PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

ভারতের নারকেল

জীবনদায়ী বৃক্ষ এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি

प्रविष्टि तिथि: 18 AUG 2026 11:51AM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৮ অগাস্ট, ২০২৬

 

ভারতের নারকেল ক্ষেত্র গ্রামীণ জীবিকা, কৃষির উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। প্রায় ৩ কোটি মানুষ, তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি কৃষক, এই ক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল। নারকেল উৎপাদনে ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে প্রথম স্থানে রয়েছে। নারকেল চাষের জমির পরিমাণে কেরল এগিয়ে। উৎপাদনে তামিলনাড়ু এবং উৎপাদনশীলতায় অন্ধ্রপ্রদেশ শীর্ষে রয়েছে। ভারতের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় ঐতিহ্যবাহী নারকেলজাত পণ্যের পাশাপাশি, ভার্জিন নারকেল তেল, নারকেলের দুধ এবং অ্যাক্টিভেটেড কার্বনের মতো মূল্য সংযোজিত পণ্য যুক্ত হয়েছে।

সরকার মূলত নারকেল উন্নয়ন পর্ষদের মাধ্যমে নারকেল ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ২,১৭৫ হেক্টর জমি নতুন করে নারকেল চাষের আওতায় এসেছে। ১,৬৭২ হেক্টর জমিতে পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ নারকেল ক্ষেত্রের সুস্থায়ী উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় বাড়াতে নারকেল উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে উৎপাদন, মূল্য সংযোজন, রফতানি এবং জীবিকা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতের নারকেল ক্ষেত্র এগিয়ে চলেছে।

নারকেল : জীবিকা ও সাংস্কৃতিক সম্পদ

‘কল্পবৃক্ষ’ নামে শ্রদ্ধেয় নারকেল গাছ মানুষের জীবনের প্রয়োজনীয় বহু সামগ্রী জোগায়। ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে নারকেল গভীরভাবে যুক্ত। বিভিন্ন সভ্যতায় রকমারি ব্যবহারের জন্য নারকেল গাছের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এর বহুমুখী ব্যবহারই এই প্রতীকের স্থায়িত্বের মূল কারণ। নারকেল থেকে খাদ্য, পানীয়, ওষুধ, তন্তু, কাঠ, জ্বালানি এবং বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল পাওয়া যায়। এই সম্পদগুলি বহু পরিবার, ঐতিহ্যবাহী প্রথা এবং মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত একটি ক্রমবর্ধমান শিল্পব্যবস্থাকে সহায়তা করে।

ভারতে নারকেল চাষের সুপ্রাচীন ইতিহাস প্রায় ৩ হাজার বছরের। আজও গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নারকেল চাষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রায় ৩ কোটি মানুষ, তাঁদের মধ্যে ১ কোটি কৃষক, নারকেল ক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল। গ্রামীণ জীবিকার ক্ষেত্রে তাই নারকেলের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রধানত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরাই নারকেল চাষ করেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সঙ্গে নারকেল চাষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ছত্তিশগড়ে নারকেল চাষের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। সেখানে কৃষকরা জীবিকার একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে নারকেল চাষ গ্রহণ করতে শুরু করেছেন।

ছত্তিশগড়ে নারকেলভিত্তিক বহুস্তরীয় চাষ

ছত্তিশগড়ের বস্তার মালভূমিতে কৃষকরা ঐতিহ্যগতভাবে ধান, বিভিন্ন ধরনের বাজরা, ভুট্টা এবং অন্যান্য স্বল্পমেয়াদী ফসলের উপর নির্ভর করতেন। নারকেল উন্নয়ন পর্ষদের কোণ্ডাগাঁওয়ের ডিএসপি ফার্মের উদ্যোগে ধীরে ধীরে নারকেল চাষ একটি সম্ভাবনাময় জীবিকার বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণ নারকেল গাছের মাঝের ফাঁকা জমিতে উপযুক্ত আন্তঃফসল চাষের পদ্ধতি শেখানো হয়েছে। নারকেল গাছে ফলন শুরু হওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতি কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ দিয়েছে।

ছত্তিশগড়ে নারকেলভিত্তিক বহুস্তরীয় চাষের উদাহরণ

বাঁকাওয়ান্ড ব্লকের ৩৬ বছর বয়সি এমবিএ স্নাতক শ্রী ঈশাংশ সিং রাঠোর এই উদ্যোগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা ঈশাংশ সিং কর্পোরেট ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন। নারকেল উন্নয়ন পর্ষদের কারিগরি পরামর্শ পাওয়ার পর তিনি পরিকল্পিতভাবে নারকেল চাষ শুরু করেন। তাঁর জমিতে ২,৫০০টি নারকেল গাছ রয়েছে। অধিকাংশই খর্বাকৃতি প্রজাতির। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি গাছে ফলন শুরু হয়েছে।

শ্রী রাঠোর নারকেল বাগানে বহুস্তরীয় চাষ পদ্ধতিতে আনারস, ড্রাগন ফল, আম, লেবুজাতীয় ফল, কলা, পেয়ারা, পেঁপে, কফি ও মরশুমি সবজি চাষ করছেন। নারকেল থেকে বছরে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা এবং আন্তঃফসল থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আয় করছেন। তাঁর সাফল্য বস্তারের কৃষকদের অনুপ্রাণিত করছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নারকেল অর্থনীতিতে ভারত

ভারত আন্তর্জাতিক নারকেল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। নারকেল উৎপাদনে ভারত প্রথম এবং চাষের জমির পরিমাণে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মোট উৎপাদনের ৩১.২৪ শতাংশ এবং চাষের জমির ১৭.৯০ শতাংশ ভারতের দখলে। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে ২১.৯ লক্ষ হেক্টর জমি থেকে ভারতে প্রায় ২০,৩০১.২২ মিলিয়ন নারকেল উৎপাদিত হয়েছে। গড় উৎপাদনশীলতা ছিল হেক্টরপ্রতি ৯,২৪৯টি নারকেল।

দেশের মধ্যে কেরলমে নারকেল চাষের জমির পরিমাণ সর্বাধিক। প্রায় ৭.৫৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫,১৪৯.৮৭ মিলিয়ন নারকেল উৎপাদিত হয়েছে। নারকেল উৎপাদনে তামিলনাড়ু এগিয়ে। উৎপাদনশীলতায় অন্ধ্রপ্রদেশ প্রথম। এরপর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু।

প্রাথমিক উৎপাদনের পাশাপাশি, নারকেল ক্ষেত্র কৃষিপণ্য রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ২১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার কাজ করছে।

এই লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের নারকেলজাত পণ্যের রফতানি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ সালে নারকেলজাত পণ্যের রপ্তানি  হয়েছে ৭,০৩৮.৩৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৭৯৪.৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের বছরের ৪,৩৪৯.০৩ কোটি টাকার তুলনায় এই রপ্তানি ৬২ শতাংশ বেড়েছে। ২০০১-০২ সালে মাত্র ২৫.৩ কোটি টাকার রপ্তানির তুলনায় এই বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। সেই সময় রপ্তানি মূলত নারকেলের খোলের কাঠকয়লা, নারকেল তেল, নারকেল এবং শুকনো নারকেলের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

সময়ের সঙ্গে ভারতের নারকেল রপ্তানি পণ্যের তালিকায় বৈচিত্র্য এসেছে। ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি, ভার্জিন নারকেল তেল, নারকেলের দুধ ও নারকেলের জলসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছে। এর ফলে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি, ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারেও ভারতের নারকেলজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে।

গত পাঁচ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, রাশিয়া, তুরস্ক, বেলজিয়াম, ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডস ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে। প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে অ্যাক্টিভেটেড কার্বন, নারকেল তেল, তাজা, হিমায়িত ও কুচি করা নারকেল, কোপ্রা এবং শুকনো নারকেল। এর মধ্যে অ্যাক্টিভেটেড কার্বন রপ্তানির পরিমাণে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি : নারকেল উন্নয়ন পর্ষদের ভূমিকা

১৯৮১ সালের ১২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। ভারতে নারকেল চাষ ও শিল্পের সমন্বিত উন্নয়নের দায়িত্ব পর্ষদের। কোচিতে সদর দপ্তর অবস্থিত এই পর্ষদ ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নারকেল ক্ষেত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

পর্ষদের প্রধান লক্ষ্যগুলি হল :

▪️ উন্নত মানের চারা উৎপাদন বৃদ্ধি
▪️ নারকেল চাষের জমির পরিমাণ বাড়ানো
▪️ চলতি নারকেল বাগানে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি
▪️ প্রধান কীটপতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ
▪️ নারকেলজাত পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং উপজাত পণ্যের ব্যবহার

২০২৫-২৬ সালে পর্ষদের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৪৭.২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

নারকেল ক্ষেত্রের জন্য সরকারি সহায়তা

সরকার নারকেল ক্ষেত্রের উন্নয়নে বহুমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কোপ্রার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, নির্দিষ্ট উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং মূল্য শৃঙ্খলের বিভিন্ন পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ গড়ে তোলার কর্মসূচি।

২০২৫-২৬-এর কোপ্রার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য : কৃষকদের লাভজনক দাম নিশ্চিত

নারকেলের শুকনো শাঁস কোপ্রা নামে পরিচিত। এটি ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আওতায় থাকা ২২টি নির্ধারিত কৃষিপণ্যের অন্যতম। ভারতে মূলত দুই ধরনের কোপ্রা উৎপাদিত হয়, মিলিং কোপ্রা এবং বল কোপ্রা।

কোপ্রা সংগ্রহের কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থা হল ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (NAFED) এবং ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কনজিউমার্স ফেডারেশন (NCCF)। সংগ্রহের কাজে রাজ্যস্তরের সংস্থাগুলিকেও যুক্ত করা হয়।

২০২৬ মরশুমের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কোপ্রার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। মিলিং কোপ্রার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টালপ্রতি ১২,০২৭ টাকা এবং বল কোপ্রার ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় মিলিং কোপ্রার ক্ষেত্রে কুইন্টালপ্রতি ৪৪৫ টাকা এবং বল কোপ্রার ক্ষেত্রে ৪০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বর্ধিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নারকেল চাষিদের আরও লাভজনক দাম পেতে সহায়তা করবে। নারকেলজাত পণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ায় কোপ্রা উৎপাদন বৃদ্ধিতেও কৃষকরা উৎসাহিত হবেন।

নারকেল চাষ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রধান উদ্যোগ

সরকার মূলত নারকেল উন্নয়ন পর্ষদের মাধ্যমে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে উন্নত মানের চারা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো, নারকেল চাষের পরিধি বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারের প্রসারে সহায়তা করা হচ্ছে।

উন্নত মানের চারা উৎপাদন

এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারকেল ক্ষেত্রের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। উন্নত মানের চারা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। এর আওতায় বীজ উৎপাদন খামার, বীজবাগান ও নার্সারি তৈরি এবং মান যাচাই ও শংসাপত্র প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।

ডেমোনস্ট্রেশন কাম সিড প্রোডাকশন ফার্ম (DSP)

এই প্রকল্পের অধীনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ বিভিন্ন রাজ্যে নতুন ডেমোনস্ট্রেশন কাম সিড প্রোডাকশন ফার্ম (DSPF) তৈরি করে। এই খামারগুলিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নারকেল চাষের প্রদর্শন করা হয়। একইসঙ্গে উন্নত মানের নারকেল চারা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়।

এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার কাঠামো হল :

▪️ নতুন DSPF স্থাপন : নতুন খামারের জন্য প্রথম দুই বছরে ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ।

▪️ বিদ্যমান DSPF-এর রক্ষণাবেক্ষণ : তৃতীয় বছর থেকে প্রতি হেক্টরে বছরে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ফলন স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ বছর এই সহায়তা অব্যাহত থাকে।

২০২৫-২৬ সালে সারা দেশে স্থাপিত ১১টি DSPF-এ পর্ষদ ২.৪১ লক্ষ উন্নত মানের নারকেল চারা উৎপাদন করেছে।

নারকেল চাষের জমির পরিধি বৃদ্ধি

এই কর্মসূচির লক্ষ্য উপযুক্ত নতুন এলাকায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নারকেল চাষের জন্য আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করা। একইসঙ্গে বিদ্যমান নারকেল চাষের এলাকাগুলির উৎপাদন স্থিতিশীল করা এবং সামগ্রিক নারকেল উৎপাদন বাড়ানো হয়।

এই প্রকল্পে নতুন এলাকায় নারকেল চারা রোপণের জন্য হেক্টরপ্রতি ৫৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। দুইটি সমান বার্ষিক কিস্তিতে এই অর্থ দেওয়া হয়। একজন সুবিধাভোগী সর্বাধিক ২ হেক্টর এবং সর্বনিম্ন ০.০৮ হেক্টর বা ২০ সেন্ট জমির জন্য ভর্তুকি পেতে পারেন।

বিদ্যমান নারকেল বাগানে সুস্থায়ী উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সমন্বিত কর্মসূচি

নারকেলভিত্তিক চাষ পদ্ধতি-সহ সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে নারকেল বাগানের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

নারকেলভিত্তিক চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি (PICCS) এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান উপাদান। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কৃষি ও উদ্যানপালন দপ্তরের মাধ্যমে ক্লাস্টারভিত্তিক এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। নারকেল উন্নয়ন পর্ষদও সরাসরি এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ১০০ শতাংশ, অর্থাৎ হেক্টরপ্রতি ৪২,০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়। একজন সুবিধাভোগী সর্বাধিক ২ হেক্টর জমির জন্য এই সুবিধা পেতে পারেন। দুটি সমান বার্ষিক কিস্তিতে ভর্তুকি দেওয়া হয়।

PICCS ছাড়াও এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে:

▪️ জলসম্পদ সৃষ্টি: নারকেল বাগানে সেচের সুবিধা বাড়াতে কমিউনিটি ট্যাঙ্ক, কৃষি জলাধার ও জলাধার তৈরিতে সহায়তা।

▪️ জৈব চাষে উৎসাহ : উৎপাদন, গুণমান যাচাই, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের মাধ্যমে কৃষকদের জৈব চাষ পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা।

▪️ কৃষি যান্ত্রিকীকরণ : প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো। যন্ত্রপাতি কেনা এবং ফসল কাটার পরবর্তী প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির জন্য আর্থিক সহায়তা।

নারকেল বাগানের পুনরায় রোপণ ও পুনরুজ্জীবন

রোগাক্রান্ত, অনুৎপাদনশীল, পুরনো ও জরাজীর্ণ নারকেল গাছের পরিবর্তে উন্নত মানের চারা রোপণের মাধ্যমে নারকেল উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এই প্রকল্পের লক্ষ্য। অবশিষ্ট গাছগুলির সমন্বিত পরিচর্যার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাজ্যভিত্তিক সমস্যার সমাধানে প্রকল্পভিত্তিক এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। দুই বছরে হেক্টরপ্রতি সর্বোচ্চ ৫৪,০০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।

নারকেল ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার পরিপূরক উদ্যোগ

প্রধান কর্মসূচির পাশাপাশি, নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ নারকেলজাত পণ্যের মূল্য শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পরিপূরক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রযুক্তি প্রদর্শন ও গুণমান পরীক্ষাগার

নারকেলভিত্তিক উদ্যোগ ও মূল্য সংযোজিত পণ্যের জন্য প্রযুক্তি প্রদর্শন, গুণমান পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ, ইনকিউবেশন এবং পরামর্শ পরিষেবা দেওয়া হয়।

বাজার সংক্রান্ত তথ্য, গবেষণা ও রপ্তানি প্রসার

নারকেলজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের প্রসার, গুণমান বৃদ্ধি এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে সহায়তা করা হয়।

নারকেলের ছোবড়া ও তন্তু থেকে তৈরি পণ্য ছাড়া অন্যান্য নারকেলজাত পণ্যের জন্য নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ রফতানি প্রসার পরিষদ হিসেবে কাজ করে। ২০২৫-২৬ পর্যন্ত ৮,২৯৯ জন রফতানিকারক এবং ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ৮,৭০০ জন রফতানিকারককে পর্ষদ নথিভুক্ত করেছে।

গত পাঁচ বছরে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত, নারকেলভিত্তিক পণ্যের রফতানি ৩,২৩৬.৮৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭,০৩৮.৩৫ কোটি টাকা হয়েছে।

বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে পর্ষদ সহায়তা করে। গত পাঁচ বছরে ২০টি দেশীয় বাণিজ্য মেলায় ৭২ জন উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২২৪ জন রপ্তানিকারকের অংশগ্রহণে সহায়তা করা হয়েছে।

ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক

প্রধান শিল্প সংস্থাগুলির সহযোগিতায় উদ্যোক্তাদের ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছরে ২১৫ জন উদ্যোক্তার জন্য ৩৯২টি দেশীয় ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

২০২২-এর ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত আয়োজিত ভার্চুয়াল বাণিজ্য মেলায় ৫৩টি নারকেলজাত পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং ৩৪৭ জন ক্রেতা অংশ নেন। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, লুলু ইন্ডিয়া, লুলু দুবাই এবং নেস্টো গ্রুপের মতো সংস্থার সঙ্গে চারটি B2B অধিবেশন এবং ৩৭১টি পৃথক B2B বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত পাঁচ বছরে ছয়জন উদ্যোক্তার জন্য ৩টি আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠকেও পর্ষদ সহায়তা করেছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাজার সংক্রান্ত সম্মেলন

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের ধারণা বাড়াতে ২০২৩-এর  ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদে ‘গ্লোবাল কোকোনাট ইন্ডাস্ট্রি, ক্রুজিং টু দ্য পিনাকল’ থিমে নারকেলজাত পণ্যের বাণিজ্য ও বিপণন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

নারকেলজাত পণ্যের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ণায়ক তথ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক নারকেল সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় ২০২৫-এর ১৯ থেকে ২২ আগস্ট কোয়েম্বাটোরে আন্তর্জাতিক কোকো হেলথ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫-এর ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ম্যানিলা, ফিলিপিন্সে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড কোকোনাট কংগ্রেস ২০২৫-এও পর্ষদ অংশ নেয়।

রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি, প্যাকেজিং, রফতানি পদ্ধতি, বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি এবং বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে রফতানিকারক ও উদ্যোক্তাদের জন্য সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

গুণমানের শংসাপত্র

পণ্যের গুণমান, সুস্থায়ী উৎপাদন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুণমানের শংসাপত্র পাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ব্র্যান্ড প্রসার

উন্নত মানের নারকেলজাত পণ্যের ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হয়। গত পাঁচ বছরে নয়টি সংস্থাকে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

নারকেল প্রক্রিয়াকরণ সংস্থায় কর্মরত বেকার যুবকদের জন্য কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি এবং উন্নত মানের প্রক্রিয়াজাত নারকেলজাত পণ্য উৎপাদনে এই উদ্যোগ সহায়তা করছে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত ২৪টি ব্যাচে ২৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

নারকেল কিয়স্ক

প্রক্রিয়াজাত নারকেলজাত পণ্যের প্রসার, বাজার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের চাহিদা তৈরির লক্ষ্যে নারকেল কিয়স্ক ও খুচরো বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করা হয়। গত পাঁচ বছরে ১৫টি কিয়স্ককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

নারকেল উন্নয়ন প্রকল্প : ক্ষেত্রটির জন্য নতুন গতি

কীটপতঙ্গের আক্রমণ, রুট উইল্ট রোগ এবং পুরনো বাগানের সমস্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ নারকেল উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট উদ্যোগের মাধ্যমে নারকেল উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এর মধ্যে রয়েছে:

▪️ উন্নত মানের নারকেল চারা ব্যাপক হারে উৎপাদন
▪️ সম্ভাবনাময় এলাকায় নারকেল চাষের পরিধি বৃদ্ধি
▪️ ধাপে ধাপে পুরনো ও অনুৎপাদনশীল নারকেল বাগানে পুনরায় চারা রোপণ ও পুনরুজ্জীবন
▪️ ফসলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গ্রহণ
▪️ মূল্য সংযোজন ও রপ্তানি বাড়াতে সমন্বিত নারকেল প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপন

কাজু ও কোকো ক্ষেত্র-সহ উচ্চমূল্যের কৃষির জন্য বরাদ্দ ৩৫০ কোটি টাকার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এই উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারকেল ক্ষেত্রের সুস্থায়িত্ব ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২০৩০-এর দশকে নারকেল ও কোয়ার রপ্তানিতে ভারতকে আন্তর্জাতিক স্তরে নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, নারকেল চাষিদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যও রয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ গড়ে তোলার কর্মসূচি

নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ নারকেল ক্ষেত্রের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। নারকেল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত, স্বনির্ভর এবং উদ্যোগ গড়ে তুলতে সক্ষম কর্মী তৈরি করা এই কর্মসূচিগুলির লক্ষ্য।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্ষদ ‘ফ্রেন্ডস অফ কোকোনাট ট্রি’ (FoCT) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যান্ত্রিক আরোহন যন্ত্রের মাধ্যমে নারকেল গাছে ওঠা, গাছের সুরক্ষা, উদ্যোগ পরিচালনা এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বেকার যুবকদের। ২০২৪-২৫ সালে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আয়োজিত কর্মসূচির মাধ্যমে ৩৭৮ জনকে নারকেল গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

নারকেল হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার যুবকদের নারকেল গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরির নান্দনিক দক্ষতা শেখানো হয়।

২০২৫ সালে পর্ষদ পৃথক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে সংগঠিত উদ্যোগ গড়ে তোলার দিকে এগিয়েছে। এর আওতায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে :

কোকোমিত্র : নারকেল গাছে ওঠার কর্মী বাহিনী

প্রশিক্ষিত কর্মীদের ছয় থেকে ১০ জনের নিবন্ধিত দলে সংগঠিত করা হয়। আধুনিক আরোহন যন্ত্র, গাছের সুরক্ষার সরঞ্জাম এবং যাতায়াতের সহায়তা দিয়ে এই দলগুলিকে কৃষকদের সময়মতো পরিষেবা দেওয়ার উপযোগী করে তোলা হয়।

কের কৌশল কেন্দ্র

নারকেলের খোল, কাঠ ও তন্তু দিয়ে তৈরি পণ্যের জন্য সারা দেশে নারকেল হস্তশিল্প কেন্দ্রের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। ১৫ সদস্যের হস্তশিল্প উৎপাদনকারী দলকে আইনগত সত্তা হিসাবে নিবন্ধিত করা হয়।

২০২৬-২৭ সাল থেকে অনুমোদিত প্রতিটি কের কৌশল কেন্দ্র ২.৬৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবে। সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি, আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী, সংরক্ষণ তাক, প্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং অন্যান্য খরচের জন্য এই সহায়তা দেওয়া হবে। হস্তশিল্প পণ্যের বিপণনেও সহায়তা করা হবে। এই কর্মসূচি নারকেলভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ, গ্রামীণ উদ্যোগ এবং সুস্থায়ী জীবিকার প্রসারে সহায়তা করবে।

নীরা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তিবিদ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

নীরা হল পুষ্টিকর, শূন্য শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত স্বাস্থ্যকর পানীয়। নারকেল গাছের পুষ্পমঞ্জরি থেকে সংগ্রহ করা অপরিশোধিত রস থেকে নীরা তৈরি হয়। নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নীরা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য দক্ষ প্রযুক্তিবিদ তৈরি করতে ৭ দিনের কাঠামোবদ্ধ মাঠভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নীরা সংগ্রহের লাইসেন্সধারী কৃষক উৎপাদক সংস্থাগুলির (FPO) মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়।

২০২৫-২৬ সালে পর্ষদ ৪১৪টি সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করেছে। এই কর্মসূচিতে পর্ষদের বিভিন্ন প্রকল্প, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নারকেল চাষ এবং নারকেলজাত পণ্যে মূল্য সংযোজন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক প্রবৃদ্ধির সন্ধিক্ষণে নারকেল ক্ষেত্র

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ‘জীবনদায়ী বৃক্ষ’ হিসাবে মর্যাদা পেয়ে আসা নারকেল ভারতের সাংস্কৃতিক ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সময়ের সঙ্গে নারকেল ক্ষেত্র ঐতিহ্যবাহী চাষের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে। শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা, কৃষকদের সমবেত উদ্যোগ এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নারকেলজাত পণ্যের মূল্য শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করেছে।

উন্নত মানের চারা উৎপাদন, চাষের পরিধি বৃদ্ধি এবং পুরনো বাগানের পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। একইসঙ্গে মূল্য সংযোজিত নারকেলজাত পণ্যের বাড়তে থাকা চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে। ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় ভারতের নারকেল ক্ষেত্র ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতীক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্র

Ministry of Agriculture & Farmers Welfare

https://coconutboard.gov.in/docs/icj/icj-2023-02.pdf

https://coconutboard.gov.in/docs/icj/icj-2025-11.pdf

https://coconutboard.gov.in/docs/icj/icj-2026-03.pdf

https://coconutboard.gov.in/docs/farming-success-story.pdf

https://coconutboard.gov.in/docs/icj/icj-2026-04.pdf

https://coconutboard.gov.in/docs/operational-guidelines.pdf

https://coconutboard.gov.in/About.aspx

https://coconutboard.gov.in/docs/FPO-concept-note.pdf

https://coconutboard.gov.in/ProducerSocieties.aspx

https://coconutboard.gov.in/docs/anreport2024-25english.pdf

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2203006&reg=3&lang=1

https://agriwelfare.gov.in/Documents/DAFW_AnnualReport_2025_26_En.pdf

https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/185/AU2600_MjCQOQ.pdf?source=pqals

https://sansad.in/getFile/annex/270/AS89_vpvBlL.pdf?source=pqars

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2211783&reg=3&lang=2

https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/187/AU4007_gp2V3z.pdf?source=pqals

https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2241416&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2236048&reg=3&lang=1

https://coconutboard.gov.in/docs/icj/icj-2024-01.pdf

https://sansad.in/getFile/annex/270/AS89_vpvBlL.pdf?source=pqars

https://coconutboard.gov.in/docs/Handicraft-Training.pdf

https://coconutboard.gov.in/docs/icj/icj-2025-07.pdf

https://coconutboard.gov.in/docs/icj/icj-2026-02.pdf

Ministry of Finance

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2221410&reg=3&lang=2

PIB Backgrounders

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2253483&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2177219&reg=3&lang=2

Click here for the pdf file. 


****

SSS/AS


(रिलीज़ आईडी: 2300824) आगंतुक पटल : 3
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , हिन्दी , Gujarati