পরিবেশওঅরণ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

গভীর সমুদ্র অভিযান মিশনের আওতায় নতুন গভীর সমুদ্রজাতীয় স্কেট প্রজাতির সন্ধান পেল জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া

প্রকাশিত: 01 SEP 2026 2:20PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরে গভীর সমুদ্রীয় স্কেটের একটি নতুন প্রজাতি Dipturus dhritiae-র সন্ধান পেয়েছেন জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ZSI)-র বিজ্ঞানীরা। আইসিএআর-সেন্ট্রাল মেরিন ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (CMFRI) এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় প্রজাতিটির সন্ধান ও বর্ণনা করা হয়েছে।

পৃথিবী বিজ্ঞান মন্ত্রকের (MoES) প্রধান গভীর সমুদ্র অভিযান মিশন-এর অধীনে পরিচালিত অনুসন্ধানের সময় এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হয়েছে। গবেষণাটি “Deep-Sea Chondrichthyans of India: Taxonomy, Distribution, Biology and Current Status” প্রকল্পের অংশ।

নতুন প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

শ্রেণীবিন্যাস: নতুন প্রজাতিটির নাম Dipturus dhritiae। সাধারণভাবে এটি আরবিয়ান স্কেট নামে পরিচিত। এর সর্বাধিক নথিভুক্ত দৈর্ঘ্য ১৩১.৫ সেন্টিমিটার। লেজ বরাবর পাঁচটি স্বতন্ত্র কাঁটার সারি এই প্রজাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বাসস্থান ও বিস্তার: কেরলের উপকূল এবং ওয়েজ ব্যাঙ্ক অঞ্চলের গভীর সমুদ্র থেকে ৪০০ থেকে ৬০০ মিটার গভীরতায় প্রজাতিটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

জিনগত বৈশিষ্ট্য: সম্পূর্ণ মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনোমের ক্রম নির্ণয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে, D. dhritiae তার নিকটতম প্রজাতি ট্রাভানকোর স্কেট (Dipturus johannisdavisi) থেকে জিনগতভাবে স্বতন্ত্র। দুই প্রজাতির জিনগত ক্রমের পার্থক্য ৩.৮ থেকে ৪.৭ শতাংশ।

দীর্ঘদিনের ভুল চিহ্নিতকরণ: চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রজাতিটিকে Dipturus springeri হিসাবে ভুল করা হয়েছিল। গভীর সমুদ্রের চিংড়ি ধরার বাণিজ্যিক ট্রলারে আনুষঙ্গিকভাবে জালে ধরা পড়া মাছের মধ্যে এই প্রজাতিটি নিয়মিত পাওয়া যেত।

নামকরণ ও সংরক্ষণের গুরুত্ব

নতুন স্কেট প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মানে। তিনি জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার প্রথম মহিলা অধিকর্তা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত গবেষণায় তাঁর নেতৃত্বকে সম্মান জানাতেই এই নামকরণ।

জেডএসআই-এর অধিকর্তা এবং গভীর সমুদ্র কর্মসূচির প্রধান অনুসন্ধানকারী ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গভীর সমুদ্রের বিশাল অংশ এখনও অনাবিষ্কৃত। প্রতিটি সমীক্ষা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে।

গভীর সমুদ্রের হাঙর ও শংকর বা রে জাতীয় মাছের কিছু জৈবিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই কারণে, অতিরিক্ত আহরণের ফলে তারা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এদের প্রজননের হার কম। সংখ্যা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগে। বাণিজ্যিক মৎস্য আহরণে আনুষঙ্গিকভাবে ধরা পড়ার আশঙ্কাও বেশি। সংখ্যা কমে যাওয়ার আগেই এই প্রজাতিগুলিকে খুঁজে বের করা জরুরি। এর মাধ্যমে কার্যকর এবং নির্দিষ্ট সংরক্ষণ কৌশল গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বাসস্থান চিহ্নিতকরণ

এই উদ্যোগের অংশ হিসাবে গবেষক দলটি ভারতের স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে কোল্লাম স্লোপ ইম্পর্ট্যান্ট শার্ক অ্যান্ড রে এরিয়া (ISRA) চিহ্নিত করেছে। গবেষক দলে ছিলেন জেডএসআই-এর ড. কে. কে. বিনীশ এবং অনিল কাশিনাথ, সিএমএফআরআই-এর অখিলেশ কে. ভি. এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড. ডেভিড এ. এবার্ট। এই অঞ্চলে D. dhritiae-র সন্ধান গভীর সমুদ্রের ঝুঁকিপূর্ণ  বাসঅঞ্চলগুলির উপর নজরদারি এবং সেগুলির সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে সুস্পষ্ট করেছে।

গভীর সমুদ্র অভিযান মিশনের অধীনে জেডএসআই তার শ্রেণীবিন্যাস সংক্রান্ত এবং তার-ই পাশাপাশি, আণবিক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় জলসীমায় আরও নতুন নতুন কার্টিলেজ বা কোমলাস্থি যুক্ত মাছের প্রজাতি আবিষ্কারের প্রত্যাশা রয়েছে।

****

SSS/SS/Kol/1.9.26…


(রিলিজ আইডি: 2305527) ভিজিটরের কাউন্টার : 8
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English