PIB Backgrounder
জাতীয় প্রাণী রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NADCP)
“ভারতের গবাদি পশুর জন্য রোগমুক্ত ভবিষ্যত”
प्रविष्टि तिथि:
22 AUG 2026 10:24AM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২২ আগস্ট ২০২৬
রোগমুক্ত পশুপালন ক্ষেত্র গড়ে তোলা
২০১৯ সালে শুরু হওয়া জাতীয় প্রাণী রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NADCP) ভারতের অন্যতম বৃহৎ পশুস্বাস্থ্য উদ্যোগ। এই কর্মসূচির লক্ষ্য দেশজুড়ে টিকাকরণ ও নজরদারির মাধ্যমে ক্ষুরা রোগ (FMD) এবং ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা। কর্মসূচির আওতায় এখনও পর্যন্ত ১৪৭.১৬ কোটি ক্ষুরা রোগের টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, ৮.০৪ কোটি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। উন্নত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ফলে রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। ক্ষুরা রোগের রিপোর্ট হওয়া প্রাদুর্ভাব ২০১৯ সালের ১৩২টি থেকে ২০২৫ সালে ৪০টিতে নেমে এসেছে। ব্রুসেলোসিসের প্রাদুর্ভাবও ২০১৯ সালের ২২টি থেকে ২০২৫ সালে ১৫টিতে কমেছে। NSP অ্যান্টিবডির উপস্থিতির হার ২০১৯ সালের ২০.৮ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৮.১ শতাংশে নেমেছে। প্রমাণভিত্তিক নজরদারি এবং ধারাবাহিক রোগ নিয়ন্ত্রণের ফলে ক্ষুরা রোগের সংক্রমণ কমেছে। গত তিন বছরে দেশে Asia-1 সেরোটাইপের কারণে ক্ষুরা রোগের কোনও প্রাদুর্ভাব ঘটেনি।
এই কর্মসূচিকে শক্তিশালী পশুচিকিৎসা পরিকাঠামো, ডিজিটাল পশুসম্পদ তথ্যভাণ্ডার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং One Health উদ্যোগ সহায়তা করছে। ভারত পশুধন পোর্টাল-এ ৩৯ কোটিরও বেশি গবাদি পশুর নাম নথিভুক্ত হয়েছে। ৪,০১৯টি Mobile Veterinary Unit-এর মাধ্যমে ১৩৬ লাখ কৃষক বাড়ির দোরগোড়ায় পরিষেবা পেয়েছেন। মোট ২৭৬ লাখ পশুর চিকিৎসা হয়েছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল নজরদারি এবং মহামারী মোকাবিলার প্রস্তুতিকে একত্রিত করে NADCP ভারতে আরও রোগনিরাপদ পশুপালন ক্ষেত্র গড়ে তুলছে।
রোগমুক্ত পশুপালন ক্ষেত্রের দিকে
ভারতের কৃষি ও সহযোগী ক্ষেত্রগুলিতে গ্রামীণ জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস গবাদি পশু। ২০তম পশুসম্পদ গণনা ২০১৯ অনুযায়ী, দেশে মোট পশুসম্পদের সংখ্যা ৫৩৫.৭৮ মিলিয়ন। এর মধ্যে গবাদি পশুর সংখ্যা ৩০২.৭৯ মিলিয়ন। বিপুল পশুসম্পদের কারণে পশুর স্বাস্থ্য ও কল্যাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, ক্ষুরা রোগ এবং ব্রুসেলোসিসের মতো সংক্রামক রোগ দীর্ঘদিন ধরে দুধ উৎপাদন কমিয়ে, প্রজনন ব্যাহত করে এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ তৈরি করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছে।
ক্ষুরা রোগ একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল ও শূকরের মতো দ্বিখুরযুক্ত পশু এই রোগে আক্রান্ত হয়। এই রোগে দুধ উৎপাদন কমে, পশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মক্ষমতা কমে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশের সুযোগ সীমিত হয়। সমস্ত সংবেদনশীল পশুর নিয়মিত গণটিকাকরণ ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।
ব্রুসেলোসিস গরু ও মহিষের একটি প্রজননজনিত রোগ। Brucella abortus ব্যাকটেরিয়া এই রোগের কারণ। মূলত পশুর প্রজনন অঙ্গ এই রোগে আক্রান্ত হয়। ফলে প্রজনন ক্ষমতা এবং দুগ্ধদান ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে দুধ ও মাংস উৎপাদনে। গবাদি পশুর ক্ষেত্রে এই রোগের নিরাময়মূলক চিকিৎসা নেই। টিকাকরণই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা।
পশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে সরকার ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় প্রাণী রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি শুরু করে। দেশজুড়ে টিকাকরণের মাধ্যমে ক্ষুরা রোগ এবং ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করাই এর লক্ষ্য। এই কর্মসূচিতে বছরে দু’বার সমস্ত গবাদি পশুকে ক্ষুরা রোগের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ টিকাকরণ এবং ৪ থেকে ৮ মাস বয়সী স্ত্রী গবাদি পশুর বাছুরকে জীবনে একবার ব্রুসেলোসিসের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
NADCP-র আওতায় সমন্বিত পদক্ষেপে পশুর রোগের বোঝা কমানো
এই কর্মসূচিতে যোগ্য সমস্ত পশুকে বছরে দু’বার ক্ষুরা রোগের টিকা দেওয়া হয়। বস্তুত, ৪ থেকে ৮ মাস বয়সী স্ত্রী গবাদি পশুর বাছুরকে জীবনে একবার-ই ব্রুসেলোসিসের টিকা দেওয়া হয়। রোগের নজরদারি এবং শীতল শৃঙ্খল ব্যবস্থার জন্যও সহায়তা দেওয়া হয়।
কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলি হল:
প্রতি ছ’মাসে সমস্ত সংবেদনশীল গবাদি পশু ও ছোট জাবরকাটা পশুকে ক্ষুরা রোগের টিকা দেওয়া।
কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ।
পশুর কানে ট্যাগ লাগানো, নথিভুক্তকরণ এবং পোর্টাল-এ তথ্য আপলোড করা।
টিকাকরণের আগে ও পরে নমুনা পরীক্ষা করে সেরো-নজরদারি এবং পর্যবেক্ষণ।
গুণমান বজায় রেখে টিকা ও শীতল শৃঙ্খল সরঞ্জাম সংগ্রহ।
রোগের প্রাদুর্ভাবের তদন্ত, ভাইরাস শনাক্তকরণ ও শ্রেণীবিন্যাস এবং কোয়ারান্টাইন ও চেকপোস্টের মাধ্যমে পশু চলাচল নিয়ন্ত্রণ।
নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ এবং কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়ন।
টিকাদানকারীদের পারিশ্রমিক প্রদান। প্রতি ডোজে ন্যূনতম ₹৩ পারিশ্রমিক নির্ধারিত।
সেরো-নজরদারি ও সেরো-পর্যবেক্ষণ
সেরো-নজরদারির মাধ্যমে জনসংখ্যার স্তরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। এর মাধ্যমে রোগের সংস্পর্শে আসার মাত্রা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বোঝা যায়। সেরো-পর্যবেক্ষণে দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্টিবডির মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অবস্থা বোঝা যায়।
পশুস্বাস্থ্য ও রোগ নিয়ন্ত্রণে আর্থিক অঙ্গীকার
NADCP-র সাফল্যের ভিত্তিতে সরকার পশুর রোগ নিয়ন্ত্রণ, পশুচিকিৎসা পরিষেবা এবং পশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে LHDCP-র আওতায় একত্রিত করেছে। সংশোধিত LHDCP-র অধীনে NADCP, Livestock Health and Disease Control (LH&DC) উপাদান এবং পশু ঔষধি উদ্যোগকে একটি একক ছাতার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে, পশুস্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা সম্ভব হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে Livestock Health and Disease Control Programme-এর মোট বরাদ্দ ₹২,০১০ কোটি।
ক্ষুরা রোগ ও ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণে জাতীয় উদ্যোগ ও ফলাফল
দেশজুড়ে ধারাবাহিক টিকাকরণ, নজরদারি এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে NADCP-র আওতায় ব্যাপক হারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। এর ফলে পরিমাপযোগ্য ফলাফলও পাওয়া গেছে।
ক্ষুরা রোগ (FMD)
NADCP-র আওতায় এখনও পর্যন্ত ১৪৭.১৬ কোটি ক্ষুরা রোগের টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, ৮.০৪ কোটি কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
পরিযায়ী পশুর মধ্যে ক্ষুরা রোগের ঝুঁকি কমানো
২০২৪ সাল থেকে যাযাবর ভেড়া ও ছাগলের ক্ষেত্রেও ক্ষুরা রোগের টিকাকরণ শুরু হয়েছে। হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পরিযায়ী পশুর পাল এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। পরিযায়ী পশুর চলাচলের পথে রোগের সংক্রমণ রোধ করাই এর লক্ষ্য।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাদুর্ভাব হ্রাস
FMD Type O: ভারতে এবং বিশ্বের বহু অঞ্চলে সবচেয়ে সাধারণ ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে থাকা সেরোটাইপ। এটি ঘন ঘন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটায়।
FMD Type A: অত্যন্ত পরিবর্তনশীল সেরোটাইপ। দ্রুত পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের ভাইরাসের জন্য উপযুক্ত টিকা প্রয়োজন।
FMD Type Asia1: মূলত দক্ষিণ এশিয়ায়, ভারত-সহ, পাওয়া যায়। Type O-এর তুলনায় এর বিস্তার কম।
টিকাকরণের পর অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া নির্ণয়ে পরিচালিত সেরো-পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ক্ষুরা রোগের O, A এবং Asia1 সেরোটাইপের বিরুদ্ধে গড় সুরক্ষামূলক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যথাক্রমে ৭৮.১ শতাংশ, ৭১.৭ শতাংশ এবং ৭৭.৬ শতাংশ। এই হার শক্তিশালী পশুপালের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্দেশ করে।
উন্নত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ফলে রোগের প্রকোপ দ্রুত কমেছে। ক্ষুরা রোগের রিপোর্ট হওয়া প্রাদুর্ভাব ২০১৯ সালের ১৩২টি থেকে ২০২৫ সালে মাত্র ৪০টিতে নেমেছে। দেশজুড়ে ব্যাপক টিকাকরণের কার্যকারিতা এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্রুসেলোসিস
NADCP-র আওতায় ৪ থেকে ৮ মাস বয়সী স্ত্রী গবাদি পশুর বাছুরকে জীবনে একবার ব্রুসেলোসিসের টিকা দেওয়া হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাদুর্ভাব হ্রাস
২০২৫ সালের টিকাকরণ-পরবর্তী পর্যবেক্ষণে গরুর বাছুরের মধ্যে সেরোকনভার্সনের হার ৭৫.৬৩ শতাংশ এবং মহিষের বাছুরের মধ্যে ৬৭.১৭ শতাংশ। টিকা নেওয়া পশুর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার হার এই পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়েছে। কার্যকর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ফলে, ব্রুসেলোসিসের প্রকোপ দ্রুত কমেছে। রিপোর্ট হওয়া প্রাদুর্ভাব ২০১৯ সালের ২২টি থেকে ২০২৫ সালে ১৫টিতে নেমেছে। কর্মসূচির কার্যকর হস্তক্ষেপের ইতিবাচক ফল এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট।
গবাদি পশুর উৎপাদনশীলতা ও দুধ উৎপাদনে উন্নতি
দেশীয় ও অ-বর্ণনির্দিষ্ট গবাদি পশুর উৎপাদনশীলতা: ২০১৪-১৫ সালে প্রতি পশু বছরে ৯২৭ কিলোগ্রাম থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ১,৩৪৩.২ কিলোগ্রাম হয়েছে। বৃদ্ধি ৪৪.৮৯ শতাংশ।
মহিষের উৎপাদনশীলতা: একই সময়ে প্রতি পশু বছরে ১,৮৮০ কিলোগ্রাম থেকে বেড়ে ২,৩৬৫.২ কিলোগ্রাম হয়েছে। বৃদ্ধি ২৫.৮০ শতাংশ।
গবাদি পশুর গড় উৎপাদনশীলতা: ২০১৪-১৫ সালে প্রতি পশু বছরে ১,৬৪০ কিলোগ্রাম থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ২,২৫০ কিলোগ্রাম হয়েছে। বৃদ্ধি ৩৬.৬৩ শতাংশ। বিশ্বের যে কোনও দেশের তুলনায় এটি সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার।
দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি: ২০১৪-১৫ সালে ভারতের দুধ উৎপাদন ছিল ১৪৬.৩১ মিলিয়ন টন। ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে ২৪৭.৮৭ মিলিয়ন টন হয়েছে। এক দশকে বৃদ্ধি ৬৯.৪ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি পশু বছরে গড় দুধ উৎপাদন ৩,০০০ কিলোগ্রামে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তা
গবেষণা ও নজরদারি সহায়তা
ক্ষুরা রোগ এবং ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণে ICAR-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। টিকা গবেষণা, গুণমান পরীক্ষা, নজরদারি, সেরো-নজরদারি, রোগের মডেল তৈরি এবং রাজ্যভিত্তিক নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই সহায়তা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে, কর্মসূচির বাস্তবায়ন বিজ্ঞানভিত্তিক এবং কার্যকর হচ্ছে।
কেন্দ্রীভূত টিকা সংগ্রহ এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ
রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে টিকাকরণ সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং শীতল শৃঙ্খল পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। Husbandry Infrastructure Development Fund -এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত উদ্যোগ, বেসরকারি সংস্থা এবং অন্যান্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে পশুচিকিৎসা টিকা ও ওষুধ উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ে উঠছে।
পশুচিকিৎসা পরিকাঠামো ও পরিষেবা প্রদান
শেষ প্রান্তে পশুচিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে পশুচিকিৎসা কেন্দ্র এবং Mobile Veterinary Unit শক্তিশালী করা হচ্ছে। মোট ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ৪,০১৯টি Mobile Veterinary Unit কাজ করছে। ১৯৬২ টোল-ফ্রি নম্বরের মাধ্যমে বাড়ির দোরগোড়ায় পশুচিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৩৬ লাখ কৃষক এই পরিষেবা পেয়েছেন। মোট ২৭৬ লাখ পশুর চিকিৎসা হয়েছে।
ভারত পশুধন পোর্টাল-এর মাধ্যমে ডিজিটাল সংযুক্তিকরণ
ভারত পশুধন পোর্টাল-এ পশুর নথিভুক্তকরণ, ক্ষুরা রোগ এবং ব্রুসেলোসিসের টিকাকরণের তথ্য একত্রিত করা হয়েছে। প্রতিটি পশুর জন্য ১২ সংখ্যার একটি অনন্য Tag ID দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৯ কোটিরও বেশি পশু এই পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে বাস্তব সময়ে নজরদারি, উন্নত অনুসরণযোগ্যতা এবং পশুসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচির আরও স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক বিশ্লেষণ, টিকাকরণের অনুসরণযোগ্যতা, বাস্তব সময়ের ড্যাশবোর্ড এবং প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা রোগের নজরদারি ও সম্পদ বরাদ্দ আরও শক্তিশালী করতে পারে।
সচেতনতা ও কৃষকের অংশগ্রহণ
Multi-Purpose Artificial Insemination Technicians in Rural India (MAITRIs)-এর মাধ্যমে কৃষকের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত আর্থিক সহায়তায় ৩৯,৮১০ জন প্রযুক্তিবিদকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় One Health মিশন
One Health পদ্ধতি মানুষ, পশু এবং পরিবেশের স্বাস্থ্যের পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে স্বীকার করে। প্রাণীর রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে NADCP জুনোটিক রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের যথাযথ ব্যবহার উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি এবং মহামারী মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি ও সক্ষমতাও বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর Science, Technology and Innovation Advisory Council (PM-STIAC) ২০২২ সালের ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ২১তম বৈঠকে জাতীয় One Health মিশন প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। বিভিন্ন মন্ত্রকের সমন্বিত উদ্যোগে এই মিশন দেশে চলা সমস্ত One Health কার্যক্রমকে সমন্বয়, সহায়তা এবং একত্রিত করবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ঘাটতি পূরণের কাজও করবে।
NDDB-র ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণ মডেলেও টিকাকরণ, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শক্তিশালী জৈব-নিরাপত্তা, জনসচেতনতা এবং বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মানুষের ব্রুসেলোসিস অনেক সময় শনাক্ত হয় না। ফলে, এই সমন্বিত ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রমবর্ধমান রোগের ঝুঁকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশের মধ্যে One Health মানুষ, পশু এবং বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষায় একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতি।
মহামারী মোকাবিলায় পশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা শক্তিশালীকরণ: Pandemic Fund Project
২০২৪ সালে সরকার “Animal Health Security Strengthening in India for Pandemic Preparedness and Response” শীর্ষক Pandemic Fund Project শুরু করে। এটি G20 Pandemic Fund-এর সহায়তায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি উদ্যোগ। Asian Development Bank (ADB), Food and Agriculture Organization (FAO) এবং বিশ্ব ব্যাংক-এর অংশীদারিত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই প্রকল্প NADCP-র পরিপূরক হিসাবে পশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে। মহামারী মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়াতে রোগের নজরদারি উন্নত করা হচ্ছে। জিনগত এবং পরিবেশগত নজরদারিও এর আওতায় রয়েছে। পরীক্ষাগারের পরিকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে। আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতাও বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে জুনোটিক এবং আন্তঃসীমান্ত পশুরোগ দ্রুত শনাক্ত এবং সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগের আওতায় সরকার ভারতে পশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ করেছে।
Standard Veterinary Treatment Guidelines (SVTG): বিজ্ঞানভিত্তিক পশুচিকিৎসা পদ্ধতি, ওষুধের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের দায়িত্বশীল পদ্ধতির জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো। এটি Antimicrobial Resistance-এর জাতীয় কর্মপরিকল্পনাকেও সহায়তা করে।
Crisis Management Plan (CMP) for Animal Diseases: পশুরোগের প্রাদুর্ভাবের সময় প্রস্তুতি এবং দ্রুত পদক্ষেপের জন্য একটি জাতীয় কাঠামো। সময়মতো রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
এই নথিগুলি পশুচিকিৎসক, নীতিনির্ধারক এবং মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে। পশুস্বাস্থ্য সংকটের সময় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এবং উন্নত রোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এগুলি ব্যবহার করা হবে।
ভারতের পশুসম্পদ সুরক্ষা
NADCP ভারতের অন্যতম বিস্তৃত এবং তথ্যভিত্তিক পশুস্বাস্থ্য কর্মসূচি হিসাবে উঠে এসেছে। দেশজুড়ে ধারাবাহিক টিকাকরণ, শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা, ডিজিটাল সংযুক্তিকরণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তার মাধ্যমে কর্মসূচি ক্ষুরা রোগ ও ব্রুসেলোসিসের প্রকোপ কমাতে সক্ষম হয়েছে। রোগের প্রাদুর্ভাবের দ্রুত পতন, পশুপালের উন্নত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং গবাদি পশুর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণের সরাসরি প্রভাব কৃষকের অর্থনীতি, পুষ্টি এবং জীবিকায় পড়ছে।
পশুরোগ দ্রুত শনাক্ত হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের দায়িত্বশীল ব্যবহার বাড়ে। ভবিষ্যতের জুনোটিক মহামারীর বিরুদ্ধে জাতীয় প্রস্তুতিও শক্তিশালী হয়।
ভবিষ্যতের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে ক্ষুরা রোগমুক্তির আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে ধাপে ধাপে সামঞ্জস্য, পরীক্ষাগারের স্বীকৃতি সম্প্রসারণ, জিনগত নজরদারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক রোগ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ, সর্বঝতু ও জলবায়ু-সহনশীল নজরদারি ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী One Health সমন্বয়।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পশু টিকাকরণ কর্মসূচি থেকে উচু করে ডিজিটাল রোগ নজরদারি ব্যবস্থায় পৌঁছে যাওয়া- NADCP একটি স্বাস্থ্যবান, উৎপাদনশীল এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পশুপালন ক্ষেত্রের ভিত গড়ে দিয়েছে। বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর পথে ভারত এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে পশুস্বাস্থ্যে ধারাবাহিক বিনিয়োগ খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের সমৃদ্ধি এবং মহামারী মোকাবিলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তথ্যসূত্র
Ministry of Fisheries, Animal Husbandry & Dairying
https://bharatpashudhan.ndlm.co.in/
https://www.dahd.gov.in/schemes/programmes/nadcp
https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2212290®=3&lang=2
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2101856
https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=1937850
https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2117330
https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2068146
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2157899®=3&lang=2
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/185/AU3729_txHX3D.pdf?source=pqals
https://sansad.in/getFile/annex/268/AU1181_cZK9ZJ.pdf?source=pqars
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/185/AS371_0BKEvo.pdf?source=pqals
https://www.nddb.coop/sites/default/files/pdfs/NDDB_AR_2023_24_Eng.pdf
https://sansad.in/getFile/annex/270/AS349_IOMzfo.pdf?source=pqars
https://static.pib.gov.in/WriteReadData/userfiles/key%20results.pdf
https://www.dahd.gov.in/sites/default/files/2026-04/AnnualReport2025-26.pdf
Ministry of Health and Family Welfare
https://www.psa.gov.in/oneHealthMission
Office of the Principal Scientific Advisor to the Government of India
https://psa.gov.in/CMS/web/sites/default/files/psa_custom_files/Anthology%20of%20S%26T%20Activities_compressed%20%281%29.pdf
Cabinet
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2108419®=3&lang=2
World Health Organization
https://www.who.int/health-topics/one-health#tab=tab_1
Click to see pdf
****
SSS/SS.......
(रिलीज़ आईडी: 2302293)
आगंतुक पटल : 11