রেলমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পশ্চিমবঙ্গে অনুমোদিত রেল প্রকল্প

প্রকাশিত: 12 AUG 2026 4:35PM by PIB Kolkata

কলকাতা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ 

 

লোকসভায় আজ সাংসদ মালা রায়ের উত্থাপিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গত তিন মাসে অনুমোদিত রেল প্রকল্প এবং এর জন্য ছাড় করা অর্থের বিবরণ সংক্রান্ত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান যে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বরাদ্দ বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনও প্রকল্পে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে থাকা পরিকাঠামো প্রকল্প এবং নিরাপত্তামূলক কাজের জন্য বাজেট বরাদ্দ নিম্নরূপ: 

সময়কাল বরাদ্দ
২০০৯-১৪ বছরে ৪,৩৮০ কোটি টাকা
২০২৬-২৭ ১৪,২০৫ কোটি টাকা (তিন গুণেরও বেশি)
মন্ত্রী জানান, ০১.০৪.২০২৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে থাকা মোট ৫,১৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬৩টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি নতুন রেললাইন, ৪টি গেজ রূপান্তর এবং ৪৫টি ডাবলিং প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মোট ব্যয় ₹৮৩,৪৩৩ কোটি।

মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে থাকা সম্প্রতি সম্পন্ন কয়েকটি প্রকল্পের বিবরণও তুলে ধরেন, যা নিম্নরূপ: 

এস. নং. প্রকল্প ব্যয় (কোটি টাকায়)
(কোটি টাকায়)
১ রামপুরহাট-মন্দারহিল নতুন রেললাইন (১৩০ কিমি) ৯০৮
২ আজিমগঞ্জ-মুর্শিদাবাদ নতুন রেললাইন (৭ কিমি) ১৬৪
৩ বর্ধমান-কাটোয়া গেজ রূপান্তর (৫২ কিমি) ৬৯৬
৪ আহমেদপুর-কাটোয়া গেজ রূপান্তর (৫২ কিমি) ৪৪০
৫ পাঁশকুড়া-খড়গপুর ডাবলিং (৪৫ কিমি) ৪০৮
৬ লালগোলা-জিয়াগঞ্জ ডাবলিং (২৩ কিমি) ১২৪
৭ কৃষ্ণনগর-বেথুয়াডহরি ডাবলিং (২৮ কিমি) ১৫২
৮ নবদ্বীপধাম-পাটুলি ডাবলিং (২২ কিমি) ১৭০
৯ বেথুয়াডহরি-পলাশী ডাবলিং (২৩ কিমি) ১৩২
১০ অম্বিকাকালনা-নবদ্বীপধাম ডাবলিং (২৩ কিমি) ১৪৫
১১ নলহাটি-সাগরদিঘি ডাবলিং (২৬ কিমি) ১৯৩
১২ তমলুক জংশন-বসুলিয়া সুতাহাটা ডাবলিং (২৪ কিমি) ২৪৫
১৩ পলাশী-জিয়াগঞ্জ ডাবলিং (৫৪ কিমি) ২৩৪
১৪ আজিমগঞ্জ-মানিগ্রাম ডাবলিং (২১ কিমি) ১৫০
১৫ নিউ কোচবিহার-গুমানিহাট ডাবলিং (২৯ কিমি) ৩৩০
১৬ নিউ কোচবিহার-সামুক্তলা রোড ডাবলিং (২৯ কিমি) ৪৪৫
১৭ সাঁইথিয়া-তারাপীঠ তৃতীয় লাইন (২২ কিমি) ১৮৬
১৮ আমবাড়ি ফালাকাটা-নিউ ময়নাগুড়ি ডাবলিং (৩৮ কিমি) ৮৪৩
১৯ ব্যান্ডেল-বৈঁচি তৃতীয় লাইন (৩১ কিমি) ৫৪৬
২০ বৈঁচি-শক্তিগড় তৃতীয় লাইন (২৬ কিমি) ৪২৪
২১ বাজারসাউ-আজিমগঞ্জ জংশন ডাবলিং (৪২ কিমি) ৩৪৩
২২ সাগরদিঘি-মালদা টাউন ডাবলিং (২৫ কিমি) ২৪৮
২৩ খড়গপুর-নারায়ণগড় তৃতীয় লাইন (২৪ কিমি) ২৭০
২৪ মণিগ্রাম-নিমতিতা ডাবলিং (২৪ কিমি) ৭১৩
২৫ পুরুলিয়া-কোটশিলা ডাবলিং (৩৬ কিমি) ৩৯৩
শ্রী বৈষ্ণব জানান, রাজ্যজুড়ে রেল যোগাযোগ প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা, এই প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেখা দেওয়া সমস্যাগুলির সমন্বিতভাবে সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। 

চিংড়িঘাটা সংক্রান্ত বিষয়:

এছাড়াও, কলকাতা মেট্রো নির্মাণের জন্য ভায়াডাক্টের অংশ স্থাপনের উদ্দেশ্যে চিংড়িঘাটা ক্রসিং-এ সাময়িকভাবে যান চলাচলের পথ পরিবর্তনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্য সরকার সেই অনুমতি দেয়। চিংড়িঘাটা ক্রসিং-এর কাজ অবশেষে ২০২৬ সালের মে মাসে সম্পন্ন হয়। 

রেল প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়া বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে: 

জমি অধিগ্রহণ 
বন সংক্রান্ত ছাড়পত্র 
প্রকল্পের কাজে বাধা সৃষ্টি করা পরিষেবা পরিকাঠামো স্থানান্তর 
বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিধিবদ্ধ ছাড়পত্র 
এলাকার ভূতাত্ত্বিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি 
প্রকল্প এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি 
কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্প এলাকায় বছরে কাজ করার উপযোগী মাসের সংখ্যা ইত্যাদি।
এই সমস্ত বিষয় প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার সময় এবং প্রকল্পের ব্যয়কে প্রভাবিত করে। 

মন্ত্রী জানান, লেভেল ক্রসিংয়ের (LC) পরিবর্তে রোড ওভার ব্রিজ (ROB)/রোড আন্ডার ব্রিজ (RUB) নির্মাণের কাজের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ভারতীয় রেলের একটি ধারাবাহিক ও পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া। ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, ট্রেনের চলাচল ও গতি, সড়ক ব্যবহারকারীদের উপর প্রভাব এবং প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে এই ধরনের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং হাতে নেওয়া হয়। এ বছর পয়লা জুন পর্যন্ত ভারতীয় রেলে প্রায় ১,১৭,৪৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৪,৯৯৩টি ROB/RUB কাজ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮,০৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৬৩টি ROB/RUB কাজ বিভিন্ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে (মে ২০২৬ পর্যন্ত) পশ্চিমবঙ্গে মোট নয়টি ROB/RUB-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

গত তিন মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১,৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫টি ROB এবং ২৪টি RUB নির্মাণের কাজ অনুমোদিত হয়েছে।

ROB/RUB-এর কাজ সম্পন্ন করা ও চালু করার বিষয়টি বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে লেভেল ক্রসিং বন্ধ করার জন্য রাজ্য সরকারের সম্মতি, অ্যাপ্রোচ অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ, জেনারেল অ্যারেঞ্জমেন্ট ড্রয়িং (GAD)-এর অনুমোদন, জমি অধিগ্রহণ, অবৈধ দখল সরানো, প্রকল্পের কাজে বাধা সৃষ্টি করা পরিষেবা পরিকাঠামো স্থানান্তর, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিধিবদ্ধ ছাড়পত্র, প্রকল্প বা কাজের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জলবায়ুগত পরিস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট প্রকল্প বা এলাকায় বছরে কাজ করার উপযোগী সময়কাল ইত্যাদি। এই সমস্ত বিষয় প্রকল্প বা কাজ সম্পন্ন করার সময়কে প্রভাবিত করে। তাই ROB/RUB-এর কাজ সম্পন্ন করার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

এ বছর পয়লা এপ্রিল পর্যন্ত অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত না হওয়া, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যা ইত্যাদি কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ৯৯টি ROB/RUB-এর কাজ আটকে ছিল। তবে গত আড়াই মাসে ROB/RUB-এর কাজ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: 

(i) পশ্চিমবঙ্গ সরকার মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স বা কর্মী গোষ্ঠি গঠন করেছে। এতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, স্থানীয় সংস্থা এবং রেলের আধিকারিকরা রয়েছেন। এই টাস্ক ফোর্স ROB/RUB-এর কাজ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি দ্রুত গ্রহণ করছে। 

(ii) এর ফলে, আটকে থাকা বা বিলম্বিত সমস্ত কাজের ক্ষেত্রে যৌথভাবে সাইট পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় উপযুক্ত অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার/পিডব্লিউডি একটি চেকলিস্টও জারি করেছে।
(iii) এছাড়াও, ROB/RUB-এর কাজের জন্য সরকারি জমি বিনামূল্যে দেওয়ার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। 

উপরোক্ত সক্রিয় পদক্ষেপগুলির ফলে, এখনও পর্যন্ত ৯৯টি স্থানের সবকটিতেই যৌথ সাইট পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ২৬টি ROB/RUB-এর কাজ সংক্রান্ত সমস্যা ইতিমধ্যেই সমাধান করা হয়েছে। 

এছাড়াও, ROB/RUB-এর কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে রেলের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে: 

(i) কাজের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জেনারেল অ্যারেঞ্জমেন্ট ড্রয়িং (GAD) চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার/সড়কের মালিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ সমীক্ষা করা হয়। 

(ii) ROB/RUB-এর কাজ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য রেল ও রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক হয়। 

(iii) নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিলম্ব এড়াতে রেল অংশে বিভিন্ন স্প্যান, স্কিউনেস এবং রাস্তার প্রস্থের সমন্বয়ের জন্য সুপারস্ট্রাকচারের নকশার মান নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি একটি সংকলন আকারে জারি করা হয়েছে, যা দ্রুত পরিকল্পনার জন্য রেললাইন অতিক্রমকারী রোড ওভার ব্রিজের ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহার করা যেতে পারে। 

স্টেশন পুনর্নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ভিত্তিতে স্টেশনগুলির পুনর্নির্মাণের জন্য রেল মন্ত্রক অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় রেলের স্টেশনগুলির উন্নতির জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হয়। প্রতিটি স্টেশনের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে মাস্টার প্ল্যানে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
* স্টেশন এবং সংলগ্ন চলাচলের এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি 
* শহরের উভয় দিকের সঙ্গে স্টেশনের সংযোগ স্থাপন 
* স্টেশন ভবনের উন্নতি 
* অপেক্ষার হল, শৌচাগার, বসার ব্যবস্থা এবং পানীয় জলের বুথের উন্নতি 
* যাত্রী চলাচলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও প্রশস্ত ফুট ওভারব্রিজ/সাবওয়ের ব্যবস্থা 
* লিফট/এস্কালেটর/র‌্যাম্পের ব্যবস্থা 
* প্ল্যাটফর্মের পৃষ্ঠের উন্নতি/প্ল্যাটফর্মে শেডের ব্যবস্থা 
* ‘ওয়ান স্টেশন ওয়ান প্রোডাক্ট’-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যের জন্য কিয়স্কের ব্যবস্থা 
* পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন 
* দিব্যাঙ্গজনদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা 
* উন্নত যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা 
* এয়ার কনকোর্স, এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ, মাল্টিমোডাল সংযোগ, ল্যান্ডস্কেপিং ইত্যাদির ব্যবস্থা। 

এই প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয়তা, পর্যায়ক্রম এবং বাস্তবায়নযোগ্যতার ভিত্তিতে সুস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্টেশন চত্বরে সিটি সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নের জন্য ১,৩৪০টি স্টেশন চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০২টি স্টেশন পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় রেল স্টেশনগুলির উন্নয়নের কাজ ভালো গতিতে এগিয়ে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্টেশনগুলিতেও উন্নয়নের কাজ ভালো গতিতে চলছে। কয়েকটি স্টেশনের কাজের অগ্রগতি নিম্নরূপ:

* আসানসোল জংশন স্টেশন: সাউথ উইংয়ের নতুন স্টেশন ভবনের ব্লক নম্বর ৪ এবং নর্থ উইংয়ের ব্লক নম্বর ১, ২ ও ৩-এর কাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাউথ উইংয়ের নতুন স্টেশন ভবনের ব্লক নম্বর ৩-এর কাঠামোগত কাজ, ৬ মিটার প্রশস্ত ফুট ওভারব্রিজের সম্প্রসারণ এবং এয়ার কনকোর্সের কাজ শুরু হয়েছে। 
* নিউ জলপাইগুড়ি জংশন স্টেশন: দ্বিতীয় প্রবেশপথে নতুন স্টেশন ভবন, রেল মেল সার্ভিস অফিস ভবন এবং নতুন 'ডিপারচার' স্টেশন ভবনের চতুর্থ তলা পর্যন্ত কাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল প্রবেশপথে নতুন অ্যারাইভাল স্টেশন ভবনের কাঠামোগত কাজ, নতুন ডিপারচার স্টেশন ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার কাঠামোগত কাজ, পডিয়াম পার্কিং, এলিভেটেড রোড এবং এয়ার কনকোর্সের কাজ শুরু হয়েছে। 
* আলুয়াবাড়ি রোড স্টেশন: ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ, ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পৃষ্ঠের উন্নতি, সার্কুলেটিং এলাকা, পার্কিং, অ্যাপ্রোচ রোড এবং সীমানা প্রাচীরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্টেশন সংলগ্ন ১২ মিটার প্রশস্ত ফুট ওভারব্রিজ, নতুন স্টেশন ভবনের ব্লক এবং প্ল্যাটফর্মের শেডের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। 
* নিউ ফরাক্কা জংশন স্টেশন: স্টেশন ভবন, অপেক্ষার হল, শৌচাগার, প্রবেশপথের পোর্চ, সাইনেজ এবং ট্রেন ইন্ডিকেশন বোর্ড স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সার্কুলেটিং বা পারিপার্শিক এলাকা এবং পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
* বর্ধমান স্টেশন: দ্বিতীয় প্রবেশপথে নতুন স্টেশন ভবন, প্রবেশপথের পোর্চ, অপেক্ষার হল, বুকিং কাউন্টার, শৌচাগার, প্ল্যাটফর্মের পৃষ্ঠ এবং প্ল্যাটফর্মের শেডের উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রসঙ্গত, ৬ মিটার প্রশস্ত ফুট ওভারব্রিজ এবং সার্কুলেটিং এলাকার উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। 

এছাড়াও, ভারতীয় রেলের স্টেশনগুলির উন্নয়ন/পুনর্নির্মাণ/উন্নতিসাধন/আধুনিকীকরণ একটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া। প্রয়োজন অনুযায়ী, বিভিন্ন কাজের অগ্রাধিকার এবং অর্থের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে এই কাজগুলি করা হয়। স্টেশনের শ্রেণী, বর্তমান অবস্থা, যাত্রী ও ট্রেন চলাচলের পরিমাণ ইত্যাদির ভিত্তিতে কোনও স্টেশনের উন্নয়ন/পুনর্নির্মাণ/উন্নতিসাধন/আধুনিকীকরণের কাজ করা হয়।

অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় স্টেশনগুলির উন্নয়ন/উন্নতিসাধন/আধুনিকীকরণ-সহ বিভিন্ন কাজের জন্য সাধারণত প্ল্যান হেড-৫৩ ‘কাস্টমার অ্যামেনিটিজ’-এর অধীনে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। প্ল্যান হেড-৫৩-এর অধীনে বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিবরণ স্টেশনভিত্তিক বা রাজ্যভিত্তিক নয়, জোনাল রেলওয়ে অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ চারটি রেলওয়ে জোনের আওতায় রয়েছে- ইস্টার্ন রেলওয়ে, নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে, সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে এবং মেট্রো রেলওয়ে। এই চারটি জোনের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মোট ১,২৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৪৭১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

****

SSS/RP/Kol/12.8.26…….


(রিলিজ আইডি: 2298787) ভিজিটরের কাউন্টার : 44
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English