প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
ব্রিকস (বিআরআইসিএস) বিজনেস ফোরাম ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ
প্রকাশিত:
11 SEP 2026 7:05PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মান্যবর অতিথিবৃন্দ,
ব্রিকস ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ,
উদ্ভাবক ও সুধীবৃন্দ,
নমস্কার!
ব্রিকস বিজনেস ফোরামে আপনাদের সকলকে উষ্ণ স্বাগত জানাই।
এ বছর আমরা ব্রিকস-এর যাত্রার বিশ বছর পূর্তি উদযাপন করছি। ২০০৬ সালে যখন এই গোষ্ঠীটি যাত্রা শুরু করেছিল, তখন এতে মাত্র চারটি দেশ ছিল। আজ, ব্রিকস এবং এর অংশীদার দেশগুলোকে নিয়ে আমাদের পরিবারটি একুশটি দেশের একটি বৃহৎ পরিবারে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে, ব্রিকস দেশগুলো বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ, আন্তর্জাতিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ২৫ শতাংশেরও বেশি অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। শুধু তাই নয়, এই সময়ে যেখানে আন্তর্জাতিক জিডিপি প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে ব্রিকস দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ। অর্থাৎ, বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় ব্রিকস-এর অর্থনৈতিক শক্তি প্রায় দ্বিগুণ গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্রিকস দেশগুলো বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবন ও সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও উঠে আসছে। তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোগ থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি—আমাদের দেশজুড়ে উদ্ভাবনের নতুন নতুন সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ব্রিকস-এর ক্রমবর্ধমান পরিসর, গতি এবং আশাবাদ আমাদের সবার মধ্যেই স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ভারতে আয়োজিত এই ফোরামটি এযাবৎকালের বৃহত্তম ব্রিকস বিজনেস ফোরাম।
বন্ধুগণ,
ব্রিকস-এর সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালনকালে ভারতের মূল প্রতিপাদ্য বা থিম হলো— "স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের লক্ষ্যে নির্মাণ"(বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন,কোঅপারেশন অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি)।
গত বারো বছর ধরে ভারত এই মন্ত্রটিকেই তার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নীতির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। স্থিতিস্থাপকতার কথা বলতে গেলে, ভারত জ্বালানি থেকে শুরু করে প্রযুক্তি—সর্বক্ষেত্রে তার সরবরাহ ব্যবস্থাকে(সাপ্লাই চেইন্স) আরও বৈচিত্র্যময় ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে। এই স্থিতিস্থাপকতাই ভারতকে বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বিশ্বকে আস্থা জোগাতে সক্ষম করে তুলেছে।
আমরা দ্রুতগতিতে আমাদের সড়ক, রেলপথ, বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোর সম্প্রসারণ করছি। একই সঙ্গে, জাহাজ নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো কৌশলগত খাতগুলোতে আমরা নতুন সক্ষমতা গড়ে তুলছি। এসব ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বব্যাপী ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তাই আমাদের আহ্বান— 'মেক ইন ইন্ডিয়া' (ভারতে তৈরি করুন), 'ইনোভেইট উইথ ইন্ডিয়া' (ভারতের সঙ্গে উদ্ভাবন করুন) এবং 'স্কেল ফর দ্য ওয়ার্ল্ড' (বিশ্বের জন্য পরিসর বাড়ান)।
বন্ধুগণ,
আজ ভারত এক স্টার্ট-আপ বিপ্লবের সাক্ষী হচ্ছে। ২ লক্ষেরও বেশি স্টার্ট-আপ এবং ১২০টিরও বেশি ইউনিকর্ন নিয়ে ভারত বিশ্বমানের সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে আসছে। 'ব্রিকস ভারত ইনোভেটস্ এক্সপো'-তে আপনারা এর এক ঝলক দেখতে পাবেন।
আমাদের স্টার্ট-আপগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে, গ্রিন হাইড্রোজেন ও ব্যাটারি নিয়ে কাজ করছে এবং প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এখন ব্রিকস-এর মাধ্যমেও আমাদের এই বিশ্বমানের উদ্ভাবনগুলিকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে হবে।
বন্ধুগণ,
ভারতের উদ্ভাবন-যাত্রার আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো বিশাল জনগোষ্ঠীর স্তরে উদ্ভাবন বা 'ইনোভেশন অ্যাট পপুলেশন স্কেল'। ভারতের 'ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস' (ইউপিআই) বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
আজ বিশ্বের মোট রিয়েল-টাইম পেমেন্টের ৫০ শতাংশই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এই ডিজিটাল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নতুন নতুন সমাধান গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা শিল্পজগৎ ও স্টার্ট-আপগুলির জন্য একটি উন্মুক্ত ইকোসিস্টেম বা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। আমরা গর্বিত যে অনেক দেশই ভারতের এই বিশ্বমানের ইকোসিস্টেম গ্রহণ করছে। ব্রিকস দেশগুলোর উদ্ভাবকরাও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের দেশের জন্য নতুন নতুন সমাধান তৈরি করতে পারেন।
বন্ধুগণ,
আজ যখন বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য বাধা বাড়ছে, তখন ভারত অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন গড়ে তুলছে। ২০১৪ সাল থেকে আমরা বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। ব্রিকস-এর ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই—বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণ করা।
তাই, আমাদের সভাপতিত্বকালে আমরা কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্মার্ট গ্রিডের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। স্টার্ট-আপ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে(এসএমই) বাজার ও অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করতে আমরা ‘ব্রিকস ইনকিউবেটর নেটওয়ার্ক’, ‘ব্রিকস এমএসএমই (অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ) পোর্টাল’ এবং ‘ব্রিকস স্টার্ট-আপ ইনোভেশন ফান্ড’-এর মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
আপনারা সবাই এই সহযোগিতার কাঠামো থেকে উপকৃত হতে পারেন এবং আমাদের দেশগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ ও মেধার আদান-প্রদান আরও বৃদ্ধি করতে পারেন।
বন্ধুগণ,
বৈশ্বিক বাণিজ্য তখনই এগিয়ে যেতে পারে যখন সমুদ্রপথ নিরাপদ থাকে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকে এবং নাবিকরা নিরাপদ থাকেন। এ কারণেই ভারত অবাধ নৌ-চলাচল এবং নাবিকদের নিরাপত্তার জোরালো সমর্থক।
‘ব্রিকস উইমেনস বিজনেস অ্যালায়েন্স’ বা নারী ব্যবসায়ী জোটও আমাদের ভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা চাই নারী উদ্যোক্তারা আমাদের প্রবৃদ্ধির যাত্রায় নেতৃত্ব দিন। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, ভারতে অনুষ্ঠিত এই জোটের বৈঠকে প্রায় ২০০ জন নারী ব্যবসায়ী নেত্রী অংশগ্রহণ করেছেন।
বন্ধুগণ,
ব্রিকস যখন তার তৃতীয় দশকে পদার্পণ করছে, তখন আমি ব্রিকস বিজনেস কাউন্সিলকে কিছু বিষয় বিবেচনা করার আহ্বান জানাব... আপনারা কি ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যকার শীর্ষ ১০টি বাণিজ্য বাধা দূর করার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেন? আমরা কি প্রতি বছর ১০০টি ব্রিকস স্টার্ট-আপকে অন্য ব্রিকস দেশগুলোর বাজারে তাদের কর্মসূচি সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারি? আমরা কি আমাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১,০০০টি নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারি? এই তিনটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে আমাদের প্রতি বছরের অগ্রগতির পর্যালোচনা করা উচিত।
আসুন, আমরা ব্রিকসের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিই এবং আমাদের সম্মিলিত শক্তিকে বৈশ্বিক সমাধানে পরিণত করি। ব্রিকস এগিয়ে যাক এবং বিশ্বকেও এগিয়ে যেতে সহায়তা করুক।
আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।
*****
SC/SB/DM
(রিলিজ আইডি: 2309414)
ভিজিটরের কাউন্টার : 2