপণ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত এখন প্রতিষ্ঠিত নোড থেকে আরও উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি পর্যন্ত সক্ষমতা তৈরি করছে।
সেমিকন্ডাক্টর কেন গুরুত্বপূর্ণ : কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি
অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সেমিকন্ডাক্টর এখন একটি কৌশলগত সম্পদ হিসাবে উঠে এসেছে। বর্তমানে তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। একাই তাইওয়ান আন্তর্জাতিক চিপ উৎপাদনের ৬০ শতাংশেরও বেশি এবং উন্নত চিপের প্রায় ৯০ শতাংশ উৎপাদন করে। এই কেন্দ্রীভূত উৎপাদন ব্যবস্থা নিরাপদ, বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিশীল সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
ভারতের জন্য দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা তৈরি করা শুধু শিল্পের সুযোগ নয়। আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো, জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা আরও বাড়ানো এবং কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
কোনও একটি দেশ সেমিকন্ডাক্টরের সম্পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ করে না। বিভিন্ন দেশ চিপ ডিজাইন, ফ্যাব্রিকেশন, যন্ত্রপাতি, উপকরণ, মেমরি ও প্যাকেজিং-এর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়। এই বিশেষায়িত ব্যবস্থায় উৎপাদন দক্ষতা বেড়েছে। তবে এর ফলে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। তাই ভারতের নীতিতে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা
ভারতের সেমিকন্ডাক্টর যাত্রা কৌশলগত সক্ষমতা তৈরি থেকে ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর দেশীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে এগিয়েছে। Semiconductor Laboratory (SCL)-এর মতো প্রাথমিক প্রতিষ্ঠানগুলি এই কাজের ভিত তৈরি করেছিল। সাম্প্রতিক নীতি উদ্যোগগুলি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কাজকে আরও গতি দিয়েছে। এর ফলে, সেমিকন্ডাক্টরের সম্পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের সক্ষমতা বাড়ছে।
Semicon 1.0 : ভিত তৈরি
ভারত সরকার ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৭৬,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দে Semicon 1.0 অনুমোদন করে। এর লক্ষ্য ছিল দেশে সেমিকন্ডাক্টর ও ডিসপ্লে উৎপাদনের একটি দেশীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর আওতায় Semiconductor Fabs এবং Display Fabs স্থাপনের জন্য পৃথক প্রকল্প শুরু করা হয়। Compound Semiconductors, Silicon Photonics, Sensors এবং Semiconductor ATMP/OSAT কেন্দ্র স্থাপনের জন্যও প্রকল্প নেওয়া হয়। পাশাপাশি Design Linked Incentive (DLI) প্রকল্প ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে চিপ নকশা, ফেব্রিকেশন, প্যাকেজিং এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি পোক্ত ভিত তৈরি হয়।
Semicon 2.0 : পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে তোলা
Semicon 1.0-এর তৈরি ভিতের উপর ভিত্তি করে ভারত সরকার এবছর জুলাই মাসে ১,২৭,৫০০ কোটি টাকার মোট বরাদ্দে Semicon 2.0 অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রকে দীর্ঘমেয়াদী ও ধারাবাহিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। Semicon 1.0-এর মাধ্যমে তৈরি সক্ষমতাকে আরও বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা গড়ে তোলার গতি বাড়ানো হবে।
Semicon 1.0-তে মূলত ফ্যাব এবং ATMP/OSAT কেন্দ্রের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। Semicon 2.0-তে যন্ত্র ও উপকরণ, ডিজাইন, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দুটি পর্যায় মিলিয়ে কাঁচামাল থেকে তৈরি চিপ পর্যন্ত পুরো মূল্যশৃঙ্খলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
Semicon 2.0-এর ছয়টি মূল স্তম্ভ হল: ডিজাইন, যন্ত্র ও উপকরণ, নতুন ফ্যাব স্থাপন, আরও উন্নত প্যাকেজিং, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। এর লক্ষ্য শুধু চিপ তৈরির শেষ পর্যায় নয়, দেশে চিপের সম্পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, কৌশলগত স্বনির্ভরতা এবং উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। আধুনিক শিল্পের ভিত্তি হয়ে ওঠা এই প্রযুক্তিতে ভারতের সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে।
সহায়ক নীতি ব্যবস্থা [১]
উৎপাদন, পরিকাঠামো, বিনিয়োগ, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি প্রগতিশীল নীতি ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর সংক্রান্ত লক্ষ্যগুলিকে সহায়তা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলি ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিন বস্তুর মূল্যশৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং সেমিকন্ডাক্টরে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার ভিত তৈরি করেছে।
National Policy on Electronics (NPE) 2019 - চিপসেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসহ Electronics System Design and Manufacturing (ESDM)-এর জন্য একটি সামগ্রিক নীতি কাঠামো তৈরি করেছে।
Scheme for Promotion of Manufacturing of Electronic Components and Semiconductors (SPECS) (2020) - দেশের বৈদ্যুতিন সামগ্রী উৎপাদন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে উপাদান, সাব-অ্যাসেম্বলি এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে মূলধনী ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক সুবিধা দেয়।
Modified Electronics Manufacturing Clusters Scheme (EMC 2.0) (2020) - বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম উৎপাদনের জন্য বিশ্বমানের পরিকাঠামো, সাধারণ সুবিধা এবং প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে সুবিধা তৈরিতে সহায়তা করে।
Production Linked Incentive (PLI) Scheme for Large Scale Electronics Manufacturing (2020) - দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে এবং মোবাইল ফোন ও উপাদান উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক সুবিধা দেয়।
Production Linked Incentive (PLI) Scheme 2.0 for Information Technology (IT) Hardware (2023) - IT হার্ডওয়্যারের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং এর মূল্যশৃঙ্খলে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণ করার লক্ষ্য রয়েছে। এর আওতায় ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, All-in-One Personal Computer এবং সার্ভারের দেশীয় উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হয়।
Electronics Components Manufacturing Scheme (2025) - ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে ৪০,০০০ কোটি টাকার বর্ধিত বরাদ্দের মাধ্যমে মূল্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন পর্যায়ে বিনিয়োগ আকর্ষণ করে শক্তিশালী উপাদান উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, Domestic Value Addition (DVA) বাড়বে।
Mobile Phone Manufacturing Scheme (2026) - দেশীয় মূল্য সংযোজন (DVA) বাড়ানো, মোবাইল উৎপাদনের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এই প্রকল্পের লক্ষ্য। ভারতীয় মোবাইল ব্র্যান্ডগুলিকেও এই উদ্যোগের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে।
Research, Development and Innovation Scheme - Semicon 2.0-এর আওতায় যোগ্য গবেষণা প্রকল্পগুলিকে সহায়তা করে এবং দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর উদ্ভাবনকে আরও শক্তিশালী করে।
Electronics Manufacturing-এর জন্য ১০০ শতাংশ Foreign Direct Investment (FDI) Policy বা প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ নীতি - আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি করে এবং ভারতকে আন্তর্জাতিক বৈদ্যুতিন ও সেমিকন্ডাক্টর মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে আরও যুক্ত করে।
এই উদ্যোগগুলি একটি শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শিল্পভিত্তি, বাজারের চাহিদা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করছে। এগুলি সেমিকন্ডাক্টর সংক্রান্ত প্রধান উদ্যোগগুলিকে আরও শক্তিশালী করছে এবং আন্তর্জাতিক বৈদ্যুতিন ও সেমিকন্ডাক্টর কেন্দ্র হিসাবে ভারতের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারতের পথে
অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্র দ্রুত এগিয়েছে। ২০২১ সালে দেশে কোনও বাণিজ্যিক চিপ উৎপাদন কেন্দ্র ছিল না। এই বছরের মধ্যে ১২টি ইউনিটের অনুমোদন মিলেছে এবং পাঁচটি ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এখন দেশের শতাধিক কলেজের পড়ুয়ারা চিপ ডিজাইনের কাজ করছেন।
Semicon 2.0 এই যাত্রার স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ। এটি নতুন করে শুরু হচ্ছে না। ইতিমধ্যে গড়ে ওঠা একটি কার্যকর ব্যবস্থাকে আরও পূর্ণাঙ্গ করে তুলছে। ফ্যাব ও প্যাকেজিং-এর পাশাপাশি, এখন যন্ত্র, উপকরণ, ডিজাইন, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদও এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। সামনের পথ সহজ নয়। চিপ উৎপাদন বিশ্বের অন্যতম জটিল শিল্প। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, নিখুঁত কাজ এবং ধারাবাহিক নীতি সহায়তা। Semicon 2.0 দীর্ঘমেয়াদে সেই সহায়তা দেবে। সাধারণ মানুষের জন্য এর সুফল হয়তো নীরবে আসবে, কিন্তু তা বাস্তব হবে। আরও বেশি বৈদ্যুতিন পণ্য ভারতে তৈরি হবে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাগুলিতে দূরের সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমবে। তরুণ ইঞ্জিনিয়াররা দেশের মধ্যেই উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। ছোট একটি চিপের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বড় সম্ভাবনা। ভারত এই চিপ দেশেই তৈরি করার সংকল্প নিয়েছে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Electronics and Information Technology
India Semiconductor Mission
Semiconductor Laboratory
Union Cabinet
Press Information Bureau (Factsheets and Backgrounders)
NITI Aayog
Indian Institute of Technology Madras
Indian Institute of Technology Kanpur
https://sathee.iitk.ac.in/sathee-jee/ncert-books/jee-ncert-books/jee-nb-phy-12/phy-12-chapter-14-semiconductor-electronics-materials-devices-and-simple-circuits/
Union Minister for Electronics and Information Technology
India Building Semiconductor Future
*****
PS/AL