অর্থ মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

ইউপিআই মাধ্যমে নাগরিকদের লেনদেনে কোন চার্জ নয়, সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই থাকবে : আশ্বস্ত করলো কেন্দ্র

পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট সংশোধন: আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার

ইউপিআই-এর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং উদীয়মান ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সক্ষমতামূলক ব্যবস্থা গৃহীত

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 08 AUG 2026 6:50PM by PIB Agartala


নয়াদিল্লি, ৯ আগস্ট ২০২৬: ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের কোনও চার্জ নয়। ইউপিআই-এর মাধ্যমে অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকদের কোনও লেনদেন ফি দিতে হবে না। পি২পি লেনদেন বিনামূল্যেই থাকবে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির সমস্ত লেনদেন আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে।

ভবিষ্যতে এম.ডি.আর (মার্চেন্ট ডিস্কাউন্ট রেট) চালু করা হলে তা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে হওয়া সীমিত সংখ্যক ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর হার নামমাত্র এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের এম ডি আর'এর তুলনায় অনেক কম হবে।
ইউপিআই-তে ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগ লেনদেনই বিনামূল্যে থাকবে। এমডিআর চালু হলেও তা নির্দিষ্ট সীমার ভিত্তিতে হবে, সমস্ত লেনদেনের ওপর  প্রযোজ্য হবে না।

সংসদে কর এবং অন্যান্য আইন সংশোধনী বিল ২০২৬ পাশ হয়ে গেলে এবং এর মাধ্যমে পেমেন্ট এন্ড সেটেলমেন্ট সিষ্টেমস অ্যাক্ট ২০০৭ এর ১০এ ধারা সংশোধিত হলে, এমডিআর আদৌ চালু হবে কি না এবং হলে তার হার কত হবে, তা  এন পি সি আই'র নেতৃত্বাধীন ইউপিআই এন্ড সার্ভিসেস স্টিয়ারিং কমিটি নির্ধারণ করবে।

কেন পেমেন্ট এন্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম অ্যাক্ট সংশোধন করা হচ্ছে?

সম্প্রতি পেমেন্ট এন্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট এর সংশোধন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ ভুলভাবে মনে করছেন, এই সংশোধনের মাধ্যমে সাধারণ ইউপিআই ব্যবহারকারীদের উপর চার্জ বসানো হবে। সরকার জানিয়েছে, বাস্তবে এই সংশোধন একটি সক্ষমতামূলক ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য ইউপিআই-এর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং উদীয়মান ঝুঁকির বিরুদ্ধে এর প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করা।
ইউপিআই-এর বৃদ্ধি: লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং পরিকাঠামোর  প্রয়োজন।

বাজারের সম্প্রসারণ: প্রতিযোগিতা বাড়াতে আরও বেশি সংস্থাকে এই ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ করে দেওয়া জরুরি। এর জন্য একটি স্বনির্ভর রাজস্ব মডেল প্রয়োজন।

স্বনির্ভরতা:ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির জন্য শুধুমাত্র সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়। ইউপিআই-কে শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত রাখতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো প্রয়োজন।

কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাইরের কোনও প্রভাবের কারণে ইউপিআই ব্যবহারে নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকার এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছে। সরকারের উপর যদি কোনও বাইরের চাপ থাকত, তাহলে ২০১৬ সালে ইউপিআই চালু করা হতো না কিংবা ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ী, উভয়ের জন্যই ইউপিআই লেনদেন বিনামূল্যে রাখা হতো না। এর ফলে ইউপিআই আজ বিশ্বের বৃহত্তম রিয়েল-টাইম আন্তঃপরিচালনযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

তাই পিএসএস'এর এই সংশোধনকে সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা উচিত। সেই লক্ষ্য হল, ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়িত্বশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও উদ্ভাবনী করে তোলা এবং দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতির চাহিদা পূরণে সক্ষম রাখা।

সত্যটি খুবই সরল: ইউপিআই ভারতের নিজস্ব উদ্ভাবন। নাগরিকদের জন্য ইউপিআই বিনামূল্যে রাখার পাশাপাশি আগামী কয়েক দশক ধরে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ:
ভারত এখন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের দোরগোড়ায়। গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে ইউপিআই-এর প্রসার আরও বাড়াতে এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে ইউপিআই ব্যবস্থাকে স্বনির্ভর ও সাশ্রয়ী করে তোলা জরুরি। সিএসএস অ্যাক্টএর এই সংশোধন একটি ভবিষ্যৎমুখী পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে ইউপিআই-কে একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বস্বীকৃত পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে আরও শক্তিশালী করা হবে।

ভারত সরকার পুনরায় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইউপিআই নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যেই থাকবে।
নাগরিকদের দৈনন্দিন লেনদেনের ওপর কোনও চার্জ বসানো হবে না।
ভবিষ্যতে এমডিআর চালু হলেও তা হবে নামমাত্র এবং শুধুমাত্র সীমিত সংখ্যক ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

ইউপিআই ভারতের অন্যতম প্রধান ডিজিটাল উদ্ভাবন হিসেবে বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারিত হতে থাকবে।
২০১৬-১৭ সালে চালুর পর থেকেই ইউপিআই  ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে বিশ্বের অন্যতম অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গতিশীল পেমেন্ট ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেছে। রিয়েল-টাইম ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য পেমেন্টের একটি সাহসী উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে আজ ইউপিআই বিশ্বব্যাপী একটি মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে। প্রতি মাসে কোটি কোটি লেনদেন সম্পন্ন করার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে এই ব্যবস্থা। বর্তমানে ইউপিআই বিশ্বের বৃহত্তম রিয়েল-টাইম পেমেন্ট সিস্টেম। শুধু ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই ইউপিআই-এর মাধ্যমে ২,৩৬৬ কোটি লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৯.৯ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমানে ভারত ছাড়াও ১১টি  দেশে ইউপিআই চালু রয়েছে এবং আরও বহু দেশ এই ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ইউপিআই ভারতীয়দের দ্বারা, ভারতীয়দের জন্য গড়ে তোলা একটি জাতীয় সাফল্য। গত এক দশক ধরে সরকার এর প্রসার, অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।
নাগরিকদের শুধুমাত্র অর্থ মন্ত্রক, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং এনপিসিআই'এর সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করতে এবং যাচাই না করা কোনও বার্তা ফরোয়ার্ড না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


      ***

PS/PKS/KMD


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2296845) ভিজিটরদের কাউন্টার : 60
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English